ক্যাটেগরিঃ আন্তর্জাতিক

 
r

 

বর্তমান পৃথিবীতে প্রকৃত শরণার্থী বলতে যদি কেউ থাকে তবে তা হলো মিয়ানমারের রোহিঙ্গা সম্প্রদায়। তাদের কোন দেশ নেই। যে দেশে তারা দীর্ঘকাল ধরে বসবাস করে আসছে সেই দেশটাই তাদের নাগরিক হিসেবে স্বীকৃতি দিচ্ছে না। অথচ এক সময় মিয়ানমার পার্লামেন্টে রোহিঙ্গাদের শুধু যে প্রতিনিধিত্ব ছিল তাই না, মন্ত্রী হিসেবেও তারা রাষ্ট্র পরিচালনায় অবদান রেখেছে।

বার্মার সামরিক জান্তা রোহিঙ্গাদের সব ধরনের অধিকার থেকে বছরের পর বছর বঞ্চিত করেছে, সেই ধারা অব্যাহত আছে গণতন্ত্রের লেবাসে গঠিত আধা সামরিক সরকারের সময়েও। এই সরকার চলে আবার তথাকথিত ‘শান্তির দূত’ অং সাং সুচির নেতৃত্বে। বিশ্ব মিডিয়ায় রোহিঙ্গা নির্যাতনের যেই ছবি ও ভিডিও এসেছে তার দশ ভাগও যদি সঠিক হয় তবে শান্তির দূত সূচির নোবেল কোন যোগ্যতায় পেয়েছেন সেটা একটা বিরাট প্রশ্ন।

আশার কথা হলো পশ্চিমা পরাশক্তিগুলো দেরীতে হলেও তাদের অবস্থান পরিবর্তন করেছে। রোহিঙ্গা ইস্যুতে তারা নিয়মিতই বক্তৃতা, বিবৃতি দিচ্ছে। আমাদের প্রতিবেশী ভারত ও চীন তাদের পূর্বের অবস্থান থেকে কিছুটা হলেও সরে এসেছে। বাংলাদেশ সরকারের উচিত হবে রাষ্ট্রগুলোর এই অবস্থানকে কাজে লাগিয়ে যতদ্রুত সম্ভব রোহিঙ্গা সঙ্কট সমাধানের জন্য কূটনৈতিক তৎপরতা চালিয়ে যাওয়া। যেহেতু মিয়ানমার দীর্ঘদিন যাবত পুরো দুনিয়া থেকে এক প্রকার বিচ্ছিন্ন ছিলো বলা যায়, সেক্ষেত্রে শুধুমাত্র চিঠি চালাচালি করে এই সমস্যার সমাধান হওয়া সম্ভবপর বলে মনে হয় না। এক্ষেত্রে বাংলাদেশের উচিত হবে জাতিসংঘ সহ আন্তর্জাতিক সহযোগিতা সংস্থা সমূহের দারস্থ হওয়া।

রোহিঙ্গা ইস্যুতে জাতিসংঘ, ইইউ সহ সকল সংস্থা ও দেশ সমূহের বর্তমান অবস্থান কাজে লাগিয়ে যত তাড়াতাড়ি এই সমস্যার সমাধান করা যায় ততই বাংলাদেশের জন্য মঙ্গল। অন্যথায় দিন শেষে লক্ষ লক্ষ রোহিঙ্গা বাংলাদেশের উপরই বোঝা হিসেবে বছরের পর বছর পড়ে থাকবে।

জাতিসংঘের হিসাবও যদি ধরা হয় তাহলে দেশে বর্তমানে রোহিঙ্গার সংখ্যা আট লাখের উপরে, এই সংখ্যা দশ লাখ ছাড়িয়ে যেতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। পৃথিবীর সবচেয়ে ঘনবসতিপূর্ণ দেশটি এখন বিশ্বের সর্বাধিক সংখ্যক শরণার্থী নিয়ে রেকর্ড সৃষ্টি করেছে, যেখানে বিশ্বের অনেক প্রভবশালী ধনী রাষ্ট্রই শরণার্থী নিতে উদসহীন। এই নজিরটি স্থাপন করেছেন বাংলাদেশের মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। রোহিঙ্গাদের আশ্রয় দেওয়ার জন্য যাকে ব্রিটিশ মিডিয়া ‘মাদার অব হিউম্যানিটি’ উপাধিতে ভূষিত করেছে। শোনা যাচ্ছে এবার নোবেল শান্তি পুরষ্কার পাওয়ার দৌড়েও মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা অনেক এগিয়ে আছেন। যদি তাই হয় তবে নিঃসন্দেহে বাংলাদেশের জন্য অনেক বড় পাওয়া।

সব কথার শেষ কথা হলো, শেখ হাসিনা যদি নোবেল নাও পান রোহিঙ্গাদের জন্য তিনি যে মানবিতা দেখিয়ে গেছেন তা পৃথিবীর ইতিহাসে তাকে চির স্মরণীয় করে রাখবে। সেই সাথে এই আশা রাখি তার সুযোগ্য নেতৃত্ব ও কূটনৈতিক প্রচেষ্টায় রোহিঙ্গারা একদিন ফিরে পাবে তাদের নিজ আবাসভূমি আরাকান।