ক্যাটেগরিঃ ক্যাম্পাস

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে ২০১২ সালের শিক্ষক সমিতির নির্বাচনকে সামনে রেখে ফের দলীয় কোটায় নিয়োগ দেয়া শুরু হয়েছে। বিভিন্ন বিভাগে ৭ জনকে নিয়োগ দেয়া হয়েছে এবং ২৩ পদে নিয়োগের জন্য বিজ্ঞপ্তি প্রকাশিত হয়েছে যাদের সিলেকশন প্রক্রিয়া চলছে বলে জানাগেছে। নির্বাচনকে সামনে রেখে ভোটার বৃদ্ধিও লক্ষে শিক্ষক নিয়োগ দেয়ার প্রক্রিয়ার তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন কর্মরত বিভিন্ন শিক্ষক।
জানাযায়, ৩১ ডিসেম্বর বর্তমান শিক্ষক সমিতির কার্যনির্বাহী পরিষদের মেয়াদ শেষ হবে। পরবর্তী নির্বাচনে জয়লাভের লক্ষে গতবারের মত এবারও দলীয় শিক্ষক নিয়োগ প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। গত ১৫ নভেম্বরের সিন্ডিকেট নিয়োগ দেয়া মোট ৭ জনকে। পরিবেশ বিজ্ঞান বিভাগে ৩ জন, ফিন্যান্স এ্যাণ্ড ব্যাংকিংএ ১, ম্যানেজমেন্টে এক জনের বিজ্ঞপ্তি দিয়ে ২ জন এবং মাইক্রোবায়োলজিতে এক জনকে নিয়োগ দেয়া হয়েছে। গত ১৫ সেপ্টম্বর ২৩টি পদে নিয়োগ দেয়ার জন্য বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হয়েছে। এসব পদে নিয়োগের জন্য দলীয় বিভিন্ন ব্যক্তিকে মনোয়ন করা হয়েছে বলে বিভিন্ন সূত্রে জানাগেছে। এর মধ্যে ভূগোল ও পরিবেশ বিভাগের ২টি অস্থায়ী প্রভাষক পদে এক ছাত্রলীগ কর্মী এবং আরেক শিক্ষকের স্ত্রীকে নিয়োগ দেয়া হবে বলে জানাগেছে। অনাষ্ঠানিক প্রক্রিয়ায় সম্পন্ন ওই ছাত্রলীগ ক্যাডারের নাম তানজিমুল হক মোল্লা। ওই ছাত্রলীগ কর্মীর বিরুদ্ধে সাভার আশুলিয়া থানায় হত্যার অপচেষ্টার অভিযোগে মামলা রয়েছে। তৎকালীন ছাত্রলীগ বিশ্ববিদ্যালয় শাখা সভাপতি সোহেল পারভেজ ২০০৯ সালে ১৮ ফেব্র“য়ারি মামলাটি দায়ের করেন। মামলা নং-৩২। সে পুলিশের হাতে আটক হয়ে হাজতবাসও করেছে কয়েক দিন। এছাড়া তার বিরুদ্ধে নারী নির্যাতনের অভিযোগও রয়েছে। অনার্সে ১০ স্থানে থাকা ওই ছাত্রলীগ কর্মী বিভাগীয় সভাপতি শাহেদুর রশিদের অসাধু প্রচেষ্টার মাধ্যমে মাস্টার্সে প্রথম স্থানলাভ করে। ওই প্রার্থীর বিভিন্ন কোর্সে পরীক্ষকদের প্রদত্ত নম্বরের মধ্যে ব্যাপক অসঙ্গতি রয়েছে বলে জানাগেছে। আরেক জন ছাত্রলীগ কোটায় নিয়োগ পাওয়া হামান মাহমুদ খন্দাকারের স্ত্রী। রসায়ন বিভাগে ২টি অস্থায়ী প্রভাষক পদে নিয়োগ পাচ্ছেন ভিসির আস্থাভাজন প্রভাবশালী আওয়ামী শিক্ষক অধ্যাপক বদিয়ার রহমানের ছেলে ও ভিসির কথিত এক বান্ধবী। ভিসি বিশেষ ক্ষমতাবলে অজৈব রসায়ন ক্যাটাগরিতে পাস করা এক প্রার্থীকে ভৌত রসায়ন কোটায় নিয়োগ দিচ্ছেন। ওই নিয়োগ প্রক্রিয়া বন্ধকরার জন্য বিভাগীয় শিক্ষকরা সভাপতি বরাবর লিখিতভাবে বন্ধ করার অনুরোধ করেছেন। রসায়ন বিভাগের শিক্ষক বলেন, ক্যাটাগরি নিয়ম ভেঙ্গে এবারই প্রথম নিয়োগ দেয়া হচ্ছে। ওই শিক্ষকরা যোগ্যদের নিয়োগ দেয়ার অনুরোধ জানিয়েছেন। তাছাড়া ওই প্রার্থীর অনার্সে গেরেজ দিয়ে প্রথম বিভাগ দেয়া যার অবস্থান ১৭ তম এবং মাস্টার্সে ১১ তম। দর্শন বিভাগের সভাপতির স্ত্রীর নিয়োগ দেয়ার প্রক্রিয়া চূড়ান্ত হয়ে গেলেও বিভাগের শিক্ষকদেও তোপের মুখে স্থগিত রয়েছে। এছাড়া বাংলা বিভাগে নিয়োগ পেতে যাচ্ছেন শামিম নামের একজন। ওই বিভাগের ২২ তম ব্যাচের ওই ছাত্রের এসএসি ছাড়া বাকী পরীক্ষায় দ্বিতীয় বিভাগ। মিডিয়া লাইনে অভিজ্ঞ ওই প্রার্থীকে নিয়োগ দেয়া হচ্ছে সাংবাদিকদের শায়েস্তা করার জন্য। এছাড়া জার্নালিজম এন্ড মিডিয়া স্টাডিজ বিভাগে নিয়োগ পাওয়ার জন্য ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পাস করা ছাত্রলীগ ক্যাডাররা আদাজল খেয়ে লেগেছে বলে জানাগেছে।

নির্বাচন সামনে রেখে এ ধরনের নিয়োগ প্রক্রিয়াকে অস্বচ্ছ ও শিক্ষার জন্য হুমকী বলে উল্লেখ করেছে বিভিন্ন বিভাগের শিক্ষকরা। সরকার ও রাজনীতি বিভাগের অধ্যাপক শামছুল আলম সেলিম বলেন, নির্বাচনরক সামনে রেখে বর্তমার প্রশাসন প্রতিবারের মত এবারও গননিয়োগ দেয়া হয়েছে বলে উল্লেখ করেছেন। নির্বাচনের কয়েক দিন আগে ১৫ শিক্ষকসহ মোট ১৮০ জন শিক্ষক নিয়োগ দেয়া হয়েছে। গত বছর নির্বাচনের আগের দিন ১৫ শিক্ষকের নাম অন্তর্ভূক্ত করা হয়।