ক্যাটেগরিঃ ক্যাম্পাস

 

ফাহমিদা ফারাহ ইসলাম, একটা সদা হাসিমাখা মুখ ছিল আমাদের শাবি ক্যাম্পাসে। আর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগের সহকারী অধ্যাপক-রুমানা ম্যাডাম। একই পুনরাবৃত্তি হতে চলছে সময়ের ব্যবধানে। এই ম্যাডামের পরিণতিও যেন শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালেয়ের সমাজ বিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষক “ফাহমিদা ফারাহ ইসলাম”-র মত না হয়…এই রকম ঘটনা এর আগেও আমরা নিজের চোখে দেখে এসেছি। আমাদের চোখের সামনেই মারা গেছে আমাদের প্রিয় ফারাহ ম্যাডাম। আমাদের কে “Women and Development” পড়াতেন। অথচ পারিবারিক নির্যাতনে স্বামীর হাতে খুন হন তিনি। আমরা আর এ রকম দেখতে চাইনা।
================================================================================
দেশের সর্বোচ্চ বিদ্যাপীঠ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগের সহকারী অধ্যাপক। ৫ জুন রাজধানীর ধানমন্ডিতে বাবার বাড়িতে স্বামী হাসান সাইদের হাতে নির্মমভাবে নির্যাতিত হন তিনি।

পারিবারিক এই নির্যাতনের খবর সভ্য সমাজকে চরমভাবে নাড়া দেয়।
গতকাল ল্যাবএইড হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রুমানা সাংবাদিকদের মাধ্যমে তাঁর একমাত্র কন্যা আনুশাসহ পরিবারের নিরাপত্তার দাবি করেন। কারণ স্বামী হাসান সাইদ তাঁকে গুলি করে হত্যা অথবা গায়ে এসিড নিক্ষেপের হুমকি দিয়েছেন।

২০০১ সালে হাসান সাইদের সঙ্গে বিয়ে হয় রুমানার। তাঁদের একমাত্র কন্যার বয়স সাড়ে পাঁচ বছর। রুমানা জানান, বিয়ের পর থেকেই সাইদ তাঁকে নির্যাতন করে আসছিলেন। সন্তানের দিকে তাকিয়ে সব কষ্ট সয়ে গেছেন। সর্বশেষ উচ্চশিক্ষার জন্য কানাডা যাওয়া নিয়ে মনোমালিন্য শুরু হয়। তারপর এই চরম নির্যাতন।

রুমানা বলেন, ‘গত ১০ বছর আমি অনেক কষ্ট করে সংসার করেছি। হাসাননের চোখের সমস্যা থাকায় সে হীনম্মন্যতায় ভুগত। সব সময় আমাকে মানসিক নির্যাতন করত। সন্তানের ভবিষ্যতের কথা ভেবে পরিবারের কাউকেও এসব বিষয় জানাতাম না।’

রুমানার বাবা অবসরপ্রাপ্ত সেনা কর্মকর্তা মনজুর হোসেন এ সময় কান্নায় ভেঙে পড়েন। তিনি বলেন, ‘আমার মেয়েটা খুব নম্র স্বভাবের। ১০ বছর ধরে সংসার করছে, আমাদের কখনো স্বামীর নির্যাতনের বিষয়ে কিছু বলেনি।’

মনজুর হোসেন বলেন, ‘সাইদ আমার মেয়ের দুই চোখ উপড়ে ফেলতে চেয়েছিল। ডাক্তার বলেছেন, মেয়ের বাঁ চোখ সম্পূর্ণ নষ্ট হয়ে গেছে। ডান চোখে দেখতে পারবে কি না, তা-ও অনিশ্চিত।’ তিনি মেয়ের সুস্থতার জন্য সবার দোয়া কামনা করেন।

নির্যাতনের এ ঘটনায় রুমানার বাবা বাদী হয়ে ধানমন্ডি থানায় মামলা করেছেন। ঘটনার পর থেকে সাইদ পলাতক। সাইদ বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয় (বুয়েট) থেকে পাস করা প্রকৌশলী। একসময় ব্যবসা করলেও তিনি এখন বেকার। থাকতেন শ্বশুরের বাসায়। সেখানেই চলত স্ত্রীর ওপর নির্যাতন। সাইদের মা-বাবা দুজনই যুক্তরাষ্ট্র-প্রবাসী।

এই নির্যাতনের প্রতিবাদে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক সমিতি আজ মঙ্গলবার অপরাজেয় বাংলার পাদদেশে মানববন্ধন ও প্রতিবাদ সমাবেশের আয়োজন করেছে।