ক্যাটেগরিঃ রাজনীতি

গুম খুবই নিকৃষ্ট মানের অপরাধ এবং কোন যুক্তিতেই তাকে হালাল করার কোন স্কোপ নেই! এটা অপরাধীরা করে থাকে খুব বড় ধরনের বাধা কে নিশ্চিনহ করতে যখন তাদের হাতে আর কোন পথ না থাকে! বিএনপির বক্তব্য অনুযায়ী কাজটি যদি সরকার বা আওয়ামী লীগ করেও থাকে, তবে সরকার বা আওয়ামী লীগের জন্যে ব্যাপারটি একটি নিখাদ “লুজিং কনসার্ন” কারন ইলিয়াস আলী বাংলাদেশের রাজনীতিতে কখনোই কোন বড় “ফ্যাক্টর” ছিলেন না! ছিলেন একটি মূর্তিমান উৎপাত, মহীরাবন বিশেষ!

ইলিয়াস আলীর ইতিহাস, যা সকল খানেই এখন ছাপা হচ্ছে তা পড়লে ব্যাপারটি যে কোন বোধ সম্পন্ন মানুষ বুঝতে পারবেন! যে রিজভী সাহেব ইলিয়াসী হরতালের জন্যে ইদানিং নিজের বিক্ষত পায়েও বিএনপি হেড অফিস আগলাচ্ছেন, তিনিও বিলক্ষন জানেন এই ইলিয়াস আলী সাহেবটি কি বস্তু! ১৯৯১এর ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় কমিটি যাতে রিজভী সাহেব সভাপতি আর ইলিয়াস আলী সাধারন সম্পাদক হয়ে ছিলেন, কায়ক্লেশে সেই কমিটিকে বিএনপি হাই কমান্ড মাত্র তিন মাস চালাতে পেরেছিল এবং তার পর ভেঙ্গে দিতে বাধ্য হয়েছিল! ইলিয়াস আলী সম্ভবতঃ দ্রুত হারেস বা হারিস চৌধুরীর স্থান দখল করছিলেন এবং তার আন্তর্জাতিক সন্ত্রাসী নেটওয়ার্ক বৃদ্ধি করে নিচ্ছিলেন!

তার এই দ্রুত শক্তি সঞ্চয়ে সম্ভবত বড় ভুমিকা রাখছিল হয়ত বা উলফা কানেকশন, যা হারিস চৌধুরীর বর্তমান অবস্থানের সাথে সম্পর্কিত!বিএনপি শাসনামল থেকে ভারত বার বার অভিযোগ করছিল যে বাংলাদেশে একটি গোষ্ঠী উলফাকে প্রশ্রয় দিচ্ছে, উলফার অনেক নেতা বাংলাদেশে কোটি কোটী টাকা বিনিয়োগ করে ব্যাবসা বানিজ্য করছে, যদিও বাংলাদেশ তা বার বার অস্বীকার করেছে! আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় এলে বাংলাদেশে উলফার আশ্রয় ঝুঁকির মুখে পড়ে! পাশাপাশি উলফার ঝুঁকি মোকাবেলার ভারতীয় গোয়েন্দা সংস্থা “র” এর তৎপর থাকাও বিচিত্র নয়! এর সাথে শ্রীমঙ্গল, মাধবপুর সহ বৃহত্তর সিলেটের পার্বত্য সীমান্ত এলাকায় অন্তর্হিত ইলিয়াস আলীকে খোঁজাখুঁজির রটনা তো আছেই! নিউজ নারায়ণগঞ্জ সংবাদপত্রে গত ২৩ এপ্রিল এপ্রিল প্রকাশিত এক খবরে জানা যায় যে বিএনপির কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক ও সিলেট জেলা বিএনপির সভাপতি ইলিয়াস আলী গুম হওয়ার বিষয়টিকে মানবাধিকার লঙ্ঘন উল্লেখ করে নারায়ণগঞ্জ-৫ (সদর ও বন্দর) আসনের সংসদ সদস্য নাসিম ওসমান বলেছেন, তাকে (ইলিয়াস আলী) সম্ভবতঃ উলফা বাহিনী অপহরণ করেছে। তার সঙ্গে হয়ত কোনো অস্ত্রের ব্যবসার অর্থের লেনদেন ছিলো। তিনি একথাও বলেন যে যদি উলফা বাহিনী ইলিয়াস আলীকে গুম করে থাকে তবে সরকারের বাপের ক্ষমতা নেই তাকে উদ্ধার করার। (দেখুন http://newsnarayanganj.net/index.php/2012-03-24-19-36-28/397-2012-04-23-14-29-02)। এই যখন অবস্থা, তখন কোন ভরসায় বিএনপি হরতালের মতো গণ-বিরোধী কর্মসুচী দিয়েই চলেছে তা নিশ্চয়ই চিন্তার বিষয়! অনতিবিলম্বে সরকারকে এই ভরসাস্থল খুঁজে বের করে ইলিয়াস আলীকে ফিরিয়ে দেবার সর্বান্তকরণে চেষ্টা করতেই হবে প্রমান করতে হবে যে “কাদম্বিনী আসলেই মরে নাই”, আর প্রমান করতে হবে “কাদম্বিনীকে সরকার লুকিয়ে রাখে নি”! পাশাপাশি হরতাল ডাকার হুকুম আসামী বিএনপি তথাকথিত হাই কম্যান্ডের মুল ব্যাক্তিদের, বিশেষ করে মির্জা ফখরুল, আঘটন-ঘটন পটিয়সী মওদুদ সাহেব ও অন্যান্য দ্বায়ী ব্যাক্তিদের হরতালের মাধ্যমে মানুষ হত্যা করার ও রাষ্ট্র এবং জনগনের সম্পত্তি ধ্বংস করার অপরাধে দ্রুত গ্রেপ্তার করে জিজ্ঞাসাবাদ করে জানা হোক কেন বিএনপি কোন মহলের উস্কানীতে এবং কোন মহলকে উস্কে দেবার চেষ্টাতে এই হরতাল নামের মরন খেলাতে মেতেছে! জানতে হবে কোন মহল কোন প্রাসাদ ষড়যন্ত্রের মাধ্যমে বিএনপিকে “অ্যাসিউর্ড” করেছে যে এই ভাবে গণ-হন্তা ও জ্বালাও পোড়াও হরতাল দিলে একটি গণতান্ত্রিক ভাবে নির্বাচিত সরকারের পতন ঘটবে যেটা বিএনপির মূল উদ্দেশ্য বলে বিএনপি একাধিকবার উল্লেখ করেছে আর তারপর ক্ষমতার হালুয়া রুটির শিকে ছিড়বে বিএনপির কপালে! বর্তমান সরকারকে মনে রাখতে হবে যে মরণঘাতী হরতাল বন্ধ করে দেশের সাধারন মানুষের জানমালের নিরাপত্তা বিধান করা সরকারেরই দায়িত্বের মধ্যে পড়ে! গতকাল ২৯ শে এপ্রিলও বেশ কিছু গাড়ী পুড়িয়ে একধরনের নৈরাজ্য ও আতংককর পরিস্থিতির সৃষ্টি করা হয়েছে, সন্ধ্যায় খোদ গুলিস্তানের পুলিশ বক্সের কাছে জ্বালিয়ে দেয়া হয়েছে একটি যাত্রীবাহী বাস, সচিবালয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রনালয়ের গন্ডির ভেতর ফাটানো হয়েছে বোমা, তিলে তিলে দেশকে বিরোধীদল নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছে গৃহযুদ্ধের দিকে! রাষ্ট্রীয় ক্ষমতায় যেতে বিএনপি সাধারণ নির্বাচনে অংশ নিয়ে জিতে আসবার পর্যন্ত ভরসা বা অপেক্ষা করতে পারছে না, রাস্ট্রীয় ক্ষমতা কুক্ষিগত করার জন্যে কোন মুরুব্বী বা মহলের সুতোর নাচে নাচছে সরকার কে তা অবশ্যই বের করতে হবে কারন বিএনপির এই শর্টকাট পদ্ধতি গণতন্ত্রে অচল! তাই সরকারকেই খুঁজে বের করতে হবে বিএনপির এই হঠাত “জীবন-পন” সংগ্রাম কেন ও কাদের স্বার্থে?