ক্যাটেগরিঃ নাগরিক সমস্যা

আজকে একটা গল্প শোনাব। একই অফিসের দুইজন ধানমণ্ডি থেকে প্রতিদিন তাদের কর্মস্থলে যান মহাখালীতে, তাদের নিয়েই এই গল্প।

দৃশ্য ১ : ঘুম থেকে উঠেই মুহিত সাহেবের মনটা খুব ভাল হয়ে গেল। শীতের চমৎকার একটা সকাল। আজকে একটা বিশেষ দিন। বড় একটা কাজ পাবার শতভাগ আশা আছে। সকাল দশটায় ক্লায়েন্টের সাথে মিটিং। স্যুট-টাই পরে ঠিক ৯ টায় তার বিলাস বহুল গাড়িতে চড়ে রউনা দিলেন অফিসের দিকে। পান্থপথে আসতেই শুরু হল ট্রাফিক জ্যাম। একটু চিন্তায় পরে গেলেন মুহিত সাহেব। তবে হাতে এখনো অনেক সময় আছে। কিন্তু সময় যতই আগাতে থাকলে তার চিন্তা ততটাই বাড়তে থাকল। জ্যামের কোন শেষ দেখা যাচ্ছে না। মুহিত সাহেব তার শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত গাড়িতে বসে দরদর করে ঘামছেন। শেষ পর্যন্ত সাড়ে দশটায় তিনি অফিসে পৌঁছালেন।

দৃশ্য ২ : প্রতিদিনের মত আজও দিগন্ত অফিসে যাওয়ার জন্য প্রস্তুত। যদিও তার অফিসের গাড়িতে পিক-ড্রপ আছে, কিন্তু সবসময় সে তার সাইকেল নিয়ে যেতেই পছন্দ করে। সোয়া নয়টায় সে বাসা থেকে বের হয়ে গেল। খুব সহজেই পউনে দশটায় অফিসে পৌঁছেও গেল। কিছুক্ষণের মধ্যেই বড় সাহেবের ফোন। মুহিত সাহেব নাকি জ্যামে আটকা পরে আছেন, আর ওই দিকে ক্লায়েন্ট এসে বসে আছে। বড় সাহেব রেগে অস্থির। দিগন্তকে বললেন ক্লায়েন্ট ম্যানেজ করতে। দারুন একটা মিটিঙের পর দিগন্ত কাজটা জোগাড় করে ফেললো। বড় সাহেব খুশি হয়ে দিগন্তকে প্রোমোশন দিলেন।

জীবনের চাহিদা মিটাতে আমাদের প্রতিদিন বের হতে হয়। কতটা সময় আমরা রাস্তায় জ্যামের মধ্যে বসে কাটাই প্রতিদিন ? পরিসংখ্যান থেকে জানা যায়, যদি ১ লক্ষ মোটর চালিত যানবাহন ঢাকার রাস্তায় ১ ঘণ্টা ট্রাফিক জ্যামে আটকা পরে তাহলে প্রায় ৬ কোটি টাকার জ্বালানি অপচয় হয়। তার মানে দাড়ায়, বছরে প্রায় ২৪০০ কোটি টাকা, সেইটাও শুধু আমাদের এই ঢাকাতেই। আর দুই ঘণ্টা ট্রাফিক জ্যাম হলে বছরে প্রায় ৪৮০০ কোটি টাকা, যেইটা কিনা আমাদের সারা বছরের বাজেটের প্রায় ৩.৫%। এই যদি হয় অবস্থা, তাহলে কিভাবে আমাদের অর্থনীতির ঊর্ধ্বগতি হবে ?

এই শহর আমার, আপনার, সবার। শুধু সরকারের দিকে তাকিয়ে থাকলে চলবে না। আসুন দায়িত্ব নেই নিজের শহরকে বাসযোগ্য করার। সবাই মিলে সাইক্লিং শুরু করি। নিজের জন্য না হোক, দেশের জন্যও না হোক, নিজের সন্তানদের জন্য কি আমরা আমাদের দেহ ইঞ্জিনকে আরও একটু বেশি ব্যাবহার করতে পারি না ?