ক্যাটেগরিঃ চিন্তা-দর্শন

 

বিশ্ববিদ্যালয়ের সাথে সম্পর্কটা মোটামুটি অনেক দিনেরই, শুধু পরিচয়টা বদলেছে। এক সময় বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র ছিলাম আর এখন শিক্ষকতা করি। এই দুই অবস্থাতেই অনেকেই দেখেছি স্বপ্ন বুনতে, আবার অনেকের স্বপ্ন দেখেছি কাঁচের মতে ভেঙ্গে যেতে, কাউকে দেখছি বিশ্ববিদ্যালয়ের জ্ঞান দিয়ে সফলতাকে ছুঁতে, আবার কাউকে দেখেছি স্বপ্নসমেত দাফন হতে।

এখন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকতা করার সুবাদে অনেকে ছাত্র-ছাত্রীর স্বপ্নের উপাখ্যান শুনি। কেউ কেউ তাদের স্বপ্নের কথা বলে; কেউ আবার কিভাবে স্বপ্নকে জয় করতে পারবে; তার পরামর্শও চায়, কদাচিৎ পরামর্শও দেইও; কেউ আবার শোনায় তদের স্বপ্ন নিয়ে তাচ্ছিল্যতার দুঃখভরা কাহিনী; কিছু কিছু ক্ষেত্রে স্বপ্ন দেখাইও। আজ এক ছাত্রের স্বপ্ন নিয়ে তার বিড়ম্বনার কাহিনী বলল। এইসব স্বপ্ন বলয় দেখে,আজ স্বপ্ন নিয়ে কিছু লিখার ইচ্ছে হল।

নাদের আলী আমি আর কত বড় হবো?

প্রত্যেকটা মানুষ কতটা বড় হবে, ওটা নির্ধারিত হবে তার স্বপ্নের আকার দিয়ে। যার স্বপ্ন যত বড়, সে তত বড়। স্বপ্ন কি? আমার কাছে মস্তিষ্কজাত অপার সম্ভাবনাকেই স্বপ্ন বলে।

স্বপ্নের আকার বড় না ছোট, এটা কিভাবে পরিমাপ করবেন? প্রশ্নটা আসেই যায়। এ ব্যপারে একটা সহজ সূত্র রাস্তা আছে। ভারতের শিল্পপতি রতন টাটার একটা কথা আছে, তোমার স্বপ্নের কথা শুনে যদি কেও না হাঁসে, তাহলে বুঝবে তোমার স্বপ্নটা অনেক ছোট । তাই ছোট স্বপ্ন দেখা পাপ, আর স্বপ্ন না দেখা মহাপাপ। তবে দিবা স্বপ্ন দেখা হচ্ছে দণ্ডনীয় অপরাধ। অনেকেই আছেন শুধু স্বপ্ন বুনেন, কিন্তু স্বপ্ন ছুঁয়ার জন্য দৃশ্যত কোন কাজ করেন না। এটাই দিবা স্বপ্ন। তাদের জন্য এ পি জে আব্দুল কালামের উক্তিটি অনুসরণীয়, “স্বপ্ন সেটা নয় যেটা মানুষ, ঘুমিয়ে ঘুমিয়ে দেখে; স্বপ্ন সেটাই যেটা পূরনের প্রত্যাশা, মানুষকে ঘুমাতে দেয় না”।

মার্টিন লুথার কিং পৃথিবীতে ছিলেন মাত্র ৩৯ বছর (তাঁর জন্ম ১৯২৯ সালের ১৫ জানুয়ারি এবং ১৯৬৮ সালে মাত্র ৩৯ বছর বয়সে শ্বেতাঙ্গ ঘাতকের গুলিতে তাঁর মৃত্যু হয়)। মার্টিন লুথারের মাধ্যমেই আমেরিকার বর্ণবাদবিরোধী ২০০ বছরের লড়াই পরিণতি পায়। ইউসুফ জাই মালালার আগে সবচেয়ে কম বয়সে নোবেল পুরস্কার পাওয়ার সম্মান ছিল তাঁরই। অমর তাঁর মহান সংগ্রাম। একইভাবে অমর তাঁর ঐতিহাসিক বক্তৃতা ‘আই হ্যাভ এ ড্রিম’ (১৯৬৩ সালের ২৮ আগস্ট ওয়াশিংটনে বক্তৃতা রেখেছিলেন)।

বর্তমান মার্কিন প্রেসিডেন্ট বারাক উবামা চতুর্থ শ্রেণীতে পড়ার সময় ‘আমার জীবনের লক্ষ্য’ রচনা লিখতে গিয়ে লিখেছিল “আমি আমেরিকার প্রেসিডেন্ট হতে চাই”। আর, এই শিশুটিই আজকের প্রেসিডেন্ট। যে দেশের প্রেসিডেন্ট ভবনের নামই হচ্ছে ‘হোয়াইট হাউস’, সেই দেশের একটি কৃষ্ণাজ্ঞ শিশু কিভাবে স্বপ্ন দেখে সেই দেশের প্রেসিডেন্ট হবার ! আজ সেই উবামাই আমেরিকার দুই বারের প্রেসিডেন্ট! একটু ভাবুন, স্বপ্নের শক্তি কতখানি!!

স্বপ্ন অন্যের কথা ভেবে সাজানো ঠিক না। কারণ একমাত্র আপনি শুধু অনুভব করতে পারবেন আপনার চাওয়া পাওয়াগুলোকে।নিজের স্বপ্নকে বুঝে জীবনের লক্ষ্য ঠিক করাই শ্রেয়।

স্বপ্নের সব চেয়ে বড় শত্রু হল হতাশা। স্বপ্ন সাধারণত দীর্ঘমেয়াদি হয়। এই দীর্ঘ যাত্রা পাড়ি দিতে গেলে, নানা রকম প্রতিবন্ধকতার সম্মুখীন হতে হয়। আর তখনই স্বপ্নগুলোকে হতাশা ঘিরে ধরে। যারা শপ্নগুলো বাঁচিয়ে রাখার জন্য সব কষ্ট সহ্য করে তারাই স্বপ্নের মতই বড় হয়।

আসুন স্বপ্নকে ত্যাগ করে নয়, স্বপ্ন নিয়েই বাঁচি, হই স্বপ্নের মত বড়!!