ক্যাটেগরিঃ নাগরিক সমস্যা

 

১২ জুন দশম বিশ্ব শিশুশ্রম প্রতিরোধ দিবস। বিশ্বের অন্যান্য দেশের মতো বাংলাদেশেও দিবসটি পালিত হয়েছে। এবারের প্রতিপাদ্য ‘২০১৬ সালের মধ্যে ঝুঁকিপূর্ণ শিশুশ্রম নিরসন’। কিন্তু শিশুশ্রম প্রতিরোধ না হয়ে অমানবিক নির্যাতনই যেন অসহায় শিশুদের নিয়তি- এই নিষ্ঠুরতা ও অমানবিকতার অবসান কবে? ওরা তো আমাদেরই কারো ভাই-বোন।

বর্তমানে আমাদের আগামী গড়া অসংখ্য শিশুশ্রমিককে মৃত্যুর দিকে ঠেলে দেয়া হচ্ছে বিড়ি, ম্যাচ, প্লাস্টিক, গ্লাস, চামড়াসহ বিভিন্ন কারখানায় রসায়নিক বিষক্রিয়ার মাধ্যমে। এই শিশু শ্রমিকেরা সারা দিন হাড়ভাঙ্গা পরিশ্রম করে সপ্তাহান্তে পায় ২৫০ থেকে ৩০০ টাকা। কারখানার মালিকরা এই সব শিশু শ্রমিক বানায় কারন এদেরকে নামমাত্র পারিশ্রমিক দিলেই চলে। Skillness এর দোহাই দিয়ে তাদের উপর চালান হয় শোষণ আর অবিচারের যাতাকল।

বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর জাতীয় শিশুশ্রম জরিপ ২০০৩-এর তথ্যানুসারে বাংলাদেশে কর্মজীবী শিশুর সংখ্যা প্রায় ৭৪ লাখ। তাদের মধ্যে ১৩ লাখ শিশুই নানা ঝুঁকিপূর্ণ কাজে নিয়োজিত। দেশের শিশু-শ্রমিকদের পরিসংখ্যান আর এমন চিত্রের মধ্য দিয়েই সরকারি ও বেসরকারি উদ্যোগে পালিত হবে বিশ্ব শিশুশ্রম প্রতিরোধ দিবস।

“বাংলাদেশ সরকারের জাতীয় শিশু নীতি অনুযায়ী ১৪ বছরের কম বয়সী শিশুদের সার্বক্ষণিক শিশুশ্রমে নিয়োগ করা ও রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে শিশুদের ব্যবহার নিষিদ্ধ। ১৮ বছরের নিচে প্রত্যেককে শিশু হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। পাশাপাশি ১৪ বছরের নিচে কাউকে কোনও সার্বক্ষণিক কাজে নিয়োগ না করার বিধান করা হয়েছে।”

রাজধানীর মিরপুর,আমিন বাজার,সাভার,জয়দেবপুর, টঙ্গী,সমগ্র পুরনো ঢাকা,বুড়িগঙ্গার ওপাড়ের কালীগঞ্জ,জিঞ্জিরা,মোহাম্মদপুর,বসিলা,এবং বুড়িগঙ্গা তীরবর্তী কয়েক হাজার কল-কারখানা,(ছোট,মাঝারি) রয়েছে যেগুলোতে শিশু শ্রমিকের সংখ্যাই বেশি,এসব কারখানার মধ্যে রয়েছে পুরনো ব্যাটারি ভাঙ্গা,সীসা গলানো,সল্যুশন বা আঠা তৈরির কারখানা, আতসবাজি বানানোর কারখানা, লেদ মেশিন, জুতার কারখানা, সাবান ও কস্টিক সোডা প্রস্তুতের কারখানা, প্লাস্টিক গলানো, প্লাস্টিক এর কারখানা, চুড়ি,কসমেটিক, বিড়ির কারখানা, গাড়ির গ্যারেজ, ওয়েল্ডিং এর কারখানা, ফার্নিচারের কারখানা, রং ,পুটী, ভেজাল রং, কৃত্রিম গহনা, ইট/পাথর ভাঙ্গা, ইটের ভাটায় কাজ করা সহ নানান অমানবিক এবং ঝুঁকি পূর্ণ কাজে সর্বত্র শিশু শ্রমিক রয়েছে।

১৯৭৪ এর বাসন্তিরা এমন ছিল, আর আজও আমরা এমনিই আছি, আমাদের পরিবর্তন আদৌ কি সম্ভব? তাই দশম বিশ্ব শিশুশ্রম প্রতিরোধ দিবস উপলক্ষে শিশুশ্রম একেবারে বন্ধ করতে না পারলেও আসুন অন্তত শিশুদের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ শ্রমের বিপক্ষে দাঁড়াই।

ছাগল অ-ছাগল নেই, কুকুর অ-কুকুর নেই, কিন্তু মানুষ অমানুষ আছে। কথায় বলে লোকটি প্রিন্সিপ্যাল হয়েছে কিন্তু মানুষ হয়নি। আর বর্তমানে পৃথিবীতে অশিক্ষিত অমানুষের চেয়ে তথাকথিত শিক্ষিত অমানুষের সংখ্যা অনেক বেশি। আমরা দুর্নীতিতে যতবার চ্যাম্পিয়ন কিংবা দূর্নীতিতে প্রথম সারির দেশ হতে পেরেছি তার প্রায় শতভাগ কৃতিত্ব এদেশের তথাকথিত শিক্ষিত শ্রেণীর।এখানে কোন অক্ষর জ্ঞানহীন কৃষক কিংবা খেটে খাওয়া মানুষের দূর্ণীতি ছিল বলে মনে হয় না। একজন অশিক্ষিত লোক খুব খারাপ হলে বড়জোড় ছিনতাইকারী কিংবা ছিঁচকে চোর হতে পারে কিন্তু বিশ্ব সন্ত্রাসী বুশ, ওবামা, দাউদ ইব্রাহিম, ………হতে পারে না। আর শিশু অধিকার হরণ ও নির্যাতনের জন্য দায়ী তথাকথিত শিক্ষিত অমানুষেরা। এক্ষেত্রে শিশুদের বাঁচাতে পারে কেবল সত্যিকার বিবেকবান শিক্ষিত মানুষেরা।

তাই দশম বিশ্ব শিশুশ্রম প্রতিরোধ দিবস উপলক্ষে শিশুশ্রম একেবারে বন্ধ করতে না পারলেও আসুন অন্তত শিশুদের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ শ্রমের বিপক্ষে দাঁড়াই।

সবাই মিলে আমরা এরকম একটা পদক্ষেপ নিতে পারি কিনা যে সুবিধা বঞ্চিত শিশুদেরকে তাদের উপযোগী কর্মমুখী শিক্ষা দিব পাশাপাশি যে কারনে তারা শ্রমিক হয় তাদের সেই অভাবও পূরণ করব।
একটা শক্তিশালী মনিটরিং সেল থাকা দরকার যারা নিবিড় ভাবে শিশু শ্রমিকদের অধিকার মনিটর করবে।” এটি হতে পারে খুবই মহতী ও প্রয়োজনীয় চিন্তা। এ বিষয়ে ব্যাপক চিন্তা ও সম্ভাব্যতা যাচাই করা যেতে পারে। সম্মিলিতভাবে অত্যন্ত মানবিক এ বিষয়টি নিয়ে অগ্রসর হওয়ার জন্য ব্লগে আলোচনা করা যেতে পারে। সেক্ষেত্রে বিষয়টি নিয়ে লিখিত যে কোন ব্লগারের একটি পোস্টকে কয়েকদিনের জন্য স্টিকি করা যেতে পারে। যাতে করে সম্মানিত ব্লগার অনেক মূল্যবান পরামর্শের পাশাপাশি বিভিন্নভাবে তাদের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করা যাবে। ব্লগার বন্ধুদের মাধ্যমে ক্ষুদ্র পরিসরে বিষয়টি শুরু করলেও এক সময় তা ব্যাপক আকার ধারণ করতে পারে।

অভিজাত শ্রেণীর এক বেলার আহারের পেছনে খরচ আমাদের সাধারণ মানুষের মত কয়েক টাকা নয়, তা কয়েক শত কিংবা ক্ষেত্র বিশেষে কয়েক হাজার! আর পার্টি হলে তো কথাই নেই। বর্তমানে কোন কোন পরিবারের প্রতি বেলার খাবার সরবরাহ করে অনেক তথাকথিত দামী ও অভিজাত রেস্টুরেন্ট। আর অভিজাত শ্রেণীর খাবার গ্রহণের ক্ষেত্রে প্লেটে খাবার রেখে দেয়া বা নষ্ট করা যেন এখন অনেকটাই ফ্যাশন বা আভিজাত্যের প্রতীকে পরিনত হয়েছে। এদের মাত্র ১ জনের ১ বেলার নষ্ট করা খাবারের টাকা দিয়ে অসংখ্য অসহায় শিশুর আহারের ব্যবস্থা করা যেত। আর মহানবী ( স. ) এর সুন্নাত হচ্ছে খাবার নষ্ট না করা। এমনি আহার গ্রহণের পর আমাদের প্রিয় রাসূলুল্লাহ (স. ) এর প্লেট আলাদা করা যেত। অসহায় তথা ক্ষুধার্ত শিশুদের কথা চিন্তা করে আমরা যদি শুধু খাবারের অপচয় না করে টাকাটাও ওদের জন্য জাতীয় ভাবে বরাদ্দ করার মানসিকতা অর্জন করতে পারি তাহলে এসব শিশুদের খাদ্যসহ অন্যান্য মৌলিক চাহিদা পূরণ করা সম্ভব হবে বলে আমার বিশ্বাস।

একটি মানবিক আবেদন: কেউ খাবার নষ্ট করবেন না-

অভিজাত শ্রেণীর এক বেলার আহারের পেছনে খরচ আমাদের সাধারণ মানুষের মত কয়েক টাকা নয়, তা কয়েক শত কিংবা ক্ষেত্র বিশেষে কয়েক হাজার! আর পার্টি হলে তো কথাই নেই। বর্তমানে কোন কোন পরিবারের প্রতি বেলার খাবার সরবরাহ করে অনেক তথাকথিত দামী ও অভিজাত রেস্টুরেন্ট। আর অভিজাত শ্রেণীর খাবার গ্রহণের ক্ষেত্রে প্লেটে খাবার রেখে দেয়া বা নষ্ট করা যেন এখন অনেকটাই ফ্যাশন বা আভিজাত্যের প্রতীকে পরিনত হয়েছে। এদের মাত্র ১ জনের ১ বেলার নষ্ট করা খাবারের টাকা দিয়ে অসংখ্য অসহায় শিশুর আহারের ব্যবস্থা করা যেত। আর মহানবী ( স. ) এর সুন্নাত হচ্ছে খাবার নষ্ট না করা। এমনি আহার গ্রহণের পর আমাদের প্রিয় রসূলুল্লাহ (স. ) এর প্লেট আলাদা করা যেত। অসহায় তথা ক্ষুধার্ত শিশুদের কথা চিন্তা করে আমরা যদি শুধু খাবারের অপচয় না করে টাকাটাও ওদের জন্য জাতীয় ভাবে বরাদ্দ করার মানসিকতা অর্জন করতে পারি তাহলে এসব শিশুদের খাদ্যসহ অন্যান্য মৌলিক চাহিদা পূরণ করা সম্ভব হবে বলে আমার বিশ্বাস।

কোন জাগতিক লাভ তথা প্রতিদান বিহীন একটি কাজের মাধ্যমে অসহায়-নিষ্পাপ আমাদেরই কোন অবহেলিত ছোট্ট ভাই কিংবা বোনের মানবেতর জীবনকে একটু সুন্দরভাবে গড়ে তোলার ব্যাপারে সম্মানিত ব্লগার বন্ধুদের মূল্যবান পরামর্শ প্রত্যাশা করছি।

***
বি:দ্র: সম্মানিত ব্লগপোষক আমি ছবি সংযুক্ত করতে পারছি না, তাই প্রথম আলোতে প্রকাশিত আমার লেখাটির লিঙ্ক থেকে আপনি যদি ছবিগুলো সংযুক্ত করে দেন তাহলে কৃতার্থ হব। জাতীয় সচেতনতা তৈরির লক্ষ্যে বিষয়টির ব্যাপক প্রচারণায় আপনার সহযোগিতা প্রত্যাশা করছি।