ক্যাটেগরিঃ রাজনীতি

হিলারী ক্লিনটন কী বারতা লইয়া আসিয়াছিলেন (এই কিছু দিন আগ পর্যন্ত যাহাকে আনিতে সরকার টন টন তেল লইয়া অপেক্ষমান বলিয়া অনেকে কান কথা ছড়াইতেন!), সেই “মানস-প্রতিমা” নিজ “সম্প্রদায়” রক্ষার্থে মর্ত্যধামে প্রায় “ওয়ান্ডারল্যান্ড” স্টাইলে নামিলেন এবং তাহা লইয়া আমাদের বিদগ্ধ জন এবং টেলিভিশনের টকশোর কমেডি চরিত্রগনের অকৃপণ পরিমান কথামৃতে বাংলাদেশের পাবলিক তাবত বিষয় অবগত হইয়া পড়িলেন! এবং পরিশেষে যখন নিরাপদে বলিবার আর কিছু বাকি রহিল না, তখন সবাই ভাবিলেন যে বিষয়টি বেশ তামাদি হইয়া গিয়াছে! তাই পাবলিক আর খাইবে না ধারনার কারনে তাহা লইয়া আর কোন চ্যানেল কিংবা প্রিন্ট মিডিয়াতেও আর বিশেষ কোন লেখালেখি বা বলাবলি হইল না কারন তাহাতে মিডিয়ারও আর উপার্জনের স্কোপ নাই!

ছা পোষা মানুষ হিসাবে আমি কোন কেউকেটা তো নইই, আমার ধারনাও যথা-কিঞ্চিত ও সীমিত, তবু না বলিয়া থাকিতে পারিতেছি না যে “নীলাঞ্জনা, হে হিলারী বিধুমুখী, ওই খানে ডেকো নাকো আর, বোল নাকো কথা সেই তাহাদের সাথে”!

হিলারীর সাম্প্রতিক ঢাকা সফরে তিনি সরকারী ও বিরোধী দুই রাজনৈতিক পক্ষকেই আলোচনায় বসিতে বলিয়াছেন যাহা স্ববভাবতঃই “এনকোর” পাওয়ার যোগ্য যদিও সব বিদেশীরাই আমাদের “গোলমালের” সময় আসিয়া থাকেন আর ইহাই বলিয়া থাকেন! কিন্তু ইহার মধ্য যে তিনি বাংলাদেশের “সিভিল সোসাইটি”র নামে ডঃ ইউনুস ও ব্রাকের স্যার ফজলে হাসান আবেদের সাথে কথা বলিয়া গিয়াছেন, আমার উর্বর মস্তিষ্কের যত ভাবনা তাহা লইয়াই!

এখন আমেরিকা যুক্তরাষ্ট্রের নীতি হইয়াছে “নয়া চীন ঠেকাও”! তাইই এমন ছুটিয়া ফাটিয়া টুটিয়া বেড়াইতেছেন হিলারী! ভারত আর মায়ানমারের সাথে গাটছড়া মার্কিনীরা এরই মধ্যে বাঁধিয়া ফেলিয়াছেন, তাহারই জন্যে যেন যুগাযুগের লৌহ কঠিন শৃংখল টুটিয়া মায়ানমারে হঠাত করিয়াই আসমান হইতে গণতন্ত্র নামিয়া আসিয়াছে (তাহা হইলে কি ভাবিতে হইবে যে মায়ানমারের আগের সামরিক জান্তাদের সাথে মার্কিনীদের অন্তরালের নানা ধরনের সম্পর্ক ছিল-যে “সুখ্যাতির” রেকর্ড মার্কিনীদের আছে ও এখন নিজেদের প্রয়োজনে তারা মায়ানমারের “গণতন্ত্র” কায়েম করিলেন, উদাহারন হিসেবে আশির দশকে এ ক্ষেত্রে একদিকে মার্কিনীদের ইরানের সাথে যুদ্ধ যুদ্ধ এক্টিভিটি, অন্য দিকে সি আই এর মাধ্যমে ইরানের কাছে নিজেদের অস্ত্র বিক্রয়ে মার্কিন-কন্ট্রা অনন্ত প্রেমের কথা হয়ত অনেকেই ইন্টারনেটে পড়িয়াছেন!), এখন বাংলাদেশকে এই সুতোয় গাঁথিতে পারিলে তাহাদের “পেলে দুই বিঘে প্রস্থে ও দীঘে সমান হইবে টানা” জাতীয় সুবিধা হইবে! চীনকে সাগরের ভেতরও অবরুদ্ধ হইতে হইবে, জরুরী তেল সাপ্লাই বন্ধ হইয়া চীন ন্যাতাইয়া পড়িবে ও অর্থনীতিতে আর মার্কিনীদের সাথে পাল্লা দেওয়ার সাহস পাইবে না।

এমনটি কি হইতে পারে যেমন হিলারী চাহিতেছেন যে সরকারী ও বিরোধী দুই রাজনৈতিক পক্ষের এই চলমান এবং জ্বলমান নিরন্তর মল্লযুদ্ধের মধ্যে এক সময় জনগনের মধ্যে এমন একটি “কনফিডেন্স ভ্যাকুয়াম” বা ” আস্থা শুণ্যতা” তৈরী হইলে তখন তাহারা দয়া পরবশতঃ বাংলাদেশের ভেতর হইতে “হামিদ কারজাই” গোছের একজনাকে বাংলাদেশের সর্বসের্বা করিয়া দিবেন? ড: ইউনুসের অবশ্য সেই ইচ্ছা যে প্রবল তাহা গত ১/১১ এর পরেই বোঝা গিয়াছিল, পার্টি খুলিতে যাইয়া যখন দেখিয়াছিলেন যে ওই সেই ব্যাপার, মানে বাংলাদেশের নির্বোধ পাবলিক তাহা “খাইতেছে” না! তিনি মরমে মরিয়া হয়তো কারন অনুসন্ধান করিয়া দেখিয়াছিলেন যে তাহার গণ-ভিত্তি একেবারে নাই বলিলেই চলে! তাই এইবারে হিলারী সন্দর্শনে ড: ইউনুস, জনাব ফজলে হাসান আবেদকে সঙ্গী বানাইয়া লইয়াছিলেন যাহাতে তাহার নিজের গণভিত্তি কিঞ্চিত “এনশিওর” করা যায় কারন ব্রাকের বিশাল গণভিত্তি রহিয়াছে (যদিও তাহা রাজনৈতিক নয় আর ইহাও চিন্তা করা অমুলক নয় যে জনাব ফজলে হাসান আবেদও অত সহজেই তাহার সাম্রাজ্য বিকাইতে রাজী হইবেন না!)! আর ইহাতে যে মার্কিনীদের আরও বড় সুবিধা হইতে পারে তাহা তো আমার মতো নির্বোধরাও বুঝিতে পারে!ভুলিয়া গেলে চলিবে না যে ভারতের বর্তমান প্রধানমন্ত্রী ড. মনমোহন সিং ও হামিদ কারজাই উভয়েই একসময় বিশ্বব্যাংকের পে রোল ভুক্ত কর্মকর্তা ছিলেন!

শুভ লক্ষন এই যে, এই সাক্ষাতকারের পর হইতেই সরকারী ও বিরোধী দলের অনেকে, এমন কি স্বয়ং প্রধানমন্ত্রী সহ দুই যুযুধান রাজনৈতিক পক্ষের ভিতর অনেকেই “সংলাপ” এর কথা বলিতেছেন!
জনগণ আশা করে সরকারী ও বিরোধী দুই রাজনৈতিক পক্ষের মধ্যে অবশ্যিই ফলপ্রসু সংলাপ হইতে হইবে ও রাজনৈতিক সমস্যার আশু সমাধান আসিবে! বাংলাদেশ গণ-ভিত্তিহীন ২য় বিশ্ব যুদ্ধকালীন ফরাসী পেঁতা সরকার কিম্বা আফগান কারজাই সরকারের মতো পুতুল সরকারের খপ্পরে পড়িবে না!