ক্যাটেগরিঃ অর্থনীতি-বাণিজ্য

অবশেষে আবারও লিখতে বসলাম। গত কয়েক দিন যাবত ডেসটিনি নিয়ে এত বেশি প্রিন্ট মিডিয়া, ইলেকট্রনিক্স মিডিয়া র মাতামাতিতে কিছু না লিখে আর পারলাম না। দেশের সব গুলন প্রিন্ট মিডিয়া, ইলেকট্রনিক্স মিডিয়া ডেসটিনিকে এই কয়েক দিনে একদম হীরো বানাই ফেলসে ভাব খানা এমন ডেসটিনি মানেই এমএলএম । যাই হোক এই দেশে নেটওয়ার্ক মার্কেটিং এর শুরুটা 1997 সাল থেকে চায়না ভিত্তিক টং চেঙ নামক প্রথম ডিরেক্ট সেলিং কোম্পানী দিয়ে। তার আগেও বেশ কয়েকটা কোম্পানী এসেছিল কিন্তু সুবিধা করতে পারেনি। এর পরেই কানাডা ভিত্তিক জিজিএন এর দেখা। আমাদের অনেকেরই ভ্রান্ত ধারনা যে জিজিএন আমাদের অনেকেরই টাকা নিয়া ভেগে গেসে। যেহেতু এটাও একটা ডিরেক্ট সেলিং কোম্পানী ছিল (তাই টাকা নিয়ে ভাগার প্রশ্নই আসে না। যদি কিসু টাকা নিয়ে ভাগে তা আমাদের দোষে) যারা ওয়াটার জার, ওয়াটার ফিল্টার সহ আর ও বেশ কিসু প্রোডাক্ট নিয়ে এসেছিল। নিজেদের বোকামি আর পরিচালনাকারিদের অদক্ষতায় কানাডা ভিত্তিক এই কোম্পানীটি অল্প কিছু দিনের মধ্যেই এই দেশ থেকে তাদের ব্যবসা গুটায় ফেলে।

এরপর নাম ডাক শুনতে পাই নি ওয়ে যেটি এখনো চলমান সেখান থেকেই বের হয়ে রফিকুল আমিন তৈরি করল ডেসটিনি 2000 লিমিটেড এর পর বিজনেস, ডোর ওয়ে, গানেক্স, বি কে , এ লিঙ্ক স, পানশিয়া, আপ ট্রেন সহ একে একে অনেক ভাল কোম্পানী আস্তে থাকে। অল্প টাকায় মেম্বার হওয়ার সুযোগ আর তাদের বিভিন্ন প্রশিক্ষণ সেবা, তাদের অল্প কিসু প্রোডাক্ট, সার্ভিস অল্প দিনের মধ্যই সারা দেশে অনেক দূর এগিয়ে গেল কোম্পানী গুলো । যেই মানুষটির কিসু করার সিলো না বসে বসে সময় কাটা তো বা যার অল্প টাকায় সংসার চলত না সেই মানুষটি এখন একটু বাড়তি ইনকাম করার রাস্তা পেল, যেই স্টুডেন্ট টি টাকার অভাবে পড়া লেখা চালাতে পারতো না সেও যেন আকাশের চাদ হাতে পেল(সুযোগ ছিল, এখন কে কী ভাবে কাজে লাগাইসে সেটা তার নিজস্ব বেপার)। কিন্তু আমাদের দেশে সমস্যা হলো আমরা যখন কিসু পাই তখন আর ও বেশি চাই আর ছিটে চাই তে চাই তে লোভ আমাদের কে এত দূর নিয়ে যায় যে কোনটা ভাল আর কোনটা খারাপ সেটা বুঝার ক্ষমতা হারায় ফেলি।

শুরু হলো ডেসটিনির গাছের প্যাকেজ বিক্রি (যদিও হয়তো সেটার পীসে ভাল/খারাপ কোনও উদ্দেশ্য থাকতে পারে) কোম্পানীর শেয়ার বিক্রী, পাব্লিক এর টাকায় নিজেদের নামে জমি কিনা, আর ডেসটিনি র motivational training টাকা আই সব সফলতা আর সেটা ডেসটিনি ছাড়া সম্ভব না । ডেসটিনির কাজকর্ম দেখাদেখি পরে শুরু হলো দেশে প্রথম e-commarce base মালয়শিয়া ভিত্তিক নেটওয়ার্ক মার্কেটিং কোম্পানী unipe2u , unigetway2u যারা কিনা লেপটপ কে মানুষের হাতের দোরগোড়ায় নিয়ে আসে গোল্ড বিক্রীর কথা বলে । দেশে unipe2u , unigetway2u এর আমলে যে পরিমাণ লেপটপ বিক্রী হইসে, সাধারণ মানুষ যে ভাবে এটা কে বেবহার করসে অতীতের কোনও সময় সেটা হয় নি, এত বেশি লেপটপ, কম্পিউটার বিক্রি হইসে কিনা সন্দেহ ।

unipay2u , unigetway2u তাদের শুরুর সময় এটার কাজ কর্ম না দেখে হাজার ও গ্রাহক যখন সেখানে টাকা রাখল, আমাদের গুণ ধর কিসু মন্ত্রী কথায় তাদের bank অ্যাকাউন্ট বন্ধ করে বলা হলো হায় হায় কোম্পানী আর ব্যাঙ্ক গুলো কে পাব্লিক এর টাকা উপহার দিয়ে আমাদের সাধারণ জনগণ কে উদ্ধার করল আমদের গুণধর অর্থ মন্ত্রী । ঝুলে গেল যুবক এর মত হাজার ও গ্রাহক এর সপ্ন । কিন্তু ডেসটিনি ঠিকই চালায় গেল তাদের ইনভেস্ট মেন্ট প্লান। সংসদেও কথা উঠল কিন্তু অজানা কারণে তাদের রর ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট বন্ধ হলো না!!

এবার unipe2u , unigetway2u বন্ধ হবার কারণে তাদের অনেক গ্রাহক নিজদের ক্ষতি পূরণের জন্য নিজেরাই যখন একি ধরনের অনেক গুলো কোম্পানী খুলে বসল। তাদের অনেক কোম্পানী সরকার কে কষ্ট করে বন্ধ করতে হয় নি নিজেরাই বন্ধ হয়ে গেছে মানুষের টাকা নিয়ে ভেগে গেছে রেব নেক্স, আর্থ ডিস্ট্রিবিউশন, অগ্রণী গ্লোবাল, ই -যেন , এশিয়ান কিং, মানি সুইম, গোল্ডেন ট্রেড আর পালানোর অপেক্ষায় আসে এম ওয়ে, এম স্টার, টুগেদার ফিউচার, জুরিটি । ডেসটিনি র কাজ কর্ম দেখে আরেক টি প্রতিষ্ঠিত কোম্পানী নি ওয়ে ও একি রাস্তায় হাটা শুরু করল ইনভেস্টমেন্ট প্লান এ গেলো আর ডেসটিনি যেমন পাব্লিক এর টাকা কেটরিনার নাচ দেখালো, নি ওয়ে ও পাব্লিক এর টাকায় বি পি এল স্পনসর হলো । যাই হক সর্ব শেষ বাংলা সিনেমার মত শেষ দৃশ এ ডেসটিনি কে যখন ধরা হলো তখন শেয়ার মার্কেট এর মত লক্ষ মানুষের কষ্টের টাকা কিসু মানুষের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট এ যার শুরু টা হয়ে ছিল গাছ বিক্রির পেকেজ দিয়ে।

এত দিন পরে এসে আমাদের প্রিন্ট মিডিয়া, ইলেকট্রনিক্স মিডিয়া র চোখ খুলে গেল সব কিছুর গড়াই এখন ডেসটিনি। তাও সেটা যখন ডেসটিনির গ্রাহকদের ডেসটিনি র শেয়ার কিনার লাভের প্রথম কিস্তি পাবার সময় । এই বার শুরু হইল ঢাকা ইউনিভার্সিটি র স্টুডেন্ট দের মানব বন্ধন- দোষী যে তাকে না পুরা এম এল এম কে নিষিদ্ধ করতে হবে। কেন? কারণ এরা মানুষ কে সপ্ন দেখায় মানুষের সাথে প্রতারণা করে। আর প্রতারণার শুরু টা করল কে? তখন কেন সরকার এই সব কোম্পানী কে ভাল ভাবে মনিটরিং করল না? কার কার পকেট ভারী হবার পরে এই বিষয়টা নজরে আসল নাকি কার কার বারোটা বাজানোর পরে ডেসটিনি নিজের গর্তে নিজে পা দিল নাকি এই সব রফিকুল আমিন এর শুধুই সাজানো নাটক (কারণ সে তো এত দিন নিছে, এবার তার দেবার পালা তাই শুরু তেই নাটক)? পাঠক এবার আপনারাই বলুন?

পাঠক এই বার আসি পৃথিবীতে নেটওয়ার্ক মার্কেটিং এর ইতিহাস এর দিকে….!!! পৃথিবীতে নেটওয়ার্ক মার্কেটিং এর যাত্রা শুরু 1951 সাল আমেরিকা থেকে। পৃথিবী তে মোট চার ধরনের নেটওয়ার্ক মার্কেটিং প্লান আছে যেগুলোন হলো বি বি এল বা বলেঙ্কে বাইনারি (ডেসটিনি), ইউনিলেভেল (গানেক্স) , মাট্রিক্স (টি ভী আই এক্সপ্রেস), হাইব্রিড (টং চেঙ)এ ছাড়াও এই চার টির সংমিস্সিরনে আসে হাজার ও রকম মার্কেটিং প্লান । নেটওয়ার্ক মার্কেটিং এর উপর প্রতিষ্ঠিত দেশ আমেরিকা, রাশিয়া, মালয়শিয়া (বিস্তারিত জানতে গুগল, wiki , ইউটিউব, সার্চ করুন)। পৃথিবীর সবচে বেশি নেট ওয়ার্ক কার এখন রাশিয়া, ফিলিপিন্স, চায়না, ইন্ডিয়া, নাইজেরিয়া তে। পৃথিবীতে প্রায় 12 কোটি মানুষ নেটওয়ার্ক মার্কেটিং বা ডিরেক্ট সেলিং বা এম. এল. এম কোম্পানী র সাথে সরা সরি জড়িত। আর আমাদের দেশে সরাসরি প্রায় 90 লক্ষ মানুষ এর মধ্যে 10 লক্ষ মানুষ এই পেশার উপর নির্ভরশীল। বহি দেশ যখন এসব ক্ষেত্রে অনেক এগিয়ে, তখন এত দিনেও আমাদের দেশের সরকার এই সব কোম্পানী র জন্য একটা নীতিমালা দিতে পারে নি। জানি না আসলে একটা নীতি মালা তৈরি করতে কত দিন সময় লাগে!!! আর কার কার স্বার্থর জন্যই বা দেশের এত বড় একটা সম্ভাবনাময় সেক্টর আজ হুমকির মুখে আল্লাহ পাকি ভাল জানেন। পরিশেষে একটা কথাই বলি ডেসটিনি মানই দেশের সব এম এল এম কোম্পানী বুঝায় না। ডেসটিনি যদি কোনও ভুল করে সেটার জন্য কেন সাধারণ মানুষ ভুগবে। এই সব কোম্পানী দেখার দায় কাদের? আবার অনেকের ধারনা নেটওয়ার্ক মার্কেটিং বা ডিরেক্ট সেলিং বা এম. এল. এম কোম্পানী তে অল্প কিসু মানুষ লাভবান হতে পারে এই ধরনটিও ঠিক না। সব কোম্পানী র প্লান ডেসটিনি র মত সেকালের না। এখন অনেক ভাল কোম্পানী মার্কেটে আছে যাদের মার্কেটিং প্লান অল্প কয়েক জন লাভবান হওয়ার সুযোগ নাই (নাম উল্লেখ করলাম না তাহলে ভাববেন ওই সব কোম্পানী র মার্কেটিং করসি)। সামনে হয়তো আরও ভাল কোম্পানী আসবে।

Bill Clinton and Network Marketing