ক্যাটেগরিঃ আন্তর্জাতিক

নেপাল বর্তমানে ভূমিকম্প দুর্গত। যে ভূমিকম্পটি গত শনিবারের মধ্যদুপুরে নেপালের বুকে আঘাত হেনেছে, তার মাত্রা ছিল সাত দশমিক নয়, যা গত ৮১ বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ মাত্রার। ইতোমধ্যে ভুমিকম্পে নিহতের সংখ্যা ১০ হাজার ছাড়িয়েছে। আর ধংসস্তুপের মধ্যে এখনো আটকা পরে আছে অগণন মানুষ। দেশব্যাপী জারি করা হয়েছে জরুরি অবস্থা। ভূকম্পের পাঁচ দিন অতিক্রান্ত হবার পর আজও ধ্বংসস্তুপের ভিতর থেকে উদ্ধার করা হচ্ছে একের পর এক জীবিত মানুষ। আজ সকালেও উদ্ধার করা হয়েছে ৪ মাস বয়সী শিশুকে। সারা বিশ্ব নেপালের এই দুর্যোগে সমব্যাথী, শোকগ্রস্থ। জাতিসংঘ জানিয়েছে নেপালে ভূমিকম্প সরাসরি ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছে ৮০ লাখ লোক। পরোক্ষ্ ক্ষতিগ্রস্থ আরও ৪০ লাখ মানুষ।

Nepal+quake+2
মূলত পর্যটন যাদের আয়ের উত্স, সেই নেপাল এখন ধংসস্তুপ আর শ্মশানের নীরবতা। অধিকাংশ হিন্দু অধ্যুষিত এই জনপদে এখন মরদেহ ধর্মীয় বিধান অনুসারে সমাধিস্থ করার লোকেরও অভাব।বিধান অনুসারে সমাধিস্থ করার লোকেরও অভাব। অসংখ্য মানুষ খোলা আকাশের নিচে রাত্রি যাপন করছে, আর মুহুর্মুহু প্রকম্পিত হচ্ছে নতুন নতুন ভূকম্পন আর ভূমিধ্বসে। চিকিত্সা, খাদ্য ও পানীয়’র অভাবে মৃত্যুর প্রহর গুনছে আহত শিশু ও বৃদ্ধসহ অসংখ্য মানুষ। চলছে চরম মানবিক বিপর্যয়।
Nepal+quake+1
সারাবিশ্ব থেকে সাধ্যমত সাহায্য করছে বিভিন্ন দেশ ও সাহায্য সংস্থা। মানবতার সেবায় কেউ কেউ ব্যক্তিগত উদ্যোগেও যথাসাধ্য সাহায্য পাঠাচ্ছেন। বাংলাদেশ সরকার জরুরি সাহায্য হিসেবে প্রেরণ করেছে ত্রান সামগ্রী সহ রেসকিউ টিম।
বিভিন্ন দেশের ধর্মান্ধ গোষ্ঠী এই বিপর্যয়কে পুঁজি করে নানা রকম হীন উদ্দেশ্য সাধনের চেষ্টায় লিপ্ত। কেউ বলছে রাহুল গান্ধীর ’গো মাংশ’ ভক্ষণের ফলশ্রুতিই হলো নেপালের ভূকম্পন। আবার কেউ বলছে এটা আল্লাহ’র তরফ থেকে সাবধানবাণী ’নারীর বেপর্দা’ চলাফেরার জন্য। কুলাঙ্গার ধর্মান্ধ গোষ্ঠির তথাকথিত গুরুদের আবর্জনা সমৃদ্ধ মস্তিস্ক প্রসূত কল্পনাশক্তি থেকে যা বের হচ্ছে তাই গিলে খাচ্ছে অনুসারী মূর্খরাও। এক্ষেত্রে মৌলবাদী শক্তির অভিন্ন নীতি কৌশল সহজেই স্পষ্ট। এই ধর্মীয় উগ্রবাদী আর ক্ষুদ্র স্বার্থান্ধ গোষ্ঠির কথা অধিকাংশের কাছেই খুব বেশি বিবেচ্য নয়।
Nepal+quake+3
বরং রাষ্ট্রীয় ও সরকারিভাবে বিভিন্ন দেশ থেকে পাঠানো সাহায্য নিয়ে কথা বলা  যাক। নেপালের এই চূড়ান্ত মানবিক বিপর্যয়ে পাকিস্তান সরকার ত্রাণ হিসেবে পাঠিয়েছে ’বিফ মসলা’। নেপালের জনগণের অতি ক্ষুদ্র অংশ ভিন্ন মতাবলম্বী। এক সময়ে নেপালই ছিল একমাত্র দেশ যেটি মূলত সারা বিশ্বের মধ্যে ’হিন্দু রাষ্ট্র’ হিসেবে পরচিত ছিল। সেখানে ’গো হত্যা’ মহাপাপের কাজ বলেই বিবেচিত হয় এবং এখনও রাষ্ট্রীয়ভাবে নিষিদ্ধ। গরুকে নেপালবাসী মাতৃজ্ঞানে পূজো করে থাকেন। সেই নেপালে এই ’বিফ মসলা’ পাঠানো দুর্গত নেপাল বাসীর সাথে নির্মম রসিকতা আর নির্লজ্জ ধর্মান্ধতা ছাড়া আর কী হতে পারে? ধর্মান্ধ পাকি কীটগুলো হয়তো ক্ষুধা তৃষ্ণায় কাতর নেপালিদের এই সুযোগে গোপনে বিফ মসলা খাইয়ে ইসলাম ধর্মে রুপান্তরিত করতে পারলো বলে  মনে মনে বাহবা নিতেই অত্যন্ত সচেতনভাবে এই ঘৃণ্য অপকর্মটি করেছে।
ধর্মান্ধ পাকিস্তানি নরপিশাচদের নেপালবাসীর এই চরম দুর্দিনে এমন নির্মম ঠাট্টা’র নিন্দা জানানোর ভাষা খুঁজে পাইনা। শুধু এটুকুই বলবো আজন্ম ধর্মান্ধ এই বর্বর জাতিকে, স্রষ্টা, এবার তুমি মানুষ ক’র।