ক্যাটেগরিঃ ক্যাম্পাস

বিসিএস প্রিলিমিনারি পরীক্ষাকে (বিশেষ করে ২৮তম বিসিএস থেকে) বাছাইয়ের পদ্ধতি না বলে ছাঁটাইয়ের পদ্ধতি বলাই সমীচীন হবে। কারণ আগে দেখা যেত প্রিলিমিনারি পরীক্ষায় প্রায় এক লাখের মতো পরীক্ষার্থী থাকলে সেখান থেকে ৩৫-৪৫% অর্থাৎ ৩৫ থেকে ৪৫ হাজার নির্বাচন করা হতো। লিখিত পরীক্ষার পর ভাইভার জন্য ১৪-১৫ হাজার পরীক্ষার্থীকে নির্বাচন করা হতো। তাই দেখা যেত প্রিলিমিনারির তুলনায় লিখিত ও ভাইভা পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হওয়াই অধিক কঠিন ছিল। কিন্তু ২৮তম বিসিএস থেকে দেখা যাচ্ছে খাতা মূল্যায়ন সহজ ও দ্রুত করার জন্য প্রিলিমিনারি পরীক্ষায় নির্বাচন করা হচ্ছে লক্ষাধিক পরীক্ষার্থীর মধ্য থেকে মাত্র ১২-১৫ হাজার, অর্থাৎ ১০০ জনের মধ্যে প্রায় ৯০ জনই বাদ পড়ছে প্রিলিমিনারি পরীক্ষায়। ২৯তম ও ৩০তম বিসিএসেও সেই ধারাবাহিকতা অব্যাহত থাকে।

পরীক্ষায় ভালো করতে যা মনে রাখবেন :

এই সর্বোচ্চ প্রতিযোগিতামূলক ধাপে টিকে থাকার জন্য দরকার প্রিলিমিনারি পরীক্ষায় ভালো করা। এ জন্য যেসব বিষয় গুরুত্বপূর্ণ তা হলো­:

পরীক্ষার আগের রাতে
আপনার পরীক্ষা কেন্দ্রের নিকটবর্তী কোনো অবস্খানে থাকার চেষ্টা করুন। বেশি রাত্রি পর্যন্ত জাগবেন না। কোনো কারণে ঘুম না আসতে পারে সে ক্ষেত্রে কোনো বিষয় চোখ বন্ধ করে পড়তে থাকুন দেখবেন ঘুম চলে আসবে। আর অবশ্যই সম্ভব হলে এ সময় নিজের মোবাইল বন্ধ রাখুন। কারণ প্রিলিমিনারি পরীক্ষার আগের রাত অনেকটাই গুজবের রাতে পরিণত হয়। এ ক্ষেত্রে বন্ধুদের ফোন পেতে পারেন। কিন্তু প্রশ্নপত্র বা সাজেশনের কোনো প্রকার গুজবে কান দেবেন না। তা না হলে এটি আপনার জন্য হতে পারে নির্ঘুম একটি রাত। ফলে সারা রাত না ঘুমানোর ফলে পরীক্ষা হলে আপনার জন্য ডেকে আনতে পাড়ে অপ্রত্যাশিত বিপর্যয়।

পরীক্ষা হলের এক ঘন্টা
২৭ মে পরীক্ষা হলের এক ঘন্টা সময়েই নির্ধারিত হবে আপনার সফলতা কিংবা ব্যর্থতা। এ ক্ষেত্রে যথাসময়ে প্রবেশপত্রসহ পরীক্ষা হলে আসন গ্রহণ করবেন। আগে থেকেই একটা পরিকল্পনা করে যাওয়া ভালো। কারণ ভালো প্রস্তুতি থাকা সত্ত্বেও অনেককেই দেখা যায় পরীক্ষার পরে আফসোস করতে। কিন্তু ততক্ষণে কোনো লাভ নেই। যা হওয়ার তা হয়ে গেছে। মনে রাখবেন প্রিলিমিনারি পরীক্ষার উত্তর নতুন নিয়মে মূল্যায়ন করা হচ্ছে। একটা ভুল উত্তরের জন্য ১২ নম্বর বিয়োগ করা হবে। সন্দেহ নিয়ে কোনো প্রশ্নের উত্তর করবেন না। কারণ এ ক্ষেত্রে আপনার ভুল হওয়ার আশঙ্কাই ৭৫%। আর একটা প্রশ্ন ভুল হলে আপনার স্কোর থেকে মাইনাস হবে ০.৫। কোনো প্রশ্নের উত্তরের ব্যাপারে সন্দিহান হলে তা বাদ রাখুন, অন্যথায় তা নিয়ে চিন্তা করতে গেলে দেখবেন আপনার মূল্যবান কয়েকটি মিনিট পার হয়ে গেছে তা বুঝতেও পারবেন না। কারণ কোনো প্রশ্ন নিয়ে চিন্তা করে দেখা গেল প্রায় কয়েক মিনিট সময় পার করেছেন তখন ভাববেন যেহেতু প্রশ্নটার পেছনে কিছুটা সময় পার করেছি, তাই আবার চেষ্টা করে দেখি পারি কি না? আর এ ধরনের সন্দেহযুক্ত প্রশ্নের ক্ষেত্রেই অধিক সময় নষ্ট হয়ে যায়। ধরুন ৬০টি প্রশ্নের উত্তরের ব্যাপারে আপনি নিশ্চিত। তাহলে কেবল জানা প্রশ্নগুলোর উত্তর করুন। কিন্তু সন্দেহযুক্ত অবশিষ্ট ৪০টিরও যদি উত্তর করেন তাহলে ১০ সঠিক হতে পারে অবশিষ্ট ৩০টি ভুল হবে। তাহলে আপনার যোগ হবে ১০টি সঠিক উত্তরের জন্য ১০ নম্বর, কিন্তু বিয়োগ হবে ৩০টি ভুল উত্তরের জন্য ১৫ নম্বর। সন্দেহযুক্ত প্রশ্নগুলো উত্তর না করলে যা পেতেন কিন্তু উত্তর করলে তার চেয়ে ৫ নম্বর কম পাবেন। ৫ নম্বর কম পাওয়ার অর্থ কত হাজার পরীক্ষার্থীর পেছনে পড়া তা নির্ণয় করা কঠিন।

শেষ পরামর্শ
গণিত অংশের উত্তর সব শেষে করুন। ধরুন গণিতে ২০টি প্রশ্ন এসেছে। তাহলে অবশিষ্ট বাংলা, ইংরেজি, সাধারণ জ্ঞান ও বিজ্ঞানের ৮০টির মধ্যে যেগুলো নিশ্চিত পারেন সেগুলোর উত্তর করুন। উত্তর সম্পর্কে নিশ্চিত না হলে সময় নষ্ট না করে পরের প্রশ্নের উত্তর করবেন। এ ক্ষেত্রে সন্দেহযুক্ত প্রশ্নগুলো নিয়ে চিন্তা না করলে বাকি সব প্রশ্নের উত্তর করতে আপনার বড়জোর ২০ মিনিট লাগতে পারে। এবার গণিত অংশের উত্তর করুন। এরপর হাতে থাকা অবশিষ্ট সময়ে ঠাণ্ডা মাথায় উত্তর না করা প্রশ্নগুলোতে চোখ বুলিয়ে নিন। এ ক্ষেত্রে কোনো প্রশ্নের উত্তর নিশ্চিত মনে হলেই কেবল সেটি পূরণ করুন।