ক্যাটেগরিঃ ক্যাম্পাস

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে উদ্ভিদ বিজ্ঞান বিভাগের এক শিক্ষক ও ইনস্টিটিউট অব ইনফরমেশন টেকনোলজির এক শিক্ষককে বহিষ্কারের দাবিতে তুমুল আন্দোলন গড়ে উঠেছে। ইতিহাস বিভাগের শিক্ষার্থীরাসহ বিভিন্ন সংগঠন এবং ছাত্রলীগ পৃথকভাবে এসব আন্দোলন করছে। অভিযোগ উঠেছে সুমির আত্মহত্যার বিচারের আন্দোলনকে রাজনৈতিকভাবে পেছনে ফেলার জন্য নতুন করে ছাত্রলীগ দিয়ে আন্দোলন শুরু করেছে প্রশাসন।

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের ইতিহাস বিভাগের মেধাবী ছাত্রী মার্জিয়া জান্নাত সুমির আত্মহত্যার জন্য দায়ী উদ্ভিদ বিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষক মো. মনিরুজ্জামান শিকদার সুমনের বহিষ্কারের দাবিতে আন্দোলন করছে ইতিহাস বিভাগের শিক্ষার্থীরা। তাদের আন্দোলনের সাথে একাত্মতা ও সহমর্মিতা ঘোষনা এবং পৃথকভাবে বিচারের দাবি জানিয়েছে জাবি জাতীয়তাবাদী শিক্ষক ফোরাম, বাংলাদেশ মহিলা পরিষদ, ছাত্র ইউনিয়নসহ বিভিন্ন সংগঠন।।

এদিকে সামাজিক যোগাযোগের ওয়েবসাইট ফেসবুকে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার মৃত্যু কামনা করায় জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের ইনস্টিটিউট অব ইনফরমেশন টেকনোলজি’র প্রভাষক মুহাম্মদ রুহুল আমিন খন্দকারের স্থায়ী বহিষ্কারের দাবিতে ক্যাম্পাসে বিক্ষোভ মিছিল, কুশপুত্তলিকা দাহ ও উপাচার্য বরাবর স্মারকলিপি প্রদান করে ছাত্রলীগের একাংশের নেতাকর্মীরা। এছাড়া ওই শিক্ষকের বিরুদ্ধে আইন মোতাবেক দৃষ্টান্তমূলক ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য আশুলিয়া থানায় মামলা দায়ের করা হয়েছে। ঘটনার তদন্তে ৫ সদস্য বিশিষ্ট তদন্ত কমিটি গঠন করেছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন।

সুমির আত্মহত্যার বিচারের দাবিতে আন্দোলনে বিএনপিপন্থী শিক্ষকদের জড়িত থাকার কথা বিভিন্নভাবে ক্যাম্পাসে প্রচার করছে একটি মহল। তাদের দাবি বিএনপির শিক্ষকরা সুবিধা নেয়ার জন্য এ আন্দোলনকে তাদের স্বার্থে ব্যবহার করছে। তবে আন্দোলন কর্মসূচিতে কয়েকজন আওয়ামী পন্থী শিক্ষককে সরাসরি জড়িত থাকতে দেখা গেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েক শিক্ষক দাবি করেন সুমির আত্মহত্যার ঘটনার সাথে ইতিহাস বিভাগের সভাপতি আওয়ামীপন্থী শিক্ষক অধ্যাপক লুৎফুল হাই জামী জড়িত থাকার অভিযোগ ওঠে আসায় এ আন্দোলনকে থামিয়ে দেওয়ার জন্য বিএনপিকে জড়ানো হচ্ছে। ইতিহাস বিভাগের শিক্ষক-শিক্ষার্থী এ আন্দোলন গড়ে তুলেছে, এখানে বিএনপিপন্থী শিক্ষকদের ইন্ধন নেই বলে তারা জানায়। এদিকে ছাত্রলীগ ইনস্টিটিউট অব ইনফরমেশন টেকনোলজি’র যে শিক্ষকের বহিষ্কারের দাবি জানিয়েছে ওই শিক্ষককে বিএনপিপন্থী শিক্ষক বলে অপ্রচার চালাচ্ছে একটি মহল।

সুমির আত্মহত্যার বিচারের দাবিতে আন্দোলনে বিএনপিপন্থী শিক্ষকদের জড়িত থাকার কথা বিভিন্নভাবে ক্যাম্পাসে প্রচার করছে একটি মহল। তাদের দাবি বিএনপির শিক্ষকরা সুবিধা নেয়ার জন্য এ ক্যাম্পাসের পর্যবেক্ষক মহল দাবি করেছে সুমি আত্মহত্যার বিচারের দাবিতে ছাত্রলীগের কোন কার্যক্রম এখনো চোখে পড়েনি। প্রশাসন দ্রুত গতিতে বিচার করার তেমন আগ্রহ দেখাচ্ছে না। অথচ কয়েকদিন আগে ঘটে যাওয়া একটি ঘটনা নিয়ে ছাত্রলীগ তুমুল আন্দোলন শুরু করেছে। থানায় মামলা পর্যন্ত করা হয়েছে। প্রশাসনের পক্ষ থেকে উচ্চ পর্যায়ের ব্যক্তিদের নিয়ে একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। একটি যৌক্তিক আন্দোলনের গতি পথ থামিয়ে দেয়ার জন্য প্রশাসন কৌশল করে এ আন্দোলনের পথ বেছে নিয়েছে বলে অভিযোগ ওই মহলের। তাছাড়া সুমির আত্মহত্যার আন্দোলনে বিএনপির মদদ এবং অভিযুক্ত রুহুল আমিন খন্দকারকে বিএনপিপন্থী বলে প্রচার করে সরকারি উচ্চ পর্যায়ের কাছে নিজেদের বিশুদ্ধতার বিষয়টি নজরে আনতে চেষ্টা করছে প্রশাসন।

***
প্রতিবেদনটি ইতিপূর্বে প্রকাশিত হয়েছে: দৈনিক আমার দেশ, ১৮ আগস্ট ২০১১