ক্যাটেগরিঃ মুক্তমঞ্চ

গতকাল রাতে ‌‌” আজ গোলাম আযমের ফাঁসি!” শিরোনামে আমার একটি ব্লগ blog.bdnews24.com এ প্রকাশিত হলো। এরপর থেকেই শুরু হলো মোবাইলে কল ও ফেইসবুকের ইনবক্স এ বুন্ধদের মেসেজ। সবাই জানতে চায় ভাই ‘ফাঁসি কখন? ফাঁসি কার্যকর হলো? আরও কত কত প্রশ্ন?’ কয়েকজন আমাকে বললো ‘এই পোষ্টটি মুছে দিন’ আবার কেউ কেউ আমার ব্যক্তিত্ব নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন। এর জন্য বাধ্য হয়ে লিখতে বসলাম। তবে আমি ঐ সব বন্ধুদের সাথে কথা বলে যে বিষয়টা পরিস্কার হলাম, তা হলো তারা শিরোনাম পড়েই আমাকে কল আর মেসেজ দেয়া শুরু করেছে। কারণ আমরা শিরোনামে বাঙালি!

উদাহরণ যোগ করছি। কিছুদিন আগে প্রিন্ট মিডিয়ায় কর্মরত আমার এক সাংবাদিক বন্ধুর সাথে কথা বলছিলাম। সে জানালো ‘আঞ্চলিক নিউজ গুলো যতই গুরুত্বপূর্ণ হোক না কেন স্ব-স্ব অঞ্চল উল্লেখ না থাকলে পাঠকের চোখ নিউজের উপর পড়ে না।’ তাকে জিজ্ঞাসা করলাম তবে জাতীয় ক্ষেত্রে কিভাবে মূল্যায়ন হয় নিউজ। সে বললো, ‘ জাতীয় নিউজ তো শিরোনামের উপর চলে যায়। পাবলিক শুধু চোখ বুলায় শিরোনামে। শিরোনাম পছন্দ হলে বিস্তারিত পড়ে দেখে।’ এর অর্থ দাঁড়ায় পাঠকের চোখ পত্রিকা-ম্যাগাজিনের শিরোনামের উপর বেশিই থাকে।

ক’দিন পর বাংলা একাডেমিতে একুশে বই মেলা। কবি-সাহিত্যিকদের ঈদও বলা যায়। স্ব-স্ব বই নিয়ে হাজির হবে প্রকাশক ও লেখকরা। লাখো পাঠকের ঢল নামবে এখানে। বিভিন্ন লেখকের নানা জাতের বই স্থান পাবে মেলায়। বইয়ের শিরোনাম ও লেখকের নাম দেখেই বই ক্রয় করবে মেলায় আগত দর্শণার্থীরা। যদি এমন হয় বই সম্পূর্ণ না পড়ে শুধু শিরোনামে চোখ বুলিয়ে মেলার মূল মঞ্চে বা বাংলা একাডেমি ভবনের উপর দাঁড়িয়ে তাৎক্ষণিক কেউ যা-তা মন্তব্য আর সমালোচনা শুরু করে বই ও লেখককে নিয়ে, তবে মেলার অন্য দর্শণার্থীরা কি ভাবে নেবে বিষয়টি? শিরোনাম কি? এর উপর বইয়ের মূল্যায়ন হয় না, মূল বিষয়বস্তুর উপর ভিত্তি করে শিরোনাম লিখা হয়। যে কোন বই, ম্যাগাজিন পত্রিকার নিউজ শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত পড়ার পর আসবে মূল্যায়ন। কারণ মান বিচারের দায়িত্ব পাঠকের।

কিছুদিন আগে ফেইসবুক স্ট্যাটাসে লিখেছিলাম ‘বইয়ের প্রথম পৃষ্ঠা ও শেষ পৃষ্ঠা পড়ে যেমন বইয়ের মান যাচাই করা যায় না ঠিক তেমনি মানুষকে একবার দেখে বা তার কথা দূর থেকে শুনে তাকে মূল্যায়ন করা যায় না। বই পড়ার সময় অবশ্যই লক্ষ্য রাখা জরুরি প্রথম থেকে শেষ যেন মনোযোগের সাথে শেষ করতে পারেন তবেই আপনি এর ভাল-মন্দ বিচার করতে পারবেন। তদরূপ মানুষের ক্ষেত্রেও একই পদ্ধতি আপনাকে অবলম্বন করতে হবে।’
আমার সে সব পাঠক বন্ধুদের বলছি, শিরোনামে সব নয় বিস্তাতির পড়ে মূল্যায়ন ও মন্তব্যে আসুন। এতে আপনিও বিষয়টি সম্পর্কে ভালভাবে জানতে পারবেন আর লেখককেও হয়রানি হতে হবে না।