ক্যাটেগরিঃ খেলাধূলা

বিশ্বকাপে বাংলাদেশকে কোনঠাসা করতে, বাংলাদেশের প্রাপ্য সম্মান থেকে শুধুমাত্র গায়ের জোড়ে বঞ্চিত করতে শ্রীনিবাসন নামক ভারতীয় ক্রিকেট জুয়াড়িটা এন্তার কাজ করেছে, সেটা সারা বিশ্ব দেখেছে। এই জুয়াড়ির নানা অনৈতিক কাজের প্রতিবাদে আইসিসি’র প্রেসিডেন্ট পদ থেকে আহম মোস্তফা কামাল পদত্যাগ করেছিলেন সেটা এখন সবার জ্ঞাত অতীত। সবাই এটাও জানেন আইসিসি প্রেসিডেন্ট থেকে পদত্যাগ করার সময়ে শ্রীনি সম্পর্কে জনাব কামাল কী কী প্রকাশ করেছেন?
icc-chair_sri_660_367_file
সম্প্রতি সমাপ্ত আইপিএল-এর পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকার জন্য ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ড বিশেষভাবে আমন্ত্রণ জানিয়েছিল জনাব মোস্তফা কামালকে। তিনি উপস্থিত হয়েওছিলেন। সে সময়ে ভারতের প্রভাবশালী দৈনিক বাংলাকাগজ আনন্দবাজারের সাথে এক সাক্ষাত্কারে তিনি বলেছিলেন শ্রীনি বাংলাদেশে এখন চরম নিন্দনীয় একটা ভর্তসনা। সবাই ’তুই বেটা মীরজাফর’-এর বদলে এখন এদেশে বলেন ’তুই বেটা একটা শ্রীনি’।

 

শ্রীনি সম্পর্কে বলতে গেলে বলতে হয় এই নিন্দনীয় ব্র্যান্ডের কাসুন্দিটা বাংলাদেশে যতটা কম ঘাঁটা যায় ততই ভালো। আপাদমস্তক বেনিয়া এই ক্রিকেটকর্তা হয়ে ক্রিকেটের আকর্ষণটাই নষ্ট করে ফেলেছে। গতিরোধ করেছে ক্রিকেটের সার্বজনীনতায়। নানা ছোলা-কৌশল আর কুনীতি দুর্নীতির ব্যাপ্তি ঘটিয়ে ক্রিকেটকে কুক্ষীগত করতে তার অপতত্পরতার জুড়ি নেই। যেখানে প্রতি বিশ্বকাপেই দল সংখ্যা বাড়িয়ে বিশ্বব্যাপী ছড়িয়ে দেওয়ার চেষ্টা হচ্ছে ফুটবলে, সেখানে ক্রিকেটকে এই শ্রীনি হাঁটাচ্ছে উল্টো পথে, কমিয়ে আনা হচ্ছে বিশ্বকাপে অংশগ্রহণকারী দলসংখ্যা। এর মাধ্যমে তার বেনিয়া মনোবৃত্তির প্রকাশ সুস্পষ্ট আর ক্রিকেটের এই সংকোচনমূলক নীতিও যে পয়সা কমানোর ধান্দায় প্রণীত, সেটাও দিবালোকের মতো স্পষ্ট।

 

যাগগে সে কথা, বিশ্বকাপে বাংলাদেশকে হাড়াতে পিছনে বসে শ্রীনি’র কল-কাঠি নাড়ানোর কথাও বাদ দেই- এবার একটু অন্য কথা কই।

 

দেশের মাটিতে বিশ্বকাপের পর বাংলাদেশ দুটো সিরিজ খেলল। প্রথমে পাকিস্তান- এদেশে ‘বাংলাওয়াশ’ হয়েছে। তারপরে ইন্ডিয়া- বাংলাদেশের কাছে সিরিজ হেড়েছে। আর এখন সাউথ আফ্রিকার সাথে সিরিজ চলছে। দুর্বোধ্য ইক্যুয়েশনের কথা বাদ দিয়ে সংকোচনমূলক ক্রিকেটের সরল সমীকরণে আসি। হিসেবটা এরকম ছিল ভারতকে হারাতে পারলে পয়েন্ট তালিকায় উপরে অবস্থানের সুবাদে বাংলাদেশ আগামী বছর অনুষ্ঠেয় “চ্যাম্পিয়ান্স ট্রফি” খেলতে পারবে। আর অনিশ্চিত হয়ে যাবে পাকিস্তান, ওয়েস্ট ইন্ডিজ আর জিম্বাবুয়ে, তাদেরকে কোয়ালিফাইং ম্যাচ খেলতে হবে। ইক্যুয়েশন পাল্টা ইক্যুয়েশন কোয়ালিফাই করে বেঙ্গল টাইগার-রা সাউথ আফ্রিকাকে পরাজিত করে আবার কনফার্ম করলো চ্যাম্পিয়ান্স ট্রফিতে খেলার যোগ্যতা। এখন আর কোনো ইক্যুয়েশন বা শ্রীনির নয়া কোনো চাল এই ট্রফিতে বাংলাদেশের খেলাকে আটকাতে পারবে না, এই যখন অবস্থা, পাকিস্তান দলের অংশগ্রহন তখন আবার অনিশ্চিত।

 

জিম্বাবুয়েও কম যায় কিসে! তবে ওয়েস্ট ইন্ডিজ আর পাকিস্তান- প্রত্যেকেই বিশ্বকাপ বিজয়ী আর ক্রিকেটনৈপুন্যে বিশ্বকে তাক লাগানো ক্ষমতার অধিকারী দুটি দল। তাদের মত দলকে এভাবে কোয়ালিফাইং ম্যাচ খেলে কোনো টুর্নামেন্ট খেলতে হবে সেটা নিঃসন্দেহে মেনে নিতে অনেক কষ্টই হবে। এতে করে ‘তুই বেটা শ্রীনি’ বলে যে গালিটার শুধুমাত্র বাংলাদেশে প্রচলন ঘটেছিল, এখন সেটার বিশ্বায়ন ঘটেছে। আয়ারল্যান্ড, কানাডা কিংবা কেনিয়ার কথা বাদই দেই কীভাবে, সেখানে তো চলছেই, সাথে জিম্বাবুয়ে ওয়েস্ট ইন্ডিজ আর পাকিস্তানে ’তুই বেটা একটা আস্ত শ্রীনি’ এখন নিন্দনিযভাবে তুমুল জনপ্রিয়, বলাই বাহুল্য।

 

“তুই বেটা শ্রীনি” গালির এই আন্তর্জাতিক ব্যাপ্তির সুখবরটা এর মালিক ক্রিকেটের ভারতীয় কর্তা নারায়ণস্বামী শ্রীনিবাসনকে কেউ জানাবেন কি? বেটা খবরটা শুনলে বেমালুম খুশি হবে আমি নিশ্চিত !

গৌতম হালদার