ক্যাটেগরিঃ খেলাধূলা

“শাসন করা তারই সাজে সোহাগ করে যে”-এটা বহুল শ্রুত একটা প্রবাদ, আমাদের সকলেরই জানা। যা জানা নয় তা হলো বাংলাদেশের ক্রিকেটের বদলে যাওয়ার গোপন রহস্য।

আগেও দেখেছি, বিশ্বকাপে, তাসকিনকে আর রুবেলকে মাশরাফির ধমক “কম গতির কোনো বল যেন আমি তোমার না দেখি’। ওরা সেটা করেওছিলো। জান দিয়ে বল করেছিল সঠিক লাইন লেন্হ বজায় রেখে। এখন তাসকিন আর রুবেলের বলের এভারেজ স্পিড ১৪০ প্লাস। সারা দুনিয়ায় খুব কম দেশ আছে যাদের টিমে এই গতির বল করতে পারা দুজন বোলার একসঙ্গে খেলছে। একসময়ে পাকিস্তানে ছিলো। সেটা ছিল পাকিস্তান ক্রিকেটের স্বর্ণযুগ। বাঘা বাঘা ব্যাটসম্যানরা রান করবে কোন ছাই পাকিস্তানের বোলিং আক্রমনের বিরুদ্ধে নিজেকে সেভ করার জন্য ছিল মরিয়া। ততটা ধারালো না হলেও আমাদের বর্তমান পেস এটাক যথেষ্ট সমীহ করার মত। রুবেল তাসকিনদের বল বিশ্বমাতানো ব্যাটসম্যান কোহেলিরা খেলতেই পারেনা।

CRICKET-BAN-IND
খেলার মাঠে হারজিত অনেকটাই নির্ভর করে খেলোয়ারদের মানসিকতার উপর। আর মানসিকতা চাঙ্গা করার কাজে বর্তমান দলপতি মাশরাফি’র জুড়ি নেই। মাশরাফি যেমন সেরা খেলাটি আদায় করে নিতে গিয়ে সতীর্থদের ধমক চোখে পানি আনিয়ে দিতে জানেন, তেমনি পরম মমতায় পিতৃস্নেহকে হার মানিয়ে দিতে পারেন। এটা খুব স্বল্পদৃশ্য বৈশিষ্ট্য। এই বৈশিষ্ট্য যার নেই তার সফলতার সম্ভাবনা ক্ষীণ। যার আছে তিনিই নেতৃত্ত্বে সফল হবেন।

 

একসময়ে যারা ছিলো তালিকার ‘টেলএন্ড’, এক সময়ে বলছি কেন, এই তো সেদিনও জনৈক খ্যাতনামা ক্রিকেটার বলেছিলেন “বাংলাদেশের সাথে খেলে সময় নষ্ট করার মতো সময় তার নেই”, আজ সেই বাংলাদেশ সেইসব “বিশ্বসেরা” দলগুলোর আলোচনার বিষয়। নিজেদের দক্ষতা আর যোগ্যতা দিয়ে পিছনে ফেলছে সেইসব দাপুটে দলকে। আজ বাংলাদেশের ক্রিকেট এক বড় ক্রিকেটীয় শক্তি।

 

আজ আমাদের ছেলেদের খেলায় চমকপ্রদ সাফল্যে আমরা সবাই আহ্লাদিত হই। খুশির জোয়ারে স্নাত হই। শত বেদনার মধ্যেও উল্লাস করার শক্তি পাই। গর্ব অনুভব করে আপ্লুত হই। যদি বলা হয় কী এমন জাদুর পরশে বাংলাদেশ ক্রিকেটের এই দুর্দান্ত উন্নতি? হাতুরাসিংহ’র তত্ত্বাবধানে থেকেই বাংলাদেশ আজ সারাবিশ্বের কাছে পরিচিত আর আলোচিত? আমি বলব “না”। তবে হা, এই উন্নতির পিছনে হাতুরাসিংহ’র জাদুর পরশ অবশ্যই আছে, তবে তার থেকে অনেক অনেক বড় জাদু স্পর্শ রয়েছে “মাশরাফি” নামের একজন নেতার।