ক্যাটেগরিঃ গণমাধ্যম

দিন যত বাড়ছে শংকা ততই বাড়ছে ভয়-ভীতির। একদিকে রাজনৈতিক নেতা কর্মী আর দলীয় ক্যাডার বাহিনীর আতঙ্ক অন্যদিকে অপরাধ জগতের গডফাদারদের দেয়া প্রাণ নাশের হুমকি। সকাল থেকে রাত এক মুহূর্ত্বের জন্যও নিরাপদ নয় আমাদের জীবন। গত তত্বাধায়ক সরকারের আমলে সাংবাদিক ও সংবাদ মাধ্যমের নিরাপত্তা ও স্বাধীনতার ঘোষণা দেয়া হয়েছিল। তখন পেশাগত দায়িত্ব পালনে সাংবাদিক ও সংবাদ মাধ্যমগুলো বস্তুনিষ্ঠ সংবাদ প্রকাশে সাহসিকতার পরিচয় রেখেছে। জাতীয় নির্বাচনের পর আওয়ামীলীগ সমর্থিত সরকারের শপথ গ্রহণের পর থেকেই আবার সাংবাদিকদের স্বাধীনতা হরণের বিষয়টি বার বার জন সম্মুখে প্রকাশ পাচ্ছে। বেড়ে চলছে নির্যাতন, লাঞ্ছনা। পেশাগত দায়িত্ব পালন করতে গেলে লাঞ্ছিত হতে হচ্ছে পুলিশের হাতে। নির্যাতনের শিকার হতে হচ্ছে ফ্যাসিশক্তির কাছে। মানব বন্ধন আর বিভিন্ন কর্মসূচি করে কোন উপকার মিলেছে এরও কোন নজির নেই। অপরাধীরা অপরাধ করেই যাচ্ছে তাদের নীতি অনুযায়ী। বর্তমানে বাংলাদেশের নৈতিক দ্বারায় পরিণত হওয়া বিষয়ের উল্লেখ্য যোগ্য হচ্ছে খুন-হত্যা, দূর্নীতি আর অপরাধকর্মের নতুন নতুন ইস্যু। লক্ষ্য করলে দেখা যায়, এসব অনাকাঙ্খিত ঘটনা গুলো নিত্য নতুন ঘটনার কাছে ধামা চাপা পড়ে যায়। এতে পূর্ববর্তি ঘটনা ও অপরাধের সুষ্ঠু তদন্ত- আর বিচার কাজের দিকে কারো নজর থাকে না। এ সরকার ক্ষমতায় গ্রহণের পর বন্ধ করেছে চ্যানেল ওয়ান। সম্প্রচারের অনুমোদন পায়নি যমুনা টেলিভিশন। ইটিভি নিয়ে অনিশ্চয়তা সৃষ্টি হয়েছে। আমার দেশ বন্ধ করা হয়েছিল। সম্পাদক মাহমুদুর রহমান জেল খেটেছেন। বর্ষীয়ান সম্পাদক আবুল আসাদ মিথ্যা অভিযোগে গ্রেফতার হয়েছেন। সম্পাদক তাসনিম আলমকে আবার গ্রেফতার করা হয়েছে। শীর্ষ নিউজ বন্ধ হয়েছে ও এর সম্পাদক জেল খেটেছেন। এছাড়াও বর্তমান সরকার ক্ষমতায় আসার পর থেকে সারা দেশে ১৪ জন সাংবাদিক খুন হওয়ার ঘটনা ঘটে । গত ২০১২ সালে ফেব্র“য়ারী মাসে খুন হন সাংবাদিক দম্পতি সাগর-রুনি। এক বছরেও এই হত্যার সাথে জড়িতদের গ্রেফতার করা হয়নি।

সম্প্রতি বিরোধী দলের ডাকা হরতালে পেশাগত দায়িত্বপালন কালে বাংলাদেশ প্রতিদিন পত্রিকার মিরসরাই প্রতিনিধি ছাত্রলীগ ক্যাডারদের হামলার শিকার হন। শারীরিক ভাবে তাকে আঘাত করে জখম করে তার ক্যামেরা ছিনিয়ে নেয় ঐ সব সন্ত্রাসীরা। এভাবে সারা দেশে শাসকদলের লুটেরা, সন্ত্রাসী, টেন্ডারবাজ, দখলবাজদের হাতে প্রতিনিয়ত সাংবাদিকরা লাঞ্ছিত হচ্ছেন। এ সব ঘটনার কোন সঠিক তথ্য প্রমাণ বা আসামিদের চিহ্নিত করতে পারে না পুলিশ প্রশাসন। সন্দেহ হয় সেখানেই, প্রশাসন কি আদৌ চায় সাংবাদিক হত্যা, খুন, লাঞ্ছনা আর নির্যাতনের বিচার হোক। সত্যি যদি তারাও এর সুষ্ঠু বিচার কাজ সম্পাদনের চেষ্টা করতো তবে হয়তো পুলিশের হাত থেকে সাংবাদিক নির্যাতনের মত ঘটনার জন্ম হতো না। জাতির বিবেকের কাছে আমাদের প্রশ্ন আদৌ কি আমরা আমাদের স্বাধীন মত প্রকাশে সক্ষম? সত্যিই কি আমরা স্বাধীন?

প্রশাসন আর সরকারের কাছে জানাই ‘আমরা স্বাভাবিক মৃত্যুর গেরান্টি চাই’। সাংবাদিকদের নিরাপত্তা দানে প্রশাসন যেন সজাগ থাকে। অবশ্যই বস্তুনিষ্ঠ, সত্যনিষ্ঠা আমাদের কলমের মাধ্যমে প্রকাশ পাবে। যা সর্বদা দেশ মার্তৃকার কল্যাণে কথা বলবে।