ক্যাটেগরিঃ রাজনীতি

টিটন অতি সাধারণ হতদরিদ্র পরিবারে জন্ম নিয়েছিল। টিটন এবং তার ভাই আসাফোত এলাকায় চারদলীয় জোট সরকারের আমলে বাড়িঘর, আওয়ামী লীগ অফিস ভাংচুর ও জ্বালাও-পোড়াও থেকে শুরু করে জামাতি চেতনায় ষড়যন্ত্রের অংশ হিসাবে সর্দার খালিশপুর সন্ত্রাসের রাজত্ব কায়েম করেছিল।

টিটন বাল্যকাল থেকেই মাদ্রাসায় লেখাপড়া করতো। সেই সাথে শিবিরের সক্রিয় সদস্য ছিলো। আলিয়া মাদ্রাসাতে শিবিরের ক্যাডার হিসাবে ব্যাপক আলোচনায় এসেছিল টিটন।

বিশেষ করে এই পরিবারটি গোড়া থেকেই ছিল আওয়ামী লীগ বিদ্বেষী এবং জামাতি-বিএনপির প্রতি অনুরাগী। উল্লেখ্য যে ইউনিয়ন যুবদল ও ওয়ার্ডের নেতা আসাফোত সর্দারের নেতৃত্বে ২০০১ সালে জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পরদিন খালিশপুর মাধ্যমিক বিদ্যালয়, খালিশপুর রূপালী ব্যাংক, ইউনিয়ন পরিষদ থেকে ‘জাতির পিতার’ ছবি নামিয়ে এনে দলবলসহ ভাংচুর, অগ্নিসংযোগ এবং প্রশ্রাব করা হয়। এ ঘটনা আজও অনেক প্রত্যাক্ষদর্শীর মুখে মুখে।

নবম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ রাষ্ট্রীয় ক্ষমতায় আসার পর জামাত-বিএনপির চক্ষুশুল, মুজিব আদর্শের সন্তান টি এম আজিবর রহমান (ইঞ্জি. মোহন) বাদি হয়ে জাতির পিতার ছবি অবমাননার একটি মামলা (এজাহার) দাখিল করে। তৎকালীন মহেশপুর থানার ওসি হুমায়ুন কবির এবং এমপি এড. শফিকুল আজম চঞ্চলের শ্যালক সাচ্চুর নাম এজাহারে থাকায় অনেকটা চাপের মুখেই মামলাটা প্রত্যাখ্যান করা হয়।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ভর্তি হওয়ার পর আরেক শিবিরের ক্যাডারের সাথে তার সখ্যতা গড়ে উঠে। তারা দুজনেই বাংলাদেশ ছাত্রলীগে সুকৌশলে নাম লিখিয়ে নেয়। মহেশপুর কোটচাঁদপুর এলাকাতে সে বা তার পরিবারের কেউ জীবনে ‘জয় বাংলা’ শব্দ উচ্চারণ করা তো দূরের কথা সুযোগ পেলেই আওয়ামী লীগের সমর্থকদের উপর চরাও হত। কখনো কখনো রক্তের হোলি খেলায় মেতে উঠত, উল্লাস বা নৃত্য করত ঘরে আগুন দিয়ে। মুজিব প্রেমিকদের অপমান অপদস্ত করাই ছিল ঐ সময়ের প্রথম ও প্রধান কাজ।

টিটন ঢাকায় এসে ছাত্রলীগে নাম লিখিয়ে বহুমুখী তদবির করে রাতারাতি প্রচুর অবৈধ অর্থ, আলিশান বাড়ি, প্রাইভেটকারসহ জমিদারী লেবাস ধারণ করে। অথচ টিটনের বাবা ইসহাক সর্দার বেঁচে থাকতে ভিজিএফ কার্ডের চাল-আটা না পেলে চুলায় আগুন জ্বলত না, পেটে খাবার জুটত না।

স্বাধীনতা পূর্ব ও স্বাধীনতা উত্তর তথা ১৫ আগষ্ট থেকে যে রক্ত আওয়ামী লীগ বিরোধী বা নিধনে ছিল সক্রিয় তারা আজ স্বার্থ হাসিলের জন্য, পিঠ বাঁচানোর জন্য, মুজিব আদর্শকে কুলষিত করার জন্য কেন্দ্রীয় নেতাদের ‘পটিয়ে’ নিজের অবস্থান সুদৃঢ় করছে। এতে করে পিছিয়ে পড়ছে বা তলিয়ে যাচ্ছে মূলচেতনাধারী মুজিব প্রেমিকরা বা ভক্তরা।

আমি মনে করি, এখনি উত্তম সময় ঐ সকল সুবিধাবাদী ও আদর্শহীনদের অনুপ্রবেশ বন্ধ করা। না হলে ত্যাগী নেতাকর্মীদের অবমূল্যায়ন হবে।

মন্তব্য ০ পঠিত