ক্যাটেগরিঃ নাগরিক আলাপ

ইদানিং প্রায়ই খালেদা জিয়াকে দেখা যায় দর্শক সারিতে বসে বিশেষজ্ঞদের কথা শুনতে। ক্ষমতার বাইরে থেকে বাস্তবতাকে যতটা উপলব্ধি করা যায় ক্ষমতায় কেন্দ্রে থেকে চাটুকার বেষ্টিত অবস্থায় তার উল্টো চিত্রই বেশি চোখে পড়ে।

খালেদা জিয়া কি সোনিয়া গান্ধীর পথে হাঁটতে পারবেন? বিএনপিতে মনমোহন সিং আছেন কি? ক্ষমতা পেলে দর্শক সারিতে থাকতে পারবেন কি? যদি পারেন তাহলে রাজনীতিতে একটি গুণগত পরিবর্তনের মাধ্যমে সত্যিকার জনকল্যাণের পাশাপাশি যুগান্তকারী ভালো একটি ইতিহাসের রূপকার হয়ে থাকবেন।

মাননীয় প্রধানমন্ত্রীকেও বলব সুযোগটি আপনিই আগে নিতে পারেন। রাজনীতি কিংবা দল ছাড়তে বলছি না। শুধু ক্ষমতার বাইরে এসে জনগনের কাতারে বসে পরাশক্তির ভয় দূর করে তাদের এজেন্টদের সরিয়ে দলের মধ্যেকার সত্যিকার রাজনীতিবিদদের দিয়ে দেশ চালান। তাহলে জনগণের পালস বুঝতে পারবেন। আনু মুহাম্মদের মত গুণী শিক্ষাবিদের ব্যাপারে আপনার মন্ত্রীর মন্তব্যের পরেও কি বুঝতে পারছেন না কাদেরকে নিয়ে দেশ চালাচ্ছেন? আনিসুর রহমান স্যার যিনি আনু মুহাম্মদ নামেই অধিক পরিচিত (আমার সৌভাগ্য হয়েছিল স্যারের ৭ বছরের ছাত্র হওয়ার: ৫ বছরের অনার্স মাস্টার্স ৭ লাগায়)। মাননীয় প্রধানমন্ত্রীকে বলব জনগণ থেকে আপনাকে চাটুকাররা কত বেশি দূরে নিয়ে গিয়েছে তা বুঝার জন্য দেশের স্বার্থে অত্যন্ত বিরল ও গুণী একজন অধ্যাপকের ব্যাপারে আপনার মন্ত্রী অশোভণ মন্তব্য থেকেই।

পরাশক্তির আস্থা অর্জন নয়, জনগণের আস্থা অর্জনের চেষ্টা করুন। আর ভরসাও পরাশক্তির ওপর নয়, মহান আল্লাহর ওপর রাখুন।

পরিশেষে বলব মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা কিংবা মাননীয় বিরোধীদলীয় নেতা খালেদা জিয়া অথবা যেই হোক না কেন আমরা চাই পরা শক্তির অস্বাভাবিক প্রভাব ও চাটুকার-দুর্ণীতিবাজদের কবল থেকে মুক্ত হয়ে আমাদের বিপুল সম্ভাবনাময় প্রিয় দেশটি সফলভাবে এগিয়ে যাক। মনে রাখতে হবে কোন একক দলের প্রতি দূর্বলতা নয় ক্ষমতাসীন দল তথা সরকার সফল হওয়ার মাধ্যমেই দেশ এগিয়ে যেতে পারে। এক্ষেত্রে ঐকমত্যের ভিত্তিতে দেশেকে এগিয়ে নেওয়ার জন্য ক্ষমতাসীনদের ভূমিকাই অধিক।