ক্যাটেগরিঃ অর্থনীতি-বাণিজ্য

“যত দোষ নন্দ ঘোষ”হিন্দু সম্প্রদায়ের ভাই-বোন বন্ধুদের কাছে এ প্রবাদটি ব্যবহার করার জন্য প্রথমেই ক্ষমা চেয়ে নিচ্ছি। কারন আপনাদের তিরস্কার বা খাটো করার জন্য নন্দ ঘোষের নাম উল্লেখ করা হয়নি।উল্লেখ করা হয়েছে এ দেশের দুঃখ মন্দা ক্ষধার্ত নারীকর্মীদের।এ বাংলার সব চাইতে অবহেলিত,নিন্দিত,অধিকার বঞ্চিত,স্বামী পরিত্যক্ত বিশেষ করে দারিদ্র প্রবল মানুষগুলো একমুটো খাবারের জন্য,কেউবা সন্তানের মুখে খাবার তুলে দেবার জন্য যে মানুষটি কখনো বাড়ির আঙ্গিনা অতিক্রম করেনি সে মানব- মানবীরা আজ ঘর থেকে দুরে বহুত দুরে পারি জমাতে চায় দেশ হতে দেশান্তরে।তাদের স্বপ্ন বা চাওয়া একমুটো ভাত,একটুকু সুখের আবেস,একটুকু মাথা গুজার ঠাই, একটুকু স্বচ্ছলতার জন্য আপন জনদের মায়া মমতাকে পাথর চাপা দিয়ে যেতে চান স্বপ্নের দেশে। আর স্বপ্ন পুরনের দেশে যেতে, ডিজিটাল বাংলায় এনালগি কাজ কারবার সমাজ থেকে শুরু করে রাষ্ট্রের প্রতিটি স্তরে স্তরে তাদের নাভিশ্বাস চরমে সইতে হয় বহুরুপী জোট জামেলা।

জামেলার শুরুতেই রয়েছে পাসপোর্ট অফিস।তারপর ক্রমাগত ভাবে পুলিশ , মেডিকেল ফিটনেস সার্টিফিকেট প্রধানকারী সিন্ডিকেট, ধাপ হিসাবে যুক্ত হচ্ছে পুলিশ ক্লিয়ারেন্স পররাষ্ট্রমন্ত্রনালয়ের সত্যায়ন পূর্বক সৌদি এ্যামবাসিতে জমা করন অতপর যাচাইয়ান্তে ভিসা স্ট্যামপিং, প্রশিক্ষন সনদ গ্রহন করা, ফিংগার প্রিন্ট প্রদান,বর্তমানে সবচাইতে বেশী আলোচিত নতুন ধাপ হিসাবে যুক্ত হয়েছে সাক্ষাৎকার পদ্বতি,সবশেষে রয়েছে
বহির্গমন ছাড়পত্র ও এয়ার টিকেট।উপরে উল্লেখীত প্রত্যেকটি সংস্থায় ওদের বিড়ম্বনার অন্ত নেই।মনে হয় ওদের তাদের দুঃখ গুলো দেখার কেহ নেই,বাস্তবে দেখলে মনে হয় দুঃখের জন্যই জন্য সৃষ্টকর্তা পৃথিবীতে প্রেরন করেছেন।ওদের জন্য আছে কেবল হৃদয় নিংরানো তুচ্ছতায় গিবদ গাওয়া, কাটা গায়ে লবনের ছিটা দেয়া।আর দুঃখকে জয় করতে বিএমইটির দুলাবালি গায়ে মেখে দীর্ঘ্য সময় লাইনে দাড়িয়ে কখনো বসে কখনোবা যেখানে-সেখানে যত্র-তর্ত ছড়িয়ে ছিটিয়ে প্রতিক্ষার প্রহর গোনা বিএমইটির এক আজব কান্ড কারখানার নাম সাক্ষাৎকার প্রক্রিয়া।হায়রে দেশ ও দেশের সচেতন মানুষেরা ওদের ভালবাসার কেহ কি নেই? কেহ কি স্বর্গীয় দূত সেজে আসবেনা তাদের হয়রানী বা ভোগান্তির দুর করার মহান ব্রত নিয়ে।হ্যা এক জনই আছে সে আমাদের প্রিয় নেত্রী জন নেত্রী শেখ হাসিনা।যদিও প্রধান মন্ত্রীর কার্যালয়ের দোহাই দেয়া হচ্ছে।

যে মানুষগুলোর কষ্টার্জিত শ্রমের টাকায় বাংলাদেশের অর্থনীতির চাকা দ্রুত থেকে দ্রুততম গতিতে ঘুরছে তাদের ইজ্জত নেই একটু আধটুকু বসার জায়গা নেই,আছে কেবল অপরাধির মত লাইনে দাড়িয়ে অপেক্ষার সমুদ্র পারি দেয়া।।অথচ ঐ শক্তিকে পুজি করে চলমান সরকার যে সকল প্রকল্প হাতে নিয়েছেন তাদের মধ্যে অন্যতম দৃষ্টান্ত হচ্ছে পদ্মা সেতুর কাজ,মেট্টো রেলের কাজ,বিআরটি’র কাজ,পাতাল সড়কের কাজ।মাননীয় প্রধান মন্ত্রীর বহুমুখী প্রকল্প একের পর এক আলোক উজ্জল বাংলাদেশ বিনির্মানে অংশিদার সে মানুষগুলোকে একটু সমীয় করে কথা বলা তাদের কাজে সহায়তা মুলক মনভাব পোষন করা বিদেশ গমনের পথে যে সব অন্তরায় সৃষ্টি হচ্ছে সে সব কার্যাবলী বীরত্বের সাথে পুরন করা আজ সময়ের দাবী।আর চলমান প্রক্রিয়ায় হয়রানী গ্রস্ত কর্মীদের ভোগান্তি কমানোর স্বার্থে অন্তপক্ষে ফিংগার গ্রহনের সময়ে এ কাজটি করা যেতে পারে,নতুবা প্রশিক্ষন গ্রহনের সময়েও এ কাজটি করা যেতে পারে।এতে করে বার বার এদেরকে ঢাকায় আসতে হবে না অপরদিকে যানজটও সৃষ্টি হবে না।আমি গভীরভাবে লক্ষ করেছি যে দিন থেকে সাক্ষাৎকার ব্যবস্থা চালু করেছে তার কয়েক দিন পর মহানগরিতে যানজটে নাকাল নগরবাসী।ধারনা করা হচ্ছে গ্রাম বাংলার প্রত্যান্ত অঞ্চল থেকে হররোজ অসংখ্য মানুষ সাক্ষাৎকার+ ফিংগার প্রিন্ট দিতে আসা মানুষগুরোর কারনে নগর জীবনে দেখাদিয়েছে যানজট নামক মহামারী।যতই ফ্লাই ওভার নির্মান করা হোক না কেন প্রশাসনিক কর্ম পরিধির বিকেন্দ্রিকরন না করলে, বিদেশগামী কর্মীদের একবারে যে কাজ করা সম্ভব সে কাজ বার বার কারার নিমিত্তে তাদের ঢাকায় আসাতে বাধ্য করা হলে যানজট সমস্যা সমাধান করা স্বপ্নই থেকে যাবে।

যতটুকু বুঝতে পেরছি সরকারের গৃহীত সিদ্বান্ত মতে কম বয়সী আর বেশী বয়স্ক নারী কর্মী বিদেশ গমনা গমনে কঠোরতা আরোপ করার জন্যই আজকের এ দৃশ্যপট।নিঃসন্ধেহে সকল বাঙ্গালী এ কার্জক্রমে স্বাগতম জানাতে প্রস্তুত।আপত্তি শুধু বিশৃংঙ্খল মানবতাহীন অবস্থায় স্বল্প সময়ের অর্থাৎ সকাল ৯.০০ মিঃ থেকে ৯.৩০ মিনিটের মধ্যে এজেন্সী মারফত আবেদন জমাদিতে হবে,অতপর সাক্ষাৎকার।এক মিনিট গত হলে যতই অনুনয় বিনয় করুক না কেন তাদের হৃদয়ে নুন্যতম জাগড়ন সৃষ্টি করতে পারা যায় না। আইনের প্রতি শ্রদ্ধা রেখে বলতে চাই প্রয়োজন আইন মানে না।যে সব কর্মীরা বিদেশ যায় তাদের বেশীর ভাগ লোকদের হয়ত এটাই প্রথম ঢাকায় শফর দুই নম্বরে তাদের ঢাকায় থাকা খাওয়ার তেমন কোন ব্যবস্থাও নেই।এমনিতে যানজটের কারনে নির্দিষ্ট সময়ে নির্দিষ্ট গন্তব্যে পৌছা সম্ভব হয়ে উঠে না।এ কারনে প্রতিদিন শত শত কর্মীরা হয় সাক্ষাৎকার বঞ্চিত।বিষয়টি ভেবে দেখার অনুরোধ সকলের। সরজমিনে জানাগেল ছকিনা বেগম নামে এক কর্মী তিন দিন পর আজ সাক্ষাৎকারে সক্ষম হয়েছে।এ যদি হয় বিএমইটির অবস্থা ক্ষুধামন্ধা লাগতে বেশী দুরে নয়।

বিশ্বাস করি আমার দেশের নারী কর্মীরা বিশ্বের বিভিন্ন দেশে নিপিড়িত নির্যাতিত।কিন্তু পরিতাপের বিষয় হলেও সত্য আমার দেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রনালয় এবং বিদেশে নিয়োগপ্রাপ্ত রাষ্ট্রদূতগন আমার দেশের এ শ্রমজীবি মানুষগুলোর কল্যানে বিশেষ কোন ভুমিকা পরলক্ষিত হয় না।প্রবাসী কর্মীদের মাধ্যমে জানতে পারলাম তাদের অভিযোগ শোনার মত সময় তাদের নেই।তাহলে স্বাভাবিক ভাবেই প্রশ্ন এসে যায় তাদের কাজ কি???যে লোকগুলোর রেমিটেন্সের টাকায় আর আমার দেশের গরিব কৃষকের টেক্সের টাকায় যাদের বেতন চলে তাদের কথা শোনার সময় নেই আছে কেবল আরাম আয়েশ করে বিলাস বহুল জীবন যাপনে সদাব্যস্ত।এ হল আমার দেশের রাষ্ট্রব্যবস্থা।কর্মীর স্বার্থের চাইতে নিজস্ব স্বার্থেই বেশী কাজ করে থাকেন ঐ সব রাষ্ট্রদূতগন।

গৃহকর্মী নির্যাতন দেশ-বিদেশে চোখে পরার মত।তাই বলে গৃহকর্মী নিয়োগ বা প্রেরন বন্ধ করে দেওয়া সমাধানের পথ হতে পারে না।মাথায় টিউমার হয়েছে তাই মাথা কেটে ফেলে দেয়া যেমন সমাধান হতে পারেনা।তেমনি সমস্যা থাকবে সমাধানের পথ আবিস্কার করা হবে অধিকতর যুক্তিযুক্ত।তাই দেশে বিদেশে গৃহকর্মীদের সুরক্ষা দেয়া রাষ্ট্র যথাযথ দায়িত্ব পালন করলে এমন একদিন আসবে আমাদের বিদেশ যেতে হবে না।বিদেশী প্রভুের তোষামোদি করতে হবে।জনগনকে জন সম্পদে পরিনত করতে পারলে প্রবাসীদের পাঠানো রেমিটেন্স সদ্যব্যবহারের ফলে আমরা হব বিজয়ের সোপান।

পরিশেষে আবারো বিনীত অনুরোধ করব বিদেশ গমনে গৃহ কর্মীদের কষ্ট লাঘবের জন্য,মহানগরকে যাজট মুক্ত রাখার জন্য বিএমইটি পরিচালিত প্রশিক্ষন কেন্দ্রে যাচাই বাচাই করার প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে ভর্তি ও প্রশিক্ষন সনদ প্রদান করলে অসহায় কর্মীরা কিছুটা হলেও উপকৃত হবে, নগরবাসীও সুফল পাবে।মন্ত্রী পরিষদে অমুমোদিত মাননীয় প্রধান মন্ত্রীর ঘোষনা মতে ১৪২ তলা ভবন নির্মানেও গতি সঞ্চার পাবে।লোকজন যত বেশী বিদেশ যাবে অর্থনীতি তত বেশী চাঙ্গা হবে বিএমইটির কর্মকর্তাদের এ কথাটি মাথায় রেখে কাজ করলে ইনশাল্লাহ সোনার বাংলা রুপায়ন দ্রুততম সময়ে সম্ভব।