ক্যাটেগরিঃ দিনলিপি

আজ ঢাকার আকাশে একচিলতে মেঘ নেই…তুলো তলো সাদা মেঘের ভেলাগুলো কেন যেন অভিমান করে দূরে চলে যাচ্ছে। তবে আজ সকালে বিজয় স্মরণীর মোড়ে এক ক্ষুদে মেয়ের হাতে কদম ফুল দেখে এক স্নিগ্ধতায় ছুঁয়ে গেল মন।

বৃষ্টি নামুক অঝোরধারায় ….ভিজে যাক উত্তপ্ত ঢাকার কংক্রিট। আমার কাছে বৃষ্টি মানেই এক ধরনের নষ্টালজিয়া….চলে যেতে ইচ্ছে করে কল্পনার সমুদ্দুরে। আমি ফিরে যাই আমার হারানো শৈশবে-:
মনে পড়ে, আমার গ্রামের ধান ক্ষেতের আইল ধরে এলোপাতাড়ি চলা, বৃষ্টিতে ভিজে কাদামাটিতে একাকার হয়ে ফুটবল খেলা, পুকুরে জলখেলি, নৌকোয় চড়ে আমাদের ঝিলে শাপলা ও ভাঁটের মহোৎসবে, সড়কের কালভার্টে নেংটো হয়ে ডিগবাজি…তারপর স্রোতে ভেসে যেতাম অনেকদূর…

মনে পড়ে…বৃষ্টির দিনে বন্ধুরা মিলে বড় কচুপাতার ছাতা বানিয়ে শামুক কুড়াতাম হাঁসের ছানার জন্য। কে কয়টা কুড়ালো টা নিয়ে শুরু হতো প্রতিযোগিতা।

ভরা বর্ষায় মাঝে মাঝে মাছ ধরতে যেতাম বিলে। আমাদের বিলের নাম ছিল “হেলুচিয়া”। বর্ষায় নতুন পানিতে মাছ ধরাটা খুব উপভোগ করতাম কিন্তু পায়ে যখন প্রচুর “জোঁক” রক্ত খেয়ে বুঁদ হয়ে লেপ্টে থাকতো…সেটা ছিল কষ্টদায়ক…বাড়িতে এসে হুকোর বিষাক্ত পানি ঢেলে দিতাম পায়ে জোকের উপর আর এমনিতে জোঁক খসে পড়ত। জোঁক খসে পড়ার পর রক্ত বন্ধ হতো না। …আমাদের কাজের লোক আইয়ূব চাচা পুরাতন কাপড় পুড়ানো ছাই দিয়ে দিতেন সেই ক্ষত স্থানে। মা ঘূর্ণাক্ষরেও জানতো না আমাদের এই সব বিষয়।

এক বৃষ্টির দিনে নৌকোয় করে গেছি বিলে …আর তখনি সারা আকাশ তোলপাড় করে মেঘ আর মুষলধারে বৃষ্টি, সাথে ভীষন ঝড়। প্রচন্ড ঢেউ এসে উল্টিয়ে দিল আমাদের নৌকা। সাথে আমার কাজিনরা ভীষন ভয় পাচ্ছে। দূরে ঝাপসা দেখা যাচ্ছে আমাদের বাড়ি। উল্টানো নৌকা বাতাসের কারনে কিছুতেই সোজা করতে পারছিলাম না। আমিও ভয় পেয়ে গেলাম…আর বুঝি ফেরা হবেনা। এজন্যই চিরচেনা বাড়িটাও ঝাপসা লাগছে। ভাসতে ভাসতে আমাদের নৌকা চলে আসে পাহাড়ী কলমের ঝোঁপে…সেদিনের মত বেঁচে গেলাম…বৃষ্টিও থেমে গেল।

বর্ষায় মৌসুমে যখন বিলের পানি কমতে শুরু করত তখন থেকে শুরু হয়ে যেত শালুক কুড়ানোর ধূম। রাতে চলতো হ্যাজাক লাইট জ্বালিয়ে বক মাছ (কাকিলা মাছ) পালা।

আরো কত কথা মনে পড়ে….কি মধুর সেই শৈশব!