ক্যাটেগরিঃ শিল্প-সংস্কৃতি

 

পশ্চিমা বিশ্বের কৃষ্টিকালচার আজ আমাদের সর্বক্ষেত্রে ক্রমশ রাহুগ্রাসের মত গিলে ফেলছে। আমাদের রংঢং খাদ্যাভ্যাস ও পোশাক-আসাক এবং পালাপর্বনেও একই দৃশ্যের চিত্র ফুটে উঠছে। মূলত আমরা যে ইসলামের চেতনা ধারণ করে জীবন জিন্দিগি অতিবাহিত করছি, আমরা যে মধ্যপ্রাচ্যের ভারতীয় উপমহাদেশের বাঙালি মুসলমান সেই কথা প্রায়ই ভুলতে বসেছি। আমার ভীষণ অনুতাপ ও বিরাগের কারন হল কেন আমরা স্বকীয়তা হারাতে বসছি? কেন আমরা নিজস্ব সংস্কৃতির মধ্যে সীমাবদ্ধ না থেকে পর বন্ধনায় আসক্তি হয়ে অধঃপতন ঢেকে আনছি। কবি মাইকেল মধুসূদন দত্তের পরিনতি কম বেশি সবারই জানা।

বিশ্বায়নের যুগে হয়ত আমরা সকলের সাথে তাল মিলিয়ে চলতে হবে। তবে সেটা যেন নিজেকে বিকিয়ে না হয়। দুঃখ জনক হলেও সত্য নতুন বছরকে ঘিরে অবাল বৃদ্ধ বনিতা, যুবক যুবতীদের মধ্যে যে উম্মাদনা বেলী রোড, টিএসসি, ফাইভ স্টার হোটেলগুলোতে যে অনৈতিকতার হাতছানি সত্যি খুবই খারাপ লাগে। থার্টি ফাস্টকে আমন্ত্রণ জানানোর জন্য ঐসব নষ্টামী কি খুব বেশী জরুরী? যদি না হয় তা হলে কেন মরিচিকার পিছনে ছুটে জাত মানকে পদদলিত করব। বাল্যকালে আমার মা-চাচীদের দেখছি পুরনো বছরকে বিদায় আর নতুন বছরকে স্বাগতম জানানোর জন্য বছরের প্রথম দিন ভাল ভাল রান্না করে আমাদেরকে পরিবেশন করতেন। তাদের ধারণা ছিল এই দিন ভাল ভাল খাওয়া গেলে সারা বছর ভাল ভাবে চলা যাবে। কিন্তু আজ লেখা পড়া শিখে সমাজের বা রাষ্ট্রের উচ্চ পর্যায়ে এসে ইংরেজী বছরকে স্বাগত জাননোর জন্য যে সংস্কৃতির আদলে আমাদের উত্তসূরিদের তৈরি করছি তার পরিণাম নিশ্চিত করে বলতে পারি খুবই ভয়াভহ। দিন দিন আমাদের যুব সমাজ পাপাচারে লিপ্ত হয়ে আগামী আদর্শ রাষ্ট্র গঠনে প্রতিবন্ধক হয়ে দাঁড়াবে।

সার্বিক দৃষ্টি ভঙ্গি পাল্টাতে হবে, রাষ্ট্রের পদস্থ ব্যক্তিরা এগিয়ে আসতে হবে। প্রশাসন আরো বেশি জোরদার করতে হবে। জোড়ায় জোড়ায় বেহায়াপনা বন্ধের ব্যবস্থা করতে হবে। আমরা যে মোহাম্মদী ইসলামের ধারক সেই কথাটি অন্তরে লালন করতে হবে। তা হলেই দুনিয়াতে এবং আখিরাতে আলোক উজ্জল সোনালী দিগন্তের সূচনা করতে পারি।