ক্যাটেগরিঃ ক্যাম্পাস

মেডিকেল ভর্তি পরীক্ষার ভূয়া প্রশ্নপত্র বিক্রি করে অর্থ হাতিয়ে নেয়ার অভিযোগে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের সরকার ও রাজনীতির বিভাগের শিক্ষক আসম ফিরোজ-উল-হাসানের র‌্যাবের হাতে আটকের ঘটনায় ক্যাম্পাসে মিশ্র প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি হয়েছে। সাধারণ শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা এ ঘটনায় ক্যাম্পাসের মর্যাদা ক্ষুন্ন হয়েছে দাবি করে ওই শিক্ষকের বহিষ্কারের দাবি জানিয়েছে। এদিকে ওই শিক্ষকের মুক্তির দাবিতে সড়ক অবরোধ ও মানববন্ধন করেছে ওই বিভাগের আওয়ামীপন্থি শিক্ষক ও জাবি শাখা ছাত্রলীগ নেতাকর্মীরা। গত বৃহস্পতিবার রাতে র‌্যাব ও গোয়েন্দা সংস্থার সদস্যরা ঢাকার বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালিয়ে ২০জনকে গ্রেফতার করা হয়। এদের মধ্যে শ্যমলী এলাকা থেকে শিক্ষক ফিরোজ-উল-হাসানকে গ্রেফতার করা হয়। এসময় তিনি তার বন্ধু তারিকুল ইসলামের বাসায় অবস্থান করছিলেন।

জানা যায়, ওই শিক্ষক ছাত্রাবস্থায় বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রলীগের নামধারী ক্যাডার বলে চিহ্নিত ও বিভিন্ন অভিযোগে অভিযুক্ত। বর্তমান প্রশাসন ক্ষমতা গ্রহণের পরে উপাচার্য দলীয় দৃষ্টিকোণ ও অঞ্চলপ্রীতিতে উৎসাহী হয়ে যে ১৮০ শিক্ষক নিয়োগ দেন তিনি তাদের একজন। প্রশাসনের খুব আস্থাভাজন হওয়ায় সহকারী প্রক্টরের দায়িত্বও পান ওই শিক্ষক। এই ক্ষমতাকে কাজে লাগিয়ে তিনি বর্তমান ছাত্রলীগের প্রশাসনপন্থি গ্রুপকে পরিচালিত করছেন বলে অভিযোগ রয়েছে। ওই শিক্ষক এছাড়া মওলানা ভাসানী হলের আবাসিক ছাত্র হওয়ায় ঐ হলের নেতা-কর্মীরা দাপট নিয়ে ক্যাম্পাসে চলাফেরা করছে ও সন্ত্রাসী কর্মকান্ড চালাচ্ছে। এতে তাদেরকে পোহাতে হচ্ছে না এসব অপরাধের শাস্তি। এতো সব অভিযোগের পরেও তিনি জাবির সহকারী প্রক্টর। একটি বিশ্বস্ত সূত্রের দাবি, বিগত কয়েক বছরের বিসিএস পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁসের সাথেও জড়িত এই শিক্ষক। প্রতারণামূলক চক্রের সাথে জড়িত থাকার কথা বন্ধুমহলে এর আগে স্বীকার করলেও ভয়ে তারা কেউই মুখ খোলেনি। ওই শিক্ষকের ভাই ফরহাদ-উল-হাসান ও ছাত্রাবস্থায় বিশ্ববিদ্যালয় সহপাঠী তারিকুল হাসানকে সাথে নিয়ে দীর্ঘদিন তিনি প্রশ্নপত্র ফাঁসের একটি চক্রের সাথে জড়িত আছেন বলে জানা গেছে। তার বন্ধু তারিকুল হাসান একই বিশ্ববিদ্যালয়ের সরকার ও রাজনীতি বিভাগের ২৭ তম ব্যাচের শিক্ষার্থী ও ছাত্রলীগের নামধারী ক্যাডার হিসেবে পরিচিত। ঢাকার বিভিন্ন চাকরির পরীক্ষা, বিশ্ববিদ্যালয়, মেডিকেল কলেজ, স্কুল ও কলেজের ভর্তি পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁস করে বিপুল অর্থ কামানো তার প্রধান কাজ। উল্লেখ্য শিক্ষক ফিরোজ-উল-আলমের দেশের বাড়ী রংপুর বিভাগে। তাই অনেকেই সন্দেহ করছেন বিজি প্রেসের সাথে তার যোগসাজশ থাকাটাই স্বাভাবিক। ওই শিক্ষকের আটকের ঘটনাকে বিশ্ববিদ্যালয়ের মর্যাদার চরম অপমান বলে দাবি করেছেন শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েক সাধারণ শিক্ষার্থী জানান, আমাদের শিক্ষকরা এমন কাজে যুক্ত যে বাইরে বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিচয় দিতে লজ্জা লাগে। তবে ছাত্রলীগ ও আওয়ামীলীগের একটি অংশ প্রচার করছে, তারিকুল ইসলাম ওইসব অসৎকাজের সাথে যুক্ত, কিন্তু ফিরোজ সে ধরনের মানুষ নয়। ক্যাম্পাসের একাধিক শিক্ষক ও কর্মকর্তারা দাবি করেন, তারা একসাথে রাজনীতি করতো, সুতরাং তারেকুল চরিত্র জানা সত্বেও তার ঘনিষ্ঠতা এবং ওই রাতে তারেকুল বাসায় অবস্থান করাটা সন্দেহকে আরো জোরদার করে। গতকাল দুপুর সাড়ে ১২ টার দিকে ক্যাম্পাসের বিএনপিপন্থি শিক্ষকরা বিশ্ববিদ্যালয়েল উপাচার্য অধ্যাপক শরীফ এনামুল কবিরের সাথে দেখা করে চাকরি বিধি ১০ (ক) ধারা মোতাবেক ওই শিক্ষককে সাময়িক বহিষ্কারের দাবি জানিয়ে স্মারকলিপি প্রদান করেছে। এছাড়া অধ্যাপক খন্দকার মুস্তাহিদুর রহমান, অধ্যাপক আবদুল লতিফ মাসুম ,অধ্যাপক শামছুল আলম সেলিম, অধ্যাপক সোহেল রানা, ড. মো. শরিফ উদ্দিন, ড. মাফরুহী সাত্তারসহ জাতীয়তাবাদী শিক্ষক ফোরামের ৭৬ জন শিক্ষক গতকাল এক বিবৃতিতে বলেন, এ ঘটনার দায়দায়িত্ব অভিযুক্ত শিক্ষকের নিয়োগকর্তা, মদদদাতা ও পৃষ্ঠপোষক হিসেবে বর্তমান প্রশাসনের উপরই বর্তায়। আমরা বিশ্ববিদ্যালয় বিধি মোতাবেক অভিযুক্ত শিক্ষককে সকল প্রকার শিক্ষা ও প্রশাসনিক দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি প্রদানের দাবি জানাচ্ছি। এ ঘটনাকে বিশ্ববিদ্যালয়ের জন্য চরম অবমানকর উল্লেখ করে ওই শিক্ষকের বহিষ্কারের দাবি জানিয়েছে জাবি শাখা ছাত্রদলের সভাপতি জাকির হোসেন, আবু সাঈদ ভূইয়াসহ অন্যান্য নেতৃবৃন্দ। এদিকে আওয়ামীপন্থি শিক্ষক ও ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা ওই শিক্ষকের মুক্তির দাবিত বিশ্ববিদ্যালয় সংলগ্ন ঢাকা-আরচিা মহাসড়কে দুপুর সাড়ে ১২ টা ও একটার দিকে দু’দফায় সড়ক অবরোধ এবং মানবন্ধন কর্মসূচি পালন করে। এসব কর্মসূচিতে ওই বিভাগের অধ্যাপক খুরশীদা বেগম, অধ্যাপক এম সলিমউল্লাহ খান, শিক্ষক বশির আহমেদ, জাবি শাখা ছাত্রলীগের স্থগিত কমিটির সহসভাপতি শেখ নিয়ামুল পারভেজ, যুগ্ম সম্পাদক আজগর আলী প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।