ক্যাটেগরিঃ প্রকৃতি-পরিবেশ, ফিচার পোস্ট আর্কাইভ

 

আমরা সময় থাকতে সোচ্চার না হওয়ায় আমাদের সুজলা সুফলা প্রকৃতির অপরূপ সৃষ্টি সোনার টুকরো বাংলাদেশটির ভৌগলিক অস্তিত্বকে কৃত্রিমভাবে নিশ্চিহ্ন করা হচ্ছে।
জোড়ালো দাবীর অভাবে মাতৃভাষার অধিকার আদায়ে বিশ্বের নজিরবিহীন বাঙ্গালী জাতি তথা জীবন উৎসর্গকারীদের আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি পেতে দীর্ঘ অর্ধশতাব্দী অপেক্ষা করতে হয়েছে। তেমনি আমরা সময় থাকতে সোচ্চার না হওয়ায় আমাদের সুজলা সুফলা প্রকৃতির অপরূপ সৃষ্টি সোনার টুকরো বাংলাদেশটির ভৌগলিক অস্তিত্বকে কৃত্রিমভাবে নিশ্চিহ্ন করা হচ্ছে। নিষ্ঠুর সত্য ভবিষ্যৎ বানী যাতে বাস্তবায়ন যেন না হয় সেজন্য আসুন আন্তর্জাতিকভাবে সোচ্চার হই। এক্ষেত্রে ব্লগারদের পক্ষ থেকে ব্যাপক ভিত্তিক জনমত গঠন ও আন্তর্জাতিক ভাবে চাপ প্রদান করা যেতে পারে।

বাংলাদেশ তার জন্ম লগ্ন থেকেই ভারতের সাথে বিভিন্ন সময় পানি সমস্যা নিয়ে বিরোধে জড়িত। বিষয়টি বাংলাদেশের বুদ্ধিজীবী মহল থেকে শুরু করে সাধারণ জনগন পর্যন্ত সকলেই অবগত। ১৯৭৬ সালে ঐতিহাসিক লং মার্চ, বিভিন্ন সময় বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক সরাসরি আলোচনা ও কূটনৈতিকভাবে সমাধানের প্রচেষ্টা করা হয়েছে। কিন্তু কোন প্রচেষ্টাই কাজে আসেনি। বরং ফারাক্কা সমস্যার সমাধান করতে গেলে ভারত আন্তঃনদী সংযোগ প্রকল্পের দাবী করে। স্বাভাবিক কারণেই বাংলাদেশ জোর করে কোন কিছু বলতে পারে না। আন্তর্জাতিক নদী সংক্রান্ত আইনের দাবি বাস্তবায়নের কথা বলা হলেও ভারত তাতে কোন গুরুত্ব দেয়নি। অসমভাবে ৩০ বছরের জন্য নদীর পানি বন্টন চুক্তি হলেও ভারত বাংলাদেশের প্রাপ্য অংশ কখনোই দেয়নি । অপরদিকে শুষ্ক মৌসুমে পানি প্রবাহ যখন সবচেয়ে কম থাকে তখন ভারত প্রায় সম্পূর্ন পানি প্রত্যাহার করে নেয়। এই নীতি শুধু ফারাক্কা নয় বরং ভারত যে ৫২ টি নদীতে বাঁধ দিয়েছে তার সবগুলোর ক্ষেত্রেই করে থাকে।

এ নিয়ে বাংলাদেশে বিভিন্ন প্রতিবাদ, বিক্ষোভ ও আন্তর্জাতিক নদীর পানি বন্টনের দোহাই দিয়ে পত্র পত্রিকায় বিভিন্ন কলাম ও প্রতিবেদন লেখা হলেও তা কোন কাজে আসেনি। তবে কোন প্রতিষ্ঠান বা ব্যক্তিই উল্লেখযোগ্য এমন কোন পদক্ষেপ নেয়নি যার মাধ্যমে জানা যায় যে, পৃথিবীর অন্যান্য নদীর পানি বন্টনের ক্ষেত্রে কোন দেশের অধিকারকে অগ্রাধিকার দেয়া হয়েছে। এ প্রবন্ধে মেকং, নীল, জর্দান ও দজলা ও ফোরাত নদীর পানি বন্টন ব্যবস্থা ও চুক্তি উল্লেখ করা হল।

বিশ্বের কতিপয় সংঘাতপূর্ণ নদী ও দেশের নাম অববাহিকার নাম – অববাহিকা তীরস্থ দেশসমূহ

-নীল নদ : তানজানিয়া, উগান্ডা, রুয়ান্ড, বুরুন্ডি, কেনিয়া, কঙ্গো, ইথিওপিয়া মধ্য আফ্রিকা, ও মিশর।

-টাইগ্রিস ও ইউফ্রেটিস নদী : তুরষ্ক, সিরিয়া, ইরাক।

-মেকং নদী : চীন, মায়ানমার, থাইল্যান্ড,কম্বোডিয়া, ভিয়েতনাম ও লাউস।

-জর্দান নদী : জর্দান, ফিলিস্তিন, ইসরাঈল, সিরিয়া ও লেবানন।

-লেক চাদ : আলজেরিয়া, ক্যামেরুন, মধ্য-আফ্রিকান প্রজাতন্ত্র, চাদ, লিবিয়া, নাইজার, নাইজেরিয়া, সুদান।

-গঙ্গা-ব্রক্ষপুত্র : বাংলাদেশ, ভারত, ভুটান, নেপাল, মায়ানমার, চীন।

-টুম্যান : চীন, উত্তর কোরিয়া, রাশিয়া।

-লেমপা : এল সালভাদর, গুয়েতামালা, হুন্ডরাস।

-লাপা­টা : আর্জেন্টিনা, বলিভিয়া, ব্রাজিল, প্যারাগুয়ে, উরুগুয়ে।

-সেনেগাল : গায়েনা, মালে,মৌরিতানিয়া, সেনেগাল।

এছাড়া আরও অনেক অববাহিকার অঞ্চল সমূহের মধ্যে নতুন করে বিরোধ বাড়ছে। দেখা যায় যে, পানি কেন্দ্রিক যে সমস্যা তা সাড়া বিশ্বে ছড়িয়ে পড়ছে, বর্তমানে যার তীব্রতা সবচেয়ে বেশী আফ্রিকা, মধ্য-প্রাচ্য, মধ্য-এশিয়া এবং দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোতে। এক পরিসংখ্যানে দেখা যায়, পৃথিবীর শতকরা ৫-৭% মানুষ উত্তর আফ্রিকা, মধ্য-প্রাচ্যে বসবাস করলেও পৃথিবীর মোট সুপেয় পানির মাত্র ০.৯% এ অঞ্চলে আছে। যা কোনভাবেই এ অঞ্চলের মানুষে চাহিদা পূরণ করতে পারছে না। এই অবস্থানে বলা যায় যে, বিশ্ব মূলত অবধারিত পানি কেন্দ্রিক যুদ্ধের দিকে এগোচ্ছে।

Nile River Basin

নীল নদ হলো Risky নদী অববাহিকার মধ্যে অন্যতম একটি। যেখানে পানির উৎস এর উপর আন্তঃ সীমানা (Transboundary) ভিত্তিক যুদ্ধগুলোর হার অধিক পরিমাণে লক্ষ্য করা যায়। বিশেষ করে Lower Nile Basin দেশসমুহ- মিশর, সুদান, ইথিওপিয়ার মধ্যে এ দ্বন্দ্ব সবচেয়ে বেশী। নীল নদের পানির ব্যবহার ও সম্পদ নিয়ে এর মধ্যে মিশর ও সিরিয়ার রাজনৈতিক নেতারা একে অন্যকে একাধিকবার হুমকি দিয়েছে। এক্ষেত্রে অনেকেই ধারণা করেন যে, নীল নদ নিয়ে অববাহিকাস্থ দেশগুলোর Conflict বাড়ছে এবং যা যুদ্ধের দিকে খুব দ্রুত গড়াচ্ছে।

চিত্রঃ নীল নদীর পানি প্রবাহ ও বাধ

Conflict in the Lower Nile Basin :

৩য় বিশ্বের আর কোন দেশ একটি নদীর উপর এতো নির্ভরশীল নয়। নীল নদ উত্তর ও পূর্ব আফ্রিকার ১০ টি দেশের উপর দিয়ে প্রবাহিত হয়েছে । এ দেশগুলো হলো- মিশর, সুদান, ইথিওপিয়া, উগান্ডা, কেনিয়া, তানজানিয়া, রুয়ান্ডা, বুরুন্ডি, কঙ্গো ও ইরিত্রিয়া। এক্ষেত্রে Nile River Basin কে দুই ভাগে ভাগ করা হয়েছে। যা হল:

১. Lower Nile Basin :

এ লাইনে মোট ৩ টি দেশ। দেশগুলো হল- মিশর, সুদান, ইথিওপিয়া। নীল নদ আফ্রিকার ১০ টি দেশকে স্পর্শ করে ভূ-মধ্য সাগরে গিয়ে পতিত হয়েছে। এক্ষেত্রে সবচেয়ে সংঘাত/দ্বন্দ্বপূর্ণ এলাকা হলো Lower Nile Basin. এজন্যই এ লাইনকে Hydrology Security Complex (Ohlsson) বলে অবহিত করা হয়।

২. Upper Nile Basin :

আপার লাইনে মোট ৭ টি দেশ। এ গুলো হলো- উগান্ডা, কেনিয়া, তানজানিয়া, রুয়ান্ডা, বুরুন্ডি, কঙ্গো ও ইরিত্রিয়া। এ লাইনকে বলা হয় The Lake Victoria Complex. এ বেসিনে সংঘাত মূলত Lower Nile Basin এর তুলনায় কম।

দেখা যায় যে, এই ১০ টি দেশ নীল নদের উপর নির্ভরশীল। কিন্তু এর প্রধান সুবিধা নেয় মিশর। নীল নদের পানি প্রবাহের ক্ষেত্রে ইথিওপিয়ার অবদান সবচেয়ে বেশী হলেও তা নিয়ন্ত্রণ করে মিশর। Lower River Basin দেশগুলোর মধ্যে Conflict হওয়ার ক্ষেত্রে ৩টি কারণ রয়েছে :

১. Water Scarcity (দুষ্প্রাপ্যতা)।
২. Dependenc (নির্ভরশীলতা)।
৩. Distribution of Water (পানির বন্টন) ।

দেখা যায় যে, মিশর ও সুদান (সুদান কিছুটা কম) তাদের সমসাময়িক উন্নয়নের জন্য নীল নদের উপর পুরোপুরি নির্ভরশীল। কিন্তু পানি প্রবাহের ক্ষেত্রে তাদের অবদান শূন্য। অন্যদিকে পানি সরবরাহের ক্ষেত্রে ইথিওপিয়া ৮৫% পানি সরবরাহ করলেও অপক্ষাকৃত কম ব্যবহার করতে পারে। কেননা এক্ষেত্রে পানির নিয়ন্ত্রণ মূলত মিশরের উপর। এর ফলে দেশগুলোর মধ্যে যুদ্ধের হুমকি, আভ্যন্তরীণ রাজনীতিতে হস্তক্ষেপ ও চাপ প্রয়োগ অব্যাহত রয়েছে।
Upper Line এ কৃষিকাজ বেশী হয়ে থাকে। কেননা এক্ষেত্রে তারা বেশী পানির বন্টন পেয়ে থাকে। দুটি বিষয় এখানে কাজ করে। যা হলো : ১. বাঁধ নির্মাণ ২. সেচ ব্যবস্থা।

১.বাঁধ নির্মাণ:

মূলত নীলের উপর বাঁধ নির্মানের সুবিধামূলক উদ্দেশ্য হলো- ইচ্ছা অনুযায়ী পানির ব্যবহার করা, খরা রোধ, বিদ্যুত তৈরী, সেচ ব্যবস্থা, নৌ বন্দর তৈরী, স্যানিটেশন ও বিশুদ্ধ পানির সরবরাহ নিশ্চিত করা । এ পর্যন্ত নীলের উপর ১০ টি বাঁধ নির্মাণ হয়েছে। যার মধ্যে মিশর ৫ টি, সুদান ৪ টি, উগান্ডা ১টি বাধ নির্মাণ করেছে। এক্ষেত্রে বাঁধ নির্মাণ করে সুবিধা নিচ্ছে মিশর ও সুদান। অথচ তারা নদী প্রবাহের আপার স্ট্রিম দেশ। এক্ষেত্রে সবচেয়ে বড় আলোচিত বাঁধ হলো হল আসওয়ান(Aswan) বাঁধ। যেটি মিশর নির্মাণ করেছে। এ বাঁধকে কেন্দ্র করে যে প্রকল্প করা হয়েছে তা হলো the New Valleys Project. এটি ৪৫০ কিলোমিটার দীর্ঘ,১০ মিটার প্রশস্থ এবং ১৬০ বিলিয়ন কিউবেক মিটার পানি ধরে রাখতে পারে। এ বাঁধকে কেন্দ্র কর্রে যে লেক নাসের তৈরী করা হয়েছে , তা মূলত সেচ কাজের জন্য এবং বিদ্যুৎ উৎপাদন করার জন্য।

এটির মাধ্যমে একাধারে ৫ লক্ষ ৪০ হাজার হেক্টর জমিতে চাষ করা হয় এবং বছরে ১০ বিলিয়ন কিলোওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন করা হয়। দেখা যায় যে, লয়ার বেসিন এলাকায় হলেও মিশর বাঁধ তৈরী করে সবদিক হতেই বেশী সুবিধা নিচ্ছে। সামরিক, অর্থনৈতিক, ও আন্তঃ দ্বন্দ্ব নিরসনে এ বাঁধগুলো মিশরকে ব্যাপক সহায়তা করছে, কিন্তু এর পাশাপাশি তারা ইথিওপিয়া কে তার হাইড্রো-পাওয়ার ও সেচ ব্যবস্থা উন্নত করতে দিচ্ছে না। অন্যদিকে আসওয়ানের ঘবি New Valleys Project এর মাধ্যমে পানি সরবরাহ বৃদ্ধি করে খাদ্যের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করতে চাইছে, যা সুদান তার প্রকল্প দিয়ে সঠিকভাবে করতে পারছেনা এবং ইথিওপিয়া তো মিশরের বিরোধীতার কারণে বাঁধই নির্মাণ করতে পারেনি।

১৯২৯ সালের সুদান- মিশর পানি চুক্তি:

১.মিশর ৪৮ বিলিয়ন ও সুদান ৪ বিলিয়ন পানি ব্যবহার করতে পারবে।

২. জানুয়ারী ২০ থেকে জুলাই ১৫ তারিখ পর্যন্ত নীল নদের সম্পূর্ন পানি মিশর নিয়ন্ত্রন করবে।

৩. মিশর নীল নদের উজানের দেশগুলোতে পানি মনিটর করারর সুযোগ লাভ করে।

৪. উজানের কোন দেশের অনুমতি ছাড়াই নীল নদের পানি ব্যবহার করার জন্য যে কোন প্রজেক্ট গ্রহন করার অধিকার লাভ করে।

৫. মিশরের জন্য নেতিবাচক প্রভাব ফেলে এমন যে কোন প্রকল্পে ভেটো দেয়ার অধিকার মিশরকে দেয়া হয়।

নীল পানি চুক্তি ১৯৫৯ (সুদান ও মিশর):

১. চুক্তি মোতাবেক নীল নদের বার্ষিক পানি প্রবাহ ধরা হয় ৮৪ বিলিয়ন কিউবিক মিটার।

২. এতে ৫৫.৫ মিশর এবং ১৮.৫ বিলিয়ন কিউসেক পানি সুদান ব্যবহার করবে।

৩. সুদান মিশরের সাথে সহযোগীতার মাধ্যমে পানি প্রকল্প গ্রহন করবে।

৪. এই চুক্তির মাধ্যমে মিশরকে আসোয়ানে বাঁধ নির্মানের অনুমোদন করা হয়।

৫. চুক্তি মতে সুদান ব্লু নীল নদের উপর রোজারি বাঁধ ও সেচ প্রকল্প উন্নয়নের কথা বলা হয়।

এই চুক্তিতে নীল নদের পানির প্রযুক্তিগত উন্নয়নরে জন্য একটি স্থায়ী কমিশন গঠন করা হয়। চুক্তির বিশেষ দিকঃ

১. উজানের কোন দেশই নীল নদের প্রবাহের উপর এমন কোন বাধ দেয়নি যার মাধ্যমে নীল নদের পানি প্রবাহে ব্যাঘাত ঘটে।

২. মিশর যেগেতু ভাটিতে অবস্থিত সেহেতু পানি প্রবাহে ব্যাঘাত ঘটলে সবচেয়ে বেশী ক্ষতিগ্রস্ত হবে মিশর সেহেতু খরার মওসুম তথা জানুয়ারী থেকে জুলাই পর্যন্ত সময়ে পানি প্রবাহ নিয়ন্ত্রন করার সম্পূর্ন অধিকার মিশরকে দেয়া হয়।

৩. উজানের কোন দেশ কোন প্রজেক্ট নিতে হলে মিশরের পুর্বানুমতি নেয়ার কথা বলা হয়। একই সাথে পানি মনিটর করার অধিকারও দেয়া হয়।

মেকং নদী

মেকং একমাত্র নদী যেখানে পানি নিয়ে প্রাথমিক পর্যায়ে সামান্য বিরোধ থাকলেও বর্তমানে নদী অববাহিকার সকল দেশই নদীর প্রাকৃতিক প্রবাহ ঠিক রেখে সেচ ব্যবস্থা উন্নয়ন ও সুষম পানি বন্টন নিশ্চিত করতে পেরেছে। মেকং নদী চীনে উৎপন্ন এবং মেকং এর একটি বড় অংশ এই দেশের উপর দিয়ে প্রবাহিত হলেও তারা এ নদীর প্রকৃতিক প্রবাহের উপর কোন বাধা সৃষ্টি না করেই নদী থেকে বিভিন্ন সুবিধা নিচ্ছে। চীন এ নদীর পানি প্রবাহে কোন ধরনের হস্তক্ষেপ করেনি। অপরদিকে মায়ানমার উজানের দেশ হওয়া সত্বেও নদীর প্রবাহের ক্ষেত্রে কোন বাধা তৈরী করেনি।

উৎসঃ তিব্বত মালভূমি
প্রবাহঃ চীন, মায়ানমার, থাইল্যান্ড, ভিয়েতনাম, লাউস, কম্বোডিয়া।
উজানঃ চীন ও মায়ানমার, থাইল্যান্ড
ভাটিঃ লাইস, ভিয়েতনাম ও কম্বোডিয়া।
পতিতঃ দক্ষিণ চীন সাগর

Table 1: Territory and water flow of the six Mekong River Basin countries

বর্ণনা ১. দেশভিত্তিক — নদীর পানি প্রাপ্যতা (বর্গকিমি)
– চীন – ১৬৫.০০০ – ২১
-মায়ানমার – ২৪,০০০ – ৩
-লাউস – ২০২,০০০ – ২৫
-থাইল্যান্ড – ১৮৪.০০০ – ২৩
– কম্বোডিয়া – ১৫৫,০০০ – ২০
– ভিয়েতনাম – ৬৫,০০০ – ৮
মেকং নদীর প্রবাহ(%)
Source: State of Basin Report, 2003 (MRC)

এই চুক্তিতে উজানের দুটি দেশ চীন এবং মায়ানমার অংশগ্রহন করেনি।
মেকং নদীর পানি বন্টন ও টেকসই উন্নয়নের জন্য ৫ এপ্রিল ১৯৯৫ সালৈ থাইল্যান্ডের চিয়াং মাই শহরে এই চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়।

চুক্তির উদ্দেশ্যঃ

চুক্তির মূল উদ্ধেশ্য ছিল বিরোধ নিরসন, যান চলাচলে সুবিধা, এবং মেকং নদীর সমভাবে ব্যবহার। এই চুক্তিতে স্বাক্ষরকারী সকল দেশই নদীর প্রকিৃতিক প্রবাহ সংরক্ষন এবং পরিবেশ সংহতি রক্ষা করার জন্য দায়িত্ব গ্রহন করে।
জর্দান নদী

চিত্রঃ জর্দান নদীর পানি প্রবাহ ও নদী অববাহিকা অঞ্চল

উৎপত্তিঃ সিরিয়ান মালভূমি
প্রবাহঃ সিরিয়া, লেবানন, ফিলিস্তিন, ইসরাঈল ও জর্দান।
পতিতঃ ডেড সি
দৈর্ঘঃ ১৮০০০ কি মি.

জর্দা নদীর পানির পরিমাণ খুবই কম। বছরে মাত্র ১,৩০০ মিলিয়ন পানি সরবরাহ করে । কিন্তু এি ১,৩০০ মিলিয়ন কিউসেকের অর্ধেকের বেশীরভাগ পানি ডেড সিতে পরার অগেই ইসরাঈল উঠায়ে নেয়। অধিকন্তু ১৯৬৭ সালে ইসরাঈল গাজা, পশ্চিম তীর ও গোলান মালভূমি দখলের পর একচ্ছত্রভাবে পানি প্রত্যাহার করে নিচ্ছে। পশ্চিম তীরে জর্দান নদীর পানি এখন রেশনের মাধ্যমে ফিলিস্তিনিদেরকে দেয়া হয়। আর এর পরিমান হল ৪.৫%। আর বাকি ৯৫.৫% পানি ব্যবহার করে ইসরাঈল। অথচ জনসংখ্যার ৯০ ভাগই ফিলিস্তিনি।ইসরাঈলি বসতিস্থাপনকারীরা ফিলিস্তিনিদের চেয়ে ৮১ গুন পানি বেশী ব্যবহার করছে। ফিলিস্তিনি গ্রামগুলোর অর্ধেকই এই পানি সুবিধা থেকে বঞ্চিত রয়েছ। এমনকি যেসব ফিলিস্তিনি শহর ও গ্রাম এই পানি সুবিধা পায় তাও নিরাপদ নয়। সপ্তাহে মাত্র ২ থেকে তিন দিন ফিলিস্তিনের এসকল জনগন পানি পেয়ে থাকে।
(SourceFresh water as a source of International conflict p -146)

জর্দান নদীর পানি বন্টন

ইসরাঈল এবং আরবদের মাঝে তিক্ত সম্পর্কের কারণে জর্দান নদীর পানি বন্টন নিয় ইসরাঈল ও আরবদের মধ্যকার সকল প্রচেষ্টাই ব্যর্থ হয়েছ। ১৯৯৪ সালে মাদ্রিদে পারম্পরিক সম্পর্কের জন্য পানি নিয়ে আলোচনা হয। এ সময় থেকেই পানি চুক্তির ব্যপারে গুরুত্ব দেয়া হয় । এরপর ১৯৯৪ সালে ইসরাঈল ও জর্দানে এবং ইসরাঈল ফিলিস্তিন কর্তৃপক্ষের মধ্যে জর্দান নদীর পানি বন্টন চুক্তি হয়। কিন্তু মাদ্রিদ শান্তি প্রচেষ্টাকে বয়কটের ফলে এ চুক্তি থেকে লেবানন ও সিরিয়া নিজেদেরকে দূরে রাখে। চুক্তি অনুসারে জর্দান শুষ্ক মওসুমে পানি ব্যবহার করার জন্য ইসরাঈলের গ্যালিলিয়া সাগরে পানি জমা রাখতে পারে এবং ইসরাঈল তার কৃষি জমিতে সেচ প্রদানের জন্য নির্দিষ্ট পরিমান কুপ স্থাপন করতে পারে। কিন্তু এ চুক্তিতে শুষ্ক মওসুমে পানি বন্টন সম্পর্কে নির্দিষ্ট ভাবে বলা হয়নি। ফলে ১৯৯৯ সালের শুষ্ক মওসুমে জর্দানে ব্যপক পরিমান পানি সংকট দেখ দেয়।

ফিলিস্তিন ইসরাঈল চুক্তিঃ

এতে ফিলিস্তিনিদের জন্য বছরে ৭০-৮০ মিলিয়ন কিউবিক মিটার পানি নির্ধারণ করা হয়। যার মাধ্যমে পশ্চিম তীরে কৃষি উন্নয়নকে বাদ দেয় হয়। কিন্তু ১৯৯৬ সালে ইসরাঈলের প্রধান মন্ত্রী আইজ্যাক রবিন আততায়ীর হাতে নিহত হবার পরে পরবর্তী সরকারের সাথে পানি নিয়ে আর কোন চুক্তি হয়নি। উক্ত চুক্তির ফলে যৌথ নদী কমিশন গঠিত হয়। এ কমিটি নিয়মিত মিটিং পরিচালনা করে থাকে। ২০০১ সালের জানুয়ারী মাসে ইসরাঈল এবং ফিলিস্তিন পানি কর্তৃপক্ষ একটি যৌথ বিবৃতি দান করেন । যার মাধ্যমে পানি অবকাঠামো এবং পানি সরবরাহে বাধা প্রদানকে এড়িয়ে করে যাবার কথা বলেন। তবে ফিলিস্তিনিদের কাছে এই পানি কমিশন অনেকটা দুশ্চিন্তার কারণ কেননা যৌথ নদী কমিশনে কোন ফিলিস্তিনিকে নেয়া হয়নি। এছাড়া এই কমিশন ইসরাঈলি প্রতিরক্ষা বাহিনীর দ্বারা নিয়ন্ত্রিত হয়।

টাইগ্রিস ও ইউফ্রেতিস নদী

উৎপন্নঃ আনাতোলিয়া মালভুমি,তুরষ্ক
প্রবাহঃ তুরষ্ক, সিরিয়া ও ইরাক।
পতিতঃ পারস্য উপসাগর
সবচেয়ে বেশী প্রবাহ ইরাকের ইপর দিয়ে।
পানি পবাহঃ টাইগ্রিস নদী ৫২ও ইউফ্রেতিস ৩২ বিলিয়ন বিলিয়ন কিউবিক মিটার প্রতি বছর।

তাইগ্রিস ও ইউফ্রেটিস নদী প্রায় একই যায়গা ও একই আওতাধীন থাকার ফলে দুটি নদীকে এক সাথে অলোচনা করা হল।

১৯২০-৬০ সাল পর্যন্ত পূর্ন সহযোগীতার পর্যায় । এ পর্যায়ে কোন দেশই নদীর প্রাকৃতিক প্রবাহে বাধা না দিয়ে নদীর পানি ব্যবহার করছে। ১৯৭০ সালে তুরষ্ক ও সিরিয়া নদীতে বাঁধ দিয়ে জলাধারবিদ্যুৎ ও সেচ কাজের জন্য জলাধার নির্মান করে । ফলে উভয় নদীর পানি প্রবাহ কমে গেলে প্রথমবারের মত ইরাকের সাথে সিরিয়ার বিরোধ দেখা দেয়। ইরাক পানি প্রবাহ কমে যাবার জন্য সিরিয়াকে দায়ী করলে সিরিয়া এজন্য তুরষ্ককে দায়ী করে। ইরাক সরকার সিরিয়ার এ জবাবে তুষ্ট না হলেও পরে বিশেষ কোন সমস্যা না হওয়ায় ইরাক সরকার তেমন কোন পদক্ষেপ নেয়নি।

১৯৮০ সালের আতাতুর্ক বাঁধঃ

১৯৮০ সালে তুরষ্ক আতাতুর্ক বাঁধ দিলে এ বিরোধ বেড়ে যায়। তবে তুরষ্ক পানি প্রত্যাহার করার জন্য ইরাক ও সিরিয়াকে অবগত করানোর জন্য ১৯৮৯ সালে তথা এক বছর অগেই প্রতিনিধি দল প্রেরন করে। জানুয়রি মাসে কৃষি ও সেচ কাজে নদীর পানির প্রয়োজন না থাকায় তুর্কী সরকার এই সময়ে আতাতুর্ক বাদে পানি রিজার্ভ করার কথা ঘোষনা করে। কিন্তু সিরিয়া ও ইরাক সরকারীভাবে এ প্রস্তাব প্রত্যাখান করে। কিন্তু তুর্কী সরকারের ঘোষনা অনুযায়ী জানুয়ারীতে পানি প্রত্যাহার করলে নিম্ন এলাকা তথা ইরাকে উভয় নদীর পানিই প্রায় শুকিয়ে যায়। তখন ইরাকও সিরিয়া সরকার অবস্থার জন্য তুরষ্ককে দায়ী করে ফলে পানি নিয়ে বিরোধ বৃদ্ধি পায়।

আদানা চুক্তিঃ

১৯৯৮ সালে উভয় নদীর পানি প্রবাহ নিশ্চিত করার জন্য আদানা চুক্তি স্বাক্ষর করে। চুক্তি মোতাবেক ২০০১ সালে যৌথ কমিশন গঠন করা হয় যার দ্বারা নদীর পানি প্রবাহ নিশ্চিত করার জন্য পর্যবেক্ষন চালিয়ে যাচ্ছে। এ কমিশন নদীর পানি যাতে সকল দেশই পেতে পারে এজন্য সহযোগীতা চালিয়ে যাচ্ছে। আর এ সহযোগীতার ফলে পানি কেন্দ্রিক উন্নয়ন প্রকল্প সফল হচ্ছে। সরকারী, বেসরকারী ও সিভিল সোসাইটির প্রতিনিধিদল অসংখ্যবার নদী প্রকল্প পর্যবেক্ষন করে । আর এ সকল উদ্যোগের ফলে তিনটি দেশের মধ্যে মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি হয় যার ফলে পারস্পরিক সম্পর্ক বহুগুনে বৃদ্ধি পায।। তথাপি এই সব নদীর পানি প্রবাহ অনিয়মিত হওয়ার ফলে এখানে পানির অভাব ক্রমেই বৃদ্ধি পাচ্ছে।
Allan: Hydro peace of Middle East p- 267 -268

ETIC প্রতিষ্ঠা

এর প্রতিষ্ঠা সিরিয়া ইরাক ও তুরষ্কের মধ্য নদীর পানি বন্টনের সহযোগীতার ক্ষেত্রে মাইলফলক। ২০০৫ সালে তিনিটি দেশের একদল স্কলারের সমন্বয়ে ETIC প্রতিষ্টিত হয়। ETIC একতরফাভাবে নদীর পানি প্রত্যাহারের বিরোধীতা এবং অংশীদার দেশের বহুমুখি উন্নয়ন ও পানি বিশেষজ্ঞদের বিভিন্ন ধরনের প্রশিক্ষন দিয়ে থাকে।

বাংলাদেশ – ভারত আর্ন্তজাতিক নদীর পানি বন্টন সমস্যা :

বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্য ৫৪ টি আর্ন্তজাতিক নদী রয়েছে । এর মধ্য ভারত বিভিন্ন সময়ে তার উন্নয়ন প্রকল্পের নামে ৫৪ টি নদীর মধ্য ৫২ টি নদীতেই বাঁধ নির্মান করে। যখন শুষ্ক মৌসুমে পানি হ্রাস পায় তখন এসব নদীর প্রবাহ একেবারে বন্ধ করে দেয় ফলে বাংলাদেশ তার প্রাকৃতিক অধিকার নদীর পানি থেকে বাংলাদেশকে বঞ্চিত করে। বাদ থাকে ব্রক্ষপুত্র ও সুরমা (মেঘনা) নদী । ব্রক্ষপুত্র নদীতে বাঁধ নির্মান না করলেও ভারত স্পার নির্মানের মাধ্যমে ১০ হাজার কিউসেকের ও বেশী পানি প্রত্যাহার করে নিচ্ছে। এরপর বাকি থাকে সুরমা নদী কিন্তু এখন সকলেই অবগত যে ভারত সুরমা নদীর পানি প্রত্যাহারের জন্য কি প্রচেষ্টা চালাচ্ছে। নিম্নে ভারত বাংলাদেশের পানি বন্টন সংক্রান্ত নীতি সংক্ষেপে আলোচনা করা হল।

ভারতের আন্ত নদী সংযোগের মহাপরিকল্পনা (লাল দাগের মাধ্যমে পানি প্রত্যাহার করার জন্য সংযোগ লাইন দেখানো হয়েছে)

বাংলাদেশ ভারত কূটনৈতিক তৎপরতাঃ

১৯৭১ সালে বাংলাদেশ স্বাধীন হবার পর থেকেই ফারাক্কা ইস্যু দেশ দুটির আন্তরাষ্ট্রীয় সম্পর্কের ক্ষেত্রে বিশেষ গুরুত্ব পায়। স্বাধীনতার দেড় মাস পরে মি. বি এম আব্বাস প্রধান মন্ত্রী শেখ মুজিবের বন্যা নিয়ন্ত্রন ,সেচ ও বিদ্যৎ বিষয়ক উপদেষ্টা নিযুক্ত হয়ে ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রি সরদার সরণ সিং এবং সেচ ও বিদ্যুৎ মন্ত্রি ড. কে এল রাও এর সাথে সাক্ষাৎ করেন। এবং ফারাক্কা বাঁধ প্রকল্প ও বন্যা নিয়ন্ত্রণ এবং সেচ ও বিদ্যৎ সম্পর্কিত বিষয়ে উভয় দেশের পরিকল্পনা নিয়ে কথা বলেন। তার পূর্বে পাকিস্থানী করাগার থেকে মুক্ত হয়ে ফেরার পথেই ১৯৭২ সালের ১০ জানুয়ারী শেখ মুজিব কলকাতায় মিসেস গান্ধির সাথে সাক্ষাত করেন। ৭২ সাল ফেব্রুয়ারী মাসেও সাক্ষাৎ করেন এবং বিভিন্ন বিষয় সমঝোতার জন্য অলোচনা করে। অলোচনার ধারাবাহিকতায় ১৯৭২ সালের ১৭ মার্চ উভয়দেশ ২৫ বছর মেয়াদী মৈত্রি চুক্তি স্বাক্ষর করে।

১৯৭৫ সালে১৮ ই এপ্রিল বাংলাদেশে ও ভারতের মধ্য ২১ এপ্রিল থেকে ৩১ মে ৪১ দিনের একটি স্বল্প মেয়াদী চুক্তি স্বাক্ষর হয় যাতে করে ভারতকে ১১ হাজার থেকে ১৬ হাজার কিউসেক পানি প্রত্যাহারের সুযোগ দেয়া হয় এবং বাংলাদেশের জন্য ৪৪ থেকে ৪৯ হাজার হাজার কিউসেক পনি। কিন্তু এ চুক্তি ছিল অত্যন্ত ক্ষণস্থায়ী।

১৯৭৫ সালে ৩১ মে চুক্তির মেয়াদ শেষ হলে ভারত একতরফা ভাবে প্রায় সম্পূর্ন পানি ( ৪মি হাজার কিউসেক) প্রত্যাহার করতে থাকে, যা বাংলাদেশের অর্থনীতির উপর এক মারাত্বক প্রতিক্রিয়ার সৃষ্ট হয়। ফলে অর্থনীতির এক তৃতীয়াংশ ধংসের মুখে পতিত হয়।

১৯৭৫ সালে রাজনৈতিক পট পরিবর্তনের পর বাংলাদেশের নতুন সরকারের সাথে ভারতের মধুর সম্পর্কের ইতি ঘটলে বাংলাদেশের পক্ষে গঙ্গার পানি নিয়ে ভারতকে আলোচনায় বসানো অসাধ্য ব্যাপার হয়ে পড়ে। শেষ পর্যন্ত সমস্যা সমাধানের পথ খুজে না পেয়ে বাংলাদেশ ১৯৭৬ সালে ওআইসির পররাষ্ট্র মন্ত্রিদের বৈঠকে, ১৯৭৬ এর আগষ্টে কলোম্বতে জোট নিরপেক্ষ সম্মেলনে এবং ১৯৭৬ সালে নভেম্বর মাসে জাতিষংঘের সাধারণ পরিষদে আলোচ্য সূচিতে বিষয়টি পেশ করে। ১৯৭৭ সালে ভারতে নির্বাচনে মিসেস গান্ধির পরাজয় এবং মোরাজি দেশাই ক্ষমতা গ্রহন করলে বাংলাদেশের প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান এবং ভারতের প্রধানমন্ত্রি দেশাই এর নেতৃত্বে দু’দেশের সম্পর্কের উন্নতি ঘটে। এই সুযোগে ১৯৭৭ সালে নভেম্বর মাসে দু’দেশের মধ্য গঙ্গার পানি বন্টন একটি পাঁচ বছর মেয়াদি চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়। এই চুক্তি অনুযায়ী ফারাক্কার মোট প্রবাহের ৫৫ হাজার কিউসেক পানির মধ্যে বাংলাদেশের জন্য বরাদ্দ করা হয় ৩৪ হাজার ৫ শত কিউসেক এবং ভারতের জন্য ২০ হাজার কিউসেক বরাদ্দ করা হয়।

এই সরবরাহ ছিল শুষ্ক মৌসুমের জন্য ২১ এপ্রিল থেকে ৩০ মে। যদিও এখানে পানির পরিমান পূর্বের তুলনায় কম ছিল, তথাপি এই চুক্তিতে একটি গ্যারান্টি ক্লজ ছিল যাতে স্পষ্ট বলা ছিল যে, শুষ্ক মৌসুমের যে দশ দিনে পানির প্রবাহ সর্বনিম্ন পর্যায়ে নেমে যায় সে দশ দিন মোট প্রবাহের ৮০ শতাংশ পানি বাংলাদেশ পাবে। এই গ্যারিন্টি ক্লজ ছিল এই চুক্তির অন্যতম বৈশিষ্ট্য।

দৃশ্যত এবং বাস্তবিক পক্ষে এই চুক্তি ছিল প্রেসিডেন্ট জিয়ার অন্যতম সাফল্য। মোরাজি দেশাই সরকারের পর মিসেস গান্ধি পুনরায় ক্ষমতা গ্রহন এবং বাংলাদেশে জেনারেল এরশাদ ক্ষমতা দখল করলে ১৯৭৭ সালের চুক্তির মেয়াদ শেষ হবার অগেই ১৯৮২ সালের ৭ অক্টোবর জেনারেল এরশাদ সরকার মিসেস গান্ধির সাথে চুক্তির পরিবর্তে ১৮ মাস দীর্ঘ একটি সমঝোতা স্বারকে স্বাক্ষর করে । চুক্তির পরিবর্তে সমঝোতা স্বরের কারণ ছিল এইযে, এখানে গ্যারান্টি ক্লজের কোন উল্লেখ ছিল না। ফলে ভারত একতরফাভাবে পানি নিয়ন্ত্রন করত। ১৮ মাসের সমঝোতা সমাপ্তি ঘটে ১৯৮৪ সালের মে মাসে । একই শর্ত অনুয়ায়ী পরবর্তি ৩ বছরের জন্য এই সমঝোতার জন্য ৩ বছর বাড়ানো হয়। পরবর্তি ১৯৮৫ সালে নভেম্বর মাসের এর মেয়াদ তিন থেকে পাঁচ বছরে উত্তীর্ন করা হয। এর পর থেকে ১৯৯৬ সালের ১২ ই ডিসেম্বর নয়া পানি বন্টন পর্যন্ত ভারতের সাথে আর কোন চুক্তি হয়নি।

১৯৯১ সালে বেগম খালেদা জিয়ার সময় গঙ্গার পানি সমস্যা সমাধানের জন্য নানা উদ্যোগ গ্রহন করা হলেও ভারতের গড়িমসির জন্য কোন স্বারক বা চুক্তি স্বাক্ষর হয়নি। দ্বিপাক্ষিক ভাবে পানি সমস্যার সমাধানকল্পে ভারত এগিয়ে না এসে আধিপাত্যবাদী দৃষ্টিভঙ্গি প্রকাশ করলে ১৯৯৫ সালের সেপ্টেমবর মাসে জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদে বিষয়টি বাংলাদেশ উত্থাপন করে। তবে এই প্রস্তাব জাতিসংঘে উত্থাপনের পূর্বে যুক্তরাষ্ট্র ও মিত্র রাষ্ট্র সমূহের উপর প্রয়োজনীয় গ্রাউন্ড ওয়ার্কের অভাবে বিষয়টি ব্যাপক ভিত্তিক আন্তর্জাতিক সমর্থন লাভে ব্যর্থ হয়।

১৯৯৬ সালে আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় আসার পর শেখ হাসিনার নেতৃত্বে পানি সমস্যা সমাধানের জন্য উদ্যোগ গ্রহন করে। ভারতের সাথে ভাল সম্পর্কের কারণে ভারত সরকার পানি সমস্যা সমাধানের জন্য উদ্যোগ গ্রহন করে।

৩০ বছর মেয়াদী পানি চুক্তিঃ

১৯৯৬ সালে শেখ হাসিনার সরকারের সময়ে বাংলাদেশ ও ভারত পানি চুক্তি হলেও ভারত বাংলাদেশকে তার প্রাপ্য কখনোই দিচ্ছে না। বিশেষ করে এ চুক্তিতে গ্যারান্টি ক্লজ না থাকায় ভারত শুষ্ক মওসূমে যখন পানি সর্বনিম্ন প্রবাহ তাকে তখন ভারত একতরফাভাবে পানি প্রত্যাহার করে নেয়।

টিপাইমুখঃ

অপরদিকে ২০০৪ সালে ভারতের তৎকালীন প্রধানমন্তী মনোমহন সিং টিমাইমুখ নামক স্থানে বিদ্যৎ উৎপাদনের কথা বলে সেখানে বাঁধ নির্মানের জন্য ভিত্তি স্থাপন করে।
ভারতের জলকমিশন ১৯৮৪ সালে প্রথম টিপাইমুখ বাঁধের প্রস্তাব করে । যদিও তা প্রত্যাখ্যান হয় তথাপি ১৯৯৫ সালে ব্রক্ষপুত্র বোর্ড একটি প্রতিবেদন তৈরী করে এবং ১৯৯৯ সালে উত্তর পূর্ব বিদ্যুৎ কর্পোরেশন এর কাছে হস্তান্তর করে। ২০০৩ সালে তা অনুমোদন লাভ করে । ২০০৪ সালের ২৩ নভেম্বর ড. মনমহনসিং ভিত্তি প্রস্তর স্থাপানের ঘোষনা দেন । ২০০৬ সালে ডিসেম্বর মাসে বাংলাদেশে রাজনৈতিক বিশৃঙ্খলার সুযোগে ভারতের কেন্দীয় বিদ্যুৎ মন্ত্রিও ভিত্তি প্রস্তর স্থাপন করে । ২০১১ সলের মাঝে এ বাঁধের কাজ শেষ হবে বলে তারা ঘোষনা করে।

ইন্সটিটিউট অব অয়াটার মডেলিং (আসামের) পরিচালিত এক সমীক্ষায় বলা এ বাঁধ চালু হলে বরাক নদীর অমলশিদ পয়েন্টে পানি প্রবাহ কমে যাবে । জুন মাসে ১০% জুলাইয়ে ২৩% আগষ্টে ১৬% সেপ্টেম্বর ১৫% পানি কমে যাবে। পানির গড় উচ্চতা অমলশিদ পয়েন্টে জুলাই মাসে এক মিটারের নীচে নেমে যাবে । এবং এর গড় উচ্চতা ১.থেকে ০.২৫ মিটারে নেমে যাবে। একই সময়ে সুরমা নদী , কানাইঘাট ও সিলেট স্টেশনে পানির গড় উচ্চতা হ্রাস পাবে .৭৫ থেকে .২৫ মিটার পর্যন্ত । এর ফলে নদীতে যান চলাচল প্রায় বন্ধ হয়ে যাবে। সুনামগন্জ, সিলেট, মৌলভিবাজার ১০ হাজার হেক্টর জলাভূমি একেবারে শুকিয়ে যাবে এবং এই এলাকার হাওড়গুলো তার অতীত ঐতিহ্য ধরে রাখতে পারবে না।

বর্তমান নতুন সরকার ক্ষমতায় অসার পর ভারত টিমাইমুখ বাঁধের কাজ শুরু করে দিলে পানি নিয়ে বাংলাদেশ ভারতের মধ্য পানি নিয়ে বিরোধের মাত্রা নতুন রুপ লাভ করতে থাকে।

পানি প্রত্যাহারের ক্ষেত্রে ভারতের দাবি ও তার যৌক্তিকতা:

১.কলিকাতা বন্দরের নাব্যতা রক্ষা:

প্রথমেই যে কথা চলে আসে তা হল কলিকাতা বন্দরের যাত্রা আজ থেকে প্রায় ৩০০ বছর পূর্বে। আর বৃটিশরা এই বন্দরের মাধ্যমেই প্রথমে বাংলায় ব্যবসা শুরু করে। আর এ বন্দরকে কেন্দ্র করেই কলিকাতা নগর প্রতিষ্ঠিত হয়।

এখন প্রশ্ন হল ৩০০ বছর পুর্বের যে বন্দর তার এর পূর্বে কেন নাব্যতা সংকট নিয়ে প্রশ্ন আসল না। অথচ ভারত পাকিস্থান বিভক্ত হবার পর এই সমস্যা দেখা দিল। কথার কথা যদি সমস্যা হয়ই তাহলে নাব্যতা সমস্যা সমাধানের জন্য আন্তর্জাতিক নদীতে বাঁধ দিয়ে সে নদীর পানি প্রত্যাহারই একমাত্র পথ ছিল?

২.সেচ সুবিধাঃ

ভারতের ২য় যুক্তি হল সেচ সুবিধা। এক্ষেত্রে যে কথা প্রথমেই চলে আসে তা হল সেচ সুবিধার জন্য কি আর্ন্তজাতিক নদীর পানি প্রত্যাহারই একমাত্র অবলম্বন না অন্য কোন উপায়ও ছিল। অথচ দেখা যায় নদী অববাহিকা বাদে বাংলাদেশ সহ পৃথিবীর অধিকাংশ দেশই সেচ সুবিধার ভূগর্ভস্ত পানির উপর নির্ভর করে থাকে। আর নদী অববাহিকায় সেচ কাজের জন্য নদীর পানির উপর নির্ভর করে থাকে।

৩.বৃষ্টিবিহীন অর্ধ মরু এলাকায় সেচ প্রদানঃ

ভারতের প্রধান উদ্দেশ্য হল এই নদীর পানি প্রত্যাহার করে নিয়ে গুজরাট ও মধ্যপ্রদেশের বৃষ্টিহীন এলাকায় সেচ প্রদান। এখানে ল্ক্ষ্য করার বিষয় যে ভৌগলিকভাবে হাজার বছর ধরে যে সব এলাকায় বৃষ্টিপাত অর্থনৈতিক ক্রিয়াকর্ম কম এবং একই কারণে জনবসতিও কম সেই এলাকায় সেচদানের জন্য ভারত এমন এলাকা থেকে পানি প্রত্যাহার করে নিয়ে যাবে যার অর্থনৈতিক কর্মকান্ড, কৃষি, যোগাযোগ ব্যবস্থা এমনকি অস্তিত্বও গড়ে উঠেছে নদী কে নির্ভর করে।

৪.নদী সংযোগ প্রকল্প:

এক্ষেত্রে ভারতের ইচ্ছা হল ব্রক্ষপুত্র মেঘনা সহ সকল নদীর পানি ক্যানালের মাধ্যমে গুজরাট মধ্যপ্রদেশ সহ সমগ্র ভারতকে এই নদী সংযোগ প্রকল্পের আওতায় এনে এক নতুন ভারত তৈরীর স্বপ্ন। এই সংযোগ চ্যানেলের মাধ্যমে কর্নাটকের গঙ্গা বলে পরিচিত কাবেরী নদীর সাথে সংযোগ স্থাপন করা ।

ভারতের করনীয়

১.নদীর প্রাকৃতিক প্রবাহের কথা চিন্তা করাঃ ভারত যেসব দাবি তুলে ধরেছে তা হয়ত যুক্তি বা তর্কের মাধ্যমে ভারতকে বুঝানো সম্ভব নয়। কারণ ভারত যে দৃষ্টিভঙ্গি সামনে রেখে উক্ত বিষয় গুলো বিবেচনা করছে সে অনুসারে তার চিন্তা ঠিক। কিন্তু একটি বিষয় ভারতের লক্ষ্য করা দরকার যে, নদী হল প্রাকৃতিক তথা প্রকৃতি প্রদত্ত দান। যেমনভাবে সমগ্র বিশ্বের সমগ্র ভুখন্ডই প্রকৃতি প্রদত্ত। মানুষ এগুলো সৃষ্টি করেনি। এই প্রকৃতি প্রদত্ত ভূখন্ডের উপর যেমন করে ২শতাধিক রাষ্ট্র গড়ে উঠেছে এবং সকল রাষ্ট্রই তার ভূখন্ডের যে সম্পদ আছে তাই শুধু ব্যবহার করে থাকে এবং কোন রাষ্ট্রই অন্য রাষ্ট্রের সম্পদে ভাগ বসাতে পারে না বা নিজের দখলে রাখতে পারে না তেমনি নদীর প্রবাহ ও প্রাকৃতিক। এটি কোন ব্যাক্তির দ্বারা সৃষ্টি নয়।

সুতরাং একটি দেশ যেমন অন্য দেশের সীমানার মধ্য থেকে কোন অর্থনৈতিক বা অন্যান্য কর্মকান্ড পরিচালনা করতে পারে না তেমনি নদী নয় বরং নদীর প্রবাহও যেহেতু প্রাকৃতিক সেহেতু এই প্রবাহকে বাধা দিতে পারে এমন কোন কাজই কোন বিশেষ কোন রাষ্ট্রের পক্ষে সমীচীন নয়। অথচ নদীর পানি সকলের প্রয়োজন থাকার কারণে সংশ্লিষ্টদেশগুলো পরস্পর সহযোগীতার মাধ্যমে পানি ব্যবহার করবে । আর নদীর পানি বন্টনে অন্তর্জাতিক আইনও এই প্রাকৃতিক অধিকার ও প্রবাহ নিশ্চিত করার জন্যই গঠিত হয়েছে। সুতরাং নদী সংযোগ এর মাধ্যমে আন্তর্জাতিক নদীর পানি প্রত্যাহারের চিন্তা করা ঠিক তেমনি অবৈধ যেমন এক দেশ কর্তৃক অন্যদেশে সরাসরি দখল বা জোর করে সেদেশের সম্পদ ভোগ করা অবৈধ।

২.অপর রাষ্ট্রের অধিকারের চিন্তাঃ ভারত তথা যে কোন রাষ্ট্রেরই কোন উন্নয়ন প্রকল্প হাতে নেয়ার সময় একথা অবশ্যই চিন্তা করা উচিৎ যে, এর মাধ্যমে অপর দেশের কি পরিমাণ লাভ বা ক্ষতি হতে পারে। এত্রেক্ষে বাংলাদেশের সাথে সহযোগীতার মাধ্যমেই কোন পদক্ষেপ গ্রহন করা উচিৎ।

৩.অন্যান্য নদীর পানি বন্টরেন দিকে লক্ষ্য করাঃ এ প্রবন্ধের প্রথমেই অন্তর্জাতিক নদীর পানি বন্টনের ক্ষেত্রে নীল ,মেকং, জর্দান, টাইগ্রিস ও ইউফ্রেতিস নদীর পানি বন্টনের ক্ষেত্রে সংশিষ্ট­ দেশগুলো কি পদক্ষেপ নিয়েছে তা দেখানো হয়েছে। এত দেখা যায় যে নীল টাইগ্রিস- ইউফ্রেতিস, জর্দান ও মেকং নদীর পানি বন্টনে সমস্যা থাকলেও প্রায় সকল ক্ষেত্রেই ভাটির দেশকেই বেশী প্রাধান্য দেয়া হয়েছে। কারণ উজানের দেশের চেয়ে ভাটির তার জীববৈচিত্র রক্ষা, কৃষি ব্যবস্থা,এবং ভৌগলিক দিক থেকে নদীর পানির উপর অধিক মাত্রায় নির্ভরশীল হয়ে থাকে

শুধুমাত্র ইসরাঈল ও ফিলিস্তিনিদের মধ্য এই বৈষম্যের মাত্র অধিক আর এর কারণ হল উভয় দেশের মধ্য বিরাজমান দ্বন্দ। অবশ্য ইসরাঈলই জর্দানের সাথে পানি বন্টনের ক্ষেত্রে যথেষ্ঠ সহযোগীতা করেছে। আর ফিলিস্তিনিদের সাথে বৈষম্য করলেও নদী কমিশন গঠন করার মাধ্যমে নিয়মিত আলোচনা হয়ে আসছে। মেকং ও টাইগ্রিস ইউফ্রেতিস নদীর ক্ষেত্রে প্রথম পর্যায়ে সামান্য বিরোধ হলেও এখন তা শান্তির প্রতীক হয়েছে। বিশেষ করে ETIC প্রতিষ্ঠা

উপরোক্তভাবে বিরোধ মীমাংসা না হলে পানি নিয়ে বিরোধের মাত্রা ভয়াবহ হতে পারে।

source; www.transboundery waters orst.edu/projects/events/bar_

এককালের প্রমত্ত পদ্মা এখন গরুর গাড়ীতে পার হওয়া যায়।

শেষ কথাঃ

ভারতের সাথে দীর্ঘ প্রায় ৪০ বছরের পারস্পরিক সম্পর্ক এবং বাংলাদেশের প্রতি ভারতের মনোভাব থেকে একথা বলা যায় যে বাংলাদেশ যতদিন একটি পৃথক রাষ্ট্র হিসেবে টিকে থাকবে ততদিন পর্যন্ত ভারত বাংলাদেশের সাথে এরূপ আচরনই করে যাবে । এর কারণ হল ভারত যে আন্ত নদী সংযোগ প্রকল্পের পরিকল্পনা করেছ তাতে দেখানো হয়েছে যে, ব্রক্ষপুত্র নদীর পানি প্রত্যাহার করার জন্য ভারত বাংলাদেশের রংপুর ও দিনাজপুর জেলার উপর দিয়ে সংযোগকারী ক্যানাল করার পরিকল্পনা করেছে। অথচ বাংলাদেশ কখনো ভারতকে মরণ ফাঁদ স্বরূপ এই নদী সংযোগ প্রকল্পের জন্য তা ভূখন্ড ব্যবহার করতে দিবে না। আর ভারতের এই নদী সংযোগ বাস্তবায়ন করার জন্য ২য় পরিকল্পনা ছিল গোয়ালন্দের নিকট বাধ দিয়ে ব্রক্ষপুত্র নদীর পানি প্রত্যাহার করে নেয়। উভয় পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করার জন্যই ভারতকে বাংলাদেশের ভূখন্ড ব্যবহার করতে হচ্ছে। এছাড়া পানি প্রত্যাহারের ভারতের ২য় কোন পথ নেই । কারণ দার্জিলিৎ শিলিগুড়ি করিডোর এর উচ্চতা সমুদ্র সীমানা থেকে অনেক উচ্চু হওয়ায় সেখানে ক্যানালের মাধ্যমে নদীর পানি প্রত্যাহার করা ভারতের কখনো সম্ভব নয়।

এখন ভারতের নদী সংযোগ পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করার জন্যই মূলত টিপাইমুখিতে বাঁধ দিচ্ছে। এখানে একটি বিষয় লক্ষনীয় যে, ভারতের নদী সংযোগ প্লান বাস্তবায়ন করার জন্য বাংলাদেশ ভূখন্ড ব্যবহার করা ছাড়া ২য় আর কোন পথ নেই অথচ বাংলাদেশ তার ভূখন্ড কখনো নদী সংযোগের জন্য দিবে না । যদি ভারতের এই আন্ত নদী সংযোগ প্লানের উদ্দেশ্য হয় বাংলাদেশের উপ উপর চাপ প্রয়োগ করে ভারতের দাবী আদায় করা তাহলে সে কখনো অন্তত নদী সংযোগ বাস্তবায়ন করতে যাবে না। আর যদি আন্ত নদী সংযোগই একমাত্র উদ্দেশ্য হয় তাহলে বাংলাদেশ ভূখন্ড ব্যবহার ছাড়া যেহেতু ২য় কোন পথ নাই সেহেতু বাংলাদেশ তার অস্তিত্ব রক্ষার্থে ভারতকে তার ভুখন্ড ব্যবহার করতে দিবে নাকি বিকল্প কোন পথ অবলম্বন করবে?

আপডেট চলবে-

***
ফিচার ছবি: ফারাক্কা ইস্যু: একটি ভূমিকা, ড: মোহাম্মদ ওমর ফারুক, অক্টোবর ২০০০