ক্যাটেগরিঃ রাজনীতি

স্বাধীনতার ৪০ বছর পার করেছে বাংলাদেশ। একটি দেশ তার মেরুদণ্ডের ওপর থিতু হওয়ার জন্য এটি শুধু দীর্ঘ সময়ই নয়, দীর্ঘতম। কিন্তু এদেশের মানুষের দূর্ভাগ্যই বলতে হবে। উদাহারণ টেনে বিষয়টি পরিষ্কার করছি।

’৭১-এর পরেও যে মালয়শিয়া অর্থনৈতিক ভাবে বাংলাদেশের চেয়ে দূর্বল ছিল, সঠিক নেতৃত্বের কারণে আজ সে দেশ বিশ্বের প্রথম সারির দেশের তালিকায় ঠাঁই নিয়েছে। আর আমরা এখন সেদেশে যাই “কামলা” খাটতে। দুঃখে মানুষের হাসি পায়, আমাদের মুখে এখন সেই দুঃখের হাসি।

এ দেশে মেধাবী মানুষের অভাব। রাষ্ট্রীয় সহযোগিতা ছাড়া যেকজন মানুষ নিজেদের ব্যক্তি চেষ্টায় বড় হয়, দেশের সুনাম বয়ে আনে, তাদেরও মূল্যায়ন করতে জানে না এদেশের একমেবাদ্বিতীয়ং মার্কা রাজনীতিবীদরা। ক্ষমতার গরম গদিতে তেঁতে ওঠে একেকজন পাওরুটি বনে যান। যাকে যেভাবে ইচ্ছা অপমান করে বসেন। গত ১০ মে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এবং স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায়মন্ত্রী সৈয়দ আশরাফুল ইসলাম এরকম এক কাণ্ড ঘটিয়েছেন। গায়ে পড়ে যা তা বলেছেন নোবেল বিজয়ী ড. ইউনুস সম্পের্কে।

সৈয়দ আশরাফ বলেছেন, ত্রাণ বা ভিক্ষার চাল আর তথাকথিত ক্ষুদ্রঋণের মাধ্যমে হাজার বছরেও মানুষের ভাগ্যের পরিবর্তন হবে না। তার এ বক্তব্যের প্রেক্ষিতে আমরা যদি প্রশ্ন করি, স্বাধীনতার ৪০ বছর গড়িয়ে গেছে, আপনারা রাজনীতিবিদরা কী অমন বৃহত্ঋণ আমাদের দিয়েছেন শুনি? যেটুকু ত্রাণ আর ভীক্ষার চাল এদেশের দরিদ্র মানুষের পাওয়ার কথা, তাওতো আপনাদের উদর পিণ্ডি ভরাতে লেগে যায়।

আমেরিকার পররাষ্ট্রমন্ত্রী হিলারিকে দাওয়াত করে এনেছেন সরকার। আমাদের দীপু মনি বিমানবন্দরে ফুল নিয়ে দাঁড়িয়ে আছেন, আর এদিকে ঘন্টা পার হয়ে যায়, হিলারি প্লেন থেকে নামেন না। হাতের ফুলের মতোই শুকিয়ে যায় দীপু মনির হাসিভরা মুখ। হিলারি নামলেন বটে, ড্যান মোজিনার সঙ্গে দীর্ঘ বৈঠক শেষে। এসব অপমান ছাড়াও শ্রমিক নেতা আমিনুল হত্যা, ইলিয়াস আলির গুমের তদন্তসহ নানা বিষয় নিয়ে সমালোচনার মুখোমুখি হয়েছ সরকার। সত্সাহসের অভাবে হিলারিকে সেসময় কিছু বলতে পারেনি। এখন সেই রাগ ঝাড়ছেন ডা. ইউনুসের ওপর? এ কথা বলার অপেক্ষা রাখে না, ড. ইউনুস এদেশের সন্তান। তিনি আমেরিকার কেও নন। আপনারা রাজনীতিবিদরা বারবার বাংলাদেশকে দূর্নীতির শীর্ষ তালিকায় আনা ছাড়া আর কী করেছেন? ডা. ইউনুস শুধু শান্তিতে নোবেল পাননি। বাংলাদেশের মুখকে সারাবিশ্বে আলোকিত করেছেন, উজ্বল করে তুলেছেন। তিনি এদেশের তরুণদের আইডল।

আশরাফ বলেছেন, “পৃথিবীর বেশ কিছু রাজধানীতে চিজ স্যান্ডউইচ আর সাদা ওয়াইন খেলে জনপ্রিয়তা বাড়ে। সময়মতো একটি নোবেল পুরস্কারও পাওয়া যায়।” হ্যাঁ, জনাবে আলা! আপনার ঢুলু ঢুল রক্তজবার মতো দুচোখই বলে দেয়- যদি মদ্যপদের নোবেল দেওয়া হয় তাহলে বাংলাদেশের
মদ্যপরাজনীতিবিদদের মধ্য থেকে কে সর্বাগ্রে মনোনিত হবেন।

“ডা. ইউনুস কোন যুদ্ধ থামিয়ে শান্তি এনেছেন? কোন মহাদেশে তিনি শান্তি প্রতিষ্ঠা করে নোবেল পেয়েছেন?” নিজের নামের শুরুতে এতোগুলো সম্মানসূচক পদবী নিয়ে তদুপরি মুক্তিযুদ্ধের অগ্রনায়ক, মজিবনগর সরকারের অস্থায়ী রাষ্ট্রপতি সৈয়দ নজরুল ইসলামের ছেলে হয়ে এমন মূর্খ সুলভ কথা আপনার মুখে মানায় না। শান্তিতে নোবেল পেতে হলে যুদ্ধ ঠেকাতে হবে কেন? ডা. ইউনুস নোবেল পেয়েছেন মানবতার কল্যাণ স্বরূপ। ‘বাপ কা বেটা সেপাহি কা ঘোড়া/ আগর কুছ না হো থোরা থোরা’- আফসোস, এদেশের রাজনীতিবিদরা প্রবাদ-প্রবচনগুলোকেও মিথ্যা প্রমাণ করছেন।

‘কয়লা ধুইলে ময়লা যায় না।’ তবু বলি, সৈয়দ আশরাফদের মতো রাজনীতিবিদরা যদি এভাবে প্রতিহিংসামূলক বক্তব্য দিয়ে বেড়ান, তাহলে ক্ষতি শুধু তাদের নয় সারা দেশের। এভাবে প্রলাপ বকতে থাকলে বিশ্বময় এদেশকে, এদেশের জনগণকেই ছোট করা হয়। একাত্তরে রক্ত দিয়ে দেশ স্বাধীন করেছি আপনাদের হাতে ছেলেখেলার পাত্র হতে নয়। নিজের শরীর নোংরা-দূর্গন্ধময় বলে অন্যের সাদা জামা নোংরা করতে চেষ্টা করবেন না। এখনও বাংলার মাটিতে শ্রাবণের ঢল নামে। পবিত্র হোন। আমাদের মুক্তি দিন।