ক্যাটেগরিঃ নাগরিক মত-অমত

1377007567

’মা’ সন্তানের কাছে সৃষ্টির শ্রেষ্ঠ উপহার।মায়ের মর্যদা বা ভালবাসা পশ্চিমা বিশ্বের মানুষগুলো হয়ত বছরে একদিন উপলব্দি করে, লোক দেখানো দরদ মেখে মায়ের মমত্ববোধের জাগড়নের ঢেউ তোলে কম্পন জাগায় গোটা বিশ্ববাসীকে।তাদের এসব দেখে আমি অন্তত বিস্মিত নই তাদের ঐ মাতৃভক্তির ছেলে খেলায়।

আমি যখন দেখি বাংলা মায়ের দামাল ছেলেরা কঠোর পরিশ্রমের অংশ হিসাবে রাজমিস্ত্রী কিংবা রিক্সা চালনার মত ঘাম ঝড়ানো কাজ করেও মায়ের মুখে তুলে দেন একমুটু অন্ন।মায়ের জন্য কিছু করতে পারলে জীবনটাকে মনে করে ধন্য।এমন সব শ্রমিকদের প্রতি লাখো সালাম।অসংখ্য নজীরও রয়েছে অসুস্থ মাকে টুকরিতে রেখে কোন কোন ছেলে গতর খাটিয়ে মায়ের অন্ন, বস্ত্র,ওষধ পত্র যোগার করছে।এ রকম দৃশ্য দেখলে গর্ব্বে মনটা ভরে যায়।বাঙ্গালী অন্তত মায়ের মর্যদা দিতে কুন্ঠাবোধ করে না।যা উপরে আলোকপাত করা হয়েছে।ইসলামের ইতিহাসেও মাতৃভক্তির প্রমান রয়েছে যেমনঃওয়াজ কুরুনী,বায়েজিদ বোস্তামী তাদের মাতৃভক্তির নিদর্শন মুসলিম জাহানে অনুকরনীয়।পৃথিবীর মহৎ ব্যক্তিদের জীবনী অধ্যয়ন করলে বুঝা যায়, প্রতিনিয়ত তারা মায়ের প্রতি শ্রদ্ধাশীল ছিলেন।এটা প্রমানিত সত্য।মোদ্দা কথা আমরা প্রতিদিন প্রতিনিয়ত মাকে মাথার তাজ হিসাবে মেনে চলি ও চলব।

দুঃখজনক হলেও সত্য যে আজকাল আমাদের দেশেও কিছু কিছু জ্ঞান পাপীরা মাকে বোঝা মনে করে, ঝামেলা মুক্ত, পশ্চিমা সংস্কৃতি পুরাদমে রপ্ত করার সংকল্পে মায়ের শেষ ঠিকানা নির্ধারন হয় বৃদ্ধাশ্রমে।ধিক্কার জানাই ঐ সকল জ্ঞানপাপীদের।তবে এরা সংখ্যায় খুবই নগন্ন।ব্যতিক্রম গ্রামের কিছু মুর্খ মানুষদের মধ্যেও ঐ রুপ প্রবনাতা লক্ষ করা যায়। তবে তারা স্বভাবে নয় অভাবের কারনেই মায়ের খাবার পালাক্রমে ভাগ করে হলেও দরদ কিন্তু কম নয়।ইবলিসের আচরনগত কারনেও কিছু সংখ্যক ছেলে মায়ের অবাধ্য হয়।কিন্তু অবাধ্য হলেও মাতৃভক্তির কমতি নেই।

পশ্চিমা বিশ্ব প্রাপ্ত বয়স্ক ছেলে-মেয়ে একই সাথে গাড়িতে চড়লে যার যার ভাড়া সে সে দেওয়ার উদারন রয়েছে।অতএব তারা জন্মগত কারনে যে সংস্কৃতিতে বড় হয়েছে তাদের জন্য এমনটাই প্রচলিত। যাহা আমাদের ক্ষেত্রে সম্পুর্ন বেমানান চরম বেয়াদবী।আমি মানবতাহীন চরম অসভ্য জীবন জীবিকাকে অন্তস্থল থেকে ঘৃনাভরে প্রত্যাখ্যান করি।ঘৃনা করি, মাকে বৃদ্ধাশ্রমে রেখে যারা বছরে একদিন করুনা দেখানোর মা দিবস পালন করে।

যাই হোক বিশ্বের সাথে তাল মিলিয়ে চলতে তো হবেই, তাই যে মায়ের অবদানে পৃথিবীর এত সব সুন্দর অপার মহিমা অবলোকন করার সুযোগ পেলাম, যে মা শীতের মৌসুমে নিজে ভিজা বিছানায় শুয়ে আমাকে আপনাকে শুকনা জায়গায় রেখে ঘুম পারানির গান গেয়ে ঘুমিয়ে দিত সে মা ব্যথা অনুভব করুক এমন কাজ যেন না করি। মাকে খুশি রাখাই হোক মা দিবসের অঙ্গিকার। যুগ যুগান্তরে সেই স্নেহময়ী মায়ের বিকল্প অদৌ কেহ খুজে পায়নি অদূর ভবিষৎ এ পাবে না। আধুনিক বিশ্বে মহাবিজ্ঞানীরাও মাতৃত্বের সমক্ষ কাউকে নির্বচন করতে ব্যর্থ হয়েছেন। সক্ষমতা অর্জন করতে পারে নাই বলেই মায়ের স্থান সব কিছুর উপরে।

অতএব মা পৃথিবীর শ্রেষ্ঠ সম্পদ।যেহেতু মায়ের স্থান সৃষ্টি কর্তার পরে সেহেতু মাকে অবহেলা বা মনে কষ্ঠ দেয়া থেকে নিজেকে বিরত রাখি।যাদের মা বেচে আছেন,মাকে ছাড়া এক মুঠো ভাত খাব না;এটাই হোক বিশ্ব মা দিবসের একমাত্র প্রতিপাদ্য বিষয়।যারা আমার মত এতিম তারা মায়ের জন্য দোয়া করাই হোক আজকে শ্রদ্ধা নিবেদনের একমাত্র অঙ্গিকার।

মায়ের বদনখানি মলিন কারার সকল অপপ্রয়াস মায়ের মমতায় রুখে দিতে হবে ।দেশ বাঁচলে মা ভাল থাকবে,মা ভাল থাকলে আমরা ভাল থাকব।মনে রাখা দরকার মা করুনার পাত্র নয়, মা শ্রদ্ধার পাত্র।

পরিশেষে পশ্চিমা বিশ্ব কর্তৃক বাংলা মাকে জঙ্গিরাষ্ট্র বানানোর হীন প্রচেষ্ঠাকে শেষ রক্ত বিন্দু দিয়ে রক্ষা করার দীপ্ত শপথ নিতেট হবে। এবারের “বিশ্ব মা দিবসে”মোসাদ এর বাংলাদেশস্থ এজেন্টসহ যার যার নাম ইতিমধ্যে গোয়েন্দা তদন্তে দৃষ্টিগোচর হয়েছে সেই সব বেজন্মাদের শাস্তির দাবীর পাশা-পাশি মা, মাটি ও দেশ রাষ্ট্রের প্রতিটি নাগরিকের কাছে হয়ে উঠুক পরম শ্রদ্ধার বস্তুু। তাহলে সুখ অবধারিত।