ক্যাটেগরিঃ প্রশাসনিক

প্রতিদিনের কার্যতালিকা অনুযায়ী রবি বার সপ্তাহের প্রথম দিন। শুক্র ও শনি এ দুইদিন সরকারি ছুটি থাকার কারনে অন্য কোন দিনের চাইতে রবিবার ও বৃহস্পতিবার দিন দুটি রিক্রটিং এজেন্সীর মালিক প্রতিনিধিদের কার্যতালিকায় খুবই গুরুত্বপূর্ন। “সেই গুরুত্বের বৃত্তে হঠাৎ কাল বৈশাখীর প্রবল থাবায় লন্ড ভন্ড সকল পরিকল্পনা, লন্ড-ভন্ড নিত্যদিনের কার্যপ্রনালী। কালবৈশাখীর মানে হচ্ছে পূর্ব নোটিস ছাড়াই নতুনের গৃহীত নতুন আইনের প্রবর্তন ও বাস্তবায়নের নানান ধরনের জটিলতা”।

বিএমইটি’র ইতিহাসে বিনা নোটিসে এবারই প্রথম নতুন এ আইন কার্যকর করতে গিয়ে আজ প্রায় এক সপ্তহ হতে চলছে মহিলা গৃহকর্মীদের কোন ছাড়পত্র গ্রহন হচ্ছে না।যেখানে প্রতিদিন ১২০০-১৫০০ জন কর্মীর অনুকুলে ছাড়পত্র গ্রহন করা হত। বিপরীতে সরকার রাজস্ব পেত জন প্রতি ২৫০-৪০০ টাকা আর কল্যান বোর্ড পেত ৩৫০০ টাকা। হারালাম কত টাকা? এ হিসাব জনতার আদালতে ।

সরকার যে বাজেট ঘোষনা করেছেন তার লক্ষ অর্জনের জন্য জনশক্তি রপ্তানী খাতে প্রয়োজন আরো বেশী সহজী করন নীতিমালা হতে পারে আগামী দিনের সুন্দর পথ চলা,রেমিটেন্স বান্ধব বাংলাদেশ গড়ার সুদীপ্ত পথে আগুয়ান এক সময়ের সাহসী পদক্ষেপ।

ম্যানপাওয়ার ব্যুরো বা প্রবাসী কল্যান মন্ত্রনালয়ে নিয়োজিত সরকারের পদস্থ কর্মকর্তা ও রি/এজেন্সীর যৌথ প্রয়াস হতে পারে রেমিটেন্স বৃদ্ধির রাখিবন্ধন সৃষ্টিকারী সমর যোদ্ধা। কিন্তু দুঃখ জনক হলেও সত্য যে বিনা নোটিসে সপ্তাহের প্রথম দিন কাজ বন্ধ করার পর জানতে পারলাম গত বৃহস্পতিবার ব্যুরো কর্তৃক আয়োজিত এক সভায় গৃহীত হয় সাক্ষাৎকার ব্যতীত সৌদি আরবসহ বিশ্বের যে কোন দেশে গমনেচ্ছুক কোন নারী কর্মী প্রেরন করা যাবে না।তাৎক্ষনিক রি/এজেন্সীর প্রতিনিধিরা প্রতিবাদ করল,বলা হল কিছুদিন শীতিল করা হোক আর না হয় ঈদের পর ঐ আইনের বাস্তবায়ন হোক। জবাবে বলা হল, আমাদের সিদ্বান্তে নরচড় হবে না, বাস্তবায়নের জন্য যা যা করা লাগে অর্থাৎ আমরা প্রয়োজনে গুলি করতেও প্রস্তুত আছি। এ কথায় মনে হচ্ছে কারো গোপন এজেন্ডা বাস্তবায়নের জন্য, রেমিটেন্সে আঘাত করে সরকারকে বেকায়দায় ফেলার সামিল।

নতুন আইনটি কার্যকর হোক,এজেন্সীর প্রতিনিধি ও মালিক স্বাগতম জানাবে এমনটাই সর্বমহলের কাম্য। আমিও তাই মনে করি। কোন সমালোচনার জন্য লিখতে বসেনি।লিখতে বসেছি সাক্ষাৎকার প্রক্রিয়া যে ভাবে গ্রহন করা হচ্ছে তা আরো বেশী গতিশীল, আরো বেশী জনবান্ধব, আরো বেশী যুগপযোগী করনে কিছু সুপারিশ মালা গ্রহনে তাদের দৃষ্টি আকর্ষন করা । কিন্তু দুর্ভাগ্য গ্রাস রোডের অবলা নারী কর্মীর,দুর্ভাগ্য ম্যানপাওয়ার প্রতিনিধিদের,দুর্ভাগ্য ভোক্তাদের। ভোক্তার কথা কে শোনে? ভোক্তার প্রস্তাব সমুহ নিজ নিজ কল্যানে উপস্থাপিত মনে করে অনড় অবস্থানে রয়েছে বিএমইটি কর্তৃপক্ষ।

রি/এজেন্সীর প্রতিনিধিদের দাবী ছিলঃ

# কর্মী রিক্রুট করার সময় অথবা প্রশিক্ষন গ্রহন কালিন সময়ে তাদের গৃহীত সিদ্বান্ত সমুহ বাস্তবায়ন করার জন্য।

# ইমিগ্রেশনে দায়িত্ব প্রাপ্ত অফিসারগনকে সাক্ষাৎকার কমিটির আওতামুক্ত রাখার জন্য। কারন সাক্ষাৎকার কমিটতে দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে ছাড়পত্র গ্রহনের কাজ দারুন ভাবে ব্যহত হচ্ছে।

#ইতি পূর্বে যারা ফিটনেস সার্টিফিকেট পেয়ে ভিসা প্রাপ্ত হয়েছেন এবং প্রশিক্ষন কোর্স সম্পন্ন করে সার্টিফিকেট সংগ্রহ করেছেন তাদের বিষয়টি পুনঃবিবেচনা বা সাক্ষাৎবার মুক্ত ছাড়পত্র প্রদানের জন্য।

# বিদেশ গমনের সবশেষ স্তর হচ্ছে ছাড়পত্র গ্রহন আর তখনি যত হয়রানি ভোগান্তির স্বীকার সাধারন মানুষ, যাহা কখনই কাম্য হতে পারে না।

#ছাড়পত্র গ্রহনের লক্ষ যদি হয় কর্মীর ভিসার সঠিকতা যাচাই, চাকুরী, বেতন, সামাজিক নিরাপত্তা ইত্যাদির নিশ্চয়তা তা হলে বাঁধা যেখানে সমাধান সেখানেই হওয়া উচিত।

# বিশেষ করে কর্মী বিদেশ প্রেরনের ক্ষেত্রে সকল দায়-দায়িত্ব যদি রি/ এজেন্সীর উপর বর্তায় বা দায়িত্ব পালনে বাধ্য করা হয়, তাহলে তাদের দাবী পুরনে সরকারের পদস্থ কর্মকর্তাদের অনড় অবস্থানের বিপরীতে রেমিটেন্সকে হুমকির মুখে ঠেলে দেয়ার মত অবস্থা।দেশ ও জাতির জন্য অশনি সংকেত।

# বিএমইটির ইতিহাসে সবচেয়ে উজ্জ্বল যে মানুষটি পরিচালক থেকে মহাপরিচালক কিছু সংখ্যক নকসাল বা ভিন্নমতাবলম্বীদের কারনে তার সম্মান ম্লান হতে পারে না। তাই তাকে সতর্ক ও সজাগ থাকার বিনীত অনুরোধ করছি। কারণ অধঃস্তন কর্মকর্তাদের অধপতনে উনিও দায় এরাতে পারেন না। উদারন স্বরুপ বাংলাদেশ ব্যাংকের গভঃ ডঃ আতিয়ার রহমানের কথা বলা যেতে পারে।