ক্যাটেগরিঃ মুক্তমঞ্চ

’টর্চার সেল’ শব্দটি যদিও ইংরেজি তবুও বাংলা ভাষার মত জ্ঞাত রয়েছে সব শ্রেনী পেশার মানুষ।এক কথায় আঘাতের জন্য নির্ধারিত স্থান হল টর্চার সেল। সাধারনত মানব মনে একটা ভয়ানক, লোম হর্ষক,হৃদয় বিদারক, নিষ্ঠুর আচরনের ক্ষেত্রকে টর্চার সেল বলা হয়।
পৃথিবী সৃষ্টি লগ্ন থেকে আজকের দুনিয়ায় জাতি,ধর্ম,বর্ণ,গোত্র বিশেষ প্রভূত্ব বিস্তারের নেশায়, কখনো ধর্ম যু্দ্ধে,কখনো জাতিগত বিরোধে,কখনো গোত্রীয় বিরোধে, আবার বর্ণ প্রথাগত কারনেও টর্চার সেল ব্যবহার করা হত। আমাদের দেশে সবচাইতে উল্লেখ যোগ্য টর্চার সেল গঠন করা হয়, মহান স্বাধীনতা যুদ্ধে দেশীয় জারজ খ্যত প্রখ্যাত রাজাকার সাকা চৌধুরী কর্তৃক গুডস হিলের টর্চার সেল।এমনি ভাবে আল সামস,আল বদর,রাজাকার বাহিনী মুক্তিযুদ্ধাদের ও তার স্বজনদের শায়েস্তা করার জন্য অসংখ্য টর্চার সেল গঠন করেছিল।
আজ বিংশ শতাব্দিতে এসে সন্ত্রাসী চক্র টর্চার সেলের মধ্যমে সাধারন মানুষকে জিম্মি করে সর্বস্ব কেরে নিচ্ছে। যে উদ্দেশ্যে এতক্ষন টর্চার সেলের কার্যকর ভুমিকা নিয়ে বর্ননা করার চেষ্টা করলাম, কালের বিবর্তনে সে টর্চার সেল নতুন মাত্রা যোগ করেছে দাম্পত্য জীবনেও। তিলে তিলে গড়া ১৮ বছরের এক দাম্পত্য জীবনকে লন্ড ভন্ড করে দিচ্ছে ভয়ানক এ টর্চার সেল।
কোন রুপকথার গল্প নয়, বাস্তব জীবন থেকে নেয়া অবিশ্বাস্য হলেও সত্য ঘটনার ধরাবাহিক বিবরন দিতে গেলে হয়ত এক হাজার এক রাত কেটে যাবে তবুও দাম্পত্য জীবনের সব কথা বলা শেষ হবে না। উল্লেখ যোগ্য কিছু কিছু ঘটনার বর্নায় চমকে উঠবেন পুরুষ সমাজ।থু-থু দিবেন ঐ কাপুরুষিত পতিকে। কিন্তু কেন রচিত হল এ টর্চার সেল? এ প্রশ্নের উত্তর খোজে বের করার জন্য উপস্থিত হলাম আপনাদের মাঝে।

উপরে বর্নীত টর্চার সেলের চাইতে মারাত্মক হচ্ছে দম্পতি টর্চার সেল। এ কারনে মারাত্মক বলছি,অন্যান্য সেলে শাররীক কিংবা আর্থিক ক্ষতির সম্মুখিন হতে হয়।কিন্তুু দম্পতি টর্চার সেলে সকল প্রকার শাস্তি অবধারিত হয়। যেমনঃ মানসিক তেমনি শারীরিক। সবচাইতে মজার বিষয় হল পতি কয় জায়ার টর্চার সেলে সে অবরুদ্ধ।বিপরীতক্রমে জায়া কয় পতির টর্চার সেলে সে অবরুদ্ধ। উভয়েরই ইচ্ছা অবুঝ সন্তানের মুখে হাসি ফুটানোর জন্যই নিরন্তর সংগ্রাম।তাহলে ম্বাভাবিক ভাবেই প্রশ্ন জাগে ঐ সেলের প্রবক্তা কে? সত্য- মিথ্যার তদন্ত নির্ভর করে প্রমান বা সাক্ষীর উপর ভিক্তি করে।দুর্ভাগ্য যে, এ সেলের কোন প্রকার প্রমানক একদম অনুপস্থিত। তাহলে সত্য কি নিরবে নিভৃতিতে কেদে কেদে নিঃশেষ হয়ে যাবে? কেহ কি আসবেনা শিশু অধিকার রক্ষার মহান ব্রত নিয়ে? শুনুন শিশুদের কথা। শুনুন আত্মীয় স্বজনের কথা।শুনুন প্রতিবেশীদের কথা।শুনুন জায়া ও প্রতির কথা।

পতির বক্তব্যঃ আমার অভিযোগ আজ আমার বিরুদ্ধে। আমি কেন নারীবাদী কর্মীদের সমর্থক?আমার প্রকৃত মৃত্যু ঘটেছে বহু আগে।এখন কিছুই বলতে পারছি না,শুধু মনে হচ্ছে মানবতা বিরুধী অপরাধীদের চেয়েও ঢের বেশী যন্ত্রনার।শুধু চিন্তা হয় কলিজার টুকরাদের জন্য।
জায়ার বক্তব্যঃ ওর বিরুদ্ধে হাজারো অভিযোগ।সত্য গোপন করে।নানান প্রকার ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের মালিক গোটা বিশ্ব জানে আমি স্ত্রী হয়ে কিছুই জানি না।বাড়িতে সব টাকা পাচার করে কৃত্রিম সংকট তৈরি করে আমার পরিবারে। ওর প্রতি আমার ঘ্যান্না হয়, জীবন্ত দেহে থুথু দিলেও লজ্জা হয় না। সন্তানদের জীবন ওর কাছে নিরাপদ নয়।ওদের মেরে ফেলার জন্য রাতের অন্ধকারে গোসল করিয়ে বিষাক্ত খাবারে মাধ্যমে অসুস্থ করার নিরন্তর অপচেষ্ঠা এক জন বাবা হয়ে কি ভাবে করতে পারে এখানেই আমার ক্ষোভের কারন।পড়াশোনা বিমুখ করে ব্যবহারিক পোষাক, ইলিট্রিক লাইট থেকে শুরু করে সব ধরনের জিনিস পত্র পরিবর্তন করা তার স্বভাব। যতদিন ও সত্য কথা না বলবে তত দিন চলবে এ অবরুদ্ধতা। চিন্তা করুন,কতটা খারাপ হলে স্ত্রী স্বামীকে টর্চার সেলে অবরুদ্ধ রেখে মানসিক কষ্ঠ দেয়?
দর্শকদের বক্তব্যঃ
নিরপেক্ষ তদন্ত একান্ত ভাবে কাম্য।
আইন করে পুরুষ নির্যাতন বন্ধ করার দাবী করছি।