ক্যাটেগরিঃ ধর্ম বিষয়ক

31_Kumari+Puja_091016_0004

 

দেবী দুর্গার নয়টি রূপ দেবী ভাগবতে বর্ণিত হয়েছে। বাংলা এবং ভারত বর্ষের অনেক জায়গায় শ্রীশ্রী দুর্গার ৯টি রূপ নবদুর্গার পূজা করা হয়। কলকাতার ক্ষুদঘাটে প্রতিবৎসর শরৎকালে নবদুর্গার পূজা করা হয়। সেখানে প্রত্যেক মূর্তির জন্য পৃথক পৃথক পূজারী পূজা করেন। দুটি পাতা একটি কুঁড়ির দেশ শ্রীমঙ্গলের মঙ্গলচন্ডী এলাকায় ভক্তরা নবদুর্গার পূজা করেন।

প্রথম শৈলপুত্রী, দ্বিতীয় ব্রহ্মচারিণী, তৃতীয় চন্দ্রঘন্টা, চতুর্থ কুম্মাণ্ড, পঞ্চম স্কন্দমাতা, ষষ্ঠ কাত্যায়নী, সপ্তম কালরাত্রি, অষ্টম মহাগৌরী এবং নবম সিদ্ধিদাত্রী–ইনারা নবদুর্গারূপে প্রকীর্তিতা। এই নবনাম নর্বজ্ঞ বেদে কথিত আছে। কাশীধামে দুর্গাকুণ্ডের নিকটে নবদুর্গার মন্দির অবস্থিত।

শৈলপুত্রীঃ- ব্রহ্মা মহাদেবী দুর্গার যে নবরূপের বর্ণনা দিয়েছেন তা মধ্যে প্রথমেই শৈলপুত্রীর নাম পাওয়া যায়। কূর্মপুরাণে শৈলপুত্রীর কাহিনী রয়েছে। ভগবতী সর্বস্থানে ঐশ্বর্য্যময়ী হয়েও ভক্ত শৈলের পুত্রীত্ব স্বীকার করেন। শৈল কঠোর তপস্যা দ্বারা মহাদেবীকে প্রার্থনা করেন। এজন্য ভগবতী ভক্ত বাৎসল্য প্রদর্শন করে করুণা -বসতঃ
শৈলের পুত্রীত্ব স্বীকার করেন। শৈলপুত্রী, মঙ্গলমহী, ভক্তবৎসল।

ব্রহ্মচারিণীঃ- ব্রহ্মচারিণী অর্থে ব্রহ্মরূপপ্রদা। স্বচ্চিদানন্দ ব্রহ্মপ্রাপ্তি তাঁর শীল বা স্বভাব। ব্রহ্মচারীণি আজীবন কুমারী থাকেন।

চন্দ্রঘন্টাঃ- দেবী দুর্গার হস্তগত ঘন্টাতে চন্দ্রশোভিত অথবা চন্দ্রতুল্য নির্মল ঘন্টা রয়েছে। তিনিই চন্দ্রঘন্টা। চন্দ্রঘন্টা দেবী আল্লাদ কারীনি ও আনন্দদায়িনী। চন্দ্রঘন্টা দেবী চন্দ্রের প্রতিদিতা রূপে নিজ আল্লাদকারীত্বে অভিমানে বিরাজিতা। চন্দ্রঘন্টা চন্দ্র অপেক্ষা লাবণ্যবতী, সোন্দর্য্যমন্ডিতা। মূলত চন্দ্রের ঘন্টাকে চন্দ্রঘন্টা বলে।

কুম্মাণ্ডঃ- কুম্মাণ্ড অর্থে ত্রিতাপে জর্জরিত সংসারের ভক্ষয়িত্রী। কুৎসিত উষ্মা, তাপত্রয় রূপ-সন্তাপ যে সংসারে অবস্থিত, যাঁর মাংসপেশী সমূহ পেশীময় উদর স্বরূপ অন্ডে থাকে তিনি দেবী কুম্মাণ্ড।

স্কন্দমাতাঃ- ভগবতী গর্ভজাত সনৎকুমার স্কন্দ নামে পরিচিত। ছান্তোজ্ঞ উপনিষদে আছে, ‘ভগবান সনৎকুমার নিজেকে স্কন্দ নামে আখ্যায়িত করেছেন। জ্ঞানীগণ যার উদরে জন্মগ্রহণের অভিলাস করেন। সেই শুদ্ধা দেবীই স্কন্দমাতা।

কাত্যায়নীঃ-দিব্যকর্ম সম্পাদনের জন্য মহর্ষি কাত্যায়নের আশ্রমে ভগবতী আবির্ভূতা হন এবং তার কন্যাত্ব স্বীকার করেন। আবার কোন কোন পুরাণ বলছেন যে কাত্যায়ন ঋষি নিজের মানস থেকে দেবী দুর্গাকে সৃষ্টি করেন বলেই দেবীর একনাম কাত্যায়নী।

কালরাত্রিঃ- কালরাত্রি অর্থে সর্বনাশক কালেরও নাশিকা রাত্রি। তিনি বিপদকালে সকল কিছু বিনাশ করেন। কালরাত্রি প্রলয়কালকেও বিনাশ করতে পারেন।

মহাগৌরীঃ- মহাগৌরী মহামানিনী দেবী । কালিপুরাণে উল্লেখ আছে যে মহাদেব কৌতুক ছলে দেবীকে কালী নামে সংবোধন করেছিলেন। এজন্য দেবী তখন গৌরবর্ণ প্রাপ্ত হন।

সিদ্ধিদাত্রীঃ- সিদ্ধিকাদেবী হলেন মোক্ষদা। সিদ্ধিকা শব্দের সহিত নবম অন্বিত হলে নবদুর্গা হন। এর অর্থ একই দুর্গার নবভেদ। যোগীর ধোয়রূপে যাহা শাস্ত্রে কথিত তাহাই ব্রহ্মাদ্বারা কীর্তীত হল। এসকল নাম স্বয়ং ব্রহ্মা কীর্তন করেছেন বলেই আজ দেবী দুর্গার প্রচলন বিশ্বব্যাপী বৃদ্ধি পাচ্ছে।

আমরা দেবীপক্ষের সূচনায় জগতের কল্যাণের জন্য দেবী দুর্গার স্তব বা আরাধনা করব।