ক্যাটেগরিঃ জনজীবন

নেতিবাচক লেখা দিয়ে শুরু করায় দু:খিত…….

অনেকে কে হয়ত আমার এই লেখার অনেক রাজনৈতিক উদ্দেশ্য খুঁজবেন। বিশেষ করে সংসদে পররাষ্ট্রমন্ত্রী এমন জ্বালাময়ী ভাষনের পর। টিপাইমুখ বাঁধ, সীমান্তে বাংলাদেশী হত্যা ইত্যাদি বিষয়ে সরকারে এই মন্ত্রীর গলা বেশ মিনমিনে হলেও, তার গরায়ও যে জোর আছে এটা দেখে ভালই লেগেছে। না, সেসব বিষয়ের অবতারনা করবো না। বিষয়টি সম্পূর্ণতই মানবিক। জাতিগত, ধর্মীয়, সাম্প্রদায়িক; যেই দাঙ্গার কারনেই পুরো একটি জনগোষ্টির ওপর এই মানবিক বিপর্যয় নেমে আসুক। সেই দেশের প্রশাসন-শাসকরা দাঙ্গা বন্ধে যতই লজ্জাহীন নিলিপ্ত থাকুক। মানুষ হিসেবে, মানবীয় গুনাবলীর দাবি নিয়ে; আমাদের ঘাড়ে এসে পড়া এ দায়িত্বকে আমরা অস্বীকার করবো কিভাবে?(!) হ্যাঁ, আমাদের নিজেদেরই সমস্যা অনেক, সামর্থও সীমিত, রোহিঙ্গা অনুপ্রবেশ বা শরনার্থী রোহিঙ্গাদের নিয়ে আমাদের অভিজ্ঞতাও ভাল নয়। কিন্তু তারপরও কথা থেকে যায়। কি পরিমান বিপন্নতা একটি পরিবারকে অজানা, অনিশ্চয়তার দিকে পাড়ি জমাতে বাধ্য করে-সেই অভিজ্ঞতা বাঙ্গালিদের এক প্রজন্ম আগেই হয়েছে। নাফ নদীতে নৌকার খোলের মধ্যে ভাসতে থাকা বিপন্ন পরিবারগুলোর দিকে বিজিবির রাইফেল তাক করার দৃশ্যে-যেকোন মানবীয় গুনাবলীর মানুষই বিব্রত হতে বাধ্য। মায়ানমারের রাখাইন রাজ্যের সংখ্যাগরিষ্ট রাখাইন সমাজের নেতাদের দায়িত্ববোধহীনতা বা দীর্ঘ সংগ্রামের ফসল নতুন গণতান্ত্রিক নেতাদের এই ব্যার্থতা নিয়ে হয়ত অনেক তিরষ্কার/ ধিক্কার জানানো যায়। প্রশ্ন তোলা যায় বিশ্বের শ্রেষ্ঠতম গণতান্ত্রিক নেত্রী যখন মুক্ত পরিবেশের সুযোগ নিয়ে দাঙ্গা বিক্ষুদ্ধ রাখাইন রাজ্যে না গিয়ে, ঐতিহাসিক সফরে ইউরোপ যান। আরো আরো বিশ্বে মানবাধিকারের ইজারাদার, বিশ্ব নেতৃত্ত্ব বা আঞ্চলিক মোড়ল অনেকর স্বার্থগন্ধ দায়ীত্বহিনতা নিয়েও হয়ত প্রশ্নতোলা যায়। তাতে নাফ নদীতে নৌকার খোলে ভাসতে থাকা বিপন্ন পরিবারগুলোর ভয়ার্ত শিশু, আতঙ্কিত নারী, করুনাপ্রার্থী পরিবার প্রধানের কি লাভ। হ্যা, সময আমাদের সেই পরীক্ষার সামনে এনে দাঁড় করিয়েছে। মানবিক দ্বায়িত্ববোধ থেকে আমরা সেই দায় এড়াতে পারি না। ঘৃনা, প্রতিশোধ স্পৃহা, জাতিভেদে উন্মাদ, ধর্মীয় বর্বরতার খুনিদের হাত থেকে পলায়নরত মানুষেরদের পুশবেক কি সেই খুনীদের হাতে তুলে দেয়া নয়?(!)

একটা বিষযের সাথে তুলনা দিয়ে শেষ করবো। হ্যা, সরাসরিই বলি- একাত্তরে ভারত যদি হানাদার আক্রান্ত বাঙ্গালীদের সেদেশে ঢুকতে না দিত। অনেকে হয়ত বলবেন, ‘ধুর, কিসের সাথে কি…….’। ভারতের সেই সাহায্য-সহযোগিতার পেছনে অনেক ঐতিহাসিকই নানা স্বার্থগন্ধ ব্যাখ্যা দিয়েছেন। আঞ্চলিক রাজনীতি, বিশ্ব রাজনীতি, দুই কেন্দ্রিক বিশ্বের অনেক হিসেব-নিকেশ হয়ত ছিল। কিন্তু যে কারনেই এক কোটি বাঙ্গালীকে আশ্রয় দেক না কেন। না দিলে, জাতিগত ভাবেই আমরা কি বিভৎস মানবিক বিপর্যয়ের মধ্যে পরতাম- এই কল্পকাহিনীর যুগে সেটা সহজেই অনুমেয়।