ক্যাটেগরিঃ পাঠাগার

 

আমাদের গ্রামে ব্যক্তিগত উদ্যোগে ১৯৮০ সালে প্রতিষ্ঠিত একটি পাঠাগার আছে। আমার গ্রামের নামেই পাঠাগারটির নাম ‘শুনই প্রগতি পাঠাগার’। বর্তমানে সংগৃহীত বইয়ের সংখ্যা দুই হাজারের মতো। সেটার রক্ষণাবেক্ষন করেন আমার বাবা-মা। এই পাঠাগারটি এখন সবার জন্য উন্মুক্ত করে দিতে চাই। যদিও আমাদের পরিবারের সদস্যদের বাইরেও অনেক মানুষ সেখান থেকে বই নিয়ে পড়ে।

অজপাড়া গা একটি গ্রাম।
যেখানে বিদ্যুতের আলো এখনো পৌঁছায়নি। গায়ের পথ ধরে হাটলে অনেক সবুজের সমারোহ চোখে পড়বে। এখনো কাঁচা মাটির সড়ক পেরিরে এই আলোর রাজ্য। নেত্রকোনা জেলা থেকে ২০ কিলোমিটার পূবে আটপাড়া থানাধীন ‘শুনই’ গ্রাম। আটপাড়া থানা থেকে আড়াই কিলো পাকা রাস্তা পেরিয়ে আধা কিলো কাচা রাস্তা, তারপর আমাদের গ্রাম। আমাদের গ্রামে যেখানে সৃজনশীল ও মননশীল বিনোদনের অন্যকোন মাধ্যম নেই সেখানে আমার বাবার পাঠাগারটি এখন পাঠকদের কাছে একটি ভালোবাসার জায়গায় পরিণত হয়েছে।

অনেক মানুষের আনাগোনা বাড়ে আমাদের বাড়িতে। যখন আমার দাদা বেঁচে ছিলেন, উঠোনে পাটাতন বিছিয়ে পুঁথির আসর বসত। দাদু এখন বেঁচে নেই। এখন বই পড়ার জন্য অনেক দূর থেকে মানুষ আসে। আড়াইশো বছর আগের প্রাচীন অনকে পুঁথিসহ অনেক দুষ্প্রাপ্য সংগ্রহ রয়েছে এই পাঠাগারে। এখন আর বইয়ের সংখ্যা আর প্রতিবছর বাড়ছে না, কারন যে পরিমান পৃষ্ঠপোষকতা দরকার সেটি নেই।

এবছর থেকে এই পাঠাগারটি সব শ্রেণি-পেশার মানুষের জন্য অবমুক্ত করে দিয়ে পুস্তকের সংখ্যা বাড়াতে চাই। সেই সাথে জাতীয় গ্রন্থাগার থেকে নিবন্ধন নেয়ার কথাও ভাবছি। নিবন্ধনের নিয়মকানুন কারো জানা থাকলে জানাবেন আশাকরি।

পাঠাগারটিকে কিভাবে আরো সমৃদ্ধ করা যায়, সে ব্যাপারে সবার কাছ থেকে মন্তব্য প্রত্যাশা করছি।

hasan_netsu@yahoo.com