ক্যাটেগরিঃ রাজনীতি

01_Khaleda+Zia_Court_A+Pramanik_050415_0002

“সেইতো নথ খসালি, তবে কেন লোক হাসালি।“
এই প্রবাদ বাক্যটি সম্ভবত সাম্প্রতিক কালের জন্য সর্বাপেক্ষা উপযুক্ত।

বেগম জিয়া ঘরে ফিরলেন কিন্তু অনেক জল ঘোলা করে, অনেক মায়ের চোখের পানি মাড়িয়ে, শতাধিক মানুষের রক্তস্নাত লাল গালিচার উপর দিয়ে।
গত দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচন এবং পরবর্তীকালে দেশের অবস্থা আমরা সবাই জানি। নির্বাচনের পূর্বে কি প্রক্রিয়ায় নির্বাচন হবে তা নিয়ে দেশের প্রধান দুই রাজনৈতিক শক্তির মধ্যে অনেক বাৎচিত হয়েছে। পাল্টাপাল্টি আলোচনার আহবান হয়েছে আবার তা প্রত্যাক্ষানও হয়েছে। এ নিয়ে কম জল ঘোলা হয়নি। তার পরেও তৎকালীন সরকার দেশে নির্বাচন দিয়েছে এবং যেভাবেই হোক নির্বাচন উঠিয়ে নিয়েছে। নির্বাচন ঠেকাতে বিএনপি নেতৃত্বাধীন জোট হেন কাজ নাই যা করা বাদ রেখেছে। সাধারণত আমাদের দেশে স্কুল-কলেজ-মাদ্রাসাগুলোই ভোটকেন্দ্র হিসেবে ব্যবহার করা হয়। নির্বাচন ঠেকানোর সহিংসতায় অগনিত ভোটকেন্দ্র অর্থাৎ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান পুড়েছে নির্বাচন বিরোধীরা। এখনও অনেক স্থানে পরীক্ষা-পাঠদান চলছে খোলা আকাশের নিচে। নির্বাচন হয়েছে, হয়েছে সরকার গঠন। দেশ তার স্বাভাবিক নিয়মে চলা শুরু করেছিল। কিন্তু যখনই দশম জাতীয় সংসদ তার বছর পূর্তি করতে যাচ্ছে ঠিক তখনি আবার শুরু হল সহিংসতা। কারন, বেগম জিয়ার এবং বিশ দলের দাবি সংসদ ভেঙ্গে দিয়ে নতুন নির্বাচন দিতে হবে। তিনটি মাস এই দাবি আদায়ের লক্ষে সর্বাত্নক সহিংসতা চালিয়ে গেল বিশ দল। আন্দোলনের কিছু যথাক্রমিক ধারা আছে। কোন সংজ্ঞায় না গিয়ে প্রথমেই দিকভ্রান্ত পথিকের মত লাগাতার অবরোধ আরোপ করে দিলেন। সাথে নতুন ধরনের আগ্নেয়াস্ত্র হিসেবে পেট্রোল বোমা। লোকে বেগম জিয়ার গুলশান কার্যালয়কে নাশকতার হেড কোয়ার্টার বলতে শুরু করল। ঘটনার বিস্তারিত শুধু আমাদের জানাই নয় আমরা জনগন গোটা অবস্থার ভুক্তোভুগীও বটে। পরিশেষে বেগম জিয়া তার ব্যক্তিগত দুর্নীতি মামলায় হাজিরা দিলেন এবং জামিন নিয়ে বাসগৃহে প্রত্যাবর্তন করলেন। কাহিনী গুলো আমরা সবাই জানি, কিন্তু প্রাসঙ্গিক কারনেই পুনরাবৃত্তি করা। আগুব জ্বালিয়েছেন, নিভাবে কে?
কিছু বিষয় অমিমাংসিত রয়ে গেছে। জনগনের জন্য, জনগনের মাধ্যমেই রাজনৈতিক দল গঠিত। তাই রাজনৈতিক দল হিসেবে বিএনপি অথবা অন্য কোন দলের বা জোটের রাজনৈতিক কর্মসূচি দেয়ার অধিকার রয়েছে। বিশ দলীয় জোটের নেত্রী হিসেবে বেগম জিয়া কর্মসূচি দিবেন অসুবিধা নাই, কিন্তু কার জন্য দিয়েছিলেন, দাবি-লক্ষ কি ছিল, কি সেই দাবি যা আদায়ের লক্ষে সারা দেশকে আপনি বার্ন ইউনিটে পরিনত করেছিলেন ? বলেছিলেন তত্ত্বাবধায়ক সরকার, মধ্যবর্তী নির্বাচন ছাড়া ঘরে ফিরে যাব না। বিএনপির তরফ থেকে বারংবার একটি কথাই বলা হল, যৌক্তিক পরিনতিতে পৌছার পরেই আন্দোলনের পরিসমাপ্তি ঘটবে। যৌক্তিক পরিনতি কি ? যেহেতু আন্দোলন থামানো হয়েছে তাহলে বিএনপির দাবি অনুযায়ী অবশ্যই যৌক্তিক পরিনতি অর্জিত হয়েছে। সেটা কি শুধুই খালেদার দুর্নীতি মামলা থেকে জামিন লাভ ? যদি তাই হয় তবে তো এত কিছুর দরকার ছিলনা। বললেই হত যে মামলা থেকে জামিন চাই।

সরকারকে বিশ দলের তরফ থেকে ধন্যবাদ জানানো উচিত। কারন তথাকথিত আন্দোলন যখন সুপার ফ্লপ, নেতা কর্মীরা যখন দিশেহারা, আন্দোলনের গিট্টু থেকে বের হওয়ার সকল পথ যখন রুদ্ধ, জনবিচ্ছিন্ন হয়ে রাজনীতির মাঠে টিকে থাকা যখন দায়, ঠিক তখনই সরকার সিটি কর্পোরেশন নির্বাচন দিয়ে বিশ দলকে জঙ্গীবাদী তরিকা থেকে মূল ধারায় প্রবেশের সুযোগ করে দিয়েছে। সুন্দর এবং সময়োপযোগী সিদ্ধান্ত। নাবিক হিসেবে সরকারের সঠিক সিদ্ধান্ত।

বিএনপি’কে মৌলবাদী শক্তির মুখপাত্র রূপে প্রায়ঃশই আমরা কাজ করতে দেখি। পানি ঘোলা করে তাদের দোসরদের বাচাতে চায়। কেননা এখন পর্যন্ত বিএনপি’র তরফ থেকে যুদ্ধাপরাধীদের বিষয়ে পক্ষে-বিপক্ষে কোন মন্তব্য জাতি দেখতে পায়নি। ধরি মাছ না ছুই পানি’ ধরনের রাজনৈতিক কৌশল কাজে আসবে না। মানবতা বিরোধীদের বিষয়ে বিএনপি’র অবস্থান স্পষ্ট করার অনেক সুযোগ দেয়া হয়েছে, কিন্তু তারা কাজে লাগান নাই।

১/১১ পরবর্তী সময়ে যে রাজনৈতিক মেগা সিরিয়াল শুরু করেছিল বিএনপি জোট তার সহস্রতম পর্ব ছিল গত তিন মাসের আন্দলনের কর্মসূচি। এর হয়তো অন্যতম কারন জনাব তারেক রহমানের দেশে আসতে না পারা। রাগে-ক্ষোভে-দুঃখে তিনি দেশ ধ্বংসের কর্মসূচি দিয়েছেন। তবে তিনি সফল এই কারনে যে, তিনি আলোচনায় আসতে পেরেছেন। তিনি বৈজ্ঞানিক আবিষ্কারের মত বিলেতে বসে ইতিহাস আবিষ্কার করলেন। প্রত্নতাত্ত্বিক ফর্মুলায় ইতিহাস নিয়ে খোঁড়াখুঁড়ি করতে গিয়ে অজগর বের করে আনলেন। যে বাকশাল নিয়ে ওনাদের এত এলার্জি সেই বাকশালের সম্মেলনে জিয়াউর রহমানের স্বস্ত্রীক উপস্থিত থাকা এবং বাকশালে অংশগ্রহনের জোর লবিং করার প্রমান জাতি পেল। আজকের বিএনপি’র এই দুরবস্থার জন্য একমাত্র তারেক রহমান দায়ী। রাতে ‘খোয়াব’ আর দিনে ‘হাওয়া’ ভবনের যাদুতে বিএনপি’ই এখন হাওয়া হয়ে যাওয়ার পথে। রাজনীতির কত ধরন যে আমরা দেখলাম। জনাব কোকো’র মৃত্যুর পরে জনাব তারেক রহমান সহোদরকে শেষবারের মত দেখতে দেশে আসলেন না। প্রচার চালানো হল শেখ হাসিনা তাকে দেশে আসতে দিচ্ছেন না। আচ্ছা মালয়েশিয়াতে কেন গেলেন না, কারন সেখানেও খড়গ ঝুলে আছে। বলা হল ভিসা জটিলতা। দেশের একজন শিক্ষাবিদ প্রফেসর এমাজউদ্দিন আহমেদ সাহেব যখন বলেন কোকোর মৃত্যুর জন্য সরকার দায়ী। তখন গোপাল ভাড়ও সুড়সুড়ি অনুভব করবে। যাইহোক কোকোর লাস দেশে আসলে বাসায় না নিয়ে কার্যালয়ে নিলেন, শেষ বিদায় জানালেন। বের হলেন না, এখন কবর জিয়ারতে গিয়ে কাঁদলেন বেগম জিয়া। কাদতেই পারেন, আপনি কোকোর মাতা। কিন্তু তারপরেও অনুরোধ আপনি কাঁদবেন না। কারন পেট্রোল বোমায় নিহত-আহতদের স্বজনরাও কাঁদবে এবং তাদের দীর্ঘশ্বাস গিয়ে পরতে পারে মরহুম কোকোর আত্নার উপর। মজলুমের দোয়া ফেরত দেয়া হয় না। তাই মরহুমের কবরের শান্তি নষ্ট করবেন না।

গত তিনমাসের সুপার ফ্লপ আন্দোলনের পরে ধীরে ধীরে কর্মসূচি থেকে বেড়িয়ে আসার পরিকল্পনা রয়েছে বিএনপি’র। পত্রিকায় দেখলাম দু-একদিনের মধ্যেই বেগম জিয়া সিটি নির্বাচনের প্রচারনায় নামবেন এবং সেকারনেই সব কর্মসূচি স্থগিত করা হচ্ছে। বাহ কি সুন্দর। আপনার প্রয়োজনেই সব হতে হবে। নাশকতায় নিজের স্বজন নিহত হওয়ায় বিএনপি কর্মীদের আহাজারি আমরা দেখেছি। ক্রন্দনরত, বাকরুদ্ধ হয়ে ঐ কর্মী বলেছিল, আর বিএনপি’র রাজনীতি করব না। নির্বাচনী প্রচারনায় কার কাছে যাবেন, কি বলবেন, কোন মুখে যাবেন? সহিংসতায় নিহত-আহতদের স্বজনরা নিশ্চই ফুলেল শুভেচ্ছা নিয়ে আপনার জন্য অপেক্ষমান নয়, ভোট তো অনেক পরের বিষয়। আবেগে আপ্লুত হয়ে মানুষ করুনা করে, আর বিবেক খাটিয়ে প্রদান করে ভোট। কোনটির দাবি আপনি করতে পারেন?

শত প্রতিকুলতার মাঝেও ব্যবসায়ীরা আমদানি-রপ্তানি চালু রেখেছে। আপনাদের দ্বারে দ্বারে ঘুরেছে সহিংসতা বন্ধের লক্ষে, বন্ধ করেন নাই। দেশের মানুষ আপনাদের কাছে অর্থ চায় না, তারা কাজ করে উপার্জন করতে চায়। জনগনকে কাজের পরিবেশ দেয়া আপনাদের দায়িত্ব। বেগম জিয়া সহযোগীতা করেন নাই।
সবার জানা বিষয়গুলো নিয়ে ধারাবাহিক এই আলোচনা বাতুলতা মনে হলেও প্রাসঙ্গিকতা আছে, সে দিকেই যাচ্ছি।

বেগম জিয়া এবং তারেক রহমানের গত তিন মাসের আন্দোলনের ফলাফল কি? অবশ্যই এর উত্তর খুজতে হবে এবং উত্তর দিতে হবে। যাদেরকে নিয়ে রাজনীতিকরা রাজনীতি করেন, যাদের গিনিপিগ বানিয়ে দেশ নামক ল্যাবরেটরিতে রাজনৈতিক থিউরির ব্যবহারিক নিরিক্ষা করেন, সেই জনগনের কাছে এই প্রশ্নের উত্তর দিতে হবে। অহেতুক সর্বোচ্চ ক্ষমতার মালিক এই জনগনের জীবন,মৃত্যু নিয়ে আন্দোলনের নামে রসিকতা করার অধিকার আপনাদের কেউ দেয়নি। একটি আঞ্চলিক প্রবাদ আছে, ‘যা নাই দেশে গায়, তা চায় ছেলের মায়।’ যেসব ইস্যু সাম্প্রতিকতা হারিয়েছে সেগুলোই ছিল মা-ছেলের দাবী।
ধরুন সম্রাট আকবর যদি এখন এসে বলে আমি মোঘল সম্রাট, আমার সম্রাজ্য ফিরিয়ে দাও, এটা কি এই গনতন্ত্রের জমানায়, ভোটের জমানায় মানুষ মেনে নেবে? নেবে না। হ্যা একদা দেশের উপরে যে প্রেতাত্মা ভর করেছিল তারা হ্যা/না ভোটের মাধমে ক্ষমতা বৈধ করতে চেয়েছিল। তারা এখনও সে জমানার মত সম্রাজ্য প্রত্যাশা করে, গনতান্ত্রিক দেশ নয়। সেদিন এখন পরাহুত অতীত।

প্রাসঙ্গিক কারনেই বলতে হয় পাকিস্তান পরবর্তী বাংলাদেশেও অনেক আন্দোলন হয়েছে। এরশাদ হটানোর আন্দোলন, ৯৬’ এর আন্দোলন, ১/১১ এর আন্দোলন ইত্যাদি ইত্যাদি। কিন্তু গত তিন মাসের মত এমন ধ্বংসাত্মক পরিস্থিতির পূর্বেই সফলতা পেয়েছে। নির্দিষ্ট লক্ষ এবং জনগনের সম্পৃক্ততা ছিল বলেই দ্রুত সফল হয়েছিল আন্দোলন। গত তিন মাসের সহিংসতায় নির্দিষ্ট লক্ষ এবং জনগনের সম্পৃক্ততা ছিলনা বলেই সফল হয়নি। তবে যদি জামিনই লক্ষ হয় তবে সফলতা অর্জিত হয়েছে বলা যায়।

সব কিছুর শেষে এসে সেই পুরনো ধারায় অর্থাৎ বিএনপি নামক রাজনৈতিক দলের জন্মসূত্রে চলে গেলেন বেগম জিয়া। সরকার হটানোর সকল প্রচেষ্টা বিফল হওয়ায় আবার সামরিক ব্যারাকের দিকে করুনা লাভের জন্য তীর্থের কাকের দৃষ্টি দিলেন। অধুনা সুশীল সাজা রাজনৈতিক দলছুটদের মাধ্যমে সামরিক ক্যু করানোর চেষ্টা চালালেন। কাজ হলনা, প্রচেষ্টা বিফল। সামরিক হস্তক্ষেপের মাধ্যমে কোন সরকারকে উৎখাত করার প্রচেষ্টা বা ষড়যন্ত্র আর যাই হোক গণতান্ত্রিক আন্দোলন নয়।

এত ধ্বংস, এত প্রান, দেশের সার্বিক উন্নতিকে বাধাগ্রস্থ করে এই অর্জন বৃহত্তর স্বার্থ জলাঞ্জলি দিয়ে ক্ষুদ্র স্বার্থ রক্ষা বৈ অন্য কিছু নয়। বাংলাদেশের রাজনৈতিক সংস্কৃতিতে এখনও অবসরের ধারা চালু হায়নাই। জনগন যতক্ষণ না ঠেলে বিদায় করে ততক্ষন পদ আঁকড়ে থাকাই এখানে নিয়ম। সারাদেশের বিএনপি’র হাজার হাজার নেতা-কর্মী কি পেল? কেন্দ্রীয় নেতারা পেল সহিংসতায় নির্দেশ প্রদানের শাস্তি আর তৃনমূল কর্মীরা পেল সেই নির্দেশ বাস্তবায়ন করে ধ্বংসযজ্ঞের শাস্তি। ফলশ্রুতিতে হতাশাগ্রস্থ গোটা দল। বেগম খালেদা জিয়া এবং তারেক রহমানের অদূরদর্শী নেতৃত্বের কারনেই এই অবস্থা। আর জামায়াত তাদের সর্বোচ্চ চেষ্টা চালাবে অরাজক পরিস্থিতি সৃষ্টি করতে যা স্বাভাবিক। যেকোন মূল্যে এই সরকারকে হটানো তাদের জন্য ফরযে আইনের মত অবশ্য পালনীয় হয়ে দেখা দিয়েছে। নইলে যুদ্ধাপরাধীদের বিচার থামানো সম্ভব নয় এবং তাদের মজলিসে শূরার সদস্যদের বাঁচানোও সম্ভব নয়।
বেগম জিয়া এবং তারেক রহমান নিজেরাই বেগম জিয়ার রাজনৈতিক অবসর গ্রহনকে ত্বরান্বিত করেছেন। তত্ত্বাবধায়ক, মধ্যবর্তী নির্বাচনের নাম দিয়ে ব্যক্তিগত জামিন নিয়ে ঘরে ফিরে দলকে জনবিচ্ছিন্ন করেছেন। বিএনপি’র তৃনমূল পর্যায়ের নেতা-কর্মীদের মামলা-জেলে রেখে ব্যক্তি স্বার্থ দেখলেন। যাতে করে কর্মীরা নাখোশ। আন্দোলনের নামে নাশকতা করে সাধারনের জান-মাল ক্ষয়, সার্বিক উন্নতি বাধাগ্রস্থ করার জন্য জনগনও নাখোশ। জামিনে মুক্ত হয়ে সদ্য প্রয়াত ছেলের করব জিয়ারতে গেলেন, স্বাভাবিক বিষয়। কিন্তু পেট্রোল বোমায় আহত-নিহতদের কাছে যেতে পারলেন না, পারলেন না তাদের স্বজনদের সমবেদনা জানাতে। এই সব স্বার্থান্বেষী কর্মকান্ডের জন্য দলের ভিতরে এবং সাধারন জনগনের মনে বিরক্তি-অসন্তোষ বেড়েছে। অর্থাৎ ঘরে বাইরে সব দিকেই যখন বেগম জিয়ার নেতৃত্ব ব্যার্থ তখন অবসর নেয়া ছাড়া আর কোন পথ খোলা থাকেনা। অবসর সেটা হতে পারে বাধ্যতামূলক অথবা স্বেচ্ছায়। বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে যখন প্রয়োজনের তুলনায় কর্মী বেশি হয়ে যায় অথবা কর্মীরা অপ্রয়োজনীয় হয়ে যায়, ব্যায়ভার বেশি হয় তখন নির্দিষ্ট পরিমান অর্থের বিনিময়ে বাধ্যতামূলক অবসর দেয়া হয় বা ‘গোল্ডেন হ্যান্ডশেক’ প্রদান করা হয়। দেশের জনগন বা বিএনপি’র কর্মীরা আন্দোলনের অহেতুক প্রাননাশ করে, এত বেশি মূল্য দিয়ে বড় মাপের রাজনৈতিক নেতৃত্ব পুষতে না চাইতেই পারে। জনগন সম্রাজ্ঞী চায় না, গনতান্ত্রিক নেত্রী চায়। সেটাই বেগম খালেদা জিয়ার জন্য বাধ্যতামূলক অবসর বা ‘গোল্ডেন হ্যান্ডশেক’ হতে পারে। আর বিএনপি দল হিসেবে তো লিমিটেড কোম্পানীর মতই চেইন অব কমান্ড মেনে চলে। রাজনৈতিক ‘গোল্ডেন হ্যান্ডশেক’ বিষয়টি বিএনপি নামক রাজনৈতিক কোম্পানির জন্য উপযুক্তও বটে। সেক্ষেত্রে ব্যক্তিগত দূর্নীতি মামলায় জামিন লাভ হতে পারে গোল্ডেন হ্যান্ডশেক’র বিনিময়ে প্রাপ্ত যথার্থ মূল্য।

হাসিব হাওলাদার
৯ এপ্রিল, ২০১৫