ক্যাটেগরিঃ গণমাধ্যম

 

“সম্প্রচার আইন, ২০১১” এর চৌদ্দটি ধারা-

১. কোনো টেলিভিশন চ্যানেল বা সম্প্রচার মাধ্যম সরাসরি কোনো রাজনৈতিক দলের পক্ষে প্রচার চালাতে পারবে না।
২. বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়ায় এমন কোনো টক শো প্রচার করা যাবে না।
৩. জাতীয় আদর্শ বা জাতীয় নেতাদের সমালোচনা করা যাবে না।
৪. কোনো অনুষ্ঠানে জাতির জনকের সমালোচনা করা যাবে না।
৫. কোনো অনুষ্ঠানে কোনো ব্যক্তির সমালোচনা করা যাবে না।
৬. জাতীয় আদর্শ ও লক্ষ্যের সমালোচনা করা যাবে না।
৭. সামরিক বা সরকারী কোনো তথ্য ফাস করা যাবে না।
৮. আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি ঘটায়, এমন কোনো তথ্য প্রচার করা যাবে না।
৯. বন্ধুপ্রতিম কোনো রাষ্ট্রের সমালোচনা করা যাবে না।
১০. নারী পাচার, পতিতাবৃত্তি, ধর্ষণ ইত্যাদি বিষয়ে অনুষ্ঠান বা ইত্যাদি বিষয়ে অনুসন্ধানী প্রতিবেদন প্রচার করা যাবে না।
১১. চুমুর দৃশ্য প্রচার করা যাবে না।
১২. বিদ্রোহ বা প্রতিবাদের কোনো খবর বা অনুষ্ঠান প্রচার করা যাবে না।
১৩. অপরাধীদের কর্মকাণ্ড নিয়ে কোনো অনুষ্ঠান প্রচার করা যাবে না।
১৪. রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রীর ভাষণ, সরকারী প্রেস নোটস, বিজ্ঞপ্তি এবং জাতীয় গুরুত্বপূর্ণ অনুষ্ঠানগুলো প্রচার করতে বেসরকারী সম্প্রচার মাধ্যমগুলো বাধ্য থাকবে।

ফেসবুকে স্ট্যাটাসও দেওয়া যাবেনা- এ কোন সময়ে আমরা? কারাগারে বন্দী আজ মত প্রকাশের অধিকার

ফেসবুকে স্ট্যাটাস লিখতে সতর্ক হোন- কারন ছাত্রলীগ হামলা করতে পারে- হতে পারে তদন্ত কমিটি

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক মো. রুহুল আমিন খন্দকার প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার মৃত্যু কামনা করে সামাজিক যোগাযোগের জনপ্রিয় মাধ্যম ফেইসবুকে স্ট্যাটাস দেয়ার ঘটনায় ক্যাম্পাসে তোলপাড় শুরু হয়। ওই শিক্ষকের স্থায়ী বহিষ্কার দাবিতে ক্যাম্পাসে বিক্ষোভ মিছিল করে ছাত্রলীগ এবং লাগাতার আন্দোলনের ঘোষণা দেয় তারা। ঘটনা তদন্তে ৫ সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন।

বর্তমান বিশ্বে সামাজিক যোগাযোগের পাশাপাশি মতামত প্রকাশ, জনমত গঠন ও গনতান্ত্রিক আন্দোলনের ক্ষেত্রেও ফেসবুকের ভূমিকা অনুস্বীকার্য। তার প্রমাণ সাম্প্রতিক মিশর ও মধ্যপ্রাচ্যের আন্দোলন।

যতই দেয়ালে পিঠ ঠেকে যাক না কেন – মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের সম্মানিত শিক্ষকের স্ট্যাটাসটি এরকম না হলেই শোভন হত। তবে অশোভন বক্তব্য তো আমাদের জাতীয় দূর্বলতায় পরিনত হয়েছে।

তবে একজন সরকারের বিরুদ্ধে কিছু বললেই তার বিরুদ্ধে লেগে যেতে হব এমন করাটাও ঠিক না।

উল্লেখ্য এর আগে ডুয়েটের এক ছাত্রকে তার ফেসবুকের মন্তব্যের কারনে বহিস্কার করে কর্তৃপক্ষ। এটি কর্তৃপক্ষের অতি উৎসাহ। এরকম অতি উৎসাহী চাটুকাররাই বঙ্গবন্ধুর সোনার বাংলঅদেশ গড়ার বাঁধা হয়েছিল।

যারা মিডিয়ার সাথে জড়িত তারা ভালোভাবেই অবগত আছেন বর্তমান সরকারের সময়ে মিডিয়ায় উপর নিয়ন্ত্রন ও বিধিনিষেধ জরুরি সরকারের সময়ের চেয়েও অনেক ভয়াবহ।

শীর্ষ কাগজ ও শীর্ষ নিউজ ষড়যন্ত্র মাধ্যমে বন্ধ করে দেয় দুর্নীতিবাজরা। এরকম আশঙ্ক্ষা প্রকাশ করছেন মিডিয়া সংশ্লিষ্টরা। সরকারের এরকম সিদ্ধান্ত আত্মঘাতী। তাছাড়া শীর্ষ নিউজের ভূমিকা ও মান পাঠকনন্দিত বলেই আমার বিশ্বাস।

বিগত ২০১০ মত এ বছরও সরকারের সাংবাদিক নির্যাতন ও মিডিয়া নিয়ন্ত্রণের বিষয়টি অত্যন্ত দু:খজনক।

২০১০ সালের একটি বড় সময় কেটেছে সংবাদপত্র নিয়ন্ত্রণ ও সাংবাদিক নির্যাতনের অসংখ্য ঘটনা নিয়ে। যমুনা টেভিশিন, চ্যানেল ওয়ান বন্ধ, ফেসবুক বন্ধ ঘোষণা, আমারদেশ পত্রিকার প্রকাশনা বাতিল এবং এর ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক প্রকৌশলী মাহমুদুর রহমানকে গ্রেফতার করে রিমাণ্ডে নির্যতানের ঘটনা দেশবাসী উৎকণ্ঠার মধ্যে পর্যবেক্ষণ করে।

এতে প্রায় সহস্রাধিক মিডিয়া কর্মী বেকারত্বের ফলে চরম মানবেতর পরিস্থিতির সম্মুখীন হয়। ২০১০ সালেই পেশাগত দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে ক্ষমতাসীনদের হাতে নির্যাতনের শিকার হন ২০৬ জন সাংবাদিক। নিহত হন ৪ জন । (সাপ্তাহিক ২০০০-এর সিলেট প্রতিনিধি ফতেহ ওসমানি ২৯ এপ্রিল মারা যান এবং এটিএন বাংলার ক্যামেরাম্যান শরিফুল ইসলাম মিঠুকে দুবৃত্তরা শ্বাসরুদ্ধ করে হত্যা করে। তাছাড়া ১২ আগস্ট মাইটিভির খুলনা ব্যুরো প্রধান এম এ হাসানের লাশ গলিত অবস্থায় উদ্ধার করা হয়। ) এছাড়াও বিভিন্ন চ্যানেলের টকশো’র ওপর সরকারি নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করা হয়েছে। বন্ধ করা হয়েছে কয়েকটি জনপ্রিয় টকশো’র সম্প্রচার।

জরুরি সরকারের সময়ে যেসব লেখকদের লেখা সেন্সর ব্যতিরেকে প্রকাশ করা যেত সেটা এখন অসম্ভব। সামান্য সরকার বিরোধী রিপোর্টের জন্য মেরে ফেলার ও মিডিয়া বন্ধ করে দেওয়ার হুমকি শুনতে হয়। বর্তমানে অধিকাংশআ মিডিয়ায়ই সরকারের চাটুকারের ভূমিকায় চলছে। বাকীরা চলছে অনেকটাই সরকারের সাথে বুঝাপড়া করে।

পিআইডিতে ভিন্ন মতের সংবাদ মাধ্যমের সাংবাদিকদের অ্যাক্রিডিটেশন কার্ড কমিয়ে দেয়া হয়েছে। অনেকের কার্ড নবায়ন করা হচ্ছেনা। কার্ড নিতে গিয়ে দুর্ব্যবহারে মুখে পড়তে হচ্ছে। প্রধানমন্ত্রীর অনুষ্ঠানে ভিন্ন মতের সংবাদ মাধ্যমের প্রবেশাধিকার নেই। টেলিভিশন চ্যানেলগুলোর রাজনৈতিক ‘টক শো’ বন্ধ করে দেয়া হয়েছে। টেলিভিশন চ্যানেলগুলোকে দু’টার বিটিভির খবর প্রচার বাধ্যতামূলক করা হয়েছে, সরকারের ইচ্ছেমতো সরকারি অনুষ্ঠান লাইভ সম্প্রচার করতে বাধ্য করা হয়। এসব তো স্বাধীন সংবাদ মাধ্যমের কণ্ঠরোধের সামিল নয় কি?

আর তা না হলে অবস্থা আমার দেশের মত! সরকারের ভয়ের পত্রিকাটির প্রথম থেকে শেষ পৃষ্ঠা পর্যন্ত থাকে বিজ্ঞাপনশন্য।

অজানা কারনে গ্রেফতার করা হলো প্রবীন সম্পাদক আবুল আসাদকে

উল্লেখ্য, ৩ নভেম্বর ঢাবির এফ রহমান হলে সংবাদ সংগ্রহ করতে গেলে নিউ নেশন প্রতিবেদক কদরুদ্দিন শিশিরকে নির্মমভাবে পিটিয়ে আহত করে ছাত্রলীগ ক্যাডাররা।

৫ নভেম্বর বাংলাদেশ রেলওয়ে অফিস কাবে মন্ত্রীর সামনেই শ্রমিক লীগ ক্যাডারদের হামলায় আহত হন ১০ সাংবাদিক।

৬ নভেম্বর বিয়ানীবাজারে ইত্তেফাক প্রতিনিধি আব্দুল খালেককে মারধর করে ছাত্রলীগ ক্যাডাররা।

৭ নভেম্বর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের এক ছাত্রীকে টিজিংয়ের প্রতিবাদ করায় ৬ সাংবাদিককে পিটিয়ে আহত করে ঢাবি ছাত্রলীগ ক্যাডাররা।

১৪ নভেম্বর চাপাইনবাবগঞ্জে হরতাল চালাকালে ক্ষমাতাসীনদের হামলা আহত ৩ সাংবাদিক।

২৮ নভেম্বর বরিশালে বিএনপির সাংবাদিক সম্মেলনে পুলিশ লাঠিচার্জ করলে আহত হয় বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমের ২২ সাংবাদিক।

৩০ নভেম্বর হরতাল চলাকালে ঢাকায় শীর্ষ নিউজের স্টাফ রিপোটার হাসনাইন ইমতিয়াজ ও সমকালের স্টাফ রির্পোটার রাজিব আহম্মেদকে নির্মমভাবে প্রহার করে পুলিশ।

২২ ডিসেম্বর প্রতিপক্ষের হামলায় মুলাদী প্রেসকাবের সভাপতি মনির হোসেন নিহত হয়। একই দিন জাবির এমএইচ হলের ছাত্রলীগ ক্যাডারদের হাতে লাঞ্চিত হয় জাবির সাংবাদিক সমিতির সভাপতি ও সেক্রেটারিসহ চারজন।

১৬ ডিসেম্বর জবিতে ছাত্রলীগ ক্যাডারদের হাতে আহত হয় এক ফটো সাংবাদিক।

২১ ডিসেম্বর জবির ছাত্রলীগের দু’পক্ষের সংঘর্ষের সময় লাঞ্চিত হয় ১০ সাংবাদিক।

– জানুয়ারি মাসে পেশাগত দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে ক্ষমতাসীন দলের সদস্য ও পুলিশের হাতে নির্যাতনের শিকার হন ১৯ জন সাংবাদিক। এছাড়া নিহত হন ১ জন সাংবাদিক।

২৮ জানুয়ারি নয়া পল্টনে দৈনিক জনতার সিনিয়র সহ-সম্পাদক ফরহাদ খাঁ ও তার স্ত্রী রহিমা খাতুন নির্মমভাবে গলা কেটে হত্যা করে দুর্বৃত্তরা।

– ফেব্রুয়ারি মাসে পেশাগত দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে ক্ষমতাসীন দলের সদস্য ও পুলিশের হাতে নির্যাতনের শিকার হন ৬ জন সাংবাদিক।

– এপ্রিল মাসে পেশাগত দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে ক্ষমতাসীন দলের সদস্য ও পুলিশের হাতে নির্যাতনের শিকার হন ১০ জন সাংবাদিক। এছাড়া উত্তরায় সন্ত্রাসীদের হাতে নির্মমভাবে খুন হন বজ্র কন্ঠের সম্পাদক আলতাব হোসেন।

ব্লগগুলো সরকার নিয়ন্ত্রনে নিচ্ছেন।
বড় ব্লগটি সম্প্রতিক মডারেশন বলে দেয় অনেক কিছু।

ফ্যালানি ইস্যু নিয়ে বাংলা ব্লগগুলোর ভুমিকাও ইন্ডিয়ার কিছু ফোরামে আলোচনার ঝড় তুলেছিলো।

বাকস্বাধীনতার অবশিষ্ট মাধ্যম ব্লগগুলোর উপর নিয়ন্ত্রন আসার আগেই মৌলিক অধিকারসমূহের ব্যাপারে আমাদেরকে জনমত তৈরি ও জনসচেতনা বাড়াতে হবে।

বাকস্বাধীনতার অবশিষ্ট মাধ্যম তথা ব্লগগুলোর উপর নিয়ন্ত্রন আসার আগেই মৌলিক অধিকারসমূহের ব্যাপারে আমাদের ভুমিকা কি হতে পারে? ব্লগ বন্ধ বা নিয়ন্ত্রিত হলে জীবনটাই জেলখানা হয়ে যাবে।

ব্লগসমূহ নেতিবাচক নেশার বিপরীতে একটি ইতিবাচক প্লাটফর্ম। দেশে বর্তমানে প্রায় ৯ কোটি মোবাইল ও ২ কোটিরও বেশি ইন্টারনেট ব্যবহারকারী। অদূর ভবিষ্যতে নেটের খরচ কমে যাওয়ার কারনে এবং গতি বেড়ে যাওয়ার কারনে ইন্টারনেট ব্যবহারকারীর সংখ্যা ৬ কোটি ছাড়িয়ে যাবে(২ বছরের মধ্যে)। সেক্ষেত্রে ব্লগগুলো পাবে নতুন মাত্রা। তরুণদের ফেসবুকে বিভিন্ন কারনে সীমাহীন সময় দেওয়া কিংবা নেতিবাচক সাইটগুলো থেকে গঠনমূলক সাইটে বা কাজে ব্যস্ত রাখা না গেলে ডিজিটালের প্লাবন জাতির উন্নতির পরিবর্তে সর্বনাশ ঢেকে আনতে পারে। কারাগারে বন্দী আজ মত প্রকাশের অধিকার- কেবল ৭২-৭৫ এর চরম অগণতান্ত্রিক শাসনের সাথেই তুলনা করা যায় বর্তমানে মিডিয়ার উপর নিয়ন্ত্রন ও বিধিনিষেধের ভয়াবহতাকে-

কিন্তু সুবিধাবাদী ও তোষামোদকারী হলুদ সাংবাদিকতা সব আমলেই নিরাপদ।