ক্যাটেগরিঃ খেলাধূলা, ফিচার পোস্ট আর্কাইভ

Sangakara

সব ধরনের ক্রিকেটকেই বিদায় জানিয়ে ফেলেছেন এই শতাব্দীর প্রথম কিংবদন্তী ক্রিকেটার কুমার সাঙ্গাকারা। বাংলাদেশের বিপক্ষে খেলেছেন ৪৯ টি ম্যাচ। আছে অনেক স্মৃতি। ক্যারিয়ারের একমাত্র ট্রিপল সেঞ্চুরী টাও বাংলাদেশের বিপক্ষে। ওনার উইকেট যে কোন বোলারের কাছেই দামি। সাঙ্গাকারার ক্যারিয়ারের সেই অমূল্য ৫৯৯ টি উইকেটের মাঝে বাংলাদেশের বোলারদের কি কি প্রাপ্তি থাকতে পারে, তেমন কিছুই বের করার চেষ্টা করলাম।

সাঙ্গাকারা ক্যারিয়ারে ব্যাট করেছেন ৬৬৬ ইনিংস। এর মধ্যে আউট হয়েছেন ৫৯৯ ইনিংসে। স্পিনাররা ১৯২ বার আউট করেছে, আর পেসাররা প্রায় এর দ্বিগুণ ৩৬৮ বার আউট করেছে। কুমার সাঙ্গাকারার বিপক্ষে আন্তর্জাতিক ম্যাচ খেলেছে প্রায় ৭৬৫ জন ক্রিকেটার। তার বিপক্ষে টিটুয়েন্টি খেলেছে ২৬৪ জন, ওয়ানডে খেলেছে ৬৫৪ জন এবং টেস্ট খেলেছে ৩৭০ জন। কিন্তু এরপরও আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে কুমার সাঙ্গাকারাকে তিন ফরম্যাটেই আউট করতে পেরেছে মাত্র ৬ জন স্পিনার। এর মধ্যে বাংলাদেশেরই ২ জন। তারা হলেন মাহমুদুল্লাহ রিয়াদ এবং সাকিব আল হাসান।

মাত্র ৬ জন স্পিনার সাঙ্গাকারাকে একাধিকবার বোল্ড করেছে। এর মধ্যে আছে আমাদের সোহাগ গাজী। মাত্র ৭ জন পেসার সাঙ্গাকারাকে একাধিকবার বোল্ড করেছে। এর মধ্যে আছে আমাদের মাশরাফি মর্তুজা। সাঙ্গাকারার বিপক্ষে একাধিকবার মুখোমুখি হয়ে প্রত্যেকবারই তাকে আউট করেছে মাত্র ৫ জন বোলার। এর মধ্যে আছে আমাদের শফিউল ইসলাম। ২ বারের মুখোমুখিতে ২ বারই সাঙ্গাকারাকে আউট করেছে শফিউল। সাঙ্গাকারা সেঞ্চুরী করেছে ৬৩ টি। এর মধ্যে অপরাজিত ছিল ১৫ টিতে আর আউট হয়েছে ৪৮ টিতে। এই ৪৮ ইনিংসে সেঞ্চুরিয়ান সাঙ্গাকারাকে একাধিকবার আউট করেছে মাত্র ৪ জন বোলার। এর মধ্যে দুইজনই বাংলাদেশের। তারা হলেন মাহমুদুল্লাহ রিয়াদ এবং সোহাগ গাজী। প্রত্যেকে সাঙ্গাকারা সেঞ্চুরী করার পর ২ বার করে আউট করেছে।

সাঙ্গাকারাকে শূন্য রানে আউট করেছে বাংলাদেশের ২ জন বোলার। মাশরাফি মর্তুজা এবং শাহাদাৎ হোসেন। সাঙ্গাকারা শ্রীলংকাতে সবচেয়ে বেশি ১১ বার শূন্য রানে আউট হবার পর, দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ৪ বার বাংলাদেশের মাটিতে শূন্য রানে আউট হয়েছে। সাঙ্গাকারা এখন পর্যন্ত ১৪৭২ টি জুটি গড়েছে। এর মধ্যে জুটি ভেঙ্গেছে ১৪১১ টি, বাকি ৬১ টি জুটি অবিচ্ছিন্ন ছিল। কিন্তু এই ১৪১১ টি জুটির মধ্যে সাঙ্গাকারা আউট হয়ে জুটি ভেঙ্গেছে ৫৯৯ বার এবং অন্য ব্যাটসম্যান আউট হয়ে জুটি ভেঙ্গেছে ৮১২ বার।

মাত্র ৩ জন ব্যাটসম্যানের সাথে জুটি গড়ে সাঙ্গাকারা কখনো রান করতে পারেননি। এর একজন হলেন আমাদের মোহাম্মদ আশরাফুল। ২০০৫ সালে আফ্রিকা একাদশের বিপক্ষে এশিয়া একাদশের হয়ে খেলতে নেমে প্রথম বলেই আউট হয়ে যান আশরাফুল। অপর প্রান্তে ছিলেন সাঙ্গাকারা। সাঙ্গাকারার বিপক্ষে মাঠে নেমে শ্রীলংকার বিপখে এখন পর্যন্ত ৫ জন ব্যাটসম্যান ১ হাজার রান করতে পেরেছেন। এর মধ্যে একজন মোহাম্মদ আশরাফুল। এমনকি মাঠে ফিল্ডিংয়ে থেকে সাঙ্গাকারা সবচেয়ে বেশি সেঞ্চুরী করতে দেখেছেন মোহাম্মদ আশরাফুলকে। সাঙ্গাকারার বিপক্ষে সর্বোচ্চ ৫ টি সেঞ্চুরী করেছে ৪ জন। এর একজন আমাদেশ আশরাফুল।

টেস্ট-ওয়ানডে দুই ফরম্যাটকেই বিদায় জানিয়েছেন র্যাংকিংয়ের সেরা দশে থাকা অবস্থায়। সাঙ্গাকারাই একমাত্র ব্যাটসম্যান যিনি তিন ফরম্যাটের ক্যারিয়ারেই র্যাংকিংয়ের সেরা তিনে ছিলেন। ছোটবেলায় পেপার কেটে ক্রিকেটারদের ছবি সংগ্রহ করে প্যাডে আঠা দিয়ে লাগিয়ে রাখতাম। কলম্বোতে মাহেলা কে নিয়ে সেই মহাকাব্যিক ৬২৪ রানের জুটির পরদিন পেপারে বড় করে দুজনের ক্রিজে রান নেওয়ার ছবি ছাপা হয়। এখনো আমার সেই প্যাডে শতাধিক ছবির মধ্যে সবচেয়ে বড় ছবি ওটা। আমার দেখা সাঙ্গাকারার সেরা ইনিংস ২০০৯ সালে মিরপুরের সেই ১৩৩ বলে ৫৯ রানের ইনিংস। সেই ত্রিদেশীয় সিরিজের ফাইনালে ১৫৩ রানের টার্গেটে খেলতে নেমে ৬ রানে ৫ উইকেট হারানোর পরও সাঙ্গাকারার কল্যাণে ম্যাচ জিততে পারেনি বাংলাদেশ। ক্রিকেট প্রজ্ঞার চরম পরীক্ষা দিয়েছিলেন সেদিন। জয় হয়েছিল সাঙ্গার। এরপর যখনই আমাদের বিপক্ষে ওনাকে ক্রিজে দেখতাম, কিছুটা ভয় হতো! কিন্তু আজ ম্যাচ শেষে ওনাকে যখন বিদায়ী বক্তৃতায় ইমোশনাল হতে দেখলাম, নিজেও কিছুটা হয়ে গেলাম। ১৫ বছরের ক্যারিয়ারের সফল পরিসমাপ্তি ঘটল। আমি ভাগ্যবান যে ওনার খেলা মাঠে বসে দেখতে পেরেছি।

# ThankYouSanga