ক্যাটেগরিঃ খেলাধূলা

আমরা কেঁদেছিলাম, এবার বন্ধু তোমাদের পালা। ‘কাদো আরও কেঁদে কেঁদে হালকা হও। আর আমরা প্রান খুলে হেসে ভেসে যাই’।

ইটের বিপরীতে পাটকেল তো অবধারিতই ছিল। ১৯ তারিখে ক্রিকেটের পরাজয় হয়েছিল, বাংলাদেশের নৈতিক বিজয়ের কাছে। সৌরভ গাঙ্গুলী ঠিকই বলেছিলেন, অষ্ট্রেলিয়ার কাছে ভারত হারলে আমরা বাংলাদেশীরা বেশি খুশি হব। খুশি হাওয়াটা কি স্বাভাবিক নয়।? বিতর্কিত সিদ্ধান্তগুলো না হলে বাংলাদেশ-ইন্ডিয়া ম্যাচের ফলাফল অন্যরকম হতে পারত। বাংলাদেশের জন্য সেমিতে ওঠাটা ইতিহাস হয়ে যেত। ইন্ডিয়ার তো বিশ্বকাপ জেতার ইতিহাস রয়েছে। আর ইন্ডিয়া খেলে জিতলে তা ক্রিকেটের অংশ হত। ঐ দিন খেলার পিছনে খেলা হয়েছে। তাই এখন আমরা খুশি, স্বাভাবিক নিয়মেই খুশি। বন্ধুপ্রতীম দেশ ইন্ডিয়ার ১৯ তারিখের আচরন আমাদের হতাশ করেছে, সাথে ছিল মওকা নামক ব্যাঙ্গাত্বক বিজ্ঞাপন। এতো আপনারাই শিখিয়েছেন। আজ ক্রিকেটের বিজয় হয়েছে। দুই দলই খেলেছে, নিয়ম মাফিক জয়-পরাজয় হয়েছে।

আমাদের ভাবাবেগ নিয়ে রসিকতা কাম্য ছিল না। এখন আবার দেখলাম নতুন তকমা। কলকাতার এক গায়ক রূপম ইসলাম, আমরা একে তেমন একটা জানিনা। আমাদের মধ্যে খুব পরিচিতিও তার নেই। তিনি বলেছেন, বাংলাদেশী বাঙালিরা নাকি অমানুষ রয়ে গেছে, মানুষ হয়নি। (http://m.bdnews24.com/bn/detail/glitz_bangla/945447) আমাদেরকে তার বাঙালি ভাবতে কষ্ট হয়। আরও কত কি। “শুধু বিঘে দুই” কবিতার মত বিজয় ছিনিয়ে নেবেন আর আমরা সম্ভাষন জানাবো তা কি হয় বন্ধু!

প্রেক্ষাপটের কারনে নরসুন্দরের গল্পটি বলি। শিক্ষক গিয়েছেন চুল কাটাতে নরসুন্দরের কাছে। নরসুন্দরের বদভ্যাস ছিল মাথায় টোকা দেয়া। ভদ্রলোক শিক্ষক টোকা খেয়ে কিছু বললেন না। পরক্ষনেই পাড়ার উঠতি মাস্তান গেলেন চুল কাটাতে, তো একইভাবে টোকা দিলেন। ফলাফল নরসুন্দরকে উত্তম-মধ্যম। শিক্ষক মহোদয় খুশি হলেন। এতে শিক্ষকের কি দোষ।
আমরা বাংলাদেশীরা ভদ্র বাঙালি। আমরা খেলতে চেয়েছি, আপনারা সেমি ফাইনালে গেলেন পিছনের দরজা দিয়ে। আর প্রভাবশালী অষ্ট্রেলিয়া আপনাদের বাড়ি পাঠালো, আমরাতো খুশি হবই।
কবি গুরুর ‘বাঙালিদের মানুষ করনি’ কথার উদাহরণ দিয়েছেন রূপম। এই কথার জবাব বঙ্গবন্ধু ১৯৭২ সালে স্বদেশে প্রত্যাবর্তন করেই দিয়েছিলেন। পুনরায় আপনাকে দেয়ার প্রয়োজন নাই।

এই বিশ্বকাপ আমাদের অনেক কিছু দিয়েছে। টাইগাররা যেকোন দলের বিরুদ্ধে জেতার মত আত্নবিশ্বাস অর্জন করেছে। সবচেয়ে বড় অর্জন ‘খোড়া ভাংছে ভাংগুক, মানুষতো চিনলাম’

প্রিয়তমদের শোচনীয় পরাজয়ে আনুশকা শর্মা নাকি কান্নায় ভেঙে পরেছেন। (http://thebengalitimes.com/details.php?val=5577&pub_no=31&menu_id=9) আমাদের অনেক প্রেয়সীরাও কেঁদেছিল, তারপরেও সমবেদনা হিসেবে আনুশকা’দের বলছি, ‘কেঁদোনা তুমি, মুছে যাবে চোখের কাজল।’