ক্যাটেগরিঃ আইন-শৃংখলা, ব্লগ সংকলন: সাগর-রুনি হত্যাকাণ্ড

 

যারা ঘটনা ঘটায় তারাই আলোচিত-সমালোচিত। আর যারা ঘটনার উপকরণ হয়ে মৃত্যু বরণ করে তারা কি মিডিয়ার চোখে দু-এক দিনের কান্না মাত্র ! মনে পড়ে, ২০০৫-‘০৬ইং এর মাঝামাঝির কথা মফস্বল থেকে তখন মাত্র সংবাদ মাধ্যমে কাজ শুরু করলাম। সিনিয়র এক সংবাদ কর্মী একটি সংবাদের প্রসঙ্গ টেনে বললেন- ‘দেখুন সব ঘটনা ঘটে গেলে যে সংবাদ হবে এমন কিন্তু নয় কিছু কিছু ক্ষেত্রে নিজেই ঘটাতে হয়।’ তার কথাটি ঠিক বুঝতে আমার সময় না লাগলেও সংবাদের ক্ষেত্রে নিজে ঘটাতে পারাটাও এক ধরণের সার্থকতা যা আমাকে বিশ্বাস করতে হয়েছে।

কাদের মোল্লার বিষয়টা এখন বাংলাদেশের জন্য আলোচিত-সমালোচিত একটি বিষয়। যার কারণ মিডিয়া। মিডিয়া চাইলে পুঁটিকে কাতাল আর কাতালকে পুঁটি করা কোন ব্যাপার না। কাদের মোল্লা ‘৭১ এর যুদ্ধে অপরাধের ঘটক। আন্দোলন-সমাবেশে তার ফাঁসির দাবি। দাবি জন্য সময় নিয়েছে বহু বছর। ৪১ বছরে এসে শ্লোগান শুরু হলো। ফাঁসি চাই! তার অপরাধের পরিসীমা দীর্ঘ বটে। তাই মিডিয়া বড় বড় অক্ষরে লিখতে বাধ্য হচ্ছে। প্রতিবাদের ধ্বনি মিডিয়াতে।

অন্যদিকে, মিডিয়া কর্মী যখন সংবাদ হলো! উপকরণ হলো ঘটনার! ক’দিন মিডিয়াবাসীর কান্নাকাটি এরপর বন্ধ। মাঝে মাঝে ক্ষুদা লাগলে খায়, কখনও কখনও না খেয়ে ঘুমায়! বলছি সাগর সরোয়ার ও মেহেরুন রুণী হত্যা কাণ্ডের কথা। ফেব্রুয়ারীর ১১ তারিখ একবছর পূর্ণ হবে। মেঘ এর মুখের দিকে চেয়েও কি প্রতিবাদের ভাষা জন্ম নেয় না মিডিয়াবাসীর ? সহকর্মীর খুন হওয়ার একবছরেরও অপরাধীদের গ্রেফতার বা আশানুরূপ কোন ফলাফল প্রশাসন থেকে আসেনি। কথা দিয়ে কথা রাখেনি সরকার। ৪৮ ঘন্টায় আসামীদের গ্রেফতার! মেঘের দেখাশোনার দায়িত্ব! কোথায় সব প্রতিবাদী মিডিয়াবাসী। এখনও ঘুমিয়ে নাক ডাকছেন, নাকি প্রিয় সহকর্মী হত্যার কথা ভুলে গেছেন ? প্রিন্ট ও ইলেক্টিক মিডিয়ায় কয়েকদিন শিরোনাম, ব্যানার পেষ্টুন নিয়ে রাস্তায় দাঁড়িয়ে অপরাধীদের গ্রেফতার ও সাজা আদায়ের শ্লোগান, দু-এক দিনের বক্তৃতা, এতেই ক্লান্ত হয়ে গেলেন? একি মিডিয়াবাসীর প্রতিবাদের নমুনা ? নাকি বছর গুণছেন, সময় বাড়লে প্রতিবাদের নমুনাও বদলাবে!
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা মন্তব্য করলেন ‘আমরা কি তাদের বেড রুম পাহারা দেব?’ মাহফুজুর রহমান লন্ডনে বসে বলে দিলেন ‘ সাগর- রুনী পরকীয়ার বলি’। তখনই মনে সন্দেহ জেগেছে এই হত্যাকাণ্ডের সুষ্ঠু বিচার নিয়ে! যদিও ঐ বক্তৃতার নিন্দা জানিয়ে সাংবাদিকদের আন্দোলন হলো, কিন্তু ফলাফল কি? আদৌ কি অপরাধীরা গ্রেফতার হয়েছে? আমাদের দাবি পূরণ করেছে সরকার? তবে কেন মিডিয়াবাসীর এমন নিঃশ্চুপ ভূমিকা !

যখন নিজেরা নিজেদের দাবি আদায় করতে পারি না তখন জনতার দাবি আদায়ে আমাদের কিবা মূল্য মান আছে ! একজন সহকর্মীর খুন হওয়ার ঘটনা আমাদের এতটুকুও যন্ত্রণা সৃষ্টি করেনা হৃদয়ে। ভেবে দেখুন মিডিয়াবাসী ! আপনার প্রাণের কি নিশ্চয়তা আছে! যেখানে সহকর্মী হত্যার বিচার হয় না, গ্রেফতার হয় না খুনীরা। সেখানে আপনার প্রতিবাদের ভাষা কি হতে পারে! জাগ্রত করুণ ঘুমন্ত চেতনা শক্তিকে। এক বছর ফেরিয়ে গেলো আসুন, সাগর-রুনী হত্যাকারীদের গ্রেফতার ও বিচার নিশ্চিত করতে সরকারকে বাধ্য করি। নিজের স্বাভাবিক মৃত্যুর জন্য হত্যাকারীদের বিরুদ্ধে আন্দোলন গড়ে তুলি।