ক্যাটেগরিঃ প্রশাসনিক

 

আজ বৃহস্পতিবার। এই দিনটি সপ্তাহের অন্যান্য দিনের চাইতে একটু বেশি গুরুত্বপূর্ণ। কারণ আমি যে পেশার সাথে যুক্ত সে পেশা মুলত বহির্গমন সংক্রান্ত বিধায় একটু বেশী সেনসেটিভ। তাছাড়া রমযানের কারনে সময় সীমা লিমিটেশনের কারনেও আরো বেশী তৎপর থাকতে হয় বহির্গমন ছাড়পত্র শেষে স্মার্ট কার্ড গ্রহনের জন্যে । তাই তরিঘড়ি করে প্রতিদিনের চেয়ে একটু আগেই রওনা দিলাম অফিসের গন্তব্যে।

নিত্যদিন আমার ছোট খোকা সুঅাইব আল হানযালা কিছুদুর পথ আমাতে এগিয়ে দিতে আসবে। আজও সে নিয়মের ব্যতীক্রম ঘটেনি। তবে কিছু একটা পেলেই টা-টা দিবে নতুবা আমার গলা ছাড়বে না।অফিসে যাবার বায়না ধরবে।তাই যা যা চায় তা দিয়েই শান্তনা দিয়ে আসি।আজকে শুধু কিন্ডাড় জয় আর জেমস নিয়েই টা-টা।

আমি ধীরগতিতে এক পা দু’পা করে রওনা দিলাম আদর্শ স্কুল মোড়।অন্যদিনের চেয়ে আজ সিএনজিতে উঠার দীর্ঘকার লাইন।লাইনে দাড়িয়ে অপেক্ষা করছি।ওরা পাঁচ জন করে লোক নেয়। পর্যায়ক্রমে আমারা পাঁচ জন উঠব যে সিএনজিতে সেই পাঁচ জনের মধ্যে একজন ভদ্র মহিলা আছেন আমি পাঁচ নম্বর সিরিয়ালে গাড়িতে উঠলে আমার সিট হওয়ার কথা ছিল চালকের সাথে কিন্তু প্রথম ও দ্বিতীয় জন চালকের দু’পাশে বসে পরার কারনে আমার সিট বরাদ্দ হল পিছনে তিন নম্বরে।কিন্তু সেখানেই আমার উপঢৌকনের ব্যবস্থা প্রায় নিশ্চিত। বাধ্য হয়ে আমি বসলাম মাঝখানে। বসতে না বসতেই এক পাশে ভদ্র মহিলাটি উচ্চকন্ঠে বলতে লাগলেন তার গাঁয়ে আমি স্পর্শ করেছি। লজ্জায় আর নিজেকে চাপিয়ে রাখতে পারলাম না। প্রতিবাদের চেষ্টা করলাম। যতই বুঝানোর চেষ্টা করা হচ্ছে ততই অশোভন কথা দিয়ে আক্রমণ করার চেষ্টা করা হচ্ছে। পরিশেষে ধমকি দিয়ে বল্লাম নারী অধিকার প্রতিষ্টার জন্য ব্যক্তিগতভাবে আমিও সমর্থন করি।তবে এমন মনভাবাপন্ন হলে ঐ অধিকার কখনো আলোর মুখ দেখতে পাবেনা।আপনি ঐ অধিকার প্রতিষ্ঠায় একজন বিষফোঁড়া। যংযমী হউন।এমন সময় আমাদের গন্তব্য খিলগাঁও রেল গেট চলে এলাম।যে যার যার মত করে স্ব-স্ব কর্মস্থলে যেতে লাগল।কিন্তু আমার ভিতরে বোবা বেদনা কিছুতেই ভুলতে পারছি না এ জন্য যে এটা আমার জীবনে নতুন নয়।

আজ পরন্ত বেলা এসেও যদি বিশ্রী ঘটনার পাত্র হতে হয় তার চাইতে মৃত্যই বোধ হয় উত্তম।সৃষ্টি কর্তা আমাকে বারংবার ঐ ন্যাষ্টি জাতীয় ঘটনায় ফেলে কি শিক্ষা দিতে চায় তা এক মাত্র উনিই ভাল জানেন।

“আমি বয়সে কেবলও কম নই,বৃদ্ধও বটে।
পথে-ঘাটে-হাটে সর্বত্র চাচা বলে ডাকে”।

সে কারনেই সে দিন মাঝখানে আমার ঠাই হয়েছিল।তারপর যা হওয়ার তো হয়েছে যা পূর্বেই আলোচনা করেছি।গত বছর আমার পরিবারবর্গসহ ঘুরতে বেরিয়েছিলাম।সেখানেও খিলগাঁও রেলগেট অতিক্রম করার সময় ট্রেন সিগনালনে দাড়িয়ে থাকার সময়েও আরেক ভদ্র মহিলা অনুরুপ আচরন করলে সেখানে আমার সহধর্মনী বিষয়টা টেকেল দেয়।যা আমার সন্তানরাও প্রত্যক্ষ করছিল।ছোট ছেলেটা আমার কোলে ঘুমাতে ছিল।

“সিএজিতে ভদ্র মহিলাকে যা বলা হয়নি,বলতে চেয়েছিলাম এভাবে, চোখ বন্ধ করে একবার আপনার আপনালয়ের মানুষ গুলোকে ভাবুন।আপনার পাশে বসা মানুষটিকে আপনার পরিবারের বা আত্মীয় স্বজনের মধ্যে কার বয়সের মত দেখতে।যদি বাবার মত হয়, পিতৃ সুলব, ভাইয়ের মত হলে ভ্রাতৃ সুলব,যদি চাচা,মামা ইত্যাদির মত হয় ইত্যাদি সুলব আচরন করলেই আর কখনো অনাকাংখিত ঘটনার সম্মুখীন হতে হবে না”।

প্রগতিশীল সমাজে আমরা লিঙ্গ সমতার কথা বলি,আন্দোলন করি,মানব বন্দন করি, টক-শোতে সরগম করি, চিৎকার করে আমরা পুরুষরাসহ নারীদের সম্মান রক্ষার্থে যুগপদ আন্দোলন করি। আর পাশে বসা একজন পুরুষকে হেনস্থা করতে বিন্দু মাত্র বিবেকের জাগরণ সৃষ্টি হয় না। এমন মনোভাবের পরিবর্তন না হলে যতই আন্দোলন সংগ্রাম করি না কেন লিঙ্গ সমতা আনয়ন করা গুড়ে বালি ছাড়া কিছুই হবে না।

আমাদের পুরুষের মধ্যেও কিছু কিছু কামুক জানোয়ার আছে পাবলিকপ্লেসে, গাড়িতে,হাটতে যত্র-তত্র ইচ্ছাকৃত মেয়েদের সাথে ধাক্কার মত ঘটনা ঘটিয়ে বা স্পর্শ করে সরি বলে পাশ কাটিয়ে চলে যান।এভাবে সমাজে শতকরা ২০% নারী মুখ বন্ধ করে নিরবে সহ্য করে থাকেন। ইদানিং কালে কেহ কেহ প্রতিবাদ করেন।সেই যুক্তিক প্রতিবাদী নারীকে আমার পক্ষ থেকে জানাই অভিবাদন।দুঃখ জনক হলেও সত্য যে আমাদের সমাজে যখন দেখি ভাল ভাল মানুষ প্রতিবাদের স্বীকার হয়ে অপদস্থ হতে হয় তখন এ লজ্জা সমগ্র পুরুষকুলের।পুরুষকুলের লিখাটা হয়ত যথোপযোক্ত নয়। মাফ করবেন নারী সমাজ, মাফ করবেন প্রগতিশীল লিঙ্গ সমতাবাদী কর্মীরা। আজকে এর চাইতে বেশী যে আর বলতে পারছিনা।বলা যাবে অন্য কোন আয়োজনে।

দুঃখ দরিয়ার উত্তপ্ত জলরাশির বিষদ বিবরন দিয়ে অব্যক্ত কান্নার কিছু কিছু অংশ পাঠক মনে জাহির করে কিছুক্ষনের জন্য নিভৃতি পেতেই আজকের এ লেখার সমাপ্তি রচনা করব।

পর্ব একঃ
জনশক্তি রপ্তানী ও কর্মসন্থান প্রশিক্ষন ব্যুরোর আওতায় বহির্গমন ছাড়পত্র গ্রহনের পূর্ব শর্ত হচ্ছে সরকারকে ও ওয়েজ আর্নাস কল্যান বোর্ডকে অগ্রিম কর প্রদান করতে হয়। সেই কর প্রদান করতে গেলাম সোনালী ব্যাংক, কাকরাইল শাখায়।ক্যাশিয়ার সাহেব দিনের শেষে হিসাবে গড়মিল পেয়ে রাত আটায় আসলেন আমাদের ফকিরাপুল অফিসে। উনি বুঝাতে চাইলেন যে পরিমান করের টাকা চালানে উল্লেখ করেছি সে পরিমান করের টাকা ওনাকে নগদ প্রদান না করে চালান নিয়ে আসছি। পাঠক ভাইয়েরা একটু ভেবে দেখুন ব্যাংকের ইতিহাসে কোন ক্যাশিয়ার টাকা নগদ গ্রহন না করে চালানে স্বাক্ষর করেছে এমন নজির খোজে পাওয়া যাবেনা।তারপর সবাই ঘটনাটা শোনে অবিশ্বাস করলেও আমাকে কিছু অংকের টাকার ক্ষতিপুরন দিতে বাধ্য করা হল।

পর্ব দুইঃ
সৌদি আরব গমন ইচ্ছুক প্রত্যেক নারী ও পুরুষ কর্মীর অনুকুলে হেলথ,এনজাজ ও ভিসা ফি ভাবদ ৩৬০০–৪০০০ টাকা অনুবাদক কর্তৃক (বাধ্যতামুলক নয়) ইচ্ছা করলে স্ব-স্ব এজেন্সীও প্রদান করতে পারে।যেজেতু আরবী টাইপিং এর কাজ যুক্ত সেহেতু অনুবাদকের মাধ্যেই এ কাজটি সম্পন্ন করা শ্রেয়।সে হিসাব মতে আদর্শ অনুবাদে আমাদের কাজ করিয়া থাকি।একদিন যা ঘটল বস বল্লেন এক্সের কাজটা দ্রুত টাকা জমা করেন,কাজটা জমা দিলাম। পরক্ষণেই ঐ কাজটি বন্ধ করতে বলেন সে মতে সশরীরে জামালের কাছে গিয়ে না পেয়ে টেলিফোনে তাকে ঐ কাজটি অাপাতঃ বন্ধ রাখতে অনুরোধ করলাম। কয়েকদিন পর সে টাকা ফেরৎ চাইলে দিয়ে দিয়েছেন মর্মে আবগত করেন।

এমনি ভাবে বহু পূর্বেও অর্থাৎ যুবক থাকতে প্রায় সময় মিস বিহেবের কারনে জন্ম নিত অপ্রত্যাশিত নান রকম ঘটনা।এছাড়াও আওয়মীলীগের প্রথম উপজেলা নির্বাচনের পরের দিনও এরকম ভুলবুঝাবুঝির কারনে পৈষাচিক কাদায় সেনা আক্রমনের স্বীকার হয়ে ওষধের উপর নির্ভর করে জীবনটাকে চালাতে হচ্ছে,বাচতে হবে, বাচাতে হবে এরুপ চেতনার ধারক হিসাবে।

জগৎ সৃষ্টি ভুলের কারনে আমার জন্ম অপবাদ আর মিথ্যা গ্লানী বুকে লালন করে অতৃপ্ত মনবল নিয়ে একদিন হয়ত চলে যেতে হবে পরপারে ঈশ্বরের ডাকে।মনে হয় সেখানেও পরিত্রাণ পাব না। তাহলে উপায় হবে কী???? করণীয় কী?????

।। সমাপ্ত।।