ক্যাটেগরিঃ নাগরিক আলাপ

১) দ্রুত গতির ট্রেন বাংলাদেশে ঘণ্টায় 500 কিলোমিটার বেগে চললে ঢাকা থেকে মাত্র 25 মিনিটে সিলেট, মাত্র 30 মিনিটে চিটাগাং, মাত্র 40 মিনিটে দিনাজপুর, মাত্র 45 মিনিটে খুলনা (কারণ যমুনা সেতু দিয়া একটু ঘুরতে হবে)আর মাত্র এক ঘণ্টায় টেকনাফ অথবা তেঁতুলিয়া যাওয়া সম্ভব। তার মানে ঢাকা শহরে এত টাকা দিয়া বাসা ভাড়া দিয়া থাকার প্রশ্নই উঠে না। তখন ঢাকা শহরের ফ্লাট এর দাম অর্ধেক কমে যাবে।

২)ধরি দিনাজপুরের ফুলবাড়ীতে অথবা সিলেটের শিবগঞ্জে করলা, আলু পচে নষ্ট কিনার মানুষ নাই, সেই করলা, আলু ঢাকায় 40 টাকা কেজি!! বাছ ট্রেন এ উঠাও মাত্র 30 মিনিটে ঢাকা, পথে কোনও চাদা বাজিও হবে না, তখন সারা দেশে করলার কেজি হবে মাত্র ১০ টাকা।

৩) এইবার ডাঃ রফিক সাহেব কে পার্বত্য চট্টগ্রামে বদলি করলেও তার কোনও সমস্যা নাই কারণ সে খুলনা থেকে ফজরের নামায পড়ে মাত্র 1.20 ঘণ্টায় ট্রেন এ পার্বত্য চট্টগ্রামে পৌঁছবে।

৪) ঢাকা শহরের বড় বড় রাস্তায় আর কোনও দিন ট্রাফিক জাম নাই কারণ ঢাকা শহরের গুরুত্ব পূর্ণ সব এলাকার সাথে মেট্রো ট্রেন যুক্ত। আর উত্তরা থেকে মতিঝিল মাত্র 15 মিনিট এর পথ!

৫) ঢাকা শহরের গুরুত্বপূর্ণ সব মোড়ে মোড়ে আন্ডার গ্রাউন্ড বাইপাস। কেউ আর ট্রাফিক ভেঙে রাস্তা পার হচ্ছে না। আর প্রতিটি স্কুল এ থাকবে তার নিজস্ব পরিবহন বেবস্থা, বাধ্যতা মূলক সব ছাত্র-ছাত্রী কে সেই পরিবহন ব্যবহার করতে হবে। আর যেহেতু সারা দেশ থেকে ছাত্র-ছাত্রী রা ঢাকায় আসে পড়া লেখা করতে অতএব বাধ্যতা মূলক ভাবে বিশ্ববিদ্যালয়, কলেজ গুলো কে দেশের প্রতিটি বিভাগে নিজস্ব ক্যাম্পাস খুলতে পারে। এক বিভাগের ছাত্র-ছাত্রী আর এক বিভাগে প্রোয়জন ছাড়া কোনও এস এস সি অথবা ইন্টারমিডিয়েট এর মত যেতে পারবে না। পড়া -লেখা শেষে সব ছাত্র-ছাত্রী কে সরকারের নিদৃষ্ট ইন্টারনেট ওয়েবসাইট এ নাম বাধ্যতা মূলক তালিকা ভুক্ত করতে হবে এবং প্রতিটি চাকরিদাতা সেই সাইট এ গিয়ে যোগ্য প্রার্থী খুজে চাকরি দিবেন এবং সেখানে মন্তব করবেন। তাহলে দেশের প্রকৃত শিক্ষিত বেকার এর তালিকা সরকার হাতে পে যাবেন। সেক্ষেত্রে অবশ্যই বিশ্ববিদ্যালয়, কলেজ গুলন কে নাম তালিকার জন্য নির্দেশ দেওয়া যেতে পারে।

৬)দ্রুত গতির ট্রেন হলে পদ্মা সেতু নিয়েও তখন আর কারও মাথাব্যাথা থাকবে না কারণ ট্রেনের রাস্তা হিসাবে যমুনা সেতু ব্যবহার হবে আর নদী পথ তো থাকছেই।

৭)সরকার সব ধরনের লক্করঝক্কর বাস উঠাই দিয়া নতুন এসি বাস কিস্তিতে দিতে পারে যেগুলো আন্ত নগর হয়ে এক জেলা থেকে অন্য জেলায় যেতে পারে।

৮) বেশির ভাগ মানুষেই বেচে থাকার জন্য দুর্নীতি করে (যেমন বাসা ভাড়া, খাবার, বাচ্চাদের স্কুল) যোগা যোগ ব্যবস্থার উন্নয়ন হলে ফ্যামিলি নিয়া তো আর শহরে থাকতে হবে না। তার মানে দুর্নীতি অর্ধেক কমে যাবে।

৯) আমরা মেঘনা নদীর উপর বিদ্যুত প্লান্ট আর রাঙ্গামাটি, বান্দরবনের পাহাড়ের টিলাই বাতাসের সাহায্যে অথবা সৌর বিদ্যুৎ তৈরি করতে পারি।

১০) বরিশাল, ভোলা এদের জন্য কিসু সুপার সনিক ক্রুজ দেওয়া যেতে পারে। যেগুলো ঘণ্টায় চলবে 300 কিলোমিটার বেগে।

১১) ঢাকা শহরের গুরুত্বপূর্ণ মোড়ে মোড়ে রাস্তার নিচ দিয়া আন্ডারপাস (যেখানে ফুট ওভারের জায়গাই নাই) দেওয়া যেতে পারে। আর প্রতি টি আন্ডার পাছ এর ভিতরে পাবলিক টয়লেট দেওয়া যেতে পারে, তাহলেই আর জন বহুল শহরে কোনও এক কোনায় দাঁড়ায় দাঁড়ায় আর …

১২)সর্বশেষ জাপানীদের মত পাটঠো পুস্তকে মেডিটেশিয়ন সিলেবাস যুক্ত করতে পারি। যেন ছোট বেলা থেকেই সবাই নিজের প্রতি, দেশের প্রতি ভালোবাসা নিয়া বড় হতে পারে।

১৩) আমাদের একটা আইন থাকা দরকার ছিল, দুই বারের বেশি কেউ হারুক জিতুক নির্বাচন করতে পারবে না এমন কী প্রধানমন্ত্রীও না

সমাধান:
১) দ্রুত গতির ট্রেন, সুপার সনিক জাহাজ তাও আবার বাংলাদেশে? এত টাকা সরকার পাবে কোথায়?

উত্তর: পাবলিক শেয়ার বানায় দেশ বিদেশের মার্কেটে ছাড়া যেতে পারে, কালো টাকা সাদা বানানোর স্থানও হতে পারে, পদ্মা সেতুর কিসু টাকাও এখানে ইনভেস্ট করা যেতে পারে।