ক্যাটেগরিঃ প্রবাস কথন

এক .
‘কে এই হতভাগ্য প্রবাসী’ শিরোনামে গত সেপ্টেম্বর মাসে একটা সংবাদ প্রকাশিত হয়েছিল বাংলাদেশ প্রতিদিন ও সুপ্রভাত বাংলাদেশ পত্রিকায়। সংবাদ প্রকাশের পরপর বাংলাদেশ কনস্যুলেট দুবাইয়ের একজন কর্মকর্তা ওই প্রবাসীকে হাসপাতালে দেখতে যান। পরবর্তীতে প্রকাশিত সংবাদের সূত্র ধরে মিলে উম্ম আল কোয়েইন হাসপাতালে দীর্ঘদিন পড়ে থাকা ওই প্রবাসীর নাম-পরিচয়। তার নাম মোহাম্মদ তাবিদুর রহমান। তিনি হবিগঞ্জ জেলার বানিয়াচং উপজেলার সুবিদপুরের বাসিন্দা। নাম পরিচয়ের সন্ধান পাওয়ার পর ব্যক্তিগত ভাবে খুব ভাল লেগেছিল। নিজের রিপোর্টের কারণে একজন অসহায় লোকের নাম পরিচয় পাওয়া গেছে, একই সাথে পাওয়া গেছে তার বিস্তারিত তথ্যও। আশায় ছিলাম- আমিরাতের অনেক সংগঠন আছে, তারা হয়তো এই লোকের পাশে দাঁড়াবেন। কিন্তু না, সে স্বপ্ন শুধু স্বপ্নই রয়ে গেলো! এরপর থেকে যতবার খোঁজ নিয়ে জেনেছি, কনস্যুলেট তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য দেশে পাঠানোর চেষ্টা করছে। কিন্তু সমস্যা, তার কোম্পানির কোনো খবর পাওয়া যাচ্ছে না এবং পাশাপাশি অজুহাত, অসুস্থ রোগীর পরিবার থেকে কেউ কনস্যুলেটে যোগযোগ করছেন না। রোগীকে দেশে পাঠাতে নাকি বেশ টাকা পয়সার ব্যাপারও আছে! দিন যায়, আমারও হতাশা বাড়ে। আপসোস করে দীর্ঘশ্বাস ছাড়ি, আমিরাতে প্রতিদিন কত সংগঠনের নিউজ কাভার করি। কত কত সংগঠন এখানে। একদিন একটি জরিপ করে লিস্টও করেছিলাম। প্রায় দুইশতাধিক সংগঠন আছে ইউএইতে। কিন্তু কেন? তাদের কাজ কি? তারা কি এসব তাবিদুরদের চোখে দেখেন না? এসব তাবিদুরদের জন্যই যদি কাজ না করতে পারে, তবে ওসব সংগঠন আর চেয়ার টেবিলে বসে বড় বড় কথা বলার কাজ কি?

 

দুই.
কিছুদিন আগে একটি সংক্ষিপ্ত সফরে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সংসদীয় স্থায়ী কমিটির একটি টিম আমিরাত সফর করে গেলো। সফরকালে প্রবাসীদের সাথে এক মতবিনিময় সভায় ডা. দীপ মনি বলেছিলেন, ‘দেশের ভাবমূর্তি ফেরাতে আপনারা সচেতন হোন। সরাসরি আমিরাত পুলিশকে যেকোনো ঘটনা বা অপরাধীর কথা না জানিয়ে বিশৃঙখল ঘটনা বা ওই অপরাধী সম্পর্কে দূতাবাস ও কনস্যুলেটকে অবহিত করুন। তারা ব্যবস্থা নেবে।’ এ কথায় অনুপ্রাণিত হয়ে এক প্রবাসী ইনবক্সে জানালেন একজন ইয়াবা ব্যবসায়ীর কথা। সরাসরি পুলিশের কাছে এ অভিযোগ করতেও চেয়েছিলেন তিনি। আমাকেও বললেন সংবাদ প্রকাশ করতে। কিন্তু দুটোতেই জবাব দিলাম – ‘ না’। এতে দেশের সম্মান নষ্ট হবে। যথারীতি এ ইস্যুটিও জানানো হলো কনস্যুলেটকে। পরে কনস্যুলেট থেকে ওসব তথ্য দূতাবাস পর্যন্ত গড়ানো কথা। কিন্তু কতটুকু পৌঁছতে পেরেছে আমার জানা নেই। ওই প্রবাসী ভদ্রলোক আজ আবার ইনবক্সে জানতে চাইলেন, কোনো আপডেড আছে কিনা! তাকে দূতাবাসের নম্বর দিলাম। একটু পর তিনি জানালেন, দূতাবাসের কোনো এক কর্মকর্তা ইয়াবা ব্যবসায়ী ওই বাংলাদেশি সম্পর্কে আমিরাত পুলিশকে জানাতে বলেছেন। তারা     (দূতাবাস) কোনো ব্যবস্থা নিতে পারবে না। আবার হতাশ হলাম। হতাশ হয়ে মনে মনে বললাম- তবে কি দেশের সম্মানের কথা ভেবে সংবাদ প্রকাশ না করে ভুল করেছি! নাকি, যাদের কাছে সহযোগিতার আশায় হাত পাতে পাবলিক, তারাই বার বার ব্যর্থ হচ্ছে।

অবশেষে ভাবছি- কার কাছে বলি? না, আমাদের দ্বারা মানুষের উপকার হয় না !

 

১৯ অক্টোবর, ২০১৫।
news.jony@gmail.com