ক্যাটেগরিঃ ফিচার পোস্ট আর্কাইভ, স্বাধিকার চেতনা

” ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধের সময় গণ হত্যা ও মানবতাবিরোধী অপরাধের দায়ে জামায়াত নেতা গোলাম আযমের ফাঁসি কার্যকর কার হবে আজ। আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল মুক্তিযুদ্ধ চলাকালীন যুদ্ধাপরাধের অপরাধে গোলাম আযমের মৃত্যুদণ্ডের রায় দেন। এর মধ্য দিয়ে জাতির দীর্ঘদিনের গ্লানি থেকে মুক্তির পালা শুরু হলো। ”

এমন একটি রায়ের জন্য দীর্ঘদিন ধরে অপেক্ষা করছিলাম। আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল থেকে রায় ঘোষণার কয়েক দিনের মধ্যেই রায় বাস্তবায়ন করতে পারবে প্রশাসন। কারণ অপরাধী থানা হাজতে বন্ধি। রায়ের আগে পরে আর পালানোর কোন সুযোগ নেই। বাংলাদেশের শান্তিকামী মানুষও আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল ও সরকার থেকে ঠিক এমনটি আশা করে ।

যাক, নাই বা হলো গোলাম আযমের রায় শুনা, কিন্তু বাচ্চু রাজাকারের ফাঁসির রায় শুনেও আনন্দিত হই নি তা কিন্তু নয়। বাচ্চু রাজাকার নামে পরিচিত আবুল কালাম আযাদকে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়েছে। সোমবার বিচারপতি ওবায়দুল হাসানের নেতৃত্বে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২ এই রায় ঘোষণা করেন। মুক্তিযুদ্ধকালীন গুরুতর অপরাধের বিচারে এটিই প্রথম রায়। তবে তিনি গ্রেপ্তার হওয়ার পর কিংবা ট্রাইব্যুনাল অথবা অন্য কোনো আদালতে আত্মসমর্পণের পর এই রায় কার্যকর হবে বলেও উল্লেখ করা হয়। রায় ঘোষণা করার পর অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম বলেন, ‘এ রায়ের মাধ্যমে একাত্তরের চেতনার বিজয় হয়েছে। স্বাধীনতা সার্বভৌমত্ব ও মানবতা সমুন্নত রাখার আন্দোলনের বিজয় হয়েছে। আজকের এই দিনটির জন্যই একাত্তর সাল থেকে আমরা আন্দোলন করে আসছি।’

অবশেষে দীর্ঘ অপেক্ষার শেষ হলো! সত্যিই কি অপেক্ষার শেষ হলো নাকি অপেক্ষার সময়টা আরও বেড়ে গেলো? পলাতক আসামীর ফাঁসির দণ্ড শুনে আমরা এইত নেচে গেয়ে যাচ্ছি, না হয় যেন হুশ হারিয়ে ফেলি। কারণ একটা নতুন ইস্যু এলে পুরানো ইস্যু গুলো ভুলে যাওয়া আমাদের এক ধরণের অভ্যাসে পরিণত হয়েছে। যেখানে বাচ্চু এখনও পলাতক সে ক্ষেত্রে তাকে খুঁজে বের করা প্রধান কাজ। তবে একটা বিষয়ে আমার সন্দেহ হচ্ছে! হাজতে এতগুলো যুদ্ধাপরাধ মামলার আসামী থাকতে পলাতক আসামীর মামলার রায়টা আগে হলো কেন! সরকার কি আসলে একটি রায় চায়! এটি অবশ্য সদ্য পদত্যাগ করা বিচারপতি নাসিম এর বক্তব্য। সে অনুসারে যদি সরকার একটি রায় চায় তবে পলাতক আসামী বিরুদ্ধে রায় ঘোষণা করে জনগণকে বোকা বানানো ছাড়া অন্য কিছুই এখানে আসে না। হোক তা একাত্তর সাল থেকে করা আন্দোলন আর বর্তমান সরকার ক্ষমতায় আসার পর থেকে আন্দোলন! আমি মনে করি, পলাতক আসামিকে ফাঁসির রায় দিয়ে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল নিজেদের দায়িত্ব পালন করেছে মাত্র, আর এ রায় বাস্তবায়নের মাধ্যমে সরকারের প্রকৃত দায়িত্ব পালন করা হবে।

একটা বিষয় গুরুত্বপূর্ণ আর তা হলো, মানবতাবিরোধী অপরাধীদের সাজা দিতে সরকার জনতার কাছে প্রতিজ্ঞা বদ্ধ। আগামী নির্বাচনে সরকারের গ্রহণযোগ্যতা এর মধ্যদিয়েই তুলনা করবে জনগণ। সে ক্ষেত্রে পলাতক আসামীর ফাঁসির রায় শুনিয়ে জনগণকে খুশি করার কোন প্রয়োজন আছে বলে মনে হয় না। এই রায় বাস্তবায়নেয়র সাথে অন্য আসামীদেরও রায় ও তার বাস্তবায়ন দেখতে আগ্রহী জনগণ। অন্য আসামীদের বিরুদ্ধে রায় ঘোষণা দিতে গিয়ে অপরাধ ট্রাইব্যুনাল বা সরকার যেন কোন ধরণের কার্পণ না করে এটাই জনগণের বহু দিনের স্বপ্ন।

কথা হচ্ছে, সরকার ও আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল ঐ সব বন্দী আসামীদের বিরুদ্ধে রায় ঘোষণা করতে পারবে তো? নাকি এদের রায় কে ঝুলিয়ে রেখে নির্বাচনে জয়লাভের স্বপ্ন বুনবে? জনগণ এখন আর বোকা নেই। জনতা বিশ্বাস জোগাতে চান তবে রায় ঘোষণায় নয়, বাস্তবায়ন করে দেখান। যদি না পারেন তবে আপনাদের স্বপ্ন কতটুকু স্বার্থক হবে তা জনতাই dbনির্ধারণ করবে।