ক্যাটেগরিঃ প্রকৃতি-পরিবেশ

একটা বাংলা ওয়েব পোর্টালে খবরটা পড়লাম। গত ১৩ই আগস্ট মৎস্য ও প্রাণীসম্পদ মন্ত্রণালয়ের মাননীয় মন্ত্রী মহোদয় দেশকে মাছে ভাতে গড়ে তোলার ঘোষণা দিয়েছেন। সিরাজগঞ্জ এর বেলকুচি উপজেলার কামারপাড়া চন্ডি বিলে মাছের পোনা অবমুক্ত করার মধ্য দিয়ে তিনি এ ঘোষণা ব্যাক্ত করেন। উক্ত ঘোষণার জন্য নিশ্চয় তিনি ধন্যবাদের দাবিদার। কিন্তু বাস্তবতা অত্যন্ত কঠিন। ঘোষণা করা এবং ঘোষণার বাস্তবায়ন করা দুটো আলাদা ব্যাপার। আর আমাদের দেশে প্রচলিত ঐতিহ্য অনুযায়ী ঘোষণা দিতে আমরা যতটা সিদ্ধহস্ত তা বাস্তবায়ন এর ক্ষেত্রে আমরা ততটাই উদাসীন।

মাননীয় মন্ত্রী মহোদয় নিশ্চয় জানেন যে মাছের জীবন ধারণের জন্য পানি অপরিহার্য। শুধু পানি হলেই মাছের জীবনধারণ সম্ভব নয়- যদি না সেটা হয় নির্মল, দূষণ মুক্ত পানি। আর আমরা অনবরত নদনদী, খালবিল নানাভাবে দুষিত করে, নদীনালা দখল করে যে অবস্থা সৃষ্টি করেছি এবং করে যাচ্ছি তাতে মন্ত্রী মহোদয় এর ঘোষণার কতটা বাস্তবায়ন হয় সেটা একটা দেখার বিষয়। তবে যদি সত্যিই সদিচ্ছা থাকে, তাহলে এই ঘোষণার বাস্তবায়ন সত্যিই কঠিন কিছু না। এক নিরক্ষর বৃদ্ধ জেলে আমাকে একদিন বলেছিলেন মাত্র দুই বছর যদি কোনভাবে আমাদের নদীগুলোতে শিল্প বর্জ্য ফেলা বন্ধ করা যায় তাহলে আর বাজারে মছের আকাল থাকবে না। অথচ বছরের পর বছর ধরে আমাদের দেশের শিল্পপতিরা তাদের রাসায়নিক বর্জ্য আমাদের নদীগুলোতে ফেলে যাচ্ছেন। এখন পর্যন্ত কোন একটা রপ্তানি প্রক্রিয়াজাত এলাকায় কোন কমন ইটিপি(Effluent Treatment Plant) গঠন করা হয় নি। অথচ বর্তমান সরকার এর নির্বাচনী ওয়াদাতে এই বিষয়টা অত্যন্ত জোরালো ভাবে আলোচিত হয়েছিল।

আমাদের সমস্যা হল আমরা যত দ্রুত কোন কিছু বলি ততো দ্রুত সেটা ভুলে যাই। আর শিষ্টের দমন এবং দুষ্টের পালন আমাদের দেশের ক্ষমতাধরদের একটা স্বভাব হয়ে গেছে। তার পরেও আমরা আশায় বুক বাঁধি। কেউ যখন আশার বানী শোনায় আমরা পুলকিত হই। আমরা মনে করি হয়তো পরিবর্তন আসছে। আবার মনের মধ্যে হুমায়ূন আজাদ স্যার এর কথা বেজে ওঠে- “সবকিছু নষ্টদের অধিকারে যাবে”।