ক্যাটেগরিঃ রাজনীতি

 

আজ গাজীপুরের কাপাসিয়াতে বিএনপির চেয়ারপার্সন খালেদা জিয়ার জনসভা ছিল, মিডিয়াতে (banglanews24.com) সেই সভা সম্পর্কে চাঞ্চল্যকর খবর এসেছে! সভার ভাষনের ব্যাপারে চেয়ারপার্সন ও দু’একজন বিশিষ্ট নেতা ছাড়া সকলকে গড়ে দু মিনিট করে ভাষন দেবার সময় বেঁধে দেওয়া হয়! ভাষনদানে অনুমতিপ্রাপ্ত নেতারা এই সভাতে হুমকি-ধামকির বন্যা বইয়ে দিয়েছেন বলে মিডিয়ার খবরে বলা হয়!

এই প্রথম স্বরাষ্ট্র মন্ত্রী সাহারা খাতুন কে কটাক্ষ করে বলা হয় যে ‘তিনি বিশ্ব সুন্দরী।’ আরও বিশেষ বক্তব্যের ভেতর বলা যা বলা হয় তা হল শেখ হাসিনাকে দেশ থেকে বিতাড়িত করা, বঙ্গোপসাগরে নিক্ষেপ, দেশবাসিকে দেড় হাত লাঠি নিয়ে প্রস্তুত থাকার আহ্বান, আন্দোলন ঠাণ্ডা নাকি গরম তা টের পাইয়ে দেওয়ার আওয়াজ ইত্যাদি।

বক্তৃতায় প্রত্যেকের জন্য সময় দুই মিনিট বেঁধে দেওয়া হয়। এই দুই মিনিটের বক্তৃতায় প্রায় সবার বক্তব্যেই ছিলো সরকারের তীব্র সমালোচনা, পাশাপাশি হুমকি-ধমকি। প্রথম বড় হুমকিটি আসে স্বেচ্ছাসেবক দলের সভাপতি হাবিবুন্নবী খান সোহেলের বক্তৃতায়। তিনি বলেন, ‘আওয়ামী লীগ নেতাদের জেলে যাওয়ার সময় হয়েছে। তত্ত্বাবধায়ক সরকার না দিলে এমন আন্দোলন হবে যে দলটির নেতারা আকাশের চাঁদও চোখে চোখে দেখবেন না।’

শেখ হাসিনা চুরি করে ক্ষমতায় এসেছে উল্লেখ করে সোহেল বলেন, ‘খালেদা জিয়াই দেশের প্রকৃত প্রধানমন্ত্রী।’

চেয়ারপার্সনের উপদেষ্টা সামসুজ্জামান দুদু বললেন, ‘আর মাত্র কয়েকদিন পরেই খালেদা জিয়া দেশের প্রধানমন্ত্রী হচ্ছেন। এরপর শেখ হাসিনাকে দেশের বাইরে পাঠিয়ে দেওয়া হবে নয়তো সমুদ্রে নিক্ষেপ করা হবে।’

জনগণকে দেড় হাত লাঠিতে তেল দিয়ে প্রস্তুত থাকার আহ্বান জানিয়ে দুদু বলেন, ‘লাঠিপেটা করেই এই সরকারকে ক্ষমতা থেকে হটানো হবে।’

কেন্দ্রীয় বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক, গাজীপুর জেলা বিএনপি’র সভাপতি ফজলুল হক মিলন বলেন, ‘তিন বার তালাক দিলে যেমন স্বামী স্ত্রীর সম্পর্ক থাকে না তেমনি দেশবাসী আওয়ামী লীগকে তিন তালাক দিয়ে দিয়েছে। এর আগেও দুই দফায় তালাক দেওয়া হয়েছে। এবারের তালাকের পর জনগণের সঙ্গে আওয়ামী লীগের আর কোনো সম্পর্ক থাকবে না।’

জনসভা উপলক্ষে বসানো তোরণ ভাঙচুর করা হয়েছে অভিযোগ তুলে মিলন বলেন, পুলিশ বলেছে ঝড়-তুফানে ভেঙ্গে পড়েছে। এখন ঝড় তুফানের সঙ্গে লাঠিসোটা আসে, বিএনপি ক্ষমতায় গেলে লাঠিসোটা নয় বন্দুক আসবে।’

বিএনপি’র ভাইস-চেয়ারম্যান এয়ার ভাইস-মার্শাল আলতাফ হোসেন চৌধুরী বলেন, ‘তত্ত্বাবধায়ক সরকারের মাধ্যমে ভোট না হলে আওয়ামী লীগ জনগণের আন্দোলনের মুখেই পালানোর পথ পাবে না।’

সাবেক এই স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বর্তমান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সাহারা খাতুনকে কটাক্ষ করে তাকে ‘পাহারা খাতুন’ বলে উল্লেখ করেন।

স্থায়ী কমিটির অপর সদস্য মির্জা আব্বাস আওয়ামী লীগের যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক মাহবুব উল আলম হানিফকে হাইব্রিড নেতা উল্লেখ করে তার সাম্প্রতিক একটি বক্তব্যের তীব্র সমালোচনা করেন। ‘এক মামলায় সব ঠাণ্ডা’ হানিফের এমন বক্তব্য প্রসঙ্গে মির্জা আব্বাস হুমকি দিয়ে বলেন, ‘মামলা দিলে ঠাণ্ডা না গরম হয় তা এবার টের পাবেন।’ র‌্যাব-পুলিশের সহযোগিতা ছাড়া সংঘাতের মাঠে নেমে শক্তির পরীক্ষা দিতে আওয়ামী লীগের প্রতি আহ্বান জানান মির্জা আব্বাস।

এ জনসভার সংবাদ প্রচারিত হতেই সাধারন জনসাধারনের মনে একই সাথে আতংক ও প্রশ্নের সৃষ্টি হয়েছে যে এ সব কিসের আলামত? কোন দিকে যাচ্ছে বাংলাদেশের রাজনীতি?