ক্যাটেগরিঃ রাজনীতি

 

সারাদেশেই মঙ্গা- উত্তরে মহামন্দা: এ ছবি যুদ্ধ বিধ্বস্ত দেশের নয়, মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় বিধ্বস্ত বাংলাদেশের!

অমানবিক নির্যাতনই যেন অসহায় শিশুদের নিয়তি- এই নিষ্ঠুরতা ও অমানবিকতার অবসান কবে? ওরা তো আমাদেরই কারো ভাই-বোন।

ছোট্ট একটি শিশুর বিরুদ্ধে অভিযোগ—সে চুরি করেছে। কিন্তু কী চুরি করেছে সেটা বললো না। শিশুটিকে ধরেই কিল, ঘুষি আর মুহুর্মুহু লাথি দিতে থাকে এক যুবক। শত শত লোকের সামনে বুটজুতা দিয়ে তার মাথা চেপে ধরে পদদলিত করে। এরপরই আবার শিশুটির হাতে, পেটে ও শরীরের বিভিন্ন স্থানে বুটজুতা দিয়ে পদদলিত করতে থাকে। অসহায় শিশুটি হাতজোড় করে, পায়ে ধরে ক্ষমাভিক্ষা করেও নিস্তার পায়নি। জিন্সপ্যান্ট আর গেঞ্জিপরা এই যুবকটি যখন শিশুটির ওপর বর্বর নির্যাতন চালাতে থাকে—কেউ তার সহযোগিতায় এগিয়ে আসেনি। দু-একজন শিশুটির পক্ষে কথা বলতে চাইলে তাদেরও চোরের সহযোগী বলে তেড়ে আসে ওই যুবক। পরে শত শত লোকের সামনেই শিশুটিকে নিয়ে চলে যায়। যদি ক্ষুধার তাড়নায় শিশুটি চুরি করেও থাকে, তারপরও শত শত লোকের সামনে এভাবে তার ওপর নির্যাতন চালানো হলো, পদদলিত করে হাত-পা ভেঙে দেয়া হলো—কেউ প্রতিবাদ করল না। এটা সত্যিই দুঃখজনক। গতকাল খোদ রাজধানী ঢাকার পুরানা পল্টন চৌরাস্তার পাশে বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টির অফিসের সামনে ছোট্ট শিশুটির ওপর বর্বর নির্যাতনের ছবিগুলো ক্যামেরাবন্দি করেন আমার দেশ-এর ফটোসাংবাদিক মীর আহাম্মদ মীরু

৭৪ নয়, ২০১১: সোমালিয়া নয়, বাংলাদেশ: প্রধানমন্ত্রী দেশের জনগন নয়, আ.লীগ এখন দিনে ৪ বেলা খায়।

কৃষিমন্ত্রী মতিয়া চৌধুরী বলেছেন, অতি দারিদ্র্য নিরসনে কৃষি ও খাদ্য নিরাপত্তা ইতিবাচক সূচকের দিকে এগিয়ে যাচ্ছে। এর ফলে পত্র-পত্রিকাগুলো এখন মঙ্গা শব্দটি লিখতে পারছে না। তিনি বলেন, বিভিন্ন কর্মসূচির মাধ্যমে সরকার পরিকল্পনামাফিক এগিয়ে চলছে।

রাজধানীর সিরডাপ মিলনায়তনে ‘অতি দারিদ্র্য নিরসনে কৃষি ও খাদ্য নিরাপত্তা খাত: জাতীয় বাজেট ২০১১-১২’ শীর্ষ এক গোলটেবিল আলোচনায় তিনি এসব কথা বলেন। দৈনিক যুগান্তর ও ব্র্যাক অ্যাডভোকেসি এ আলোচনার আয়োজন করে।

শহর অভিমুখে অভাবী মানুষের ঢল
ক্ষুধার্ত তিন শিশুসন্তানের মুখে সারা দিন একমুঠো খাবারও তুলে দিতে পারেননি দরিদ্র এক হতভাগ্য মা। ক্ষুধার জ্বালায় ডুকরে কাঁদছে একটি শিশু। এ বাজার সে বাজার ঘুরে কুড়িয়ে আনা বিক্রেতাদের ফেলে দেয়া উচ্ছিষ্ট কিছু দিয়ে সন্ধ্যায় রান্না চড়িয়ে সন্তানদের সান্ত্বনা দেয়ার চেষ্টা করছেন ‘এই খাবার হয়ে এলো’ বলে। তবুও কান্না থামে না তাদের। অভুক্ত শিশুদের কান্না দেখে পাশের দোকানি একজনকে পাউরুটি দিয়েছেন খেতে।

ডাস্টবিনে ফেলে দেয়া পচা, বিষাত্তপ্ত ও বর্জ্যমিশ্রিত খাবার দিয়ে ক্ষুধা নিবারণের চেষ্টা করছেন দারিদ্র্য আর অভাবে জর্জরিত এই মহিলা। ছবিটি পুরান ঢাকার তাঁতীবাজার থেকে তুলেন আবদুল্লাহ আল বাপ্পী
সুত্র: দৈনিক নয়া দিগন্ত- ১৭-০৯-২০১১ প্রথম পাতা

৭৪’র কম্বল চুরির মত দূর্মূল্যের এই বাজারে অসহায় মানুষদের জন্য বরাদ্দটুকু লুটেপুটে খাচ্ছে ক্ষমতাসীনরা

বলতে গেলে বর্তমানে বাজার অস্বাভাবিক। সরকারের সেদিকে নজর নেই বললেই চলে। সরকার আছে জনগণের সাথে সম্পর্কহীন পরাশক্তির স্বার্থ সংশ্লিষ্ট গুরুত্বপূর্ণ এজেন্ডা নিয়ে ব্যস্ত। অসহায় মানুষের লাইন বাড়ছেই। গরীবদের জন্য বরাদ্দকৃত জিনিসটুকু ক্ষমতাসীনরা নজীরবিহীনভাবে লুটেপুটে খাচ্ছে।

পহেলা রমজানে তিন বছরের তুলনামূলক চিত্রে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম বাড়ার রেকর্ড লক্ষ্য করা যায়।

মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর ভাষায় দেশের জনগন এখন দিনে ৪ বেলা খায় :

গরীবের বরাদ্দটুকু লুটপাটের খন্ডচিত্র-:-t :-t :-t :-t :-t
%%- সিরাজগঞ্জে টিআর প্রকল্প’র অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ!

%%- বদরগঞ্জ ও তারাগঞ্জ
টিআরের বরাদ্দ আত্মসাৎ

%%- টেস্ট রিলিফের ৫০ কোটি টাকা লোপাট

%%- টিআর, কাবিটা আত্মসাৎ দৌলতখানে উপজেলা চেয়ারম্যান ও ইউএনও অফিসে বিক্ষুব্ধ আ’লীগ কর্মীদের হামলা

%%- টিআরের গম আত্মসাৎ

%%- গৌরীপুর ও কটিয়াদীতে টিআর প্রকল্পের গম আত্মসাৎ

%%- টেস্ট রিলিফের ৯৮ কোটি ১০ লাখ টাকার মধ্যে প্রায় ৫০ কোটি টাকারই কোন কাজ হয়নি

%%- গ্রামীণ অবকাঠামো রক্ষণাবেক্ষণ কর্মসূচির নামে দাগনভূঞায় হরিলুট

%%- কর্মীদের সন্তুষ্ট রাখতে অপ্রয়োজনের কাবিখা ও টিআর প্রকল্পে বরাদ্দ

%%- ধরমপাশায় টিআরের গম আত্মসাতের অভিযোগ

%%- কাহালুতে টিআর প্রকল্পের অর্ধকোটি টাকা
লোপাটের অভিযোগ

%%- ভুয়া প্রকল্প দেখিয়ে চাল ও টাকা ভাগবাটোয়ারা

%%- টিআর-কাবিখা কেলেঙ্কারি

%%- পুকুর চুরি

%%- আ.লীগ নেতার বিরুদ্ধে চাল আত্মসাতের অভিযোগ

%%- গ্রামীণ অবকাঠামো সংস্কারের জন্য কাজের বিনিময়ে খাদ্য (কাবিখা) এবং গ্রামীণ অবকাঠামো রক্ষণাবেক্ষণের জন্য টেস্ট রিলিফ (টিআর) প্রকল্পে ব্যাপক অনিয়ম ও দুর্নীতি

%%- করিমগঞ্জে টিআরের চাল গম টাকা ক্ষমতাসীনদের পকেটে

%%- টুঙ্গিপাড়ায় টিআরের চাল আত্মসাৎ!

%%- নওগাঁর পোরশায় টেস্ট রিলিফের অর্থ উত্তোলনে ঘুষ

%%- ভোলার মনপুরায় টি.আর প্রকল্পের টাকা হরিলুটের মহোৎসব

অস্তিত্বহীন প্রতিষ্ঠান ও সাংসদের আস্থাভাজনদের নামে বরাদ্দ
ময়মনসিংহে টিআর-কাবিখা প্রকল্পে ব্যাপক অনিয়ম-প্রথম আলো ০১ অগাস্ট ২০১১

৭৪-এর দুর্ভিক্ষের কিছু ইতিহাস
সে সময়ে প্রকাশিত বিভিন্ন সংবাদপত্রের ভাষ্য থেকে সে সত্যেরই প্রমাণ মেলে।

🙁 ‘খাদ্যের অগ্নিমূল্য কমাও\’ লজ্জা নিবারণের বস্ত্র দাও\’। (২০ আগস্ট ১৯৭২, ইত্তেফাক)।
‘গ্রামে হাহাকার- চাল দাও। আটা কচু সিদ্ধ খেয়ে আর কদ্দিন\’? (২৩ আগস্ট ১৯৭২, গণকণ্ঠ)।

🙁 চাউল আকাশচুম্বীঃ আটা উধাওঃ কেরোসিন ও ঔষধ নাই, শুধু আছে অনাহার আর আত্মহত্যা\’। (২২ এপ্রিল ১৯৭৩, ইত্তেফাক)।

🙁 ‘চালের অভাব\’ পেটের জ্বালায় ছেলেমেয়ে বিক্রি। হবিগঞ্জে হাহাকার, অনাহারে এ পর্যন্ত ৯ জনের মূত্যু। (৩ মে ১৯৭৩, ইত্তেফাক)।

🙁 ‘চাল ১৩০ টাকা, আটা ৯০ টাকা, লুঙ্গী ৩০ টাকা, শাড়ী ৭০ টাকা, রেশন ৭ মাস বন্ধ, ক্ষুধাকাতর পাবনার পাঁচালী: অনাহারে মৃত্যু। আত্মহত্যা ও ইজ্জত বিক্রির করুণ কাহিনী\’। (১ জুন ১৯৭৩, গণকন্ঠ)।

🙁 ‘অনাহারে দশজনের মৃত্যু\’ বিভিন্ন স্থানে আর্ত মানবতার হাহাকার\’ শুধু একটি ধ্বনি\’ ভাত দাও\’। (১০ মে ১৯৭৩, গণকন্ঠ)।

🙁 ‘স্বাধীন বাংলার আরেক রূপ\’ জামাই বেড়াতে এলে অর্ধ উলংগ শ্বাশুড়ী দরজা বন্ধ করে দেয়\’। (১৫ জুলাই ১৯৭৩, সোনার বাংলা)।

দুর্ভিক্ষ ১৯৭৪, বাংলাদেশের ইতিহাসে এক কৃষ্ণকাল
“একটি তিন বছরের শিশু এতই শুকনো যে, মনে হল সে যেন মায়ের পেটে থাকাকালীন অবস্থায় ফিরে গেছে। আমি তার হাতটা ধরলাম। মনে হল তার চামড়া আমার আঙ্গুলে মোমের মত লেগে গেছে। এই দুর্ভিক্ষের আর একটি ভয়ঙ্কর পরিসংখ্যান এই যে, বিশ্বস্বাস্থ্ সংস্থার মতে ৫০ লাখ মহিলা আজ নগ্ন দেহ। পরিধেয় বস্ত্র বিক্রি করে তারা চাল কিনে খেয়েছে।”

“সন্ধা ঘনিয়ে আসছে এবং গাড়ী আঞ্জুমানে মফিদুল ইসলাম-এর লরীর পিছনে পিছনে চলেছে। এই সমিতি ঢাকার রাস্তা থেকে দুর্ভিক্ষের শেষ শিকারটিকে কুড়িয়ে তুলে নেয়। সমিতির ডাইরেক্টর ডাঃ আব্দুল ওয়াহিদ জানালেন,“স্বাভাবিক সময়ে আমরা হয়ত কয়েক জন ভিখারীর মৃতদেহ কুড়িয়ে থাকি। কিন্তু এখন মাসে অন্ততঃ ৬০০ লাশ কুড়াচ্ছি- সবই অনাহার জনিত মৃত্যু।”

উপরের এই প্যারা দুটি প্রখ্যাত তথ্য-অনুসন্ধানী অষ্ট্রেলিয়ান সাংবাদিক জন পিলজারের লিখা। লেখাটি ছাপা হয়েছিল ১৯৭৪ সালের ১৭ই ডিসেম্বর লন্ডনের ডেইলী মিরর পত্রিকায়। তার এই কথার সত্যতা প্রমাণিত হয়েছিল ১০ই সেপ্টেম্বর বাংলাদেশের জাতীয় দৈনিক ইত্তেফাকে যখন কুড়িগ্রাম জেলার চিলমারী উপজেলাট ডাটিয়া পাড়ার এক জেলেপাড়ার বস্ত্রহীন “বাসন্তি” মাছ ধরার জাল পড়ে লজ্জা ঢাকা ছবি ছাপা হয়েছিল। (যদিও এ ছবিকে একটি সাজানো নাটক বলে মন্তব্য করেন একশ্রেণীর বিশ্লেষক কিন্তু এইঘটনার মত ঘটনা যে ঘটেছে তা তো আর মিথ্যা নয়, এইসব ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী অনেক খুঁজে পাওয়া যাবে )

মাছধরার জাল পড়া ছিল বাসন্তী পাশে ছিল তার বোন দূর্গতী।

চালের পয়সা জোগাড় করতে অনেক পিতা-মাতা কোলের সন্তানকেও বিক্রি করে দেবার মত নির্মম নিষ্ঠুর কাজ করেছে। এমনও খবর তখনকার পত্রিকার শিরোনাম হয়েছে। সন্তানদের মুখে ভাত তুলে দিতে না পেরে অনেকে আত্মহত্যাও করেছে। আজ এত বছর পরে সভ্য সমাজে এসে আমরা হয়ত এগুলো অনুভব করতে পারবো না। কিন্তু বাস্তব চিত্র আরো করুন ছিল।

একটি শিশু, রিলিফের বস্তার দিকে তাকিয়ে আছে, সে যে তার হাড্ডিসার দেহ নিয়ে দাঁড়িয়ে আছে সেটাই একটা আশ্চর্য।

বাস্তাবিক পক্ষে ঠিক এমনি বা এরচেয়েও খারাপ অবস্থা হয়েছে যুদ্ধোত্তর স্বাধীন বাংলাদেশে। ১৯৭৪ এর মার্চ মাসে রংপুর জেলা থেকে শুরু হয় এই দুর্ভিক্ষ। সেপ্টেম্বর মাসের মাঝামাঝি চালের দাম মণ প্রতি দাঁড়ায় প্রায় ৪০০ টাকার মত। অথচ স্বাধীনতার আগে মণপ্রতি চালের দাম ছিল সেইসময়কার দামের তুলনায় দশভাগ কম। এই সময়টাকে বাংলাদেশের ইতিহাসে অনেকে সাম্প্রতিক কালের সবচেয়ে করুন সময় বলে অভিহিত করে থাকেন। এই দুর্ভিক্ষের কারণ হিসেবে হয়ত ঘূর্ণিঝড় আর ব্রহ্মপুত্র থেকে সৃষ্ট বণ্যাকে দায়ী করা হয়। বাস্তবিক পক্ষে এর আরো কারণও ছিল মূলতঃ সেগুলোই আসল। দশ লক্ষ লোক প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ ভাবে মারা গেলেও সরকারী হিসেবে মাত্র ২৭ হাজার। দুঃখজনক।

নয়মাস ব্যাপী মুক্তিসংগ্রামে ত্রিশলক্ষ বা তার অধিক লোক মারা গেলেও জানা মতে, না খেয়ে ভাতের অভাবে বোধহয় কেউ মারা যায় নি। অথচ স্বাধীনতার চতুর্থ বছরে এসে একটা স্বাধীন সরকারের অধীনে ভাত না পেয়ে মারা গেছে প্রায় ১০ লক্ষ লোক। এই মৃতের দলে আছে অবশ্য ডায়রিয়া, ম্যালেরিয়া ও কলেরায় মৃত্যুবরণকারী অনেকেই। যদিও তাদের মৃত্যুর পরোক্ষ কারণ ঐ দুর্ভিক্ষ। সূষম খাদ্যের অভাবে মানুষ তখন অখাদ্যও খেয়েছে। এখনও অনেক প্রত্যক্ষদর্শী বলে থাকেন যে, তারা নিজে চোখে দেখেছেন ডাষ্টবিনে উচ্ছিষ্ট থেকে খাদ্যকুটা খোঁজা মানুষ আর কুকুরের লড়াই। অনেকে এরচেয়েও খারাপ দৃশ্য দেখেছেন, যার বর্ণনা আজ প্রায় ৩৭ বছর পর এসে সুস্থ্য মানুষের পক্ষে শোনাটাই একটা নির্যাতন সরূপ।

১৭৭০ সালের ছিয়াত্তরের মন্বন্তরে ভারত-ইংরেজ দ্বৈত-শাসনের কুফল আর ১৯৪৩ সালের দুর্ভিক্ষ অর্থাৎ পঞ্চাশের মন্বন্তরের জন্য সম্পূর্ণ বিদেশী শাসক প্রধানমন্ত্রী চার্চিলকে দায়ী করলেও কিন্তু ১৯৭৪ সালের দূর্ভিক্ষের জন্য শুধু বিদেশি শক্তিকে আর প্রকৃতিকে দায়ী করা চলে না বরং দায়ী অনেক অংশে দেশের অভ্যন্তরীন দুঃশাসন। মূলতঃ এইসময় থেকেই সরকারের উপর থেকে আওয়ামীলীগের সমর্থকদের তথা দেশবাসীর মোহভঙ্গ হতে শুরু করে। দীর্ঘদিন পাকি যাতাকলে পিষ্ঠ এবং ৭১ এর রক্তক্ষয়ী স্বাধীনতা যুদ্ধে স্বজনহারানো এদেশের মানুষের আশা ছিল স্বাধীন দেশে ভালো ভাবে বাঁচার। কিন্তু সরকারদলীয় কিছু লোকেদের সীমাহীন দূর্নীতি, দুঃশাসন এবং কিছু উল্লেখযোগ্য বাহিনীর অতি উৎসাহী তৎপরতায় জনগণের সেই স্বপ্ন অচিরেই হারিয়ে যায়। মানুষ রাজনীতিতে বিতশ্রদ্ধ হয় এবং আস্থা হারিয়ে ফেলে। সময়ের ফলাফলে আসা দূর্ভিক্ষ জনগণের মনোবল আরো নাজুক পরিস্থিতির দিকে টেনে নিয়ে যায়। বিশ্বাসের দেয়ালে ধরে চিঁড়।

১৯৭৪ সালে ১৮ অক্টোবর বোষ্টনের ক্রিশ্চিয়ান সায়েন্স মনিটরে ডানিয়েল সাদারল্যান্ড লিখেছিলেন, “গত দুই মাসে যে ক্ষুধার্ত জনতা স্রোতের মত ঢাকায় প্রবেশ করেছে,তাদের মধ্যে সরকারের সমর্থক একজনও নেই। বন্যা আর খাদ্যাভাবের জন্য গ্রামাঞ্চল ছেড়ে এরা ক্রমেই রাজধানী ঢাকার রাস্তায় ভিক্ষাবৃত্তির আশ্রয় নিচ্ছে। কিন্তু মনে হচ্ছে সরকার এদেরকে রাজপথের ত্রিসীমানার মধ্যে ঢুকতে না দিতে বদ্ধপরিকর। এরই মধ্যে বেশ কিছু সংখ্যককে বন্দুকের ভয় দেখিয়ে ক্যাম্পে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। সেখানে সারাদিন দুই এক টুকরা রুটি খেতে পাওয়া যায, মাঝে মাঝে দুই-একটা পিঁয়াজ ও একটু-আধটু দুধ মেলে। ক্যাম্পে ঢুকলে আর বের হওয়া যায় না। “যে দেশে মানুষকে এমন খাঁচাবদ্ধ করে রাখা হয় সেটা কি ধরনের স্বাধীন দেশ”- ক্রোধের সাথে বলল ক্যাম্পবাসীদেরই একজন। ক্যাম্পের ব্লাকবোর্ডে খড়িমাটি দিয়ে জনৈক কর্মকর্তা আমার সুবিধার্থে প্রত্যেকের রুটি খাওয়ার সময়সূচীর তালিকা লিখে রেখেছেন। “তালিকায় বিশ্বাস করবেন না”-ক্যাম্পের অনেকেই বলল। তারা অভিযোগ করল যে, রোজ তারা এক বেলা খেতে পায়- এক কি দুই টুকরা রুটি। কোন এক ক্যাম্পের জনৈক স্বেচ্ছাসেবক রিলিফকর্মী জানাল যে, “সরকারী কর্মচারীরা জনসাধারণের কোন তোয়াক্কা করে না। তারা বাইরের জগতে সরকারের মান বজায় রাখতে ব্যস্ত। এ কারণেই তারা লোকদেরকে রাস্তা থেকে ধরে নিয়ে যাচেছ। বিদেশীরা ভূখা-জনতাকে রাস্তায় দেখুক এটা তারা চায় না।”

১৯৭৪ সালের দূর্ভিক্ষের কারণসমূহের উল্লেখযোগ্য কয়েকটিঃ

১) দূর্নীতি-স্বজনপ্রীতিঃ
খাদ্যশস্যের সূষম বন্টনের অভাব এবং দূর্নীতি-স্বজনপ্রীতি, পার্শ্ববর্তী দেশে চোরাচালানী ইত্যাদি ছিল দূর্ভিক্ষের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ কারণ। মূলতঃ শেখ মুজিবুর রহমান কখনই বিশ্বাস করতেন না যে তার অধীনস্থ লোকজন এত অসৎ হবে। তার ধারনা ছিল এইসব লোকেরা দেশকে ভালোবাসে, তাকে ভালোবাসে। তারা তার সাথে কখনও বেঈমানি করবে না। কিন্তু বাস্তব ঘটনা ছিল তার উল্টো। বিভিন্ন চাটুকার আর মিথ্যাবাদীদের দ্বারা তিনি ছিলেন ঘেরা। শুধু তাই নয় এইসব অসৎ তোষামোদকারীদের বিরুদ্ধে কোন নালিশও উনি শুনতেন না বা শুনতে চাইতেন না। শেখ মুজিবুর রহমান একজন বাগ্মীপূরুষ এবং তেজী নেতা হলেও তিনি প্রাতিষ্ঠানিক শাসক হিসেবে ছিলেন খুবই আবেগপ্রবণ। তার এই অদম্য স্নেহতে তার কিছু অনুসারী এবং সরকারী লোকজন বেপরোয়া হয়ে উঠে। ধরাকে সরা জ্ঞান করতে থাকে। যার ফলে সমাজের প্রতিটি রন্ধে রন্ধে দূর্নীতি ও স্বজনপ্রীতি ছড়িয়ে পড়ে।

বৈদেশিক সাহায্য আসলেও সেটা বিতরণে ছিল যথেষ্ঠ অনিময়। এটা শেখ মুজিবুর রহমান পরে বুঝতে পেরেছিলেন তবে অনেক পরে। তাইতো কোন একসময়ে উনি বলেছিলেন,“সাত কোটি লোকের দেশে আমার ভাগের কম্বলটা কই।” যদিও এ কথাটি উনি খুবই দুঃখ করে বলেছিলেন।

১৯৭৪ সালের অক্টোবরে অর্থমন্ত্রী তাজউদ্দীন আহমদ দুর্ভিক্ষের জন্য প্রকাশ্যে সরকারের অদক্ষ ব্যবস্থাপনা ও আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মীদের দুর্নীতি ও লুণ্ঠনের সমালোচনা করেছিলেন। তিনি সেই সঙ্গে দুর্ভিক্ষের দায়দায়িত্ব স্বীকার করে সর্বদলীয় ভিত্তিতে পরিস্থিতি মোকাবিলা করার জন্য প্রধানমন্ত্রী শেখ মুজিবুর রহমানের প্রতি আহ্বান জানিয়েছিলেন। এটাই তার জন্য কাল হয়েছিল। প্রধানমন্ত্রী শেখ মুজিবুর রহমান তাকে পদত্যাগ করতে বলেছিলেন। এ সম্পর্কিত একটি চিঠির সঙ্গে পদত্যাগপত্রও পাঠানো হয়েছিল তার কাছে। ১৯৭৪ সালের ২৬ অক্টোবর সে পদত্যাগপত্রে স্বাক্ষর করেছিলেন দেশের প্রথম প্রধানমন্ত্রী ও সেইসময়কার অর্থমন্ত্রী তাজউদ্দীন আহমদ।

রাস্তার মোড়ে মোড়ে না খেতে পেয়ে মরে যাওয়া আদম সন্তানগুলোকে দাফনের জন্য নিয়ে যায় আঞ্জুমানে মফিদুল ইসলামের গাড়ি, তবে কি ওদের মানুষ হয়ে জন্মানোটাই পাপ?

২) চোরাচালানঃ
দূর্ভিক্ষের দ্বিতীয় গুরুত্বপূর্ণ কারণ হলো চোরাচালান। ১৯৭৪ সালে ২রা অক্টোবর প্রকাশিত লন্ডনের গার্ডিয়ান পত্রিকায় জেকুইস লেসলীর কলাম অনুসারেঃ “একজন মা ফুঁপিয়ে ফুঁপিয়ে কাঁদছে,আর অসহায় দুষ্টিতে তার মরণ-যন্ত্রণাকাতর চর্মসার শিশুটির দিকে তাকিয়ে আছে। বিশ্বাস হতে চায় না, তাই কথাটি বোঝাবার জন্য জোর দিয়ে মাথা নেড়ে একজন ইউরোপীয়ান বললেন, সকালে তিনি অফিসে যাচ্ছিলেন,এমন সময় এক ভিখারি এসে হাজির। কোলে তার মৃত শিশু। বহু বিদেশী পর্যবেক্ষক মনে করেন বর্তমান দুর্ভিক্ষের জন্য বর্তমান সরকারই দায়ী। “দুর্ভিক্ষ বন্যার ফল ততটা নয়,যতটা মজুতদারী চোরাচালানের ফল”-বললেন স্থানীয় একজন অর্থনীতিবিদ।.. প্রতি বছর যে চাউল চোরাচালন হয়ে (ভারতে) যায় তার পরিমাণ ১০ লাখ টন।”

এইসব চোরাচালানকৃত পণ্যের মধ্যে ছিল ধান, চাল, গম, পাট, যুদ্ধাস্ত্র, ঔষধ, মাছ, গরু, বনজ সম্পদ ইত্যাদি। একটা নবগঠিত স্বাধীন দেশের সম্পদ ভারতে পাচার করা হতো কার স্বার্থে? কারা এসবের মদদদাতা ছিল? জনতার মুখপত্র, ১ নভেম্বর ১৯৭৫ সালে প্রকাশিত সংবাদ হিসেবে সেই সময়ে ভারতে পাচার হয়ে যায় প্রায় ৫০০০ কোটি টাকার পন্য।

মেজর অব: মো: রফিকুল ইসলাম বীরোত্তমের “শাসনের ১৩৩৮ রজনী” পৃ: ১১৯-১২৬ তে উনি লিখেছেন, “দীর্ঘ ৩ টি বছর আমরা এমনটি প্রত্যক্ষ করেছি। আমাদের চোখের সামনে চাল-পাট পাচার হয়ে গেছে সীমান্তের ওপারে, আর বাংলার অসহায় মানুষ ভিক্ষার ঝুলি নিয়ে বিশ্বের দ্বারে দ্বারে।”

ক্ষুধার্ত মানুষ নাকি হায়নার চেয়েও হিংস্র। তাই খাদ্যশস্য বোঝাই ট্রাকের উপর প্রহরীর সতর্ক প্রহরা। কিন্তু যারা মানুষের মুখের গ্রাস কেড়ে চোরাচালানী করে দেশে দূর্ভিক্ষ বানিয়েছিল তাদেরকে কে পাহাড়া দিবে?

৩) দাতাগোষ্ঠীর অনমনীয়তা ও অনিচ্ছাঃ
সেইসময় চট্টগ্রামে অবস্থান করছিল সোভিয়েত নৌ কন্টিনজেন্ট। তারা অবশ্য প্রকাশ্যে মাইন সাফ করার পাশাপাশি গোপনে বঙ্গোপসাগরে হাইড্রোলজিক্যাল সার্ভেও চালিয়েছিল। সোভিয়েতদের আশা ও উদ্দেশ্য ছিল এখানে একটা স্থায়ী ঘাঁটি বানানো। সেইজন্যই অনেকটা পাল্টা চাপ আসছিল আমেরিকানদের তরফ থেকে, সোভিয়েতদের তাড়াও নইলে খাদ্য সাহায্য কমে যাবে।

তবে সব দোষ বিদেশীদের উপরে চাপানো ঠিক নয়। আরো কিছু ব্যাপার ছিল, ৭১-৭২ এ যে বিপুল পরিমান সাহায্য এসেছিল তার বেশিরভাগ লোপাট হয়ে যাওয়াতে আবারো বাংলাদেশে সাহায্য পাঠাতে প্রবল অনীহা দেখা দেয় দাতা সংস্থাগুলোর মধ্যে। লুটের সিংহভাগ হয়েছে রেডক্রসের মাধ্যমে। ৭৪ সালেই জরুরী অবস্থা চালু হয়। সে যাইহোক অনাহারে হু হু করে মানুষ মরছিল।

৪) বর্ডার ট্রেডঃ
বর্ডার ট্রেডের নামে খুলে দেয়া হয় সীমান্ত। আসলে এই সিস্টেম শুধু চোরাচালানকেই উদ্ভুদ্ধ করা হয়েছে।এর ফলে চোরাচালানীদের যে শক্তিশালী সিন্ডিকেট গড়ে উঠেছিল, তা আজও আছে এবং তা দেশের অনুন্নত অর্থনীতির জন্য দায়ী।

আবুল মনসুর আহমদের লেখা আমার দেখা রাজনীতির ৫০ বছর, ৪৯৮ নং পৃষ্ঠায় উনি লিখেছেন, “সীমান্তের ১০ মাইল এলাকা ট্রেডের জন্য উম্মুক্ত করে দেয়া হলো। এর ফলে ভারতের সাথে চোরাচালানের মুক্ত এলাকা গড়ে উঠে। পাচার হয়ে যায় দেশের সম্পদ।”

৫) জালনোটের চালানঃ
ভারত থেকে বিশাল অংকের জাল নোট বাংলাদেশের বাজারে আসতো। এতে অর্থনৈতিক অবক্ষয় আরো তরান্বিত হয়। সরকার ও জনগণও জিম্মি হয়ে পড়ে এই জালনোটের কাছে।

আব্দুর রহিম আজাদের লেখা, ৭১ এর গণহত্যার নায়ক বই এর ৫২ নং পৃষ্ঠা অনুসারে সেই সময়ে অর্থমন্ত্রী তাজউদ্দীন বলতে বাধ্য হয়েছেন, “জালনোট আমাদের অর্থনীতি ধ্বংস করিয়া দিয়াছে।”

অলি আহাদের লিখা জাতীয় রাজনীতি ১৯৪৫ থেকে ‘৭৫, ৫২৮-৫৩১ নং পৃষ্ঠায় পাট চোরাচালান সর্ম্পকিত একটি লেখায় লিখেছেন, “নাম মাত্রমূল্যে বা জালটাকায় পাট পাচার শুরু হল।”

এই ভুখন্ডের ৩০০ বছরের নিকটবর্তী ইতিহাসে বড় বড় তিনটি দূর্ভিক্ষ আঘাত হেনেছে। আর স্বাধীন বাংলাদেশে প্রথম দূর্ভিক্ষ ১৯৭৪ সালে। সরকারী কিছু লোকজন সহ সমাজের বিভিন্ন স্তরের সুবিধাবাদী লোকজন বাংলাদেশের মানুষদের নিয়ে হোলিখেলায় মেতে উঠেছিল। সমাজের রন্ধে রন্ধে দূর্নীতি ঢুকিয়ে দিয়েছে। আর তার সাথে সমানতালে চলেছে ভারতীয় আগ্রাসন। একটা সংঘবদ্ধ প্রচেষ্টা চলেছিল অর্থনীতি ধ্বংসের। উৎপাদন কমে গিয়েছিল, শ্রমিক অসন্তোষ বেড়েছিল। কলকারখানা ধ্বংস হয়েছিল। গুপ্ত হত্যা শুরু হয়েছিল। স্বাধীনতার চেতনায় বলিয়ান স্বাধীন চেতা মানুষদেরকে ভিক্ষার পাত্র ধরিয়ে দেয়া হয়েছিল। তথ্যসূত্র:

পুরো জাতিকে ভিক্ষার থালি ধরানো আর দশ লক্ষ মানব সন্তানের মৃত্যুর দায় কে নিবে?

বর্তমান সরকার ব্যস্ত রয়েছেন জনগণের সাথে সম্পর্কহীন পরা শক্তির স্বার্থ সংশ্লিষ্ট গুরুত্বপূর্ণ অকাজ নিয়ে!!! সাধারন মানুষকে নিয়ে তাদের ভাবনার সময় কোথায়?

এ কী করলে সোনাবরু? ক্ষুধার কষ্ট অনেক বেশী তাই না আপু? অবশ্যই কষ্টের। মৃত্যুর কষ্টের চেয়েও বেশী। তাই তো তুমি ক্ষুধার কষ্ট সইতে না পেরে চলে গিয়েছ বিধাতার কাছে। কারণ কেউ যে আর এগিয়ে আসেনি তোমার কষ্ট লাঘবে।

নজিরবিহীন অর্থনৈতিক সংকটে দেশ। সরকার পরিচালনায় প্রতিদিন ব্যাংকগুলো থেকে ধার করতে হচ্ছে গড়ে ১০৫ কোটি টাকা। ফলে ব্যবসা-বাণিজ্যে চলছে ভয়াবহ মন্দা।

জাতীয় সংসদও দুর্নীতির আখড়া: স্পিকার

দূর্ভিক্ষের পদধ্বনি শোনা যাচ্ছে। এত দূর্নীতি করে এরপরও শেখ হাসিনা কিভাবে বলে তার মন্ত্রীরা কেউ দূর্নীতিগ্রস্ত নয়? এরপর বিভিন্ন মিডিয়া যে কয়েকজন মন্ত্রীর প্রশংসা করে তাদের কয়েকজন হলেন- শিক্ষা মন্ত্রী নাহিদ, কৃষি মন্ত্রী মতিয়া, খাদ্য মন্ত্রী ড. আব্দুর রাজ্জাক। তাদের অবস্থা যদি এত ভয়াবহ হয়, তাহলে বাকীদের অবস্থা কি অনুমেয়।

আমি চিৎকার করে কাঁদিতে চাহিয়া
করিতে পারিনি চিৎকার
বুকের ব্যথা বুকে চাপায়ে নিজেকে দিয়েছি ধিক্কার
কত ব্যথা বুকে চাপালেই তাকে বলি আমি ধৈর্য
নির্মমতা কতদূর হলে জাতি হবে নির্লজ্জ

৭৪এর কম্বল চুরির মত দূর্মূল্যের এই বাজারে অসহায় মানুষদের জন্য বরাদ্দটুকু লুটেপুটে খাচ্ছে ক্ষমতাসীনরা

দুর্নীতিতে নিমজ্জিত মহাজোট সরকারের বামপন্থি মিডিয়ার ভাষায় তথাকথিত ক্লীন ইমেজের মন্ত্রীদের আসল চেহারা দেখুন

উত্তরে মহামন্দার পদধ্বনি
ধান পাট আলু রসুন চাষ করে কৃষকদের ৭ হাজার ৭০০ কোটি টাকা লোকসান

মহামন্দা যেন উত্তরের কৃষকদের ঘরে আগেই হানা দিলো। ধান পাট আলু রসুন চাষ করে এবার কৃষক লাভ করতে পারেননি। দেশের প্রায় এক কোটি কৃষক এসব ফসল উৎপাদন করে সাত হাজার ৭০০ কোটি টাকা লোকসান দিয়েছে। দেশে ভালো ফলনের পরও বিদেশ থেকে চাল, রসুন, আদা ইত্যাদি আমদানি করায় এসব কৃষিপণ্যের ব্যবসায়ীরাও লোকসানের মুখে পড়েছেন। অনেক ব্যবসায়ীর পুঁজি অর্ধেক হয়ে গেছে। ব্যাংকের দেনা পরিশোধ করতে পারছেন না।

আমেরিকার ইলিনয় বিশ্ববিদ্যালয়ের এশিয়া স্টাডিজের অধ্যাপক অ্যাডওয়ার্ড গ্রিফিন বলেছেন, ইউরোপ-আমেরিকার মন্দা এবং এশিয়া-আফ্রিকার মন্দা সম্পূর্ণ আলাদা। এশিয়া ও আফ্রিকার দরিদ্র দেশগুলোতে যে মন্দা হয় তা শাসকদের শিশুসুলভ শাসনের ফল। এ ছাড়াও ব্যবসায়ী সিন্ডিকেট ও উৎপাদকদের (কৃষকদের) স্বার্থরক্ষা না করাই এ অঞ্চলে মন্দার আসল কারণ।

কৃষিপণ্য উৎপাদন করে দাম না পেলে ক্রমাগত লোকসান হলে কৃষক এসব পণ্য উৎপাদনে আগ্রহ হারান। ফলে পরের বছরগুলোতে উৎপাদন কমিয়ে দেন। এতে এসব পণ্যের জন্য বিদেশনির্ভর হতে হয়। কৃষকের হাতে টাকা না থাকলে দেশের ব্যবসায়বাণিজ্যে এর প্রভাব পড়ে। কারণ দেশের আশি ভাগ মানুষ কৃষিজীবী। এসব কথা বলেছেন রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের কৃষি অর্থনীতিবিদ আবুল কাসেম।

সরকার সার সেচ বীজ কৃষি উপকরণে ভর্তুকি না দিয়ে বরং এসব উপকরণের দাম দুই তিনগুণ বাড়িয়েছে। কৃষক দুই তিনগুণ বেশি খরচ করে অধিক উৎপাদন করে উৎপাদিত খাদ্যশস্য ও কৃষি পণ্যের দাম না পেয়ে লোকসান গুনছেন। ধান পাট রসুন ব্যবসায়ীরা এসব পণ্য কিনে বেকায়দায় পড়েছেন। এসব পণ্যের দাম কমছে।

এবার আলু উৎপাদন করে এবং সংরক্ষণ করে কৃষক দফায় দফায় কমপক্ষে দুই হাজার ৭০০ কোটি টাকা লোকসান দিয়েছেন। ২০১০-১১ বছরে সারা দেশে কৃষি বিভাগের হিসাব মতে, ৮৩ লাখ ২৬ হাজার মেট্রিক টন আলু উৎপাদনের পরিকল্পনা নিয়ে চার লাখ ৮০ হাজার হেক্টর জমিতে আলু চাষের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছিল। কিন’ বাস-বে পাঁচ থেকে সাড়ে পাঁচ লাখ হেক্টর জমিতে কৃষক আলু চাষ করেছিলেন। আবহাওয়া ভালো থাকায় সুপার বাম্পার ফলন হয়। এতে সারা দেশে দেড় কোটি টনের বেশি আলু উৎপাদন হয়। মওসুমের শুরু থেকে আলুর বাজার পড়তে শুরু করে। দেশের ২৫ লাখ আলু চাষির প্রতি বিঘায় কমপক্ষে পাঁচ হাজার টাকা হিসেবে হেক্টরে ৫০ হাজার টাকা করে লোকসান হয়। এ হিসাবে পাঁচ লাখ হেক্টরে লোকসান হয় আড়াই হাজার কোটি টাকা। এসব আলু হিমাগারে সংরক্ষণ করে কৃষক ও আলু ব্যবসায়ীদের আরো কমপক্ষে দুই হাজার কোটি টাকা লোকসান হয়।

এ বছরও কৃষি বিভাগ ৮৩ লাখ ২৬ হাজার মেট্রিক টন আলু উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছে চার লাখ ৬০ হাজার হেক্টর জমিতে। কিন’ লোকসান দেয়া আলুচাষি আসাদুজ্জামান বলেছেন, নেড়ে আবার বেলতলায় গেলেও এভাবে হাজার হাজার টাকা লোকসান দিয়ে আলু চাষ করবেন না। কৃষি বিভাগ থেকে জানা গেছে, গত বছর উত্তরের রাজশাহী-রংপুর বিভাগে ১৬ জেলায় তিন লাখ ৩৪ হাজার ৪১০ হেক্টর জমিতে আলু চাষের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছিল। উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছিল প্রায় ৫৯ লাখ মেট্রিক টন। কিন্তু বাম্পার ফলন হওয়ায় এ অঞ্চলের ২০ লাখ কৃষক ৯০ লাখ টনের বেশি আলু উৎপাদন করেন। কিন’ শুরু থেকে আলু প্রতি মণ (৪০ কেজি) ১১০-২৫০ টাকা দর থাকায় কৃষকেরা প্রতি বিঘায় পাঁচ হাজার থেকে ১২ হাজার টাকা লোকসান দেন। এ অঞ্চলের প্রায় ১০০টি হিমাগারে ১৫-২০ লাখ টন আলু মজুদ করেন কৃষক ও ব্যবসায়ীরা। এখনো ৭০ ভাগ আলু হিমাগারে পড়ে আছে। অব্যাহত দরপতনে হিমাগারে রাখা আলু কৃষক ও ব্যবসায়ীরা তুলতে যাননি। ব্যবসায়ীরা জানিয়েছেন, তাদের হিমাগার ভাড়া গুনতে হয়েছে ৬০০ কোটি টাকা। আলুর দামসহ প্রায় তাদের লোকসান হবে দুই থেকে আড়াই হাজার কোটি টাকা। হিমাগার অ্যাসোসিয়েশনের কর্মকর্তা গোলাম রসুল জানান, সারা দেশে প্রায় ৩০০ হিমাগারের মধ্যে উত্তরাঞ্চলে প্রায় ১০০টি হিমাগারের আলু ধারণ ক্ষমতা ২০-৩৩ লাখ টন। এখনো ২৫ লাখ টন আলু মজুদ আছে কেউ তুলছেন না। না তুললে তারা বেচে দেবেন। কৃষক ও আলু ব্যবসায়ীরা খালি বস্তাও পাবেন না। ১৫-২০ লাখ চাষি অতিরিক্ত আলু চাষ করে এবার ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন। গত বছর আলু কমপক্ষে ৩০ টাকা কেজি বিক্রি হয়েছে। এবার সে আলু বিক্রি হচ্ছে ৭-১০ টাকা কেজি।

পাট : কৃষি সমপ্রসারণ বিভাগের হিসাব মতে, রাজশাহী ও রংপুর বিভাগে এ বছর সাত লাখ চাষি দুই লাখ ৫১ হাজার ৫৫৭ হেক্টর জমিতে পাটচাষ করে প্রতি হেক্টরে ২.৪০ মেট্রিক টন হিসেবে ছয় লাখ তিন হাজার ৭৩৭ মেট্রিক টন পাট উৎপাদন করেন। মওসুম শেষে প্রতি ৪০ কেজি (এক মণ) পাটের দর ছিল ২২০০-২৫০০ টাকা। কিন্তু নতুন পাট নামলে হঠাৎ করে বাজার পড়ে যায়। এখন প্রতি মণ পাট ১০০০-১১০০ টাকা মণ দরে বিক্রি হচ্ছে। কৃষকের প্রতি বিঘায় পাট উৎপাদন করতে ব্যয় হয়েছে কমপক্ষে ১৫ হাজার টাকা। হেক্টরে খরচ হয়েছে এক লাখ ১০ হাজার থেকে এক লাখ ২২ হাজার টাকা। প্রতি বিঘায় গড়ে ফলন হয়েছে সর্বোচ্চ ৮ মণ। প্রতি হেক্টরে উৎপাদিত পাটের দাম পেয়েছেন ৬০ হাজার টাকা। এতে কৃষকদের হেক্টরপ্রতি লোকসান হয়েছে ৬০-৭০ হাজার টাকা। দুই লাখ ৫১ হাজার ৫৫৭ হেক্টর জমিতে পাট চাষ করে চাষির লোকসান হয়েছে এক হাজার ২৫০ কোটি টাকা।

উত্তরাঞ্চলের সবচেয়ে বড় পাটের আড়ৎ পাবনার বেড়ায়। এখানকার পাট ব্যবসায়ী আব্দুল হামিদ হিসাব করে দেখিয়েছেন, এ অঞ্চলে এবার পাট উৎপাদন হয়েছে ছয় লাখ টনের বেশি। ছয় লাখ টন সমান দেড় কোটি মণ। প্রতি মণে এক হাজার টাকা লোকসান হলে কৃষক ও পাট ব্যবসায়ীদের লোকসান হয়েছে এক হাজার ৫০০ কোটি টাকা। দেশের প্রায় ৫০০ পাট ব্যবসায়ী এবার লোকসানের মুখে পড়েছেন। যারা মওসুমের প্রথমে প্রায় দুই হাজার টাকা মণ দরে পাট কিনেছিলেন। এসব পাট নিয়ে তারা বেকায়দায় পড়েছেন। পাট বিক্রি করতে পারছেন না। ধুনটের পাটচাষি আবু জাফর জানিয়েছেন, প্রতি কেজি পাটের দাম ২৫-৩০ টাকা হলেও পাট দিয়ে উৎপাদিত পণ্যের দাম অনেক বেশি। একটি চটের বস্তায় এক থেকে দেড় কেজি পাট লাগে। একটি বস্তার দাম ১২৫-১৪৫ টাকা। এক থেকে দেড় কেজি পাট দিয়ে এক গজ থেকে দুই গজ বিভিন্ন রকমের চট তৈরি হয়। এই পরিমাণ চটের দাম ৬৫-১৪০ টাকা পর্যন্ত। পাঁচ কেজি পাট দিয়ে যে পরিমাণ কার্পেট ও ম্যাট তৈরি হয় তার দাম হাজার টাকার বেশি। পাট চাষ করে উত্তরের পাটচাষি ও পাটব্যবসায়ীরা লোকসান গুনলেও এ অঞ্চলের ১২টি বেসরকারি পাটকল পাটের দাম কম হওয়ায় লাভের মুখ দেখছে বলে বেড়ার পাটব্যবসায়ী রহিম উদ্দিন জানিয়েছেন।

শহীদুল হক সরকার নাটোর থেকে জানান, দেশের সর্বাধিক রসুন উৎপাদনকারী জেলা হিসেবে পরিচিত নাটোরে এবার রসুনের বাম্পার ফলন হলেও রসুনচাষিরা ভালো নেই। শুধু নাটোর জেলার রসুনচাষিদের এবার ৪০০ কোটি টাকারও বেশি লোকসান গুনতে হচ্ছে। একই সাথে জেলার পাটচাষিদের লোকসান গুনতে হচ্ছে সাড়ে ৬২ কোটি টাকা।

জেলা কৃষি সমপ্রসারণ বিভাগ সূত্রে জানা যায়, গত রবি মওসুমে নাটোরে সর্বমোট ১২ হাজার ৮২৮ হেক্টর জমিতে রসুনের আবাদ হয়। তার মধ্যে বড়াইগ্রাম উপজেলায় চার হাজার ১০ হেক্টর, গুরুদাসপুর উপজেলায় সাত হাজার হেক্টর, নাটোর সদরে ৮৬৩ হেক্টর, লালপুরে ৪১০ হেক্টর, বাগাতিপাড়ায় ২২৫ হেক্টর ও সিংড়া উপজেলায় ৩২০ হেক্টর জমিতে রসুনের আবাদ করা হয়। জেলায় এবার কমপক্ষে ৭৬ হাজার ৯৬৮ মেট্রিক টন রসুন উৎপাদন হয়েছে বলে জানিয়েছে কৃষি বিভাগ।

বড়াইগ্রামের মৌখাড়া হাটের রসুন বিক্রি করতে আসা কৃষক আব্দুর রাজ্জাক, আজাহার আলী ও আফজাল হোসেন বলেন, গত মওসুমে বছরের পুরো সময়জুড়েই বাজারে রসুনের ভালো দাম ছিল। শেষ পর্যন্ত প্রতি মণ রসুন সাত হাজার থেকে আট হাজার টাকা দরে বিক্রি হয়েছে। ভালো দাম পাওয়ায় অধিক লাভের আশায় এবারো রসুন চাষ করেছিলাম। কিন’ বর্তমানে প্রতি মণ রসুন মাত্র এক হাজার থেকে এক হাজার ২০০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। এতে আমাদের উৎপাদন খরচই উঠছে না। প্রতি মণ রসুনে তাদের কমপক্ষে দেড় থেকে দুই হাজার টাকা লোকসান যাচ্ছে। ফলে এবার নাটোরের কৃষকেরা তাদের উৎপাদিত ৭৬ হাজার ৯৬৮ মেট্রিক টন রসুন বিক্রি করে লাভের পরিবর্তে উল্টো কমপক্ষে ৩৮৪ কোটি ৮৪ লাখ টাকা লোকসান গুনছেন। রসুনের এ অস্বাভাবিক দরপতনে হতাশ হয়েছেন কৃষকেরা।

নাটোর কৃষি সমপ্রসারণ বিভাগের উপপরিচালক এম দেলোয়ার হোসেন বলেন, এভাবে রসুন ও পাটের দাম কমতে থাকলে নাটোরের কৃষকেরা রসুন ও পাট চাষে আগ্রহ হারিয়ে ফেলবেন। নাটোর চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিজের সভাপতি মো: আমিনুল হক বলেন, দেশে উৎপাদিত ফসলের বাজার মজুদ পর্যালোচনা করে বিদেশ থেকে পণ্য আমদানি করলে কৃষকেরা ক্ষতিগ্রস্ত হবেন না। সরকারের উচিত কৃষকদের স্বার্থ বিবেচনা করা।

চীন থেকে প্রচুর রসুন আমদানি করায় দেশী রসুনের দাম পড়ে যায়। মওসুমের শুরুতে রসুনের দাম ছিল প্রতি কেজি প্রায় ১০০-১২০ টাকা। এখন প্রতি কেজি রসুন ৪০-৬০ টাকার মধ্যে। আমদানি করা রসুন এখন ব্যাপকহারে ভারতে পাচার হয়ে যাচ্ছে।

গত আমন ও বোরো ধানের বাম্পার ফলনের পরেও সরকার ভারত থেকে মেয়াদ উত্তীর্ণ চাল বেশি দামে আমদানি করায় চালের দাম প্রতি মণে ২০-২৫ টাকা এবং কেজিতে কমপক্ষে পাঁচ টাকা করে এবং প্রতি টনে পাঁচ হাজার টাকা করে পড়ে গেছে। এতে কৃষক, চালকল মালিক ও চাল ব্যবসায়ীরা হাজার হাজার কোটি টাকা লোকসানের মুখে পড়েছেন। এ কথা জানালেন উত্তরবঙ্গ চালকল মালিক সমিতির কর্মকর্তা জয়নাল আবেদিন। এখনো উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলের কৃষকের ঘরে মজুদ আছে ১০ লাখ টন চাল অথবা সমপরিমাণ ধান। ব্যবসায়ী ও চালকল মালিকদের গুদামে মজুদ আছে ৪০ লাখ টন চাল (সম পরিমাণ ধান)। মোট ৫০ লাখ টন চাল মজুদ আছে। হঠাৎ দরপতনে আড়াই হাজার কোটি টাকা লোকসান হবে বলে চাল ব্যবসায়ীরা জানিয়েছেন। এতে প্রায় দুই হাজার চালকল মালিক ও ২০ লাখ কৃষককে বেকায়দায় পড়তে হয়েছে। তথ্যসূত্র:

সংবিধান, বিচার বিভাগ, প্রশাসন, বিডিআর, আর্মি, পুলিশ, তত্ত্বাবধায়ক ব্যবস্থা, নির্বাচন কমিশন, শিক্ষা, স্বাস্থ্য, যোগাযোগ, বেতার-টিভি, গণমাধ্যম ও বাক-স্বাধীনতা, পররাষ্ট্র, আইন শৃঙ্খলা…….. যেদিকেই তাকাই ডিজিটাল সরকারের সফলতা!

সব খেয়ে ফেলে খাদ্য মন্ত্রণালয়: ৭৪এর কম্বল চুরির মত দূর্মূল্যের এই বাজারে অসহায় মানুষদের জন্য বরাদ্দটুকু লুটেপুটে খাচ্ছে ক্ষমতাসীনরা

আস্থাহীনতা ও বিকলের প্রায় সবগুলো রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান- একে একে সবগুলো বিভাগ ধ্বংস হয়ে যাচ্ছে। পেশাদারিত্ব বলে কিছুই থাকছে না।

সরকারের আচরন অগণতান্ত্রিক তথা চরম ফ্যাসিবাদী। গণতান্ত্রিক সমাজে সবার মত প্রকাশের অধিকার রয়েছে। পুলিশ কেন গণতান্ত্রিক কর্মসূচিতে বাধা দিবে। জার্মানিতে নাৎসিরা মিছিল করলে পুলিশ সাথে থাকলেও বাধা দেয়নি। আওয়ামী লীগের আমল হিটলারের দমনের সাথে মিলে যায়।

এতটা স্বৈরাচার এরশাদও ছিল কিনি সন্দেহ??

হরতালে বিপক্ষে সরকারী দলের বিপক্ষে এরকম অস্ত্র নিয়ে ইকবাল মার্কা শান্তি মিছিলের নমুনা আ.লীগের সময়েই খুঁজে পাওয়া যায়।

সরকারকে অনেকটাই বেসামাল মনে হচ্ছে।

জনজীবনের নানামুখী দুর্ভোগেও মন্ত্রীদের ব্যঙ্গাত্মক, অশোভন, হাস্যকর ও ফাজিল মন্তব্যেও নিশ্চুপ থেকেছেন প্রধানমন্ত্রী। শুধু তাই নয়, তিনিই এসব নিয়ে কখনো তাদের সাথেই সূর মিলিয়েছেন কিংবা বিনোদন নিয়েছেন।

জনগণকে অনেক প্রতিশ্রুতি দিয়ে ক্ষমতায় আসা বর্তমান সরকারের সফলতার চেয়ে ব্যর্থতার পাল্লাই ভারী। এক্ষেত্রে সরকারের চমকের মন্ত্রীপরিষদে কার চেয়ে কে বেশি ব্যর্থ সেটাই যখন গবেষণার বিষয়…. তখন একজন আবুলকে নিয়ে অতিরিক্ত হইচই সরকারের বড় বড় আবুলের ব্যর্থতা ঢাকার জন্য সরকারের কৌশলমাত্র।

নজিরবিহীন দুর্নীতিগ্রস্ত মহাজোট সরকারের দুর্নীতিতে আরেক খনি খাদ্য মন্ত্রণালয়: অসহায় মানুষদের জন্য বরাদ্দটুকু লুটেপুটে খাচ্ছে ক্ষমতাসীনরা
কাজের নাম-গন্ধ নেই, প্রতিষ্ঠানের অস্তিত্বও নেই, অথচ বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে টিআর-কাবিখার চাল-গম এবং যথারীতি তা হরিলুট হয়ে গেছে। এটা করা হয়েছে টাকা খেয়ে। মেধাবীদের বাদ দিয়ে দেওয়া হয়েছে অযোগ্যদের নিয়োগ_এটাও টাকা খেয়ে। নিম্নমানের চাল-গম সরবরাহ এবং অকেজো যন্ত্রাংশ আমদানি করা সত্ত্বেও এসব কাজ বারবার দেওয়া হয়েছে একই ঠিকাদারকে।

বলাবাহুল্য, এখানেও রয়েছে টাকার কারবার। গরিবের কাছে ওএমএস ও ফেয়ার প্রাইজের চাল বিক্রির কাজটুকুও মেলে না ঘুষ ছাড়া। গরিবদের নামে বরাদ্দ হওয়া প্রতি পাঁচ টন (এক ট্রাক) চাল তুলতে ডিলারদের সংশ্লিষ্ট দপ্তরে খাওয়াতে হয় সাত হাজার ২০০ টাকা। ‘সব খেয়ে ফেলা’ এই মন্ত্রণালয়ের নাম খাদ্য মন্ত্রণালয়। এখানে এসব দুর্নীতি-অনিয়ম এখন ‘ওপেন সিক্রেট’। সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের অভিযোগ, এসবই হচ্ছে আওয়ামী লীগে ‘ক্লিন’ ইমেজখ্যাত খাদ্যমন্ত্রী ড. মো. আবদুর রাজ্জাকের সামনেই। এমনকি সরকারের এই আড়াই বছরে বেশ কিছু অনিয়ম-দুর্নীতি প্রমাণিত হওয়ার পরও প্রতিকারের তেমন পদক্ষেপ নেই। তবে খাদ্যমন্ত্রী ড. আবদুর রাজ্জাক কালের কণ্ঠকে বলেন, সরকারের গত আড়াই বছরে প্রশংসনীয় অসংখ্য কাজ করেছে খাদ্য মন্ত্রণালয়। দু-একটি কাজের বিষয়ে প্রশ্ন উঠলেও তা সুষ্ঠু ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে সমাধান করা হয়েছে। কিন্তু কালের কণ্ঠের অনুসন্ধানে দুর্নীতি-অনিয়মের একই রকম চিত্র পাওয়া গেছে খাদ্য মন্ত্রণালয়ের অধীনস্থ প্রতিষ্ঠানগুলোতেও ।

১৮০০ নিয়োগ ঝুলে আছে আট মাস :
খাদ্য অধিদপ্তরে বিভিন্ন ক্যাটাগরিতে চতুর্থ শ্রেণীর প্রায় এক হাজার ৮০০ লোক নিয়োগের পরীক্ষা গত জানুয়ারি মাসজুড়ে অনুষ্ঠিত হলেও ফলাফল ঘোষণা হয়নি এখনো। কবে ঘোষণা হবে_এমন প্রশ্নের উত্তরেও কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে তেমন সদুত্তর মেলেনি। তবে কালের কণ্ঠের অনুসন্ধানে মিলেছে বিস্ময়কর তথ্য। মন্ত্রণালয় ও অধিদপ্তরের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, প্রার্থীদের ‘নিশ্চিত’ চাকরি দেওয়ার নামে এরই মধ্যে মোটা অঙ্কের অর্থ হাতিয়েছে একটি সিন্ডিকেট। কিন্তু এবার সংসদ সদস্যরা দলীয় বিবেচনায় প্রার্থী নিয়োগের জন্য মন্ত্রণালয়ে তালিকা পাঠান। ফলে সিন্ডিকেটের প্রার্থীদের সঙ্গে সংসদ সদস্যদের তালিকার গরমিল দেখা দেয়। এ অবস্থায় সংসদ সদস্যদের তালিকাকে প্রাধান্য দিয়ে চাকরি দিলে অগ্রিম টাকা হাতিয়ে নেওয়া সিন্ডিকেটটি বিপদে পড়ার আশঙ্কা করে। তারা মন্ত্রীকে নানা ধরনের ভুল বুঝিয়ে ফলাফল ঘোষণায় কালক্ষেপণ করতে থাকে।

গত সপ্তাহের কয়েক দিন সচিবালয়ের খাদ্য মন্ত্রণালয় ও খাদ্য অধিদপ্তরের সামনে কথা হয় নেত্রকোনার মোরশেদ, বাহ্মণবাড়িয়ার জয়নাল, পাবনার মারফুল, যশোরের মোসাদ্দেক, খুলনার নজরুলসহ নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক বেশ কয়েকজন প্রার্থীর সঙ্গে। যশোরের মোসাদ্দেক বলেন, ‘ফলাফল ঘোষণার খবর জানতেই ঢাকায় এসেছি। ছয় মাস আগে চার লাখ টাকা দিয়ে নিশ্চিত চাকরির অপেক্ষা করছি।’ মন্ত্রণালয় ও অধিদপ্তরে ঘোরাফেরা করা লোকদের উদ্ধৃতি দিয়ে তিনি জানান, জমিসহ সংসারের শেষ সম্বল বিক্রি করে টাকা দিয়ে অসহায় হয়ে পড়েছেন চাকরিপ্রার্থীরা। এখন চাকরি না মিললে করুণ পরিণতি হবে অনেকের। কে টাকা নিয়েছে_এমন প্রশ্নের জবাবে নিজের নাম-ঠিকানা, মোবাইল নম্বর দিয়ে বলেছেন, ‘চাকরি না হলে টাকা নেওয়ার প্রমাণপত্র দেব। তখন অপরাধীদের নামসহ লিখবেন।’ এদিকে সচিবালয়ের এক কর্মকর্তা বলেন, ‘গত বছর অনেক চেষ্টা করেও আপন ভাইয়ের চাকরি দিতে পারিনি। তাই এবার আগেই টাকা দিয়ে চাকরির জন্য অপেক্ষা করছি।’

এর আগে গত বছর খাদ্য অধিদপ্তরে প্রায় এক হাজার ১০০ পদে নিয়োগ নিয়ে বিপুল অর্থ লেনদেনের অভিযোগ ওঠে। ওই সময় সচিবালয়ে খাদ্যমন্ত্রীর এপিএস মাসুমুর রহমান, খাদ্যমন্ত্রীর ভগি্নপতি বেলালসহ একাধিক ব্যক্তির নামে টাকা গ্রহণের অভিযোগ তুলে লিফলেট পর্যন্ত বিলি হয়। পরে প্রার্থীদের চাপের মুখে অর্থ আদায়কারী চক্রটি লিখিত পরীক্ষার ‘অতিগোপনীয় ফলাফল’ পর্যন্ত ফাঁস করে প্রার্থীদের হাতে তুলে দেয়। এ ছাড়া ঢাকা বিভাগের সাবেক এক কমিশনারের অনমনীয় মনোভাবের কারণে ঢাকা জেলায় পছন্দের প্রার্থীদের চাকরি দিতে ব্যর্থ হয়ে নিয়োগ স্থগিত করে খাদ্য মন্ত্রণালয়। তবে জানা গেছে, ফের নতুন কমিটি করে অর্থ লেনদেনের মাধ্যমে ‘আগের চূড়ান্ত করা প্রার্থীদেরই’ নিয়োগ দেওয়া হয়।

অস্তিত্বহীন প্রতিষ্ঠানের নামে চাল বরাদ্দ ও হরিলুট :
গ্রামীণ অবকাঠামো ও রক্ষণাবেক্ষণ কর্মসূচির আওতায় গত বছর বগুড়ার ধুনট উপজেলার ‘গোপালপুর খাদুলী বেসরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ও রাঙ্গামাটি বালিকা বিদ্যালয়’-এর নামে দুই টন চাল উত্তোলন ও বিক্রির পর সব টাকা আত্মসাৎ করেছেন খাদুলী গ্রামের আওয়ামী লীগকর্মী জহুরুল ইসলাম ও এলাঙ্গী ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মোজাফ্ফর রহমান। ওই দুই নামে কোনো স্কুলের অস্তিত্বই ছিল না এলাকায়। একইভাবে ধুনট উপজেলায় জিঞ্জিরতলা যুব উন্নয়ন সমিতি ও রানডিলা মসজিদ নামে কোনো প্রতিষ্ঠান না থাকলেও দুই টন চাল তুলেছেন স্থানীয় দুই আওয়ামী লীগ নেতা। কোনো ফেরিঘাট কিংবা ফেরি না থাকলেও বথুয়াবাড়ী ‘ফেরিঘাট’ সংস্কারের জন্য তিন টন চাল তুলে আত্মসাৎ করেছেন যুবলীগ নেতা ও প্রকল্পের সভাপতি মজনু আলম। এভাবে ১৩৩টি প্রকল্পের বিপরীতে ১৭৫ টন চাল হরিলুট করেছেন আওয়ামী লীগ নেতা-কর্মীরা।

মাঠপাড়া এতিমখানার সভাপতি ধুনট উপজেলা জাতীয় পার্টির সাধারণ সম্পাদক লাল মিয়া বলেন, ‘প্রকল্প বাস্তবায়ন অফিসে সরবরাহপত্র তুলতে গিয়ে বিস্মিত হয়েছি। এতিমখানার সভাপতি পরিচয়ে মাঠপাড়া গ্রামের যুবলীগ নেতা ইব্রাহীম খলিলুল্লাহ সরবরাহপত্র তুলে এক টন চাল নিয়ে গেছে।’ বগুড়ার শেরপুর উপজেলা প্রেসক্লাবের সভাপতি নিমাই ঘোষ বলেন, প্রেসক্লাবের উন্নয়নে এক টন চাল বরাদ্দ দেওয়া হলেও তা প্রেসক্লাবের সভাপতি পরিচয়ে দীপক সরকার নামের অন্য এক ব্যক্তি তুলে বিক্রি করে আত্মসাৎ করেছেন।

ধুনট উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি টি আই এম নুরুন্নবী তারিক ও সাধারণ সম্পাদক এ জি এম বাদশা আত্মসাতের অভিযোগ স্বীকার করে কালের কণ্ঠকে বলেছেন, প্রকল্পটির সঙ্গে সংশ্লিষ্ট কয়েকজনের কারণে সাধারণ মানুষের কাছে দলের ভাবমূর্তি নষ্ট হয়ে গেছে।

টিআর-কাবিখায় দুর্নীতি :
গ্রামীণ অবকাঠামো উন্নয়নের নামে টেস্ট রিলিফ (টিআর) এবং দুস্থদের সহায়তায় নেওয়া কাজের বিনিময়ে খাদ্য (কাবিখা) কর্মসূচি নিয়ে দেশব্যাপী ব্যাপক অনিয়ম-দুর্নীতি হয়েছে বছরজুড়েই। খোদ খাদ্যমন্ত্রীর কাছে এ বিষয়ে বিস্তর অভিযোগ এলেও তেমন প্রতিকার মেলেনি। তবে অনিয়ম-দুর্নীতির কারণে কাবিখার বেশ কিছু কাজ বন্ধ করে দিয়েছে পানিসম্পদ মন্ত্রণালয়।

খাদ্য মন্ত্রণালয়ের হিসাবে গত অর্থবছরে টেস্ট রিলিফ খাতে চার লাখ টন এবং কাবিখা খাতে তিন লাখ ৭৫ হাজার টন চাল বরাদ্দ হয়। এর মধ্যে টিআরের আওতায় এক টন থেকে সর্বোচ্চ পাঁচ টন পর্যন্ত বরাদ্দ যায়। এ ছাড়া এমপিরা পান এক লাখ ১১ হাজার ৭৫০ টনের বিশেষ বরাদ্দ। কিন্তু বরাদ্দের ৫০ শতাংশ ব্যবহার সুনির্দিষ্ট করে না দেওয়ায় ৫৫ হাজার ৮০০ টনের বেশি চাল নিয়ে ব্যাপক অনিয়ম (ভুয়া প্রকল্প দেখিয়ে লোপাট) হয়।

যন্ত্রাংশ ক্রয়ে দুর্নীতি :
জানা গেছে, চট্টগ্রামে খাদ্য অধিদপ্তরের নিজস্ব জেটিতে বিদেশি জাহাজ থেকে চাল-গম খালাসের জন্য তমা কনস্ট্রাকশনের কাছ থেকে নিউমেটিক আনলোডার মেশিন কেনা হয়। পুরো মেশিনটি জার্মানি থেকে আমদানি করে সরবরাহের শর্ত থাকলেও ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান মেশিনের ওপরের অংশ জার্মানির দিয়ে ভেতরের যন্ত্রাংশগুলো দেয় ভারতের। জার্মানি ও ভারতের আনলোডার মেশিনের দামের পার্থক্য অন্তত পাঁচ কোটি টাকা। এরপর সম্প্রতি আবার খাদ্য অধিদপ্তর ওই ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকে ১৬ কোটি টাকায় আরো একটি আনলোডার মেশিন সরবরাহের কার্যাদেশ দিয়েছে।
সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা জানান, আনলোডার মেশিনটি এক বছরের ওয়ারেন্টি পিরিয়ডের মধ্যেই বেশ কয়েকবার বিকল হলেও বিল বুঝিয়ে দেওয়া হয় ঠিকাদারকে। এমনকি ওই মেশিন মেরামতে এরই মধ্যে ৫০ লাখ টাকার বেশি খরচ করা হয়েছে। অথচ একই জেটিতে ১৯৭০ সালে স্থাপিত জার্মানির চারটি নিউমেটিক আনলোডার মেশিন দীর্ঘ ৪০ বছর ধরে কাজ করে যাচ্ছে।

এ সরকার ক্ষমতায় বসার পরপরই খাদ্য অধিদপ্তরের কারিগরি সেবা ও উন্নয়ন বিভাগ পোকার হাত থেকে গুদামের চাল ওষুধ দিয়ে রক্ষার লক্ষ্যে ‘গ্যাসপ্রুফ সিট’ সরবরাহের কার্যাদেশ দেয় মদিনা ফার্মাসিউটিক্যালকে। কার্যাদেশের শর্ত অমান্য করে প্রায় এক বছর পর জার্মানির পরিবর্তে চীনের গ্যাসপ্রুফ সিট সরবরাহ করে প্রতিষ্ঠানটি। আর শুল্ক ফাঁকি দেওয়ার জন্য ৯৮ লাখ টাকার কার্যাদেশের পরিবর্তে মাত্র ৬৯ লাখ টাকার জাল কার্যাদেশ তৈরি করে রাজস্ব বিভাগে জমা দেয়। আবার জাল কার্যাদেশে অর্থমন্ত্রীর সুপারিশ নিয়ে ৪২ লাখ টাকার রাজস্বের জায়গায় মাত্র ১৫ লাখ টাকা শুল্ক দেওয়া হয়। রাজস্ব জালিয়াতির এ ঘটনা প্রমাণিত হওয়ার পর চট্টগ্রাম বন্দরের সাত কাস্টমস কর্মকর্তার বিরুদ্ধে বিভাগীয় শাস্তির ব্যবস্থা করা হয়। তবে পার পেয়ে যায় ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান।

বারবার কেনা হয় পচা গম :
গত বছরের নভেম্বর থেকে চলতি বছরের মে পর্যন্ত সময়ে তিন দফা পচা গম কিনেছে খাদ্য বিভাগ। আর এ গম কিনতে অদৃশ্য কারণে বারবার ভারতীয় প্রতিষ্ঠান এলএমজে ইন্টারন্যাশনালকেই বেছে নিয়েছে সরকার।

প্রথম দফায় নিম্নমানের গম গ্রহণ করা হয়েছে। দ্বিতীয় দফায় পাঠানো গমের মধ্যে ১০ হাজার টন পচা হওয়ায় সেগুলো ফেরত নিতে বলা হয়েছে। যদিও এসব গম এখনো ফেরত যায়নি। বরং পচা গম গ্রহণের জন্য সরকারেরই উচ্চপর্যায়ের চাপ আছে। একই প্রতিষ্ঠানের পাঠানো তৃতীয়বারের গমের মধ্যেও প্রায় ১২ হাজার টনের মান প্রাথমিক পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়নি।

খাদ্য অধিদপ্তর সূত্র জানায়, গত ১৫ মে ৫২ হাজার ৫০০ টন গম নিয়ে এমভি আবু আল এবায়েদ চট্টগ্রাম বন্দরে ভেড়ে। নোঙরের পরের দিনই জাহাজের হ্যাচে থাকা গমের নমুনা সংগ্রহ করে খাদ্য বিভাগ মান পরীক্ষার পর এক নম্বর হ্যাচের প্রায় ১২ হাজার টন গম নিম্নমানের বলে প্রতিবেদন দেয়। প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, জাহাজের হ্যাচের গভীরতা ৩০-৪০ ফুট বা তারও বেশি, এত গভীর থেকে এমনকি পাঁচ-সাত ফুটের নিচ থেকেও নমুনা সংগ্রহ করার যন্ত্র তাঁদের না থাকায় গভীরের গমের মান যাচাই সম্ভব হয়নি। ফলে জাহাজের আরো বেশি পরিমাণ গম নষ্ট থাকার আশঙ্কা রয়েছে।

এর আগে গত ৩০ মার্চ এলএমজে ইন্টারন্যাশনাল এমভি হানজিন জাহাজে করে ২৬ হাজার ৫২৮ টন গম চট্টগ্রাম বন্দরের পাঠায়। প্রায় ৭২ কোটি টাকা মূল্যের এ গমের বেশির ভাগই নিম্নমানের অভিযোগ করে গম খালাসে আপত্তি জানায় চট্টগ্রাম সাইলো। তারা প্রাথমিক প্রতিবেদনে জানায়, আমদানি করা গমের মান খুবই খারাপ। বেশির ভাগ গমে পাতা গজিয়েছে। এরপর খাদ্য বিভাগ বিষয়টি তদন্তের জন্য সাত সদস্যের কমিটি করে। কমিটির সদস্যরা তদন্ত করে পচা গম না নেওয়ার সুপারিশ করেন। ওই সুপারিশে বলা হয়, গমে নষ্ট দানার পরিমাণ ৪ শতাংশ গ্রহণযোগ্য হলেও ওই জাহাজের গমে নষ্ট দানার পরিমাণ ৩১ দশমিক ৩৩ শতাংশ। গমের আপেক্ষিক ওজনও চুক্তিপত্রে উল্লেখ করা ওজনের চেয়ে কম। এ ধরনের প্রায় ১০ হাজার টন গম নষ্ট হিসেবে চিহ্নিত করে তদন্ত কমিটি। কমিটি ওই প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে চুক্তিপত্র অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়ারও সুপারিশ করে।

এ ছাড়া গত বছরের নভেম্বর মাসে একই প্রতিষ্ঠান বিকেএস জাহাজে ২৩ হাজার টন গম সরবরাহ করে। সেই গমও ছিল নিম্নমানের। ওই গমের নমুনা খাদ্য অধিদপ্তরের পরীক্ষাগার এবং পরে বাংলাদেশ বিজ্ঞান ও শিল্প গবেষণা পরিষদের পরীক্ষাগারে পাঠানো হয়। দুটো পরীক্ষার ফল দুই ধরনের হওয়ায় নিরপেক্ষ পরীক্ষার জন্য পাঠানো হয় গম গবেষণা ইনস্টিটিউটে। একপর্যায়ে নিম্নমানের সেই গমও গ্রহণ করা হয়।

ডিলার নিয়োগে অনিয়ম :
ডিলারদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, গরিবের জন্য বরাদ্দ চাল সরবরাহের কাজ (লাইসেন্স) পেতেও খাদ্য অধিদপ্তরের অধীন প্রতিষ্ঠান ঢাকা রেশনিং অফিসের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের উৎকোচ দিতে হয় ৫০ হাজার থেকে এক লাখ টাকা পর্যন্ত। এ ছাড়া প্রতি পাঁচ টন চাল তুলে নিয়ে আসতে রেশন অফিসের এআরওকে পাঁচ হাজার টাকা, পরিদর্শককে এক হাজার, গোডাউনের সরদারদের এক হাজার, গেটে ১০০ টাকা, ওজনকারীকে ১০০ টাকা (সাত হাজার ২০০ টাকা) করে উৎকোচ দিতে হয়। এতে করে ডিলাররাও অর্থ আয়ের ভিন্ন পন্থা খোঁজেন। তাঁরা পাঁচ টনের অন্তত চার টনই কালোবাজারে চড়া দামে বিক্রি করে দেন। এ ছাড়া ওজনে কারচুপিও করেন গরিব মানুষের সঙ্গে।

রাজনৈতিক চাপে চালকলের লাইসেন্স নবায়ন :
আইনি বাধ্যবাধকতা সত্ত্বেও গত বোরো মৌসুমে সরকারের সঙ্গে চাল সরবরাহের চুক্তি না করায় প্রায় আড়াই হাজার চালকলের লাইসেন্স বাজেয়াপ্ত করা হয়। কিন্তু পরে রাজনৈতিক চাপে আবার সেসব লাইসেন্স নবায়ন করা হয়েছে। কারণ হিসেবে জানা যায়, চাল ব্যবসার সঙ্গে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে জড়িত রয়েছেন সরকারের বেশ কয়েকজন এমপি ও রাজনীতিবিদ। রয়েছেন খোদ খাদ্য মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সদস্যরাও। তাঁদের মধ্যে স্থায়ী কমিটির সদস্য শেরপুর-১ আসনের এমপি আতিউর রহমান আতিক, দিনাজপুর-৩ আসনের এমপি ইকবালুর রহিম, কুড়িগ্রাম-২ আসনের এমপি (বিএনপি) মো. জাফর আলী এবং নওগাঁ-৩ আসনের এমপি আকরাম হোসেন প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে খাদ্য ব্যবসা করছেন। অথচ মন্ত্রণালয় সংশ্লিষ্ট ব্যবসার সঙ্গে প্রত্যক্ষভাবে জড়িত সংসদ সদস্যদের ওই মন্ত্রণালয়ের স্থায়ী কমিটির সদস্য হওয়ার বিষয়ে বিধিনিষেধ রয়েছে। এ কারণে পূর্ত মন্ত্রণালয়সংক্রান্ত স্থায়ী কমিটি থেকে একজন সংসদ সদস্যকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে।

উল্লেখ্য, গত বছর এসব চালকল মালিক চাল সরবরাহ না করায় সরকার অভ্যন্তরীণ বাজার থেকে সংগ্রহের লক্ষ্যমাত্রা পূরণ করতে পারেনি। এমনকি চাল না দিয়ে তাঁরা ধর্মঘট ঘোষণা করায় অনেকটা নাজেহালও হতে হয়েছিল সরকারকে। একপর্যায়ে প্রতি কেজি চালে তিন টাকা ভর্তুকি দিতেও বাধ্য হয় সরকার। এর পরও অভ্যন্তরীণ বাজার থেকে ১২ লাখ টন লক্ষ্যমাত্রার বিপরীতে ছয় লাখ টনেরও কম চাল সংগ্রহ হয়। পরিস্থিতি মোকাবিলায় বেশি দরে বিদেশ থেকে চাল আমদানি করতে হয়।

সার্বিক অভিযোগ প্রসঙ্গে খাদ্য অধিদপ্তরের ঊর্ধ্বতন এক কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, ‘মুক্তিযোদ্ধা কোটার প্রার্থীদের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য নিয়োগে বিলম্ব হয়েছে। তবে সেটিও শেষ হয়েছে গত জুনে।’ তিনি বলেন, ‘পচা গমের ব্যাপারে তদন্ত হচ্ছে। নষ্ট গম রিসিভ না করার জন্য নির্দেশনা দেওয়া আছে। আর সর্বনিম্ন দরাদাতা হওয়ায় নতুন মেশিন সরবরাহের কাজ অনিচ্ছা সত্ত্বেও তমা কনস্ট্রাকশনকে দেওয়া হয়েছে। তবে এবার মেশিন বুঝে নেওয়ার সময় সতর্ক থাকা হবে।’

খাদ্যমন্ত্রী ড. আবদুর রাজ্জাক কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘দুই নিয়োগের ফলাফল একসঙ্গে দেওয়ার লক্ষ্যেই এবার বিলম্ব হচ্ছে। আর অতীতের নিয়োগ-দুর্নীতির অভিযোগ ছিল মিডিয়ার সৃষ্টি। এবারের নিয়োগে কোনো অনিয়ম-দুর্নীতি হওয়ার সুযোগ নেই।’ মন্ত্রী দাবি করেন, বিভিন্ন দপ্তর অধিদপ্তরের মাধ্যমে কেনাকাটা হয় বলে মন্ত্রণালয়ের দুর্নীতি করার সুযোগ নেই। আর রাজনৈতিক চাপে অন্যায় করার প্রশ্নই ওঠে না। খাদ্যমন্ত্রী বলেন, ‘আমার জানামতে, মন্ত্রণালয় ও অধিদপ্তরে কোনো অনিয়ম হচ্ছে না।’ তথ্যসূত্র: কালের কন্ঠ (২৬.০৯.২০১১)

বলতে গেলে বর্তমানে বাজার অস্বাভাবিক। সরকারের সেদিকে নজর নেই বললেই চলে। সরকার আছে জনগণের সাথে সম্পর্কহীন পরাশক্তির স্বার্থ সংশ্লিষ্ট গুরুত্বপূর্ণ এজেন্ডা নিয়ে ব্যস্ত। অসহায় মানুষের লাইন বাড়ছেই। গরীবদের জন্য বরাদ্দকৃত জিনিসটুকু ক্ষমতাসীনরা নজীরবিহীনভাবে লুটেপুটে খাচ্ছে।

কাজের বিনিময়ে খাদ্য (কাবিখা) এবং টেস্ট রিলিফ (টিআর) প্রকল্পে অনিয়ম ও দুর্নীতি হচ্ছে লাগামহীনভাবে। অস্তিত্বহীন প্রকল্পের নামে হরিলুট করা হচ্ছে কোটি কোটি টাকা। উন্নয়নের নামে ক্ষমতাসীন দলের নেতাকর্মীদের মাঝে প্রকল্পের টাকা ভাগ-বাটোয়ারা করা হচ্ছে। কাবিখার চাল-গম বিক্রি হচ্ছে কালোবাজারে।। দলীয় নেতাকর্মীদের মধ্যে ভাগাভাগি নিয়ে দ্বন্দ্বের কারণে অনেক প্রকল্পের চাল-গম ফেরত গেছে। কোথাও প্রকল্পের কাজ সম্পন্ন না করে, আবার অনেক ক্ষেত্রে ৪০ ভাগ কাজ সম্পন্ন করে প্রকল্পের পুরো বিল উত্তোলন করা হয়েছে। এ ব্যাপারে খাদ্য মন্ত্রণালয়ে অভিযোগের পাহাড় জমলেও কোনো অ্যাকশন তো দূরের কথা, অভিযোগ পড়েও দেখা হয় না।

দুর্নীতি এবং ক্ষমতাসীনদের স্বেচ্ছাচারিতায় টি আর (টেস্ট রিলিফ) ও কাবিখা (কাজের বিনিময়ে খাদ্য) কর্মসূচি প্রশ্নবিদ্ধ হয়ে পড়েছে। সামাজিক নিরাপত্তার নামে এসব কর্মসূচির মাধ্যমে আসলে দলীয় নেতাকর্মীদের পকেট তাজা করা হচ্ছে।

সমপ্রতি জেলা প্রশাসক সম্মেলনে ডিসিরা দেশের বিভিন্ন টি আর এবং কাবিখা নিয়ে সীমাহীন দুর্নীতি হচ্ছে বলে অভিযোগ তুলেছেন। তারা বলেন, স্থানীয় সংসদ সদস্যরা টি আর ও কাবিখা নিয়ে অতিমাত্রায় নাক গলান। ফলে এসব প্রকল্পে অনিয়ম হলেও তারা ভূমিকা রাখতে পারছেন না। ডিসিরা জানান, সব কাগজপত্র ঠিক রেখে প্রকল্প শেষ করা হয় বলে কাজ শুরু ও শেষ করা পর্যন্ত মনিটরিং করা না হলে কাগজপত্রে দুর্নীতি প্রমাণ করা সম্ভব হয় না।

ময়মনসিংহে টি আর-কাবিখা প্রকল্পে ব্যাপক অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। এ ব্যাপারে অভিযোগ করার পরও কোনো ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে না বলে খাদ্য মন্ত্রণালয় সূত্র জানিয়েছে। সূত্র জানায়, দরিদ্র জনগোষ্ঠীর জন্য বরাদ্দ খাদ্যশস্য ও টাকা ময়মনসিংহে দলীয় বিবেচনায় সরকারি দলের এমপি বা উপজেলা চেয়ারম্যানের আস্থাভাজন লোকদের মাঝে বণ্টন করে দেয়া হয়। এছাড়া এমপিদের দেয়া তালিকা অনুযায়ী অনেক অস্তিত্বহীন প্রতিষ্ঠানের নামেও বরাদ্দ দেয়া হয়েছে। এ নিয়ে বিভিন্ন উপজেলায় ক্ষমতাসীন দলের লোকদের মধ্যেই সংঘর্ষ ও মামলার ঘটনা ঘটেছে।

গ্রামীণ অবকাঠামো সংস্কার (টেস্ট রিলিফ, টি আর) ও গ্রামীণ অবকাঠামো রক্ষণাবেক্ষণ (কাজের বিনিময়ে খাদ্য-কাবিখা) কর্মসূচির আওতায় গত দুই বছরে ময়মনসিংহের ১২টি উপজেলায় ৩৩ হাজার ৩১৬ মেট্রিক টন খাদ্যশস্য (চাল বা গম) বরাদ্দ দেয়া হয়। এছাড়া অতি দরিদ্রদের জন্য নেয়া কর্মসংস্থান প্রকল্পের (কাজের বিনিময়ে টাকা-কাবিটা) বরাদ্দ দেয়া হয় ১০৭ কোটি টাকা।

এর মধ্যে ভাগবাটোয়ারা নিয়ে এমপি ও উপজেলা চেয়ারম্যানের দ্বন্দ্বের কারণে ৬১৮ মেট্রিক টন খাদ্যশস্য ও ৬ কোটি ৬৫ লাখ টাকা ফেরত গেছে। সূত্র জানায়, ২০১০-১১ অর্থবছরে গৌরীপুর উপজেলায় স্থানীয় এমপি ও স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী মজিবুর রহমান ফকিরের চিঠির পরিপ্রেক্ষিতে ১৯টি প্রকল্পের জন্য টি আর কর্মসূচি থেকে ২০ মেট্রিক টন খাদ্যশস্য এবং ১৫টি প্রকল্পের জন্য ৯ লাখ ৪০ হাজার টাকা বরাদ্দ দেয়া হয়। এর মধ্যে অন্তত ১৩টি প্রকল্পের কোনো অস্তিত্ব নেই বলে গৌরীপুর পৌরসভার মেয়র সৈয়দ রফিকুল ইসলাম গত ৩০ জুন জেলা প্রশাসকের কাছে লিখিত অভিযোগ করেন। এমপিদের দেয়া তালিকা অনুযায়ী, গৌরীপুর ইউনিয়নের গজন্দর খেলাঘরের নামে ৬০ হাজার টাকা, শাহবাজপুর ছাত্রকল্যাণ সমিতির নামে তিন টন গম ও পূর্ব শালীহর গ্রামের ভাই ভাই সংঘকে তিন টন গম দেয়া হয়েছে। অথচ ওই এলাকায় এসব প্রতিষ্ঠানের কোনো অস্তিত্ব পাওয়া যায়নি। ভাই ভাই সংঘ নামের ক্লাবটির একটি সাইনবোর্ড ছাড়া আর কিছুই নেই।

একই ইউনিয়নের শাহবাজপুর ফোরকানিয়া মাদ্রাসার নামে ৬০ হাজার টাকা দেয়া হয়। ওই প্রতিষ্ঠানের সভাপতি আবুল কাশেম জানান, ৬০ হাজার টাকা সরকারি বরাদ্দের বিষয়ে তিনি কিছু জানেন না। বাকাইনগর ইউনিয়নের তেলিহাটি ইকরা কিন্ডারগার্টেন অ্যান্ড কোচিং সেন্টার ও গৌরীপুর পৌর এলাকার ভার্টেক্স টিচিং পয়েন্টকে ৬০ হাজার টাকা করে বরাদ্দ দেয়া হয়েছে। এ কোচিং সেন্টারে গিয়ে কোনো উন্নয়ন কাজ চোখে পড়েনি। স্থানীয় জনগণ জানান, এখানে কোনো উন্নয়ন কাজ হয়নি। ভার্টেক্সের পরিচালক জানান, কাবিটা কর্মসূচির অধীন এ সরকারি বরাদ্দের বিষয়ে তিনি কিছুই জানেন না।

এদিকে সরকারি এসব বরাদ্দ নিয়ে দুর্নীতির প্রতিবাদে এবং প্রকল্প ও টাকা বিতরণ বন্ধের দাবিতে গত ২৯ জুন গৌরীপুর পৌর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক রওশন সারোয়ারের নেতৃত্বে দলটির একাংশ উপজেলা চত্বরে মিছিল বের করে। তখন আওয়ামী লীগের অপর একটি অংশ প্রকল্প অনুমোদন ও টাকা বিতরণের দাবিতে পাল্টা মিছিল বের করলে দু’পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ বেধে যায়। ঘণ্টাব্যাপী ওই সংঘর্ষে দু’পক্ষের ৫০-৬০ জন আহত হন। এ সময় বেশ কিছু মোটরসাইকেল ও গাড়ি ভাঙচুর হয়। পরে পুলিশ এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করে। ওই হামলার ঘটনায় গত ৩ জুলাই ময়মনসিংহ প্রেসক্লাবে গৌরীপুর উপজেলা চেয়ারম্যান, পৌর মেয়র ও উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক যৌথভাবে সংবাদ সম্মেলন করেন। তারা টি আর, কাবিটা ও কাবিখার বরাদ্দ বণ্টনে অনিয়মের জন্য প্রতিমন্ত্রীকে দোষারোপ করেন।

স্থানীয় একটি সূত্র জানায়, গত বছরের ডিসেম্বর মাসে ধোবাউড়া উপজেলার রাঘবেড় ইউনিয়নে ছবি জালিয়াতি করে ছাত্রলীগ কর্মী আজহারুল ইসলাম অতি দরিদ্রদের জন্য নেয়া কর্মসৃজন কর্মসূচির টাকা তুলে নেন। এ ঘটনার প্রতিবাদ করায় আজহারুল দলবল নিয়ে ওই ইউনিয়ন যুবলীগের পরিবেশ বিষয়ক সম্পাদক মোজাম্মেল হোসেনকে পিটিয়ে পা ভেঙে দেন। মোজাম্মেল তখন আজহারুলসহ ১১ জনকে আসামি করে ধোবাউড়া থানায় মামলা করেন।

সূত্র জানায়, বাঘবেড় ইউনিয়নের কর্মসৃজন কর্মসূচির শ্রমিকদের জন্য মুন্সীরহাট জনতা ব্যাংকে হিসাব খোলা হয়। শ্রমিকদের নামের তালিকায় সেকান্দর মিয়ার নামের বিপরীতে ছবি দেয়া হয় ছাত্রলীগের কর্মী আজহারুলের। তার ভাই কামরুলকেও ওই প্রকল্পের শ্রমিক হিসেবে দেখানো হয়। তারা প্রত্যেকেই ১২ হাজার টাকা করে উত্তোলন করেন। স্থানীয়রা অভিযোগ করেন, বাঘবেড় ইউনিয়নে গত বছরের কর্মসৃজন কর্মসূচিতে ৩৩৩ জন শ্রমিকের মধ্যে দুই শতাধিক ভুয়া শ্রমিকের নাম দিয়ে টাকা উত্তোলন করা হয়। ওই প্রকল্পে উপজেলার বাঘবেড় গ্রামের যুবলীগ নেতা আবদুস সাত্তার শ্রমিকের তালিকায় তার নিজের নামসহ তার চার ভাই, চার ভাইয়ের স্ত্রী, দুই ভাতিজা এবং তিন চাচাতো ভাই ও তাদের স্ত্রীসহ ১৭ জনের নামে ব্যাংক হিসাব খুলে টাকা উত্তোলন করেছেন। ফুলপুর ডিগ্রি কলেজের ছাত্র কায়সার আহাম্মেদও শ্রমিক হিসেবে টাকা উত্তোলন করেন। এছাড়া গত বছর অতিদরিদ্র জনগোষ্ঠীর উন্নয়ন (ভিজিডি) প্রকল্পের অধীনে বরাদ্দ দেয়া অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ জানিয়ে জেলা প্রশাসককে চিঠি দিয়েছেন ধোবাউড়ার ৩ নম্বর সদর ইউনিয়নের ৩৭৬ জন সদস্য।

উত্তরাঞ্চলে লুটপাট :
বগুড়ার শেরপুর উপজেলায় গ্রামীণ অবকাঠামো সংস্কারে কাজের বিনিময়ে খাদ্যশস্য (কাবিখা) প্রকল্পে নানা অনিয়ম, দুর্নীতির মাধ্যমে খাদ্যশস্য হরিলুট করার পাঁয়তারা চলছে বলে অভিযোগ উঠেছে। প্রথম কিস্তির খাদ্যশস্য উত্তোলন না করেই প্রকল্প কাজ নামমাত্র সম্পন্ন করা, শ্রমিকদের খাদ্যশস্যের পরিবর্তে স্বল্প মজুরি প্রদান, কাজ চলাকালীন প্রকল্প এলাকায় সাইনবোর্ড প্রদর্শন না করা, জোরপূর্বক মাটি কেটে কৃষকের ফসল নষ্ট করাসহ নানা অনিয়ম চলছে। বগুড়ায় চলতি অর্থবছরে টি আরের কাজ শুরু না করে শুধু প্রকল্প তালিকা জমা দিয়েই প্রায় সাড়ে ৬ হাজার মেট্রিক টন গম উত্তোলন করা হয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে। যার আনুমানিক মূল্য ১২ কোটি টাকা। অপরদিকে কাজের বিনিময়ে খাদ্য কর্মসূচি (কাবিখা) প্রকল্পের কাজ গড়ে ৪০ শতাংশ করেই শতভাগ বিল উত্তোলন করা হয়েছে। জুন ক্লোজিংয়ের অজুহাতে এ দুই খাতে বরাদ্দ দেয়া চাল ও গম ৩০ জুনের মধ্যে উত্তোলন সম্পন্ন করা হলেও প্রকল্পের কাজ শেষ হয়নি। বগুড়া-৭ (গাবতলী-শাজাহানপুর) এলাকার দায়িত্বপ্রাপ্ত এমপি তারানা হালিমের নামে ১০০ মেট্রিক টন গম বরাদ্দ দিলে ওই গমের বিপরীতে প্রকল্প নিয়ে লুটপাটের অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে তিনি তার বরাদ্দ স্থগিত রেখে পুনরায় প্রশাসনের মাধ্যমে প্রকল্প দাখিলের জন্য সংশ্লিষ্ট মন্ত্রীর কাছে ১৭ জুন চিঠি দেন। ওই চিঠির পর আবার নতুন করে প্রকল্প তালিকা করা হলেও মাঠপর্যায়ে এখনও কাজে হাত না দিয়েই ওই গমও উত্তোলন করা হয়েছে।

ত্রাণ ও পুনর্বাসন অধিদফতরের অধীনে বগুড়ার শেরপুর উপজেলায় ২০১০-১১ অর্থবছরে গ্রামীণ অবকাঠামো সংস্কারের (কাবিখা) অনুকূলে ১৬৮ মেট্রিক টন গম বরাদ্দ দেয়া হয়। এজন্য উপজেলার ৯টি ইউনিয়নে জনসংখ্যা ও আয়তনের ভিত্তিতে মোট ১৪টি প্রকল্প হাতে নেয়া হয়। যার বেশিরভাগই রাস্তা সংস্কার ও মাটি ভরাটের কাজ। ৪নং খানপুর ইউনিয়নের ভাটরা মধ্যপাড়া করতোয়া নদী থেকে (মির্জাপুর-খানপুর পাকা রাস্তা) ভীমজানি উচ্চবিদ্যালয় পর্যন্ত রাস্তা সংস্কার প্রকল্পে ১০ টন গম বরাদ্দ দেয়া হলেও প্রথম কিস্তির খাদ্যশস্য উত্তোলনের আগেই মাটি কাটার কাজ শ্রমিকদের সঙ্গে চুক্তির মাধ্যমে গত ১২ ফেব্রুয়ারি নামমাত্র সম্পন্ন করা হয়েছে। এলাকাবাসীর অভিযোগ, কাজ চলাকালীন প্রকল্প এলাকায় প্রকল্পের তথ্যসংবলিত কোনো সাইনবোর্ড প্রদর্শিত হয়নি। অথচ পরিপত্রের ১৮ অনুচ্ছেদে বলা রয়েছে, প্রত্যেক প্রকল্প এলাকায় প্রকল্পের যাবতীয় তথ্যসংবলিত একটি ৫ ফুট বাই ৩ ফুট বাংলায় লিখিত সাইনবোর্ড স্থাপন করতে হবে, যাতে প্রকল্পের নাম, দৈর্ঘ্য, কাজ আরম্ভের তারিখ, শেষ হওয়ার তারিখ, বরাদ্দের পরিমাণ, অনুমোদিত কাজের বিবরণ, প্রকল্প চেয়ারম্যানের নাম সহ যাবতীয় তথ্য থাকবে। এলাকাবাসীর অভিযোগ, ওই প্রকল্পের চেয়ারম্যান ইউপি সদস্য নুরুল ইসলাম নুরু নিয়মনীতির তোয়াক্কা না করে খাদ্যশস্যের ডিইও উত্তোলন করার আগে শ্রমিকদের নগদ টাকা দিয়ে নামমাত্র কাজ শেষ করেছে। বরাদ্দকৃত ১০ মেট্রিক টন গম দিয়ে যে পরিমাণ মাটির কাজ করার কথা তার চার ভাগের এক ভাগ কাজও হয়নি। এছাড়া প্রকল্প এলাকায় পার্শ্ববর্তী জমির মালিকদের আবাদ নষ্ট করা হয়েছে। এ বিষয়ে এলাকার মোহাম্মাদ আলীর ছেলে কৃষক জাহিদুল ইসলাম শেরপুর থানায় লিখিত অভিযোগও দায়ের করেছেন।

রাজশাহীর মোহনপুর উপজেলার পরিজুনপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ভবন রক্ষার্থে টি আরের ধার বাঁধাই প্রকল্পের কাজটি করার জন্য সেখানকার এমপি মেরাজ উদ্দিন মোল্লা প্রকল্প সভাপতি হিসেবে মনোনীত করেন তার ঘনিষ্ঠ ওবাইদুর রহমান নামের এক ব্যক্তিকে। তিনি একই সঙ্গে কাবিখা থেকে ৬ টন এবং টি আর থেকে ৫ টন গম বরাদ্দ নিয়ে আত্মসাত্ করেন বলে এলাকাবাসী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে লিখিত অভিযোগ করেছেন।

গত ২৬ মার্চ জেলার শিবগঞ্জ এলাকার দায়িত্বপ্রাপ্ত এমপি শাহীন আরা বেগম টি আর ও কাবিখার চালের ভাগবাটোয়ারা নিয়ে স্থানীয় দলীয় নেতাকর্মীদের তোপের মুখে পড়েন। স্থানীয় আওয়ামী লীগের একটি অংশ দাবি করে তাদের মাধ্যমে চাল বরাদ্দ দিতে। এতে এমপি রাজি না হলে তাকে লাঞ্ছিত করা হয়।

নওগাঁয় কাবিখা-টি আর প্রকল্পের সাধারণ ও বিশেষ বরাদ্দের চাল-গম ৩০ জুনের মধ্যে বিতরণ ও কাজ সম্পন্ন করার কথা বলা হলেও স্থানীয় সরকার প্রকৌশল বিভাগের এডিপির প্রায় ১১ লাখ টাকা ফেরত গেছে বলে জানা গেছে। এদিকে কাবিখা-টি আর প্রকল্পের ডিও তুলতে শেষ মুহূর্তে পিআইও অফিসগুলোতে হিড়িক পড়ে। এতে করে নির্ধারিত প্রকল্পের কাজ শতভাগ সম্পন্ন হয়েছে কিনা তা নিয়ে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। নীলফামারীর ডিমলায় ১ হাজার ৪৯০ মেট্রিক টন চাল ও গম নিয়ে অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। অধিকাংশ কাবিখা-টিআর প্রকল্পের সভাপতি ও সেক্রেটারিরা রাস্তা, বিদ্যালয়ের মাঠে মাটি ভরাট, বিদ্যালয়ের আসবাবপত্র, মসজিদ, মন্দির সংস্কারের নামে লুটপাট করেছে। মোটা অঙ্কের উেকাচ নিয়ে উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন অফিসার এসব কাজের ভুয়া বিল-ভাউচারে স্বাক্ষর করেছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। ডিমলা সদরের ইউনিয়ন পরিষদের পাশে একটি পুকুর ডোবা হিসেবে দেখিয়ে ১০ জুন সাধারণ কাবিখার ২৩ মেট্রিক টন গম তুলে ভরাট কাজ শুরু করা হয়। কাজের বিনিময়ে খাদ্যের এই প্রকল্পে মাটি ভরাট কাজে কোনো দুস্থ শ্রমিককে না লাগিয়ে ট্রলি দিয়ে মাটি ভরাটের অভিযোগ পাওয়া গেছে।

পাবনার সাঁথিয়ায় এবং রাজশাহীর তানোরে কাজের বিনিময়ে খাদ্য কর্মসূচিতে নানা অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছে। সূত্র জানায়, পাবনার সাঁথিয়া উপজেলায় চলতি অর্থবছরে ত্রাণ ও পুনর্বাসন অধিদফতরাধীন কাজের বিনিময়ে খাদ্য কর্মসূচিতে ব্যাপক অনিয়ম, দুর্নীতি ও লুটপাট চলছে। বরাদ্দকৃত চাল কালোবাজারে বিক্রি করে দিয়ে নগদ টাকায় প্রকল্পের কাজ চলছে ম্যাথলজি বহির্ভূতভাবে। ফলে এক মুঠো চালও মেলেনি শ্রমিকদের ভাগ্যে।

পীরগঞ্জে টি আর-কাবিখা প্রকল্পের সাড়ে ৮ কোটি টাকার হিসাব মিলছে না : পীরগঞ্জে আওয়ামী লীগ সরকারের আড়াই বছরে টি আর-কাবিখা প্রকল্পে ৪ হাজার ৩৫০ টন খাদ্যশস্য ও টি আর-কাবিটা প্রকল্পে নগদ ১ কোটি ৭৭ লাখ টাকাসহ মোট বরাদ্দের ৯ কোটি ৬০ লাখ টাকার হিসাব মিলছে না। এই বিপুল পরিমাণ বরাদ্দের বিপরীতে ২ হাজার ২০০টি প্রকল্প দাখিল করা হয়। শুরু থেকে বরাদ্দের টাকা হরিলুটের অভিযোগ ওঠে। ভুয়া প্রকল্প দাখিল, একই প্রতিষ্ঠানের নামে একাধিক বরাদ্দ, ক্ষমতাসীন দলের মনোনীত ডিও ব্যবসায়ী সিন্ডিকেটের হাতে প্রকল্প সভাপতিদের জিম্মি করা, দলীয় তহবিল গঠনের নামে অর্থ কাটাসহ নানা অনিয়ম ও দুর্নীতির ফলে টি আর-কাবিখা-কাবিটা প্রকল্পের কাজ নিয়ে মোটেও সন্তুষ্ট নন এলাকাবাসী। জানা গেছে, ২০০৮-০৯ অর্থবছরে টি আর (সাধারণ) ৪৯৫ টন ও টি আর (বিশেষ) প্রথম দফায় ২৫০ টন এবং দ্বিতীয় দফায় ৩৭.৫ টনসহ মোট ২৮৭.৫ টন এবং কাবিখা (সাধারণ) ৫৬০ টন বরাদ্দসহ মোট ১৩৪২.৫ টন খাদ্যশস্য বরাদ্দ দেয়া হয়, যার বিপরীতে ৬৩৫টি প্রকল্প দাখিল করা হয়। অন্যদিকে ২০০৯-১০ অর্থবছরে বছরে টি আর (সাধারণ) প্রথম দফায় ৪৪৫ টন এবং দ্বিতীয় দফায় ২২৬ টনসহ মোট ৭১১ টন এবং টি আর (বিশেষ) প্রথম দফায় ৩৫০ টন ও দ্বিতীয় দফায় ৩৫০ টনসহ মোট ৭০০ টন এবং কাবিখা (সাধারণ) প্রথম দফায় ৬০৬ টন ও দ্বিতীয় দফায় ২৬৭ টন, মোট ৮৭৩ টন বরাদ্দসহ সর্বমোট ২ হাজার ২৮৪ টন খাদ্যশস্য বরাদ্দ দেয়া হয়। এর বিপরীতে ১২৬৮টি প্রকল্প দাখিল করা হয়। সর্বশেষ ২০১০-১১ অর্থবছরে টি আর (সাধারণ) ২৬১ টন, টি আর ১০০ টন ও কাবিখা (সাধারণ) ২১৩ টন এবং টি আর (নগদ) ৮৭ লাখ টাকা ও কাবিটা ৯০ লাখ টাকা বরাদ্দ পাওয়া যায়। হিসাব মতে, নগদ ১ কোটি ৭৭ লাখ ছাড়া খাদ্যশস্য বরাদ্দের পরিমাণ ৪ হাজার ৩৫০.৫ টন। নগদ অর্থ ও খাদ্যশস্য মিলিয়ে টাকার হিসাবে বরাদ্দের পরিমাণ প্রায় ৯ কোটি ৬০ লাখ টাকা। ওই বিশাল পরিমাণ বরাদ্দের ২ হাজার ২০০টির মতো প্রকল্প বাস্তবায়ন হওয়ার কথা। অনুসন্ধানে জানা যায়, ২০০৮-০৯ অর্থবছরের অর্ধেক সময় ছাড়া আড়াই বছরে পীরগঞ্জে অন্যান্য উপজেলার চেয়ে টিআর-কাবিখার বরাদ্দ দেয়া হয় অনেক বেশি। ২০০৮-১১ সালের জুন পর্যন্ত ৯ কোটি ৬০ লাখ টাকার মধ্যে প্রায় সাড়ে ৮ কোটি টাকা আসে বর্তমান সরকারের আমলে। আড়াই বছরে টি আর-কাবিখা প্রকল্পের ৮ কোটি টাকার বিপরীতে তেমন উল্লেখযোগ্য কোনো কাজ হয়নি বলে একাধিক মহল দাবি করেছে। তাদের মতে, সরকারি বরাদ্দের সিংহভাগ উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা ম. মশফিকুর রহমানের সহযোগিতায় ক্ষমতাসীন দলের একটি সিন্ডিকেট হরিলুট ও ভাগবাটোয়ারা করে নিয়েছে। ক্ষমতাসীন দলের একটি সিন্ডিকেট ভুয়া প্রকল্প, ভুয়া কমিটি দেখিয়ে অধিকাংশ বরাদ্দ লুটপাট করেছে বলে অভিযোগ রয়েছে। একই প্রতিষ্ঠানের নামে একাধিকবার বরাদ্দ দেখিয়ে ওই বরাদ্দের সমুদয় অর্থ আত্মসাত্ করেছে তারা। অধিকাংশ প্রকল্পের বিপরীতে গঠিত প্রকল্প কমিটি ছিল কাগজে-কলমে। অনেক কমিটির সভাপতি জানেন না প্রকল্পের কোনো তথ্য। এমনকি তিনি যে সভাপতি তাও জানেন না। সিন্ডিকেটের নেতারা নিজেরা স্বাক্ষর করে গুদাম থেকে মালামাল তুলে কালোবাজারে বিক্রি করে দিয়েছেন।

সাতক্ষীরা : সাতক্ষীরা সদর উপজেলায় কাজের বিনিময়ে খাদ্য প্রকল্পে (কাবিখা) কাজ না করে কিংবা কোথাও নামমাত্র কাজ করে ভুয়া মাস্টাররোল তৈরির মাধ্যমে ২১৮ টন গম লুটপাট করা হয়েছে বলে অভিযোগ এসেছে খাদ্য মন্ত্রণালয়ে। এতে বলা হয়, প্রকল্পের সভাপতিরা এসব গম উত্তোলন করে কালোবাজারে বিক্রি করে দিয়েছে। অভিযোগে বলা হয়, সাতক্ষীরা সদর উপজেলায় ১৪টি ইউনিয়নে ১৪টি প্রকল্প গ্রহণ করা হয়। প্রকল্পের মধ্যে রয়েছে খাল খনন ও কাঁচা রাস্তা সংস্কার। এসব প্রকল্পের বিপরীতে ২১৮ টন গম বরাদ্দ দেয়া হয়।

সাতক্ষীরা সদরের ঝাউডাঙ্গা ইউনিয়নের ভাংড়া খালের গোবিন্দকাঠি ব্রিজের পাশ থেকে খাল খননের জন্য একটি প্রকল্প গ্রহণ করা হয়। এজন্য বরাদ্দ দেয়া হয় ১৬ টন গম। কিন্তু টাকা আত্মসাতের জন্য খালের ভিতরের মাটি কেটে খালের পাশেই ফেলা হয়েছে। এর ফলে আগে যে পরিমাণ খাল চওড়া ছিল মাটি ফেলার ফলে তা আরও ছোট হয়ে এসেছে। নামমাত্র মাটি কেটে খালে পানি ঢুকিয়ে দেয়া হয়েছে। ১৬ টন গমের মধ্যে মাত্র ৫ টন গমের কাজ করা হয়েছে এখানে। এদিকে সাতক্ষীরায় টি আর প্রকল্পে বরাদ্দকৃত সরকারি সাহায্য সময়মত বিতরণ না করার কারণে জেলার অনেক শিক্ষা, ধর্মীয় ও সামাজিক প্রতিষ্ঠান সরকারি সাহায্য পাওয়া থেকে বঞ্চিত হয়েছে। ৩০ জুনের মধ্যে টি আর প্রকল্পের কাজ শেষ দেখাতে হবে। এ কারণে প্রায় সাড়ে ১২শ’ মেট্রিক টন গমের কাজে তড়িঘড়ি প্রকল্প তৈরি করে কাগজে-কলমে বিতরণ এবং প্রকল্পের কাজ শেষ দেখানো হয়েছে। শুধু তাই নয়, প্রকল্পে বরাদ্দকৃত এসব গম সরকারি গুদাম থেকে গভীর রাত পর্যন্ত উত্তোলনের পর তা ট্রাকভর্তি করে বাইরে আনা হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। গত বছর আইলায় সাতক্ষীরা জেলায় ১৩৬টি শিক্ষা ও ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান সম্পূর্ণ এবং ৫৯৮টি প্রতিষ্ঠান আংশিক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এছাড়া আইলায় জনকল্যাণমূলক সহস্রাধিক প্রতিষ্ঠান ক্ষতিগ্রস্ত হয়। এক বছর অতিবাহিত হলেও ক্ষতিগ্রস্ত অধিকাংশ প্রতিষ্ঠান এখনও সংস্কার করা হয়নি। সরকারের টি আর প্রকল্পের আওতায় আইলায় ক্ষতিগ্রস্ত প্রতিষ্ঠানের সংস্কার কাজের জন্য পর্যাপ্ত বরাদ্দ পাওয়া গেছে, অথচ সময়মত তা ক্ষতিগ্রস্ত শিক্ষা ও ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের নামে বরাদ্দ দেয়া হয়নি।

খুলনা : খুলনার ডুমুরিয়া উপজেলার গুটুদিয়া থেকে বান্দা গ্রাম পর্যন্ত কার্পেটিং করা রাস্তার দু’পাশে মাটি দেয়ার জন্য কাজের বিনিময়ে খাদ্য (কাবিখা) কর্মসূচির আওতায় প্রায় দেড় মাস আগে ৬ মেট্রিক টন চাল বরাদ্দ দেয়া হয়। ২ হাজার ৫০০ ফুট দৈর্ঘ্যের ওই রাস্তার দু’পাশে দেড় ফুট করে জায়গায় আড়াই ফুট উঁচু করে মাটি দেয়ার কথা ছিল। কিন্তু কোনোমতে অল্প পরিমাণ মাটি দিয়ে ওই প্রকল্পের কাজ শেষ করা হয়েছে। দাকোপ উপজেলার ৯টি ইউনিয়নে ১২টি বিশেষ প্রকল্প বাস্তবায়নে কাবিখার ৪৬ লাখ টাকা হরিলুট হয়েছে বলে খাদ্য মন্ত্রণালয়ে অভিযোগ এসেছে। উপজেলার ৯টি ইউনিয়নের ক্ষমতাসীন দলের নেতাদের মাঝে ৪৬ লাখ টাকার ১২টি প্রকল্প দেখিয়ে টাকা বণ্টন করা হয়। প্রকল্পে বরাদ্দ দেয়া টাকার ২০ ভাগও খরচ না করে চলতি জুনে চূড়ান্ত বিল করে লাখ লাখ টাকা ভাগাভাগি করে নেয়া হচ্ছে বলে জানা গেছে।

পিরোজপুর জেলায় ভুয়া প্রকল্প দিয়ে চাল আত্মসাত্, প্রকল্পে বরাদ্দকৃত খাদ্যশস্যের কাজ না করে বা নামমাত্র কাজ করা, খাদ্যের বিনিময়ে কাজ না করে সব চাল-গম বিক্রি করে দেয়াসহ নানা অনিয়ম-দুর্নীতির আশ্রয় নিয়ে টি আর-কাবিখা প্রকল্পের চাল-গম একটি সিন্ডিকেট লুটে নিয়েছে। বরগুনার পাথরঘাটা উপজেলার ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যানদের দায়িত্বহীনতার কারণে দ্বিতীয় দফা সময় বাড়ানোর পরেও টি আরের (টেস্ট রিলিফ) ২৫৫ মেট্রিক টন গম ফেরত গেছে। কুড়িগ্রামের রাজারহাট উপজেলায় টি আর কাবিখা কাবিটা প্রকল্পের কাজের অর্ধেক টাকা কর্তৃপক্ষের পকেটে রেখেই কাজ শেষে করা হয়েছে।

গোপালগঞ্জে নামমাত্র কাজ করেই কাবিখা প্রকল্পের সিপিসিরা টাকা আত্মসাত্ করেছেন। কাবিখার মাটির কাজে সবচেয়ে বেশি দুর্নীতি করা হয়েছে। খাল খননের নামে কোনো রকমে পাড়ের ঘাস পরিষ্কার করা হয়েছে। গ্রামের মাটির রাস্তা তৈরি, মেরামত ও সংরক্ষণের কাজ তেমন হয়নি। টি আর ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান ও ক্লাবের নামে বরাদ্দ দেয়া হয়। সেখানে উন্নয়নের কাজ করা হয়নি বলে অভিযোগ উঠেছে। অথচ জেলা ত্রাণ ও পুনর্বাসন অফিস কাবিখায় ৯৯ দশমিক ৭৩ ভাগ ও টি আরে ৯৯ দশমিক ৯৭ ভাগ কাজ হয়েছে বলে রিপোর্ট দিয়েছে। ফরিদপুরের বিভিন্ন উপজেলায় টেস্ট রিলিফ (টি আর) ও কাজের বিনিময়ে খাদ্য কর্মসূচির (কাবিখা) সর্বশেষ বিভিন্ন প্রকল্পের জন্য বরাদ্দকৃত চাল ও গমের টাকা বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের উন্নয়নের নামে উত্তোলন করা হলেও অনেক প্রকল্পেই কোনো কাজই হয়নি। প্রকল্পের চাল ও গমের ডিও বিক্রি করে নগদ টাকা ভাগবাটোয়ারা করে নিয়েছেন উপজেলার পিআইও, নির্বাহী কর্মকর্তা ও আওয়ামী লীগ নেতারা। চারঘাট উপজেলায় এমপির বরাদ্দকৃত কাবিখা এবং টি আর প্রকল্পে কাজ না করেই কিছু দলীয় নেতাকর্মী ভুয়া প্রকল্প দেখিয়ে অর্থ আত্মসাত্ করে নিয়েছে অভিযোগ পাওয়া গেছে। চারঘাট উপজেলার ইউসুফপুর এলাকার কাবিখা প্রকল্পের অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ করেছেন ওই প্রকল্প কমিটির সদস্যরা। সম্প্রতি কমিটির সদস্যরা চারঘাট বাস্তবায়ন কর্মকর্তা বরাবর অভিযোগ জানান।

জামালপুর জেলায় কাবিখা প্রকল্পের বিপরীতে বরাদ্দকৃত গম প্রকাশ্যে চলে গেছে কালোবাজারি সিন্ডিকেটের কব্জায়। অভিযোগ রয়েছে, এসব গম সরকারি খাদ্যগুদাম থেকে ট্রাকে সরাসরি চলে গেছে কালোবাজারিদের গুদামে। অভিযোগ রয়েছে, সরকারি নিয়মনীতির তোয়াক্কা না করে জেলা সদরসহ ৭ উপজেলাতেই অধিকাংশ প্রকল্পের নামমাত্র কাজ করানো হয়েছে টাকার বিনিময়ে। আর বরাদ্দকৃত কোটি কোটি টাকার গম বিক্রি করে দেয়া হয় কালোবাজারিদের কাছে। আর শত ভাগ মাটিকাটা সম্পন্ন দেখিয়ে ভুয়া টিপসইসহ জাল মাস্টাররোল পিআইও অফিসে জমা দিয়ে বরাদ্দের প্রায় সব গম ছাড় করিয়ে নেয়া হয়। মুক্তাগাছায় একই মসজিদ ও প্রতিষ্ঠানের নামে একাধিক প্রকল্প দেখিয়ে পুরো প্রকল্পটিই হরিলুট করেছেন স্থানীয় নেতাকর্মীরা। প্রকল্প হরিলুট নিয়ে বিভিন্ন এলাকায় সালিশ-দরবারে অপ্রীতিকর ঘটনাও ঘটেছে।

নাটোরের বড়াইগ্রামে কাবিখা প্রকল্পে সরকারদলীয় নেতাদের বিরুদ্ধে কোটি টাকা বাণিজ্যের অভিযোগ পাওয়া গেছে। তারা বিভিন্ন ওয়ার্ডের মেম্বারদের কাছ থেকে টনপ্রতি আড়াই থেকে তিন হাজার টাকা করে অগ্রিম আদায় করেছেন। বড়াইগ্রাম উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন অফিস সূত্রে জানা যায়, বড়াইগ্রাম উপজেলার মোট ৩৬টি প্রকল্পের বিপরীতে কাজের বিনিময়ে খাদ্য কর্মসূচির আওতায় মোট ৪২৮.৫৬২ মেট্রিক টন চাল বরাদ্দ দেয়া হয়েছে। তার মধ্যে বড়াইগ্রাম ইউনিয়নে ৬৯.৮৯৭ মেট্রিক টন, জোনাইল ইউনিয়নে ৫৯.৬০২ মেট্রিক টন, মাঝগাঁও ইউনিয়নে ৬৬.০৪৪ মেট্রিক টন, গোপালপুর ইউনিয়নে ৪৬.০৪৬ মেট্রিক টন, চান্দাই ইউনিয়নে ৩৯.১২৯ মেট্রিক টন, জোয়াড়ি ইউনিয়নে ৭২.৪৯২ মেট্রিক টন ও নগর ইউনিয়নে ৭৫.৩৫২ মেট্রিক টন (অননুমোদিত) চাল বরাদ্দ দেয়া হয়েছে। এ সুযোগে সরকারি দলের কিছু নেতা মেম্বার-চেয়ারম্যানদের কাছ থেকে কোটি টাকারও বেশি হাতিয়ে নিয়েছেন বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।

নগর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান ও আওয়ামী লীগ নেতা নওশাদ আলপু নেতাদের এরকম বেপরোয়া চাঁদাবাজি ঠেকাতে ব্যর্থ হয়ে ক্ষোভে-দুঃখে কোনো প্রকল্প তালিকা জমা দেননি। পরে এ নেতারা তার সঙ্গে আপস করার পর তিনি প্রকল্প তালিকা জমা দিয়েছেন।

বাঁশের মাচাকে প্রকল্প দেখিয়ে টি আর বরাদ্দ :
রাজশাহীর বাঘা উপজেলার তেঁথুলিয়া গ্রামে রাস্তার একপাশে চারদিক খোলা একটি ছোট বাঁশের মাচা। চারটি বাঁশের খুঁটির ওপর টিনের ছাউনি। এ বাঁশের মাচাকেই ‘ফজিলাতুননেছা স্মৃতি সংসদ’ বানিয়ে টেস্ট রিলিফের (টি আর) দুই টন গম বরাদ্দ নেয়া হয়েছে। শুধু এ বাঁশের মাচা নয়, পুরো বাঘা উপজেলায় এমন অনেক অস্তিত্বহীন প্রতিষ্ঠানের নামে টিআরের বরাদ্দ দেয়া হয়েছে। বাঘা ছাড়া আরও ৩ উপজেলায় একই চিত্র। কাজের বিনিময়ে খাদ্য কর্মসূচিতেও (কাবিখা) অভিযোগ উঠেছে বিস্তর অনিয়মের। সরকারদলীয় বিভিন্ন সংগঠনের নেতাকর্মীদের নামে-বেনামে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান ও প্রকল্পে এসব বরাদ্দ দেয়ার কারণে প্রকল্পের উদ্দেশ্যই ভেস্তে গেছে।

বাঘার তেঁথুলিয়া গ্রামের সেই বাঁশের মাচার প্রতিষ্ঠানটি মার্চের শুরুতে তড়িঘড়ি গড়ে তোলা হয়। এরপর ‘ফজিলাতুননেছা স্মৃতি সংসদ’ নাম দিয়ে পাশে ঝুলিয়ে দেয়া হয় একটি সাইনবোর্ড। স্থানীয়ভাবে আওয়ামী লীগের রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত রেজাউল করিমকে এর সভাপতি দেখিয়ে বাঘা উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তার (পিআইও) কার্যালয়ে প্রকল্প দাখিল করা হয়। এরপর সেই বাঁশের মাচার জন্যই তারা বরাদ্দ পায় দুই টন গম। টি আরের বরাদ্দ পাওয়ার পর সাইনবোর্ডটিও খুলে ফেলা হয়।

লুটপাটের চাল অবৈধভাবে বাজারে বিক্রি :
সরকারি দলের নেতাদের লুটপাটের চাল অবৈধভাবে বাজারে বিক্রি করা হচ্ছে। বাগেরহাটের মংলায় পশুর নদী থেকে গত ২৯ জুন দুপুরে টেস্ট রিলিফের (টি আর) ৩০ বস্তা চালসহ একটি ট্রলার আটক করেছে কোস্টগার্ড। এসময় কাউকে আটক করা যায়নি। ওই চাল ও ট্রলার বিকালে মংলা থানা পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়। পাচারকারীরা নদীতে লাফিয়ে পালিয়ে যায় বলে তাদের আটক করা যায়নি।

এদিকে কিছুদিন আগে যশোরের কেশবপুরে সরকারি দল সমর্থক এক ব্যবসায়ীর গুদাম থেকে কাজের বিনিময়ে খাদ্য (কাবিখা) প্রকল্পের সাড়ে পাঁচ টন চাল উদ্ধার করেছে কর্তৃপক্ষ। কেশবপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা খান মো. নুরুল আমিন তালা থানার ঘাতপুরবাজারে মশিউরের গুদাম থেকে ওই চাল উদ্ধার করেন। উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা এই ঘটনায় প্রকল্পের চেয়ারম্যানসহ ৬ জনের বিরুদ্ধে কেশবপুর থানায় একটি মামলা করেন। বিদ্যানন্দ কাটি ইউনিয়নের একটি রাস্তা নির্মাণের জন্য কাজের বিনিময়ে খাদ্য কর্মসূচির (কাবিখা) আওতায় ১৮ টন চাল বরাদ্দ দেয়া হয়। প্রকল্প চেয়ারম্যান সাড়ে পাঁচ টন চাল তুলে তা কালোবাজারে বিক্রি করে দেন। এ ঘটনায় প্রকল্প চেয়ারম্যানসহ ৬ জনের বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে কেশবপুর থানায় ।

চট্টগ্রামে ৮ এপ্রিল কাবিখার ২২৮ বস্তা গম উদ্ধার করার হয়। কর্ণফুলী নদী থেকে কোস্টগার্ড সদস্যরা অভিযান চালিয়ে ইঞ্জিনচালিত একটি বোটসহ কাজের বিনিময়ে খাদ্য কর্মসূচির (কাবিখা) ২২৮ বস্তা গম উদ্ধার করতে সক্ষম হয়। কোস্টগার্ড সূত্রে জানা যায়, কক্সবাজার জেলার কুতুবদিয়া থেকে বিপুল পরিমাণ সরকারি গম পাচার করা হচ্ছে বলে খবর পেয়ে ওইদিন বিকালে কোস্টগাডের একটি দল কর্ণফুলী নদীতে অভিযান চালায়। এ সময় তারা বোট চালকসহ দুই জনকে আটক করে। সূত্র- জাতীয় দৈনিক সমূহ

শিক্ষাক্ষেত্রে ৭২’র পদধ্বণি। তরুণ প্রজন্ম নিরাপদ নয়!!
শিক্ষাখাতের সফলতার বিষয়টি নিছকই গুজব। মহাজোট সরকারের ২ বছরে সবচেয়ে ব্যর্থ শিক্ষাখাত। মহাজোট সরকারের ২ বছরে সবচেয়ে ব্যর্থ শিক্ষাখাত। শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগ করা উচিত। অথচ এই শিক্ষাখাতকেই সবচেয়ে সফল বলে প্রচারণা চালানো হচ্ছে। শিক্ষাখাতের সফলতার বিষয়টি নিছকই গুজব। কেউ একবার কিছু মিডিয়াতে বললে, কোন চিন্তা-ভাবনা ও যাচাইবাছাই না করে অনেকে সেটাতেই তাল মেলাতে থাকে। আর মহাজোট সরকারের শিক্ষাখাতের সফল হওয়ার বিষয়টি সেরকমই।

নজীরবিহীন ব্যর্থ, অদক্ষ ও দুর্নীতি গ্রস্থ আ.লীগ সরকারের ৩২ মাসে শীর্ষে শিক্ষামন্ত্রণালয়: কিন্তু বামপন্থী মিডিয়ার প্রভাবে বর্তমান অদক্ষ সরকারের সবচেয়ে ব্যর্থ মন্ত্রী সফলতার বায়বীয় মুখোশে!

সরকারের ৩২ মাসে সবচেয়ে ব্যর্থ শিক্ষাখাত। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ভয়ঙ্কর রূপ নিচ্ছে রাজনৈতিক দুর্নীতি- কারন
১. শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে নজিরবিহীন ডিজিটাল সন্ত্রাস
২. পাবলিক পরীক্ষায় ৭২ স্টাইলে নকল উৎসব, সহজ প্রশ্ন ও খাতা মূল্যায়নের ক্ষেত্রে অধিক পাশ করানোর নির্দেশ
৩. সমাপনী পরীক্ষার নামে ফি বানিজ্য ও শিক্ষার্থীদের অকালে ঝরে যাওয়ার ব্যবস্থা
৪. নাস্তিক তৈরি, ইভটিজিং সহায়ক, মূল্যবোধ ধ্বংসকারী ও ধর্মহীন শিক্ষানীতি জাতির ওপর চাপিয়ে দেয়া
৫. দাদাদের দেশ থেকে ভুল ছাপানো, পঁচা বাধানো বই আনা
৬. শিক্ষক নিয়োগে সীমাহীন অনিয়ম ও দুর্নীতি করে দলীয় অযোগ্যদের নিয়োগ ………
৭. দেশের বিভিন্ন স্থানে এসএসসি ও এইচএসসির উত্তরপত্র উদ্ধার!!
৮. রাজনৈতিক প্রভাবশালীরাই নিয়ন্ত্রণ করছে কমিটি-
৯. ম্যানেজিং কমিটি ও গভর্নিং বডির জবাবদিহিতা নেই –
১০. নির্বিকার মন্ত্রণালয়, বোর্ড ও ডিজি অফিস –
১১. অধ্যক্ষসহ শত শত শিক্ষক-কর্মচারী বিতাড়িত-

আ,লীগের নেতারা পরীক্ষা হলে ঢুকে ভাল ছাত্রদের বাধ্য করেছেন সব উত্তর অন্যদের দেখাতে। এখন এরাই ম্যাজিস্টেট!!!

দেশব্যাপী মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে দীর্ঘদিন ধরে চলমান দুর্নীতি, অনিয়ম ও অব্যবস্খাপনা দূরীকরণে কার্যকর ভূমিকা পালন করতে পারছে না শিক্ষা মন্ত্রণালয়, ডিজি অফিস ও শিক্ষাবোর্ডগুলো। অথচ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ভয়ঙ্কর রূপ নিয়েছে রাজনৈতিক দুর্নীতি।

দেশব্যাপী মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে দীর্ঘদিন ধরে চলমান দুর্নীতি, অনিয়ম ও অব্যবস্খাপনা দূরীকরণে কার্যকর ভূমিকা পালন করতে পারছে না শিক্ষা মন্ত্রণালয়, ডিজি অফিস ও শিক্ষাবোর্ডগুলো। অথচ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ভয়ঙ্কর রূপ নিয়েছে রাজনৈতিক দুর্নীতি।
“রাজধানীতে এত বড় ঘটনা ঘটার পরও কেউ আদালতের দৃষ্টি আকর্ষণ করেনি। আদালতও স্বপ্রণোদিত হননি। ”

শত ব্যর্থতা সত্ত্বেও বিএনপির সাবেক বাম নেতৃত্বের পক্ষ থেকে বামপন্থী পুরনো বন্ধুদের পদত্যাগ না চাওয়াটাই হয়তো স্বাভাবিক। হাজার হোক জীবনের প্রথম প্রেম তো আর ভুলা যায় না!!

“ভিকারুননিসা নূন স্কুলের তৃতীয় শ্রেণীর এক শিক্ষার্থী মাকে বলছে, আম্মু আজ আমাদের স্কুলে ক্লাস হবে না। আমাদের এক বড় আপুকে স্যার রেপ করেছে। বড় আপুরা মিছিল করেছে। এরপর শিশুটি মায়ের কাছে জানতে চায়, আম্মু রেপ কী? পত্রিকা অফিসে এই মা ফোন করে কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, ভাই আমি কিভাবে এই ছোট্ট শিশুকে বোঝাব রেপ কী? ”

শিক্ষাক্ষেত্রে ৭২’র পদধ্বণি। তরুণ প্রজন্ম কতটা নিরাপদ নয়!!
শিক্ষাখাতের সফলতার বিষয়টি নিছকই গুজব। মহাজোট সরকারের ২ বছরে সবচেয়ে ব্যর্থ শিক্ষাখাত। মহাজোট সরকারের ২ বছরে সবচেয়ে ব্যর্থ শিক্ষাখাত। শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগ করা উচিত। অথচ এই শিক্ষাখাতকেই সবচেয়ে সফল বলে প্রচারণা চালানো হচ্ছে। শিক্ষাখাতের সফলতার বিষয়টি নিছকই গুজব। কেউ একবার কিছু মিডিয়াতে বললে, কোন চিন্তা-ভাবনা ও যাচাইবাছাই না করে অনেকে সেটাতেই তাল মেলাতে থাকে। আর মহাজোট সরকারের শিক্ষাখাতের সফল হওয়ার বিষয়টি সেরকমই।

আ,লীগের নেতারা পরীক্ষা হলে ঢুকে ভাল ছাত্রদের বাধ্য করেছেন সব উত্তর অন্যদের দেখাতে। এখন এরাই ম্যাজিস্টেট!!!

বিস্ময়কর ব্যাপার। মেয়েদের লেখাপড়ার জন্য রাজধানীর সবচেয়ে বড় ও ভালো স্কুলটিতে একজন শিক্ষকের অপকর্ম নিয়ে ছাত্রীদের আন্দোলনের ১৫ দিন পর দক্ষ ও প্রগতিশীল শিক্ষামন্ত্রীর চেহারা আমরা দেখলাম। কাস্তে হাতুড়ি থেকে ডিজিটালে রূপান্তর হওয়া মন্ত্রী একটি শিশুকে ডিজিটালাইজড রেপের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ বিক্ষোভে অশুভ শক্তির হাত আবিষ্কার করেছেন। অথচ সংবাদপত্র, টেলিভিশন, রেডিও সর্বত্র প্রচার হলেও তার জানতে লেগেছে ১৫ দিন। কেন তার এত সময় লেগেছে?

কারণ বোঝা খুব কঠিন নয়, ধর্ষক শিক্ষককে আশ্রয় দেয়া অধ্যক্ষা পরিস্থিতি সামাল দিতে পারেন কি না তা দেখা। শিক্ষামন্ত্রীর কথা থেকে স্পষ্ট যে, তারা মোটেই চাননি হোসনে বেগমকে অপসারণ করতে। অশুভ শক্তির হাতের উদাহরণ দিতে গিয়ে শিক্ষামন্ত্রী বলেছেন, মিরসরাই দুর্ঘটনায় স্কুলছাত্র নিহত হওয়ার ঘটনায় শোক দিবসের দিনে তাকে অপসারণ করে নতুন অধ্যক্ষা নিয়োগ দেয়ার পর স্কুলের শিক্ষার্থীরা কেন আনন্দ উৎসব করেছে, মিষ্টি খেয়েছে। মিরসরাইয়ের ঘটনার অনুভূতির সাথে সহপাঠী ধর্ষণের প্রতিবাদকে একভাবে মিলিয়ে দেয়ার এই কুযুক্তি প্রমাণ করে, ছাত্রীদের বিক্ষোভকে মন্ত্রী কতটা নেতিবাচকভাবে দেখেছেন। মিরসরাই দুর্ঘটনার কথা তিনি বলেছেন, কিন্তু এই দুর্ঘটনার দায়দায়িত্ব তার ওপরও বর্তায়। সারা দেশে স্কুলগুলোতে বঙ্গবন্ধু ও বঙ্গমাতা টুর্নামেন্টের আয়োজন করা বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। ছাত্রছাত্রীরা পড়ালেখা বাদ দিয়ে থানা শহরগুলোতে এই খেলার জন্য ছুটছে। কিন্তু এই শিশুরা কিভাবে থানা শহরগুলোতে যাবে তার কোনো ব্যবস্থা নেই। মিরসরাই ঘটনার পর শুক্রবার যুগান্তরে ছবি ছাপা হয়েছে, ময়মনসিংহ-এর গৌরীপুরে স্কুলের ছাত্ররা মৃত্যুর ঝুঁকি নিয়ে ট্রাকে চড়ে এই খেলায় অংশ নিতে যাচ্ছে। বঙ্গবন্ধু আর বঙ্গমাতার নামে এই খেলা আয়োজনের জন্য এতগুলো শিশুর অকাল মৃত্যু হলো- এমন প্রশ্ন যদি কেউ করে, তার কী জবাব দেবেন শিক্ষামন্ত্রী?

ভিকারুননিসা নূন স্কুলের বিষয়টি হয়তো চাপা পড়ে যেত, যদি শিক্ষার্থী আর অভিভাবকেরা বিক্ষোভ প্রতিবাদ অব্যাহত না রাখতেন। প্রথম দিকে সুশীল আর সরকারবান্ধব গণমাধ্যম খবরটি এড়িয়ে যাওয়ার চেষ্টা করে। আর নারীবাদীরা ছিলেন একেবারে নিশ্চুপ। কোথাকার কোন গ্রামে স্কুলশিক্ষক ছাত্রীদের পর্দা করে আসতে বলেছেন এ জন্য আদালতের দৃষ্টি আকর্ষণ করে। এই শিক্ষককে চাকরিচ্যুত করা হয়। অথচ রাজধানীতে এত বড় ঘটনা ঘটার পরও কেউ আদালতের দৃষ্টি আকর্ষণ করেনি। আদালতও স্বপ্রণোদিত হননি।

আমরা লক্ষ করেছি শুধু ভিকারুননিসা নয়, দেশে অনেক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে এ ধরনের যৌন নির্যাতনের ঘটনা ঘটছে। দেশের আরেকটি সেরা স্কুল আইডিয়াল স্কুলেও এ ধরনের অভিযোগ উঠেছে। একজন শিক্ষককে চাকরিচ্যুত করা হয়েছে। আরো কয়েকজন শিক্ষকের বিরুদ্ধে ছাত্রীরা লিখিত অভিযোগ দিয়েছে। এর আগে ইডেন কলেজে ছাত্রলীগ নেতাদের মনোরঞ্জনের জন্য ছাত্রীদের জোর করে পাঠানোর অভিযোগ উঠেছিল।

ময়মনসিংহ আনন্দ মোহন কলেজে ছাত্রীদের নিপীড়নের খবর পত্রিকায় এসেছে। ভর্তিবাণিজ্য আর টেন্ডারবাজি নিয়ে খুনোখুনির খবর তো আছেই। কিন্তু আমাদের শিক্ষামন্ত্রী এ সবের কোনো দায় তো নিতে চাইছেন না, বরং তার বক্তব্য শুনলে মনে হবে না, দেশের শিক্ষাব্যবস্থায় কোনো অরাজক পরিস্থিতি চলছে। এই নির্লিপ্ততা প্রকৃতপক্ষে এ ধরনের কর্মকাণ্ডে পৃষ্ঠপোষকতার শামিল। এর ভয়ঙ্কর ফল হিসেবে তিন বছরের শিশুকে রেপ কী তা জানতে হচ্ছে। মন্ত্রী, সংসদ সদস্য, স্কুলের অধ্যক্ষ, আর শিক্ষকরা এখন জ্ঞানের আলো নয়, বাংলাদেশকে নিয়ে যাচ্ছেন অন্ধকার যুগে। অসভ্যতার দিকে।

বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান পরিচালনায় ম্যানেজিং কমিটি ও গভর্নিং বডিই মূলত দায়িত্ব পালন করে থাকে। কিন্তু তাদের দুর্নীতি-অনিয়মই এখন দেশের স্কুল ও কলেজের প্রধান সমস্যা। বছরের পর বছর অসংখ্য শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান পরিচালিত হচ্ছে বিতর্কিত অ্যাডহক কমিটির মাধ্যমে।

অনুসন্ধানে দেখা গেছে মন্ত্রণালয়, ডিজি অফিস ও বোর্ডের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের সাথে বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ম্যানেজিং কমিটি, গভর্নিং বডি এবং অধ্যক্ষ ও প্রধান শিক্ষকের যোগসাজশে দীর্ঘ দিন ধরে নানা অনিয়ম চলে আসছে। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলো সুষ্ঠুভাবে পরিচালনার জন্য এসব সংস্খার দায়িত্ব পালন বিষয়ে লিখিত যে নীতিমালা ও নির্দেশনা রয়েছে তা শুধু কাগজে- কলমেই বন্দী।

দুর্নীতির মূলে রাজনৈতিক কমিটি :
এলাকার শিক্ষিত, সজ্জন, প্রকৃত অভিভাবক ও শিক্ষকদের সমন্বয়ে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ম্যানেজিং কমিটি ও গভর্নিং বডি গঠিত হওয়ার কথা থাকলেও দেশের প্রায় সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের কমিটি গঠিত হচ্ছে স্খানীয় প্রভাবশালী রাজনৈতিক ব্যক্তিবর্গের সমন্বয়ে। এসব কমিটির সদস্যদের বেশির ভাগেরই শিক্ষাগত যোগ্যতা, সততার বালাই নেই। ভর্তিবাণিজ্য, নিয়োগবাণিজ্য, নির্মাণকাজ নিয়ন্ত্রণই তাদের প্রধান কাজ। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোকে তারা অর্থ ও প্রতিপত্তি অর্জনের অন্যতম উৎসে পরিণত করেছে।

অনুসন্ধানে দেখা গেছে, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান পরিচালনায় রাজনৈতিক অনুপ্রবেশই দেশের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোতে বিদ্যমান নৈরাজ্য ও দুরবস্থার প্রধান কারণ। দুর্নীতি, লুটপাট, অব্যবস্খাপনা, কোন্দল, হানাহানি ছাড়াও রাজনৈতিক কারণে সারা দেশের বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান থেকে বর্তমানে অধ্যক্ষ-উপাধ্যক্ষ মিলিয়ে শত শত শিক্ষক-কর্মচারী বিতাড়িত হয়েছেন। অনেক প্রতিষ্ঠানে দুর্নীতিগ্রস্ত কমিটি ও অধ্যক্ষের যোগসাজশে দুর্নীতি চলছে। যেসব প্রতিষ্ঠানে অধ্যক্ষ এসব অনিয়মে বাধা হয়ে দাঁড়ান তাকেই সরে যেতে হয়।

বর্তমানে একজন এমপি পদাধিকারবলে তার এলাকার সর্বোচ্চ চারটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ম্যানেজিং কমিটি বা গভর্নিং বডির সভাপতি নির্বাচিত হতে পারেন। ফলে স্বাভাবিকভাবেই পুরো কমিটি গঠিত হয় রাজনৈতিকভাবে। এ ছাড়া দেখা গেছে, এমপির সুপারিশ ও প্রভাবেই তার নির্বাচনী এলাকার অন্য সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের সব কার্যক্রম পরিচালিত হয়। কমিটিতে বিদ্যোৎসাহী নিয়োগের ক্ষেত্রে দেখা যায় প্রকৃত শিক্ষিত ও সজ্জন ব্যক্তির বদলে রাজনৈতিক ছত্রছায়ায় অশিক্ষিত ও অসৎ ব্যক্তিরা নিয়োগ পাচ্ছেন। কোনো কোনো শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে অভিভাবক পদে নির্বাচিত হন এমন ব্যক্তি, যার কোনো সন্তান আসলে ওই শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে লেখাপড়াই করে না। অভিভাবক না হয়েও অনেকে রাজনৈতিক ছত্রছায়ায় অভিভাবক সদস্য নির্বাচিত হন। যেমন গোলাম আশরাফ তালুকদার ২০০৯ সালের ৫ জুন যখন আইডিয়াল স্কুল অ্যান্ড কলেজের গভর্নিং বডিতে অভিভাবক সদস্য নির্বাচিত হন তখন তার কোনো সন্তান সেখানে অধ্যয়নরত ছিল না। কিন্তু তাতে কী, তিনি মতিঝিল থানা আওয়ামী লীগ সভাপতি। তাই ঢাকা শিক্ষা বোর্র্ড তদন্তে এর সত্যতার প্রমাণ পেলেও তার বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্খা নেয়নি।

একইভাবে শিক্ষক প্রতিনিধি হিসেবেও প্রকৃত যোগ্য শিক্ষকের বদলে রাজনৈতিক সংশ্লিষ্টরাই নিয়োগ পান। এভাবে অদক্ষ, অসৎ কমিটি দিয়ে পরিচালিত হচ্ছে দেশের মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক পর্যায়ের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলো।

অনুসন্ধানে দেখা গেছে, বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে গভর্নিং বডির অনেক সদস্যের অন্য কোনো পেশা এবং আয়ের দৃশ্যমান কোনো উৎসও নেই। গভর্নিং বডির সদস্য হওয়াই তাদের পেশা এবং আয়ের উৎস! অনেকে আবার একাধিক প্রতিষ্ঠানের সদস্য হন। অনেকে সারা জীবন গভর্নিং বডির সদস্য থাকেন। যেমন­ জহির আলম নামে এক ব্যক্তি রাজধানীর দনিয়া এ কে স্কুল অ্যান্ড কলেজ গভর্নিং বডির সদস্য ছিলেন ৪৫ বছরেরও অধিক সময়। তার অন্য কোনো আয়ের উৎস ছিল না। দনিয়া বিশ্ববিদ্যালয় কলেজ ও আদর্শ উচ্চবিদ্যালয় এ দু’টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানেও জহির আলম একাধিকবার শিক্ষানুরাগী ও অভিভাবক প্রতিনিধি ছিলেন। এলাকায় এ জাতীয় আরো কয়েকজনের একটি চক্র রয়েছে, যারা ঘুরেফিরে এলাকার বিভিন্ন স্কুল পরিচালনা পরিষদের সাথে সংশ্লিষ্ট থেকে নির্মাণ, ভর্তি ও নিয়োগবাণিজ্য চালিয়ে যাচ্ছেন।

তদন্তে অভিযুক্তরাও বছরের পর বছর বহাল তবিয়তে : শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের পরিদর্শন ও নিরীক্ষা অধিদফতর, শিক্ষা বোর্ড ও শিক্ষা অধিদফতরের তদন্তে সারা দেশে শত শত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের অধ্যক্ষ, ম্যানেজিং কমিটি ও গভর্নিং বডির দুর্নীতির অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ার পরও সেসব অধ্যক্ষ, শিক্ষক ও পরিচালনা পরিষদের সদস্যরা বহাল তবিয়তে রয়েছেন যেমন­ রাজধানীর আইডিয়াল স্কুলের অধ্যক্ষ শাহান আরার বিরুদ্ধে ২০০৭ সালে ৫১৮ জন শিক্ষার্থী অবৈধভাবে ভর্তি করার অভিযোগ প্রমাণিত হয়। তার আরো নানা দুর্নীতি প্রমাণিত হওয়ায় শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সুপারিশে গভর্নিং বডির তৎকালীন চেয়ারম্যান প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের সচিব কাজী আমিনুল ইসলাম তাকে ২০০৮ সালে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সময় বরখাস্ত করেন। কিন্তু ক্ষমতার পটপরিবর্তন হওয়ার পর বরখাস্তকৃত অধ্যক্ষ শাহান আরা আবার ২০০৯ সালে অধ্যক্ষ পদ দখল করেন। অভিযোগ রয়েছে, লাখ লাখ টাকার বিনিময়ে বিভিন্ন মহলকে ম্যানেজ করে ফিরে এসেই তিনি আবার ভর্তি ও নিয়োগবাণিজ্য শুরু করেছেন।

স্কুল সূত্র জানায়, আইডিয়াল স্কুল গভর্নিং বডির সর্বশেষ নির্বাচন হয়েছে ২০০১ সালে। এত দিন ধরে প্রতিষ্ঠানটি অ্যাডহক কমিটি দিয়ে চলছে। অভিযোগ রয়েছে, স্কুলের সব দুর্নীতি-অনিয়মের মূলে রয়েছে এই অ্যাডহক কমিটি।

বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে বছরের পর বছর অ্যাডহক কমিটি টিকিয়ে রাখার পেছনে ঢাকা শিক্ষা বোর্ডের একশ্রেণীর কর্মকর্তারও হাত রয়েছে বলে বিভিন্ন সূত্র নিশ্চিত করেছে। রাজধানীর অপর নামকরা স্কুল ভিকারুননিসা নূন স্কুল অ্যান্ড কলেজের গভর্নিং বডির মেয়াদও ২০১০ সালে শেষ হয়ে যায় (নতুন জারি করা প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী)। অবশেষে পরিমল কেলেঙ্কারির জের ধরে সম্প্রতি মন্ত্রণালয়ের নির্দেশে কমিটি ভেঙে দিতে বাধ্য হয় শিক্ষা বোর্ড।

কিন্তু এত দিন রাজধানীর নামকরা এই শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে অবৈধ কমিটি বহাল থাকলেও বোর্ড বা মন্ত্রণালয় কোনো পদক্ষেপ নেয়নি। ভিকারুননিসার চেয়ারম্যান ছিলেন রাশেদ খান মেনন এমপি এবং আইডিয়াল স্কুলেরও চেয়ারম্যান তিনি।

শিক্ষা মন্ত্রণলয়ের তিনটি ও জাতীয় বিশ্ববিদ্যলয়ের একটি তদন্ত রিপোর্টে রাজধানীর দনিয়া কলেজের অধ্যক্ষ শাহাদাত হুসাইনের বিরুদ্ধে নানা দুর্নীতি ও অনিয়মের প্রমাণ পাওয়ায় ২০০৩ সালে ১২ জুন গভর্নিং বডি তাকে বরখাস্ত করে। কিন্তু ঢাকা বিভাগীয় কমিশনার মাহফুজুর রহমান গভর্নিং বডির সভাপতি হওয়ার পর গভর্নিং বডির সিদ্ধান্ত ছাড়াই একক ক্ষমতাবলে বরখাস্তকৃত অধ্যক্ষ শাহাদাত হুসাইনকে পুনর্বহালে সহায়তা করেন এবং শাহাদতও তালা ভেঙে অধ্যক্ষের কক্ষ দখল করেন।

দনিয়া কলেজ ছাড়াও রাজধানীর তেজগাঁও বিশ্ববিদ্যালয় কলেজ ও সিদ্ধেশ্বরী বিশ্ববিদ্যালয় কলেজে সভাপতির দায়িত্ব পালনকালে বিতর্কিত কর্মকাণ্ডের অভিযোগ ওঠে মাহফুজুর রহমানের বিরুদ্ধে। মাহফুজুর বদলি হওয়ার পর নতুন বিভাগীয় কমিশনার হন ইকরাম আহমেদ। তিনি পদাধিকারবলে দনিয়া কলেজের সভাপতি হওয়ার পর অধ্যক্ষ শাহাদাত হুসাইনকে বৈধতা দেননি। তার পর নতুন সভাপতির দায়িত্ব পান অতিরিক্ত বিভাগীয় কমিশনার এ কে এম মর্তুজা। তিনিও শাহাদাত হুসাইনকে মেনে না নিয়ে গভর্নিং বডির সিদ্ধান্ত মোতাবেক খাদেম আশরাফুল আলমকে ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ হিসেবে দায়িত্ব প্রদান করেন। এ ঘটনার পর সেনাবাহিনীর মেজর পরিচয়ে আবুল হোসেনের হুমকির কারণে এ কে এম মর্তুজা থানায় জিডি করেন এবং সভাপতির দায়িত্ব থেকে পদত্যাগ করেন। এরপর দনিয়া কলেজের সভাপতির দায়িত্ব পান ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রফেসর ড. জাহিদুল ইসলাম। অভিযোগ রয়েছে, শাহাদাত জালিয়াতির মাধ্যমে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়কে ম্যানেজ করে তাকে সভাপতির পদ থেকে সরিয়ে দিয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অপর প্রফেসর মোশাররফ হোসেনকে সভাপতি মনোনয়নের ব্যবস্খা করেন। মোশাররফ সভাপতি থাকা অবস্খায় শাহাদাত কলেজের যাবতীয় অবৈধ কর্মকাণ্ড বৈধকরণের ব্যবস্খা এবং তার বিরোধী শিক্ষকদের কলেজ থেকে বিতাড়ন, বেতনভাতা বন্ধ ও হয়রানি করেন। সাতজন শিক্ষক ও তিনজন কর্মচারীকে তদন্ত ছাড়াই তিনি বরখাস্ত করেন।

বর্তমান সরকার ক্ষমতায় আসার পর দনিয়া কলেজের গভর্নিং বডির নতুন সভাপতি হন স্খানীয় এমপি হাবিবুর রহমান মোল্লা। মোল্লা ২০০১ সালে বিরোধী দলের এমপি থাকা অবস্খায় অধ্যক্ষ শাহাদাত হুসাইনের ব্যাপক দুর্নীতি ও অনিয়ম তদন্তের সুপারিশ করেন জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের কাছে। সেই তদন্তের ধারাবাহিকতায়ই শাহাদাত ২০০৩ সালে বরখাস্ত হন। কিন্তু মজার ব্যাপার হলো, এবার হাবিবুর রহমান মোল্লা এমপি নির্বাচিত হওয়ার পর শাহাদাত হুসাইনের পক্ষে অবস্খান নেন এবং তার বিরুদ্ধে যাতে তদন্ত না হয় সে জন্য সংসদের প্যাডে চিঠি লিখে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়কে অনুরোধ করেন।

নির্বিকার মন্ত্রণালয়, বোর্ড ও ডিজি অফিস : শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ম্যানেজিং কমিটির এই অনিয়ম-নৈরাজ্য নিয়ন্ত্রণের যে কোনো দায়িত্ব নেই শিক্ষা মন্ত্রণালয়, অধিদফতর ও বোর্ড কর্তৃপক্ষের। বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের সব দায়দায়িত্ব তারা ম্যানেজিং কমিটি ও গভর্নিং বডির ওপরই চাপিয়ে স্বস্তিবোধ করে। অথচ এ কমিটিই এখন সব দুর্নীতির কেন্দ্রবিন্দু। বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান সুষ্ঠুভাবে পরিচালনার ক্ষেত্রে মন্ত্রণালয়, বোর্ড ও ডিজি অফিসের যে দায়িত্ব রয়েছে তা-ও তারা প্রয়োগ করে না। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলো পরিচালনার ক্ষেত্রে করণীয় বিষয়ে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের পরিদর্শন ও নিরীক্ষা অধিদফতর, বোর্ডের পরিদর্শন শাখা এবং ডিজি অফিসের দায়িত্ব-কর্তব্যের উল্লেখ রয়েছে। সরকারি কর্তৃপক্ষের নির্দেশ ম্যানেজিং কমিটি যথাযথভাবে পালন করছে কি না তা দেখার দায়িত্ব মন্ত্রণালয়ের পরিদর্শন ও নিরীক্ষা অধিদফতরের। কিন্তু মন্ত্রণালয়, বোর্ড বা ডিজি অফিস কালেভদ্রেই সে দায়িত্ব পালন করে থাকে। কোনো শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে যখন বড় ধরনের কেলেঙ্কারি ঘটে তখনই কেবল তারা তদন্ত করার উদ্যোগ নেন। এ ছাড়া সারা বছর শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোকে মনিটরিং ও জবাবদিহির আওতায় আনার কোনো উদ্যোগ নেই তাদের। যদিও এমপিও, নির্মাণ খাতসহ বিভিন্ন খাতে বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের পেছনে বছরে হাজার হাজার কোটি টাকা খরচ করছে সরকার। কিন্তু সে তুলনায় কোনো দায়দায়িত্ব নিতে রাজি নয় মন্ত্রণালয় এবং অন্যান্য সরকারি দায়িত্বশীল প্রতিষ্ঠানগুলো।

গ্রামের কয়েকটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে নৈরাজ্যের চিত্র : নাটোর সদরে অবস্খিত মোমিনপুর কলেজের অধ্যক্ষ আতাউর রহমানকে বর্তমান সরকার ক্ষমতায় আসার পর প্রাণনাশের হুমকি দিয়ে কলেজ থেকে বের করে দেয় স্খানীয় সরকারদলীয় নেতারা। অধ্যক্ষের দায়িত্ব দেয়া হয় ধোপাপাড়া উচ্চবিদ্যালয়ের সহকারী প্রধান শিক্ষক আবুল কালাম আজাদকে। তাকে অবৈধ অধ্যক্ষ আখ্যায়িত করে শিক্ষা বোর্ডকে অবহিত করেন গভর্নিং বডির সভাপতি থানা নির্বাহী কর্মকর্তা। কিন্তু বোর্ড এ বিষয়ে কোনো পদক্ষেপ নেয়নি। অধ্যক্ষ আতাউর রহমান এ নিয়ে মামলা করায় আবুল কালাম আজাদ চলে যেতে বাধ্য হন। এরপর অধ্যক্ষের দায়িত্ব পান কলেজের শিক্ষক শ্রীমন নারায়ণ। ইতোমধ্যে গভর্নিং বডির সভাপতি থানা নির্বাহী কর্মকর্তার মেয়াদ শেষ হয়ে যাওয়ায় স্খানীয় এমপি আহাদ আলী সরকারের ডিও লেটারের ভিত্তিতে গভর্নিং বডির সভাপতির দায়িত্ব পান জালাল উদ্দিন মৃধা। তার নেতৃত্বে নতুন কমিটি গঠনের পর নিয়োগসহ বিভিন্ন জালিয়াতির অভিযোগ ওঠে।

সাতক্ষীরা সিটি কলেজে ১৯৮৩ সাল থেকে শিক্ষকতা করে আসছিলেন ইমদাদুল হক। ২০০৩ সালে তিনি পরীক্ষার মাধ্যমে কলেজের অধ্যক্ষ হিসেবে নিয়োগ পান। তাকে ২০১০ সালে ১৯ এপ্রিল বরখাস্ত করেন গভর্নিং বডির সভাপতি মুকেশ চন্দ্র। অধ্যক্ষ হকের বিরুদ্ধে অভ্যন্তরীণ অডিটে কিছু অভিযোগ করা হয়। সে অভিযোগের জবাব দিতে বলা হয় তাকে ১৮ এপ্রিলের মধ্যে। অধ্যক্ষ জানান, তিনি সঠিক সময়ে মুকেশ চন্দ্রের কাছে জবাব জমা দিয়েছেন এবং তার প্রমাণও রয়েছে। কিন্তু তারপরও রিপোর্ট জমা দেননি অভিযোগ এনে ১৯ তারিখ মুকেশ চন্দ্র সভা ডেকে তাকে বরখাস্ত করেন এবং অধ্যক্ষের দায়িত্ব দেন আবু আহমদ নামে এক শিক্ষককে। আবু আহমদ তখন ছিলেন অবসরে। অবসরে যাওয়ার দুই মাস পর তাকে ডেকে এনে দায়িত্ব দেয়া হয়। ২০০৮ সালের জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের জারি করা নিয়ম অনুযায়ী অধ্যক্ষ না থাকলে ভাইস প্রিন্সিপাল এবং তিনিও না থাকলে জ্যেষ্ঠ শিক্ষক দায়িত্ব পাওয়ার কথা। কিন্তু চারজনকে ডিঙিয়ে অবসরে যাওয়া শিক্ষককে দলীয় বিবেচনায় দায়িত্ব দেয়া হয়। জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের নিয়ম অনুযায়ী কেউ চাকরির মেয়াদ বাড়াতে চাইলে অবসরে যাওয়ার তিন মাস আগে আবেদন করতে হয়। আবু আহমদ তা-ও করেননি। ফলে তার চাকরির মেয়াদ বাড়ানোও বৈধ হয়নি।

ইমদাদুল হক জানান, জালিয়াতির অংশ হিসেবে এক দিনে কলেজে ছয়টি সিদ্ধান্ত পাস করানো হয়েছে। যেমন আবু আহমদের চাকরির মেয়াদ বৃদ্ধি, একই তারিখে তার অধ্যক্ষ হিসেবে যোগদান, গভর্নিং বডির বৈঠক, ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষকে দায়িত্ব বুঝিয়ে দেয়া এবং ইমদাদুল হকের বরখাস্ত­ সবই করা হয়েছে ১৯ এপ্রিল একই দিনে।

পটুয়াখালী আব্দুল করিম মৃধা কলেজের অধ্যক্ষ বাহাউদ্দিন বাহারকে বরখাস্ত করা হয়। তার একমাত্র ‘অপরাধ’ তিনি বিরোধী দলের সমর্থক। ২০০৯ সালের ৯ জুলাই কলেজের গভর্নিং বডির সভাপতি হন শাহজাহান মিয়া এমপি। দায়িত্ব নেয়ার দুই দিনের মাথায় ১১ জুলাই তিনি গভর্নিং বডির সভা ডেকে অধ্যক্ষকে বরখাস্ত করেন। নিয়ম অনুযায়ী সভাপতির সভা আহ্বান করার এখতিয়ার নেই। তা ছাড়া তিনি অধ্যক্ষকে সভা আহ্বানের কোনো নোটিশও দেননি। অধ্যক্ষকে বরখাস্ত করতে হলে তার বিরুদ্ধে বাস্তবসম্মত অভিযোগ আনতে এবং তাকে আত্মপক্ষ সমর্থনের সুযোগ দিতে হবে। অধ্যক্ষ বাহাউদ্দিন বাহার জানান, এসব কিছুই করা হয়নি এবং কোনো অ্যাজেন্ডা ছাড়াই সভা আহ্বান করা হয়। সভায় কলেজের প্রতিষ্ঠাতা সদস্য, জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিনিধিসহ আরো অনেক সদস্য অনুপস্খিত ছিলেন। জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের নিয়ম অনুযায়ী অধ্যক্ষ না থাকলে উপাধ্যক্ষ এবং তিনিও না থাকলে সবচেয়ে সিনিয়র শিক্ষককে দায়িত্ব দিতে হবে। কিন্তু অধ্যক্ষ বাহাউদ্দিন বাহারকে অপসারণের পর দলীয় বিবেচনায় সাত নন্বর সিনিয়র শিক্ষককে দায়িত্ব দেয়া হয়েছে।

পটুয়াখালীর অপর ঐতিহ্যবাহী বাউফল কলেজের অধ্যক্ষ এ টি এম আব্দুল লতিফকেও বর্তমান সরকার ক্ষমতায় আসার পর স্খানীয় ছাত্রলীগ কর্মীরা কলেজ থেকে বের করে দেয়। তার ‘অপরাধ’, তিনি চারদলীয় জোট সরকারের সময় নিয়োগ পেয়েছিলেন।

বিতাড়িতদের কয়েকজন :
সারা দেশে রাজনৈতিক কারণে হাজার হাজার শিক্ষক-কর্মচারী প্রতিষ্ঠান থেকে বিতাড়িত হয়েছেন। তাদের মধ্যে কয়েকজন হলেন­ হারুনুর রশীদ পাঠান অধ্যক্ষ তেজগাঁও কলেজ, তোফাজ্জল হোসেন অধ্যক্ষ শ্রীপুর কলেজ, সাইফুল মজিদ বাহাউদ্দিন অধ্যক্ষ কে এম কলেজ পটুয়াখালী, একরামুল হক লিটন উপাধ্যক্ষ দনিয়া কলেজ, রফিকা আফরোজ অধ্যক্ষ ইস্পাহানী গার্লস কলেজ, মোস্তাফিজুর রহমান অধ্যক্ষ কালীগঞ্জ কলেজ, ফিরোজ উদ্দীন অধ্যক্ষ ঘাটাইল মহিলা কলেজ, রফিকুল ইসলাম উপাধ্যক্ষ পিয়ার আলী কলেজ গাজীপুর, কামরুন্নাহার আহমেদ অধ্যক্ষ শেখ বোরহান উদ্দিন কলেজ, এ টি এম আ: লতিফ মহিবুল্লাহ অধ্যক্ষ বাউফল কলেজ, অমিত রায় চৌধুরী অধ্যক্ষ ফজিলাতুননেসা কলেজ বাগেরহাট, আফজালুল হক আজিজ অধ্যক্ষ ঢাকা মডেল কলেজ, আব্বাস আলী তালুকদার অধ্যক্ষ সখীপুর কলেজ টাঙ্গাইল, নজরুল ইসলাম অধ্যক্ষ ফজলুল হক মহিলা কলেজ ঢাকা, এস এইচ কবির প্রভাষক শ্রীপুর কলেজ, মজিদ বিশ্বাস অধ্যক্ষ মেট্রোপলিটান কলেজ ঢাকা, দিলারা ইয়াসমীন অধ্যক্ষ শেরেবাংলা নগর আদর্শ মহিলা কলেজ, খাদেম আশরাফুল আলম অধ্যক্ষ (ভারপ্রাপ্ত) দনিয়া কলেজ, জামিলা রশীদ প্রভাষক দনিয়া কলেজ, মোশাররফ হোসেন বাবুল প্রভাষক এ কে উচ্চবিদ্যালয় শ্যামপুর, মাহমুদুল হক অধ্যক্ষ পাংশা ডিগ্রি কলেজ, আতাউর রহমান অধ্যক্ষ মোমিনপুর কলেজ নাটোর, ইমদাদুল হক সাতক্ষীরা সিটি কলেজ, আসাদুজ্জামান প্রধান শিক্ষক তললী হাইস্কুল গফরগাঁও, কাজী আমীর হোসেন সরকার অধ্যক্ষ সোনারগাঁও কাজী ফজলুল হক উইমেন্স কলেজ, মতিয়ার রহমান প্রধান শিক্ষক সোনারগাঁও পাইলট বালিকা উচ্চবিদ্যালয়, আলমগীর হোসেন প্রধান শিক্ষক বারদী উচ্চবিদ্যালয় সোনারগাঁও, মরিয়ম বেগম সহকারী প্রধান শিক্ষক যাত্রাবাড়ী আইডিয়াল স্কুল, ফারুক হোসেন শিক্ষক যাত্রাবাড়ী আইডিয়াল স্কুল, রুহুল আমিন প্রভাষক বর্ণমালা স্কুল অ্যান্ড কলেজ, মোহাম্মদ আব্দুস সাদিক অধ্যক্ষ ডক্টর মালিকা কলেজ ধানমন্ডি, মোতালেব খলিফা সহকারী প্রধান শিক্ষক ঢাকা সেন্ট্রাল গার্লস স্কুল, মিজানুর রহমান সহকারী প্রধান শিক্ষক পূর্ব জুরাইন আদর্শ উচ্চবিদ্যালয়, এম এ ওয়াহাব প্রধান শিক্ষক তেজগাঁও সিভিল অ্যাভিয়েশন স্কুল। তথ্য সূত্র: জাতীয় দৈনিকসমূহ

প্রশ্নপত্র চুরির কারণে মেডিকেল ও ডেন্টাল কলেজে প্রথম বর্ষের ভর্তি পরীক্ষা পেছানো হয়েছে। স্বাস্থ্য অধিদফতর থেকে জানানো হয় জানানো হয়, এ পরীক্ষা ২৩ সেপ্টেম্বরের পরিবর্তে ৩০ সেপ্টেম্বর অনুষ্ঠিত হবে।

অধিদফতর সূত্রে জানা যায়, বৃহস্পতিবার পরীক্ষা পেছানেরা এ সিদ্ধান্ত নেয়া হয়। জানা গেছে, সম্প্রতি বিজি প্রেস থেকে ওই পরীক্ষার প্রশ্নপত্র চুরির একটি ঘটনা ধরা পড়ে। আরো চুরির আশঙ্কায় কর্তৃপক্ষ পরীক্ষা পেছানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে।

স্বাস্থ্যশিক্ষা ব্যুরোর সরকারি প্রেস থেকে শাহেনশাহ ঠাকুর নামের এক শ্রমিক পোশাকের ভেতরে লুকিয়ে প্রশ্নপত্র বাইরে নিয়ে যাওয়ার সময় হাতেনাতে ধরা পড়েন।

উল্লেখ্য, মহাখালী এলাকার কোনো ছাপাখানায় এমবিবিএস ভর্তি পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ছাপানো হচ্ছিল। প্রশ্ন ছাপানোর কাজে নিয়োজিত সংশ্লিষ্টদের বিশেষ পোশাক পরিধান করতে হয় ভেতরে ঢোকার আগে এবং কাজ শেষে এই পোশাক খুলে নিজের পোশাক পরে বাইরে বের হতে হয়। পোশাক খোলার সময় নিরাপত্তা কর্মীরা সবাইকে চেক করে থাকেন। গত মঙ্গলবার চেকিংয়ের সময় শাহেনশাহ ঠাকুরের অণ্ডকোষ ও পুরুষাঙ্গের মাঝখানে টেপ দিয়ে লাগানো প্রশ্নপত্র পাওয়া যায়।

শাহেনশাহ ঠাকুর এই প্রেসের নতুন কর্মচারী। প্রেস ম্যানেজারের মাধ্যমে এ বছরেই এখানে কাজ পায় সে। প্রেস ম্যানেজার ও শাহেনশাহ ঠাকুরের গ্রামের বাড়ি গোপালগঞ্জ জেলার মুকসেদপুর উপজেলার কৃষ্ণনগর গ্রামে। প্রেস ম্যানেজার কিভাবে শাহানশাহকে এখানে চাকরি দিয়েছেন এবং এর পেছনে কোনো সুদূরপ্রসারী পরিকল্পনা ছিল কি না জানা দরকার। কারণ মেডিক্যাল কলেজের পরীক্ষাকে কেন্দ্র করে বেশ কয়েক বছর ধরে নানা ধরনের আলোচনা-সমালোচনা হয়ে আসছিল। প্রেস ম্যানেজার এর আগেও প্রশ্নপত্র ফাঁসের পেছনে জড়িত কি না তাকে গ্রেফতার করে জিজ্ঞাসাবাদ করা উচিত বলে স্বাস্খ্য অধিদফতরের মেডিক্যাল শিক্ষা বিভাগের সাথে সংশ্লিষ্টরা মনে করেন।

বিসিএসে যেভাবে প্রো-ইন্ডিয়ান বাছাই করা হচ্ছে –
বলতে গেলে বর্তমান সরকারের আমলে বিসিএসে শতভাগ অনিয়ম ও দুর্ণীতি হচ্ছে। মেধাবী তরুণরা বর্তমান সরকারের কর্মকান্ডে সরকারী চাকরির আশা অনেকটাই বাদ দিয়েছেন।

ভুয়া মুক্তিযোদ্ধা কোটায় নিয়োগ পাওয়া এডিসি হারুন

মিথ্যা সার্টিফিকেট দিয়ে মুক্তিযোদ্ধা কোটায় নিয়োগপ্রাপ্ত ২৩ শিক্ষানবীস কন্সটেবলকে নোয়াখালী থেকে গ্রেফতার করে ঢাকার গেণ্ডারিয়া থানায় আনা হয়েছে

সরকারি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে শিক্ষক পদে মুক্তিযোদ্ধা কোটায় আবেদন করা এক হাজার ৩৩৮ জনের মধ্যে ১৫২ জনের সনদই ভুয়া।

প্রার্থীদেরকে যেসব প্রশ্ন করা হচ্ছে………
১. ভারতের ইতিহাস সম্পর্কে কি জানা আছে?

২. বাংলাদেশের ইতিহাসের উল্লেখযোগ্য সাল ও তারিখ কি কি?

৩. স্বাধীনতার ঘোষণা কবে, কে, কোথায়, কিভাবে, কার মাধ্যমে প্রচার করে? এক্ষেত্রে বঙ্গবন্ধুর ঘোষণা আওয়ামী লীগের কোন নেতার মাধ্যমে মাধ্যমে কোথায়, কিভাবে প্রচারিত হয়?

৪. কেন ও কি জন্য? ১৯৪৭, ১৯৪৯, ১৯৬২, ১৯৬৬, ১৯৬৯, ১৯৭০- ৭ মার্চ, ১৭ মার্চ, ২৩ জুন,,,, কেন বিখ্যাত?

৫. ছাত্রলীগ ও আওয়ামী লীগের প্রতিষ্ঠা সাল, তারিখ, প্রথম সভাপতি ও সাধারন সম্পাকের না, দলীয় শ্লোগান……

৬. ১৯৭০ এর নির্বাচনে আওয়ামী লীগ তৎকালীন পূর্ব পাকিস্থানের ১৬৯টি র মধ্যে কতটি আসন পায়? পরের প্রশ্ন অবশিষ্ট আসন ২টি কোন দল থেকে কারা নির্বাচিত হন? পরীক্ষার্থী অপর ২ জন নাম ও দল না বলতে পারায় জিজ্ঞাসা করা হয় এ বিষয়ে কৌতুহল নেই কেন?

৭. তোমার জেলার মুক্তিযুদ্ধ সম্পর্কে কি জান?

৮. জাতির জনক বঙ্গবন্ধুর সময়ে তার সমপর্যায়ের আরো ২ জন আন্তর্জাতিক নেতা ছিলেন তারা কোন কোন দেশের? নাম কি কি?

৯. পঞ্চদশ সংশোধনীর ব্যাপারে মূল্যায়ন কি?

১০. নারী নীতি ব্যাপারে অবস্থান কি?

উল্লেখ্য ১০০ নম্বরের ভাইভার কথা বলা থাকলেও তা তুঘলকি কায়দায় ২০০ নম্বর করা হয়েছে।

বর্তমানেও আমাদের পবিত্র সংবিধান লঙ্ঘন করে কোটার মাধ্যমে অপেক্ষাকৃত কম যোগ্যতাসম্পন্ন ৫৫% নিয়োগ দেওয়া হচ্ছে। বাকী ৪৫% এর ক্ষেত্রেও সুধাসদনের আশির্বাদ প্রয়োজন হচ্ছে। এমনকি কিছু মেধাবী নিয়োগ পেলেও তাদেরকে বাধ্য করা হচ্ছে ঘুষ দিতে। অন্যথায় পুলিশ ভেরিফিকশের নামে তাদের কে বাদ দেওয়া হচ্ছে। বলতে গেলে বর্তমান সরকারের আমলে বিসিএসে শতভাগ অনিয়ম ও দুর্ণীতি হচ্ছে। অনেক ক্ষেত্রে ফলাফল ঘোষণার আগেই করা হচ্ছে পুলিশ ভেরিফিকেশনের নামে আওয়ামী ভেরিফিকেশন! ও মোটা অংকের বাণিজ্য। উল্লেখ্য বর্তমান সরকারের আমলে সোনালী ব্যাংকসহ অনেক ক্ষেত্রেই চাকরির পরীক্ষার ফলাফল ঘোষনার আগেই দলীয় নেতাদের মাধ্যমে ভেরিফেকেশন করা হচ্ছে। আর সে আলোকেই ফলাফল দেওয়া হচ্ছে। মেধাবী তরুণরা বর্তমান সরকারের কর্মকান্ডে সরকারী চাকরির আশা অনেকটাই বাদ দিয়েছেন।

যেখানে নিয়মিত বিসিএসগুলোতেই মুক্তিযোদ্ধা কোটার অধিকাংশই ফাঁকা থাকে, সেখানে শুধু মুক্তিযোদ্ধার সন্তানদের জন্য ৩২তম বিসিএসের সিদ্ধান্ত নেয়া উদ্দেশ্য ভুয়া সনদের মাধ্যমে ছাত্রলীগ তথা হারুন ক্যাডার নিয়োগ দেওয়া। যার লক্ষ্য মূলত আগামী নির্বাচন।

কোটার নামে বৈষম্য পবিত্র সংবিধান ও মহান মুক্তিযুদ্ধের চেতনা বিরোধী। মুক্তিযুদ্ধ কি বৈষম্য বাড়ানোর জন্য হয়েছিল?

এদেরকে বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির সময়ে বিশেষ বিবেচনায় একবার কোটার মাধ্যমে সুযোগ তো দেওয়াই হয়েছে, যোগ্যতায় মাধ্যমে টিকতে না পারলে আবার সুযোগ কেন??

কোটার মাধ্যমে সর্বোচ্চ পর্যায়ে অযোগ্যদের নিয়োগ দেয়া, ডাকাত দিয়ে রোগীর অপারেশনের নামান্তর মাত্র।

২৯তম বিসিএসে সাধারণ ক্যাডারের ৪১২ জনের মধ্যে ২১১ জন কোটায় আর ২০১ জন মেধায় নিয়োগ পেল।

২৮তম বিসিএস সাধারণ ক্যাডারে মোট ৬৫৭ জনকে নিয়োগের সুপারিশ করা হয়েছে। এর মধ্যে ৩৪৭ জনই নিয়োগ পাচ্ছেন বিভিন্ন কোটায়।

মুক্তিযুদ্ধের সবচেয়ে সত্য ইতিহাস হচ্ছে প্রায় শতভাগ লোক মুক্তিযোদ্ধা ছিলেন। সেখানে ০.১২% মুক্তিযোদ্ধার সনদ প্রদান করে যে বৈষম্য করা হয়েছে তা মুক্তিযুদ্ধের চেতনাবিরোধী। প্রকৃত অর্থে ১৯৭১ সালে দেশের গুটিকয়েক রাজাকার ছাড়া প্রায় সবাই প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে মুক্তিযোদ্ধা। যে দেশের/সংগ্রামের জন্য কবিতা লিখেছে, যে বৃদ্ধ পিতা-মাতা মুক্তির জন্য জায়নামাজে দাঁড়িয়ে মোনাজাত করেছে, যে নারী মুক্তিযোদ্ধাদের খাবার বা আশ্রয় দিয়েছে, যে শিশু শত্রুদের গোপন খবর বয়ে এনেছে, যারা মাঠে যুদ্ধ করেছে তারা সবাই মুক্তিযোদ্ধা।

মুক্তিযোদ্ধার সন্তানসহ পরিবারের অন্যান্য সদস্যদের (নাতি-নাতনি) জন্য সরকারি-আধাসরকারি ও স্বায়ত্তশাসিত ও আধা স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠানে চাকরিতে ৩০ শতাংশ কোটা থাকবে। সচিবালয়ে মন্ত্রিপরিষদ বৈঠকে এ সংক্রান্ত প্রস্তাব অনুমোদন দেয়া হয়। বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। বৈঠক শেষে প্রধানমন্ত্রীর প্রেস সচিব আবুল কালাম আজাদ সাংবাদিকদের এ তথ্য জানান।

সমাজের যেকোনো শ্রেণীর মানুষকে বিশেষ সুযোগ দেয়ার প্রয়োজনটা যেকোনো সমাজের জন্য অস্বাভাবিক নয়। কিন্তু সেটা কখনো ৫০ শতাংশ বা ৫৫ শতাংশ হতে পারে না। আর প্রজাতন্ত্রের সর্বোচ্চ পর্যায়ে তো অবশ্যই নয়। কারণ গাড়ির চালকের আসনে কোনো হেলপারকে বসানোর পরিণতি কী হতে পারে তা আমাদের প্রশাসনের দিকে তাকালেই বোঝা যায়। কোনো সুবিধাবঞ্চিত শ্রেণীকে যেখানে সহযোগিতা করার অনেক উপায় রয়েছে সেখানে অসংখ্য মেধাবীকে বাদ রেখে কম মেধাবীদের সুযোগ ড্রাইভার রেখে হেলপারকে চালকের আসনে বসানোর নামান্তর মাত্র।

আমাদের বীর মুক্তিযোদ্ধারা বিশেষ সুবিধা পাওয়ার আশায় মুক্তিযুদ্ধে অংশগ্রহণ না করলেও কিছু স্বঘোষিত সুশীলরা সম্পূর্ণ আবেগ ও অযৌক্তিক কারণে মুক্তিযোদ্ধা কোটা না কমানোর দাবি করছেন। পাশাপাশি বর্তমানে আমাদের দেশের মেয়েরাও কোটা নয় বরং তাদের যোগ্যতার মাধ্যমে বিভিন্ন প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হচ্ছে। অনেক ক্ষেত্রে তারা ছেলেদের চেয়ে এগিয়ে। কোনো কোটা ছাড়াই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে বর্তমানে প্রায় অর্ধেক শিক্ষার্থী নারী। প্রায় ২৬.২ শতাংশ নারী তাদের যোগ্যতায় শিক্ষক হতে পেরেছেন। সেখানে ১০ শতাংশ কোটা রাখা তাদের জন্য অমর্যাদাকর ও অপ্রয়োজনীয়।

এর পরও কোনো বিশেষ শ্রেণীকে দ্বিতীয়, তৃতীয়, চতুর্থ শ্রেণীর চাকরির কিংবা আর্থিক সুবিধা দেয়া যেতে পারে। কিন্তু জাতির নীতিনির্ধারক ও দাতারা কোন যুক্তিতে দেশের সর্বোচ্চ প্রশাসনে ৫০ শতাংশ কোটার সুপারিশ করেন তা মোটেই বোধগম্য নয়। এর অর্থ কি তারা আমাদের সিভিল সার্ভিসকে উন্নত দেশের তুলনায় অদক্ষ ও অযোগ্য রাখতে চায়? দেশের মেধাবীরা কোটার ব্যাপারে পিএসসি’র বর্তমান সুপারিশে রীতিমতো বিস্মিত হয়েছে। পরিশেষে বলতে চাই একবিংশ শতাব্দীর অগ্রসরমান বিশ্বে আমাদের প্রিয় মাতৃভূমিকে মাথা উঁচু করে দাঁড়াতে হলে অযৌক্তিক আবেগ পরিহার করে বাস্তবমুখী হওয়া দরকার।

বিনা মূল্যে সারের ওয়াদাকারী গত মাসে একলাফে ইউরিয়া সারের দাম বাড়ানো হলো প্রায় ৬৭ শতাংশ। প্রতি কেজি ইউরিয়ার দাম ১২ টাকা থেকে বাড়িয়ে ২০ টাকা করা হয়েছে। দাম বাড়ানো হলো প্রায় ৬৭ শতাংশ। ১.৬.২০১১ থেকে সারা দেশে এই দর কার্যকর হয়।

কৃষি মন্ত্রণালয় সারের নতুন দাম কার্যকর করতে শিল্প মন্ত্রণালয়, জেলা প্রশাসক ও বাংলাদেশ ফার্টিলাইজার অ্যাসোসিয়েশনকে নির্দেশ দিয়ে চিঠি দেয়। কৃষি মন্ত্রণালয়ের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী কারখানা পর্যায়ে প্রতি টন ইউরিয়া সারের দাম ১০ হাজার থেকে বাড়িয়ে করা হবে ১৮ হাজার টাকা। আর ডিলাররা এই সার কৃষকদের কাছে প্রতি কেজি ২০ টাকা দরে বিক্রি করবেন। ২০০৮ সালে সর্বশেষ প্রতি কেজি ইউরিয়ার দাম ছয় থেকে বাড়িয়ে ১২ টাকা করা হয়েছিল।

বিশেষজ্ঞদের হিসাবে ইউরিয়ার দাম বাড়ানোর ফলে প্রতি কেজি ধানের উৎপাদন খরচ ২৫ পয়সা থেকে ৫০ পয়সা পর্যন্ত বাড়বে। কৃষকেরা প্রতি বিঘা ধানের জমিতে ২৫ থেকে ৩০ কেজি ইউরিয়া সার ব্যবহার করে থাকেন। আর প্রতি বিঘা আলুর জমিতে ব্যবহার করা হয় ৫০ থেকে ৬০ কেজি।

তামাকের কর প্রত্যাহারের ফাইলে বেখেয়ালে স্বাক্ষর করেছিলেন মতিয়া!
সংবাদপত্রে প্রকাশিত প্রতিবেদন প্রসঙ্গে মতিয়া চৌধুরী সংসদে এক বিবৃতিতে বলেছেন ‘বেখেয়ালে আমি নোটে স্বাক্ষর করেছিলাম।’ সংসদে দৈনিক বাংলাদেশ প্রতিদিনে প্রকাশিত রিপোর্টের সমালোচনা করেছেন কৃষিমন্ত্রী মতিয়া চৌধুরী। পত্রিকাটিকে সংবাদ পরিবেশনে আরও সতর্ক হওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন। বাজেট আলোচনা শুরুর আগেই ফ্লোর নিয়ে তিনি এ বিষয়ে কথা বলেন। বাংলাদেশ প্রতিদিন পত্রিকায় ‘মতিয়া তামাকের শুল্ক কমাতে চিঠি দেন মুহিতকে’ শিরোনামে একটি সংবাদ পরিবেশন করে। এতে বলা হয়, ‘কৃষিমন্ত্রী মতিয়া চৌধুরী তামাক রপ্তানির ওপর শুল্কহার কমাতে অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিতকে চিঠি লিখেছিলেন। ব্যক্তিগতভাবেও তিনি অনুরোধ করেছিলেন। অর্থমন্ত্রী মুহিত তার অনুরোধ রেখেছিলেন। তামাক রপ্তানির ওপর শুল্কহার শতকরা ১০ ভাগ থেকে কমিয়ে ৫ ভাগে এনেছিলেন।’

শত ব্যর্থতা সত্ত্বেও বিএনপির সাবেক বাম নেতৃত্বের পক্ষ থেকে বামপন্থী পুরনো বন্ধুদের পদত্যাগ না চাওয়াটাই হয়তো স্বাভাবিক। হাজার হোক জীবনের প্রথম প্রেম তো আর ভুলা যায় না!!
ডিজিটাল সরকারের সফলতা! একে একে আস্থাহীনতা ও ধ্বংসের পথে প্রায় সকল রাষ্ট্রীয় বিভাগ ও প্রতিষ্ঠান

সংসদে প্রধানমন্ত্রী : ‘ব্যর্থ ব্যর্থ’ বলে শত্রুর হাতে অস্ত্র তুলে দেয়ার মানে হয় না

মাননীয় প্রধানমন্ত্রী আপনি কাউকে শত্রু বলতে পারেন না। আপনার কাছ থেকে হিংসাপ্রসূত বক্তব্য জাতির কাছে অনভিপ্রেত….

মাননীয় প্রধান মন্ত্রী আপনি জাতীয় সংসদের নেত্রী। আপনি তো কোন দলের নন ,আপনি সকল নাগরিকের , আপনি আমাদের জাতীয় ঐক্যের প্রতীক।

তাছাড়া বাহ্যিকভাবে বিপুল সংখ্যাগরিষ্টতা নিয়ে ক্ষমতায় এলেও ইতিহাসের সবচেয়ে দূর্বল বর্তমান মাননীয় প্রধানমন্ত্রী সহজেই মন্ত্রীদের রদবদল করতে পারবেন না। জনগণ যতই উত্তেজিত হোক না কেন এটা তার আয়ত্বেরই বাইরে। কারন সব মন্ত্রীর নিয়োগ হাসিনা দেননি। পিনাক আর বীনা সিক্রীদের তালিকা অনুযায়ী সব করতে হয়েছে। মন্ত্রী পরিষদের অধিকাংশই হয় বাইরের সাথে অনেক হট কানেকটেড অথবা মফিজ (যা বলবে তাই শুনবে)।

নপুংসক ও চরিত্রহীন পিতার সহায়তায় সন্তানদের সামনে গণধর্ষণের শিকার এক অসহায় রূপসী মা

বলা হয় গরীবের বউ সবার ভাবী। এক্ষেত্রে গরীবের বউটি যদি দেখতে সুন্দরী হয় এবং প্রতিবেশি মাতব্বরা যদি লম্পট শ্রেণীর হয় তাহলে তো কোন কথাই নেই। আর আমাদের প্রিয় দেশটিতে অনেক সম্ভাবনা থাকা সত্ত্বেও গরীব। বলতে গেলে রূপসী দেশটির সর্বাঙ্গে সৌন্দর্য লুকায়িত। তাই বিশ্ব লম্পট যুক্তরাষ্ট্র ছাড়াও প্রতিবেশির ব্যাপারে ঐতিহাসিক চরিত্রহীন ভারত, ইইউ, ডব্লিউবি, আইএমএফ এর গণধর্ষনের শিকার রূপসী বাংলাদেশ। এক্ষেত্রে রূপসীর অক্ষম স্বামী (সরকার বাহাদুর!) নামমাত্র স্বামীত্বকে দীর্ঘস্থায়ী করতে বিশ্ব লম্পটদের নিতান্তই সহায়কের ভূমিকা পালন করছে। বার বার স্বামী (সরকার) পরিবর্তন করেও (রূপসী) নিজের স্বতীত্ব যেমন ধরে রাখতে পারছে না, তেমনি পারছে সন্তানদের (জনগণের) মুখে হাসি ফুটাতে।

রূপসীর বর্তমান স্বামীর (যে স্বামীর কিনা স্বামীত্ব টিকিয়ে রাখার ভিশন ২১) মাধ্যমে তত্ত্বাবধায়ক, মেসি ও যুদ্ধাপরাধের মত বড় বড় খাবার দিয়ে রূপসীর অবুঝ সন্তানদের ব্যস্ত রেখে বাড়ির বেডরুমে প্রবেশ করে নপুংশক স্বামীর সহযোগিতায় রূপসীর গ্যাস, বন্দর, ট্রানজিটের মত অত্যন্ত স্পর্শকাতর গোপন অঙ্গের কর্তৃত্বও দখল করেছে লম্পটরা। অথচ মায়ের সতীত্ব নষ্ট হওয়ার বিষয়টি অবুঝ সন্তানরা টের না পেয়ে বিশ্বাসঘাতক পিতার (সরকার) দেয়া দৃশ্যমান খাবার খেতেই ব্যস্ত।

একটি দেশের প্রাকৃতিক সম্পদের কর্তৃত্ব অন্যদের দেয়া মানে লম্পটদের বেডরুম ছেড়ে দেয়া, আর দেশের সামরিক বাহিনীর অফিসারদেরকে দিয়ে স্যালুট দেয়া অর্থ চূড়ান্তভাবে মনিবের কাছে গোলামদের আত্মসমর্পনের নামান্তর।

দূর্ভিক্ষের পদধ্বনি শোনা যাচ্ছে। এত দূর্নীতি করে এরপরও শেখ হাসিনা কিভাবে বলে তার মন্ত্রীরা কেউ দূর্নীতিগ্রস্ত নয়? এরপর বিভিন্ন মিডিয়া যে কয়েকজন মন্ত্রীর প্রশংসা করে তাদের কয়েকজন হলেন- শিক্ষা মন্ত্রী নাহিদ, কৃষি মন্ত্রী মতিয়া, খাদ্য মন্ত্রী ড. আব্দুর রাজ্জাক। তাদের অবস্থা যদি এত ভয়াবহ হয়, তাহলে বাকীদের অবস্থা কি অনুমেয়।

মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা কিংবা মাননীয় বিরোধীদলীয় নেতা খালেদা জিয়া অথবা যেই হোক না কেন আমরা চাই পরা শক্তির অস্বাভাবিক প্রভাব ও চাটুকার-দুর্ণীতিবাজদের কবল থেকে মুক্ত হয়ে আমাদের বিপুল সম্ভাবনাময় প্রিয় দেশটি সফলভাবে এগিয়ে যাক। মনে রাখতে হবে কোন একক দলের প্রতি দূর্বলতা নয় ক্ষমতাসীন দল তথা সরকার সফল হওয়ার মাধ্যমেই দেশ এগিয়ে যেতে পারে। এক্ষেত্রে ঐকমত্যের ভিত্তিতে দেশেকে এগিয়ে নেওয়ার জন্য ক্ষমতাসীনদের ভূমিকাই অধিক।

ইতিহাসের সবচেয়ে নির্মম সত্য হচ্ছে মানুষ ইতিহাস থেকে শিক্ষা গ্রহন করে না

জাতি হিসেবে এটি অত্যন্ত লজ্জার। একবিংশ শতাব্দীর অগ্রসরমান বিশ্বে আমাদের প্রিয় মাতৃভূমিকে মাথা উঁচু করে দাঁড়াতে হলে অযৌক্তিক আবেগ পরিহার করে বাস্তবমুখী হওয়া দরকার।

বি.দ্র. একত্রে সংগ্রহে রাখার সুবিধার্থে পোস্টটি বড় হলেও ১ পর্বে সন্নিবেশিত করা হয়েছে।