ক্যাটেগরিঃ মুক্তমঞ্চ

ভালবাসা কখনো অন্যায় নয়, আর ভালবাসার মানুষটিকে বিশ্বাস করাও অন্যায় নয়। সময়ের পরিবর্তনের সাথে সাথেই পরিবর্তন হচ্ছে মানুষের পছন্দ-অপছন্দ, নীতি-আদর্শ। এই সমাজেই দেবদাস আর পার্বতীর মতো নিস্কাম ভালবাসার জ্বাজল্যামান ইতিহাসের কথা আমাদের সকলেরই জানা। ভালবাসার জন্য চূড়ান্ত ত্যাগের নিদর্শন ছিল সেসময়ের ভালবাসা। ভালবাসতে গিয়ে কিংবা ভালবাসার মানুষটির একটুখানি সান্নিধ্য লাভের প্রত্যাশায় সে সময়ে যেটি ত্যাগ হিসেবে বিবেচিত হত, আজকের সমাজে তা-ই নিজের প্রতি নির্বিচার নির্যাতন হিসেবে বিবেচিত হয়। সময় পাল্টেছে বলেই আজকের সমাজের মানুষ, আজকের সমাজের প্রেমিক-প্রেমিকারা সেকালের মতো ত্যাগ নয় প্রাপ্তি, কিংবা বলা ভালো আদায় করে নিতে বিশ্বাসী হয়ে উঠেছে। এটাও পাপ নয়। কেননা সময়-ই আজকের প্রেমিক-প্রেমিকাদের এই প্রাপ্তির যুদ্ধে অবতীর্ণ হতে শিখিয়েছে। সে-সময় আজ আর নেই, যে পার্বতীর প্রতীক্ষায় দেবদাস নিজেকে তিলে তিলে নি:শেষ করে দিবে। কিংবা পার্বতীও সব অপছন্দ-চাপিয়ে দেওয়াকে মেনে নিয়ে সারা জীবন তুষের আগুনে নিজেকে পুড়িয়ে ভালবাসার জন্য খাঁটি করে তুলবে!

বলছিলাম, এখনকার সময়ের প্রেমের কথা আর আমাদের রুবেল আর নাজনীন আক্তার হ্যাপি’র কথা। মনে আছে, বিশ্বকাপ শুরু হবার মাত্র ক’দিন আগের কথা! এই যে সেদিন, যেদিন হ্যাপি রুবেলের বিরুদ্ধে মামলা করেছিলেন, আর পুলিশ রুবেলকে এয়ারেস্ট করেছিল। এই বাংলাদেশের শুভবুদ্ধিসম্পন্ন তাবৎ মানুষ রুবেলকে নিন্দা করেছিলেন। নিন্দায় ভাসিয়ে দিয়েছিলেন রুবেলকে এইরূপ অনৈতিক কর্মকাণ্ডের জন্য।
হ্যা, হ্যাপীও যে নিন্দার বাইরে ছিলেন, আমি সেটা বলছি না। অনেকের কাছেই তার আচরণ ছিল অনেকটা বালখিল্য ও অপরিণত মানসিকতার পরিচায়ক। যে রুবেল সবার করুণার পাত্র হয়ে বিশ্বকাপে খেলতে গিয়েছিলেন আজ সেই রুবেল সবার কাছে না হলেও অনেকের কাছেই “হিরো” কিংবা “জাতীয় বীর”। এই “হিরো” কিংবা “জাতীয় বীর” যা-ই বালি না কেন সেটাও সময়ের প্রয়োজনেই করা হয়েছে। করা হয়েছে অধিকাংশের স্বার্থকে প্রাধান্য দিতেই। আজ রুবেলের পারফরম্যান্সে যারা গুণমুগ্ধ, কাল যে তারা-ই পান থেকে চুন খসলেই তুলোধোনা করতে ছাড়বেন না, সেটা বোধকরি কারও কাছেই দুর্বোধ্য নয়। কারণ আমরা সবাই নিজের স্বার্থ নিয়েই কথা বলি, অন্য কারোর তাতে হোক না জলাঞ্জলি। পৃথিবীর ইতিহাস সেটাই বলে, ইতিহাস সব সময়ে বিজয়ীর কথাই বলে। কেউ-ই ভাবিনা, ভাবার চেষ্টাও করিনা নিজের অবস্থান থেকে বিজিত’র অবস্থানকে।
রুবেলের প্রতি হ্যাপীর আবেগ আর ভালবাসা সম্পর্কের ফেসবুক থেকে সর্ব সম্প্রতি একটি স্টাটাস খেয়াল করলে বোধকরি কারোর-ই বুঝতে অসুবিধা হবেনা যে এর গভীরতা কতটা বিশাল! কতটা বেদনা ভরা আকুতি নিয়ে বার বার নক করে যাচ্ছে রুবেলকে! শুধুমাত্র রুবেলকে হারানোর শংকায় সে আত্মসংহারি হয়েছিলো, হয়ত রুবেলও সেটা শুনে থাকবে। এটা মেয়েদের স্বভাবের একটা দিক যে, সে যেটা একান্তভাবেই নিজের প্রাপ্য হিসেবে একবার বিবেচনা করে, সেটা অর্জন না হওয়া পর্যন্ত তার আর থামা নেই। যখন সকল প্রচেষ্টা ব্যর্থ হিসেবে অনুভূত হয়, তখন হয়ে উঠে সংহারী। হ্যাপি’র আবেগতাড়িত স্টাটাস গুলো লক্ষ্য করলে এমন ভাবনার উদ্রেক হওয়া নিতান্তই স্বাভাবিক।

 

রুবেল কিভাবে এই অন্ধ ভালোবাসাকে পাশ কাটিয়ে নিজের পথে এগিয়ে চলে সেটা দেখতে হলে অপেক্ষা ছাড়া উপায় নেই, তবে একথা বলা মোটেই অত্যুক্তি নয় যে সমুদ্রের বিশালতাসম এই ভালোবাসাকে অবহেলা করে রুবেল যদি কোনো নতুন অথিতিকে তার জীবনে স্থান দেয়, তাহলে সারাজীবনের জন্য সে হ্যাপি’র দীর্ঘশ্বাসের কারণ হয়ে দাঁড়াবে; যা আসলে তার সমস্ত অর্জনকে ম্লান করে দিতে যথেষ্ট আর জীবনকে করে তুলতে পারে অতিষ্ট। কারণ বঞ্চিতের দীর্ঘশ্বাস বিধাতা আলাদাভাবে গ্রহন করেন।

 

পরিশেষে, যদি শুনতে পেতাম হ্যাপি-কেই রুবেল জীবনসঙ্গিনী হিসেবে গ্রহন করেছে, তাহলে রুবেলের অনেক শুভাকাংখির মতো আমিও যারপরনাই খুশি হতাম।