ক্যাটেগরিঃ পাঠাগার

 

আমরা সবাই জানি,  “চর্যাপদ” হল বাংলা ভাষায় রচিত প্রথম সাহিত্য গ্রন্হ। আমি দীর্ঘ কয়েক বছর ধরে গবেষণা করেছি,  এ তথ্যটির সত্যতা আবিস্কার করার জন্য। গবেষণার ফলাফল হল, “না”।

কেন না?  নিশ্চয় সকল পাঠক হৃদয়ই এ প্রশ্নের উত্তর খুঁজছেন। ড. মুহাম্মদ শহীদুল্লাহর মতে, “চর্যাপদ” রচিত হয়েছে ৬৫০ সাল হতে ১২০০ সালের মধ্যে। আবার, ড. সুনীতিকুমার চট্রোপাধ্যায়ের মতে, “চর্যাপদের” রচনাকাল ৯৫০ সাল হতে ১২০০ সালের মধ্যে। এ মহামূল্যবান গ্রন্হটি একটি অতি উচ্চমানের উন্নত সাহিত্য। এর মধ্যে রয়েছে বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বীদের ধর্মীয় গান। এতে কবিতার ভাষায় সর্বাশক্তিমান ঈশ্বরের স্তুতি বর্ণিত হয়েছে। এতে ভাষার মাধুর্যতা, ছন্দ, বর্ণনাক্রম,  ভাষার অলংকার খুবই উন্নত। এ গ্রন্হের অভ্যন্তরীণ বিষয় খুবই তাৎপর্যপূর্ণ। এ সমস্ত গুণ একটি পুস্তকে হঠাৎ সন্নিবেশিত হতে পারে না। নিশ্চয় এটি পূর্ববর্তী সাহিত্য চর্চার ধারাবাহিক।

তদুপরি আরবি, ইংরেজি, হিব্রু ও সংস্কৃত ভাষায় সাহিত্য চর্চা আরো বহুকাল পূর্বেই শুরু হয়েছে।আমাদের পাহাড়পুর ও ময়নামতির শালবন বিহারে জ্ঞানের চর্চা হত,  সেখানে  নিশ্চয় বাংলা ভাষা ছিল, আমাদের প্রিয় মাতৃভাষায় কেউ কেউ কলমও ধরেছিলেন। বগুড়ার পুন্ড্রবর্ধন, নওগাঁর পাহাড়পুর ও কুমিল্লার ময়নামতির শালবন বিহারের শিক্ষার খ্যাতি উপমহাদেশ পেরিয়ে চীনে পৌঁছে গিয়েছিল। এ রাজতান্ত্রিক বিদ্যাপীঠগুলোতে সাহিত্য চর্চাও হয়েছিল। তাই বলা যায়, ’চর্যাপদ’ বাংলা ভাষায় রচিত প্রথম গ্রন্হ নয়।

এ গ্রন্হের পূর্বেও বাংলায় সাহিত্য চর্চা হয়েছিল। কিন্তু সেসব সাহিত্য আমরা আবিস্কার করতে পারিনি। হয়তো মহাকালের গর্ভে হারিয়ে গেছে। হয়তো বা হারায়নি। একদিন আবিস্কৃত হবে আরেকটি গোয়াল ঘর থেকে অথবা আবিস্কৃত হবে আরেকটি রাজকীয় গ্রন্হাগার থেকে। তখন আমাদের বাংলা সাহিত্যের গভীরতা আরো বেশি উন্মেচিত হবে।