ক্যাটেগরিঃ প্রশাসনিক

বিদ্যুতের ঝলকানিতে সরকার গদগদ। এদিকে জ্বালনি তেলের কৃত্রিম সংকট তৈরি করে বিদ্যুৎ উৎপাদন বন্ধ করে দিয়েছে বেশ কয়েকটি বেসরকারি বিদ্যুৎ কেন্দ্র। এতে চাহিদা অনুযায়ী বিদ্যুৎ দিতে না পারায় রাজধানীসহ সারা দেশে ভয়াবহ লোডশেডিং চলছে। সামিট পাওয়ার ইতিমধ্যে ডিজেলের অভাব দেখিয়ে তাদের মেঘনা ঘাটস্থ ৩৩৫ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ কেন্দ্র পুরোটাই বন্ধ করে দিয়েছে। এতদিন বিদ্যুৎ উৎপাদন কেন্দ্রের মালিকরা ফার্নেস অয়েল আমদানী করত এবং তা বাহিরে বিক্রি করে সরকারের ৮০০-১০০০ কোটি টাকা হাতিয়ে নিত।

পিডিবির তথ্যমতে, সোমবার রাত ৮টায় বিদ্যুতের চাহিদা ছিল ৮ হাজার ২৫০ মেগাওয়াট। এর বিপরীতে ওই সময় সরবরাহ করা হয় ৭ হাজার ৫৫০ মেগাওয়াট। এতে সাব-স্টেশন পর্যায়েই লোডশেডিং হয় ৭০০ মেগাওয়াট। তবে সঞ্চালন ও বিতরণ ব্যবস্থার দুর্বলতায় আরও প্রায় ৭০০ মেগাওয়াট লোডশেডিং হয়। রাত ৯টায় এ অবস্থার আরও কিছুটা অবনতি হয়। এ সময় চাহিদা ছিল ৮ হাজার ৩২০ মেগাওয়াট আর সরবরাহ ৭ হাজার ৪৮০ মেগাওয়াট। এতে সাব-স্টেশন পর্যায়ে লোডশেডিং হয় ৮৪০ মেগাওয়াট, গ্রাহক পর্যায়ে তা দেড় হাজার মেগাওয়াটে পৌঁছে।

মঙ্গলবার রাত ৮টায় চাহিদা ছিল ৭ হাজার ৫০০ মেগাওয়াট। এ সময় বিদ্যুৎ সরবরাহ করা হয় ৬ হাজার ৬৯৫ মেগাওয়াট। ফলে সাব-স্টেশন পর্যায়ে ৭১৫ মেগাওয়াট লোডশেডিং হয়। গ্রাহক পর্যায়ে তা দাঁড়ায় ১ হাজার ৬০০ মেগাওয়াটে। এ অবস্থায় মঙ্গলবার খোদ রাজধানীজুড়ে ছিল লোডশেডিংয়ের তাণ্ডব। ঢাকার বাইরে গ্রামে ঘণ্টায় ঘণ্টায় লোডশেডিং করতে হয়েছে বলে আরইবি সূত্রে জানা গেছে।

সারা বিশ্বে জ্বালানী তেলের দাম তলানিতে ঠেকলে ও বাংলাদেশে তা আগের কোঠায় আছে। এর এ সুযোগকে কাজে লাগিয়ে বিদ্যুৎ উৎপাদনক বন্ধ রেখে ডিজেল আমাদানির নামে হাজার হাজার কোটি টাকা লুটপাটের ধান্দা করছে এদেশের চিহ্নিত লুটেরা। আর সরকার নামক লুটপাটের পাহারাদার যেন নমঃ নমঃ করছে।