ক্যাটেগরিঃ নাগরিক আলাপ

 

এটা নিতান্তই একটি ব্যক্তিগত রচনা। কিছুদিন আগে পত্রিকায় বোন সোনাবরুর মৃত্যুর খবর পড়ে দু’চোখের জল ধরে রাখতে পারিনি। আমার নিকট অতীত যেন আমার চোখের সামনে ভেসে উঠছিল।

হঠাৎ করে বাবা মারা যাওয়ায় আমরা নিদারুণ অভাবে পড়েছিলাম।এমন ও দিন গেছে,আমাদের বাসায় খাবার জন্য এক মুঠো ভাত ও ছিলনা।সে সময় পাশের বাসার প্রতিবেশি রা আমাদের নানা ভাবে অনেক সাহায্য করেছেন।

তারপর,নানা প্রতিকুলতা পার হবার জন্য,জীবন সংগা্ম করেছি।কলেজে পড়াকালিন সময় থেকে টিউশনি করেছি,নিজের খরচ চালানর জন্য।বাবা মারা যাবার পর থেকে কনোদিন স্কুল-কলেজে টিফিন খাইনি, টাকা খরচ হবার জন্য। পড়াশুনার জন্য অন্যের বাসায় থেকেছি,সিঙ্গেল খাট অন্যজনের সাথে শেয়ার করে আধা-ঘুম এ রাত পার করেছি।এমনদিন ও গেছে,৫০০ টাকা ধার করার জন্য ঢাকা সেনানিবাসের চাচার বাসা থেকে নিবার্চন কমিশনার এর আগারগাও অফিস এ হেঁটে গিয়েছি-এক বড় ভাই এর কাছে।এমনি করে অনেক দিন…

তারপর,অনেক কষ্টে আজকের এই অবস্থানে এসে পৌচেছি।

আজ ব্যাংক এ জব করছি,মোটামুটি ভালই বেতন পাই।ইচ্ছা করলেই অনেক টাকা খরচ করতে পারি,নানা পদের-নানা স্বাদের তরকারি দিয়ে গরম ভাত খেতে পারি। তাই, পত্রিকায় আর ব্লগ এ সোনাবরুর খবর পড়ে হটাৎ করেই নিজের সেই সংগ্রামী জীবনের কথা মনে পড়ে গেল। ভাত-এর কষ্ট যে কি,তা আমি অন্তর দিয়ে উপলব্ধি করতে পারি।

আমার সংগ্রাম-কষ্টটা ব্যক্তিগত,কিন্তু একুশ শতকের আধুনিক,গাল্ ভরা ডিজিটালিও যুগে এখন কেন ভাত না খেতে পেয়ে অভিমানে আত্তহত্যার খবর পড়তে হয়? এর জন্য দায়ি কে?আজ এই সমতা-হীন সমাজে কেউ বেশি খাবে,ফেলে দেবে,আর কেউ খেতে পাবেনা,না খেতে পেয়ে আত্তহত্যা করবে-এতা কি গ্রহনযোগ্য? আমার ভীষন জেদ হয়,ইচ্ছে হয় আক্রোশে ফেটে পড়ি।সমাজ,শাসক,সরকার কে রক্তলাল চোখে তাকিয়ে বজ্রকন্ঠে বলি,

সবার ভাতের অধিকার নিশ্চিত কর,নইলে ক্ষমতার গদি ছাড়।

জানি,একা,আমার মত সামান্য মানুষের পক্ষে এমন করে বলা সম্ভব নয়। সবাইকে জেগে উঠতে হবে,ক্ষমতার লোভ-দ্বিধা-দ্বন্ধ-হানাহানি সব ভুলে… তবেই আর কোন সোনবরুর মত কোন বোনকে ভাত না খেতে পারার অভিমান-দুংখ-কষ্ট-যন্ত্যর্ণায় মরতে হবেনা।