ক্যাটেগরিঃ অর্থনীতি-বাণিজ্য

পুঁজি বাজার, ব্যাংক ও অর্থ ব্যবস্থাপনায় রাজনৈতিক বিবেচনায় নিয়োগ প্রদান সবসময়ই ভুল সিদ্ধান্ত। বিশেষজ্ঞ লোক যাঁরা অর্থ ও রাজস্ব বিশেষজ্ঞ ও যাদের প্রায়োগিক জ্ঞান রয়েছে এরকম দক্ষ, অভিজ্ঞ লোক দ্বারা পরিচালিত হওয়া উচিত। কিন্তু দুঃখের বিষয় পুঁজি বাজারের ও বাংলাদেশ ব্যাংকের শীর্ষ কর্মকর্তাদের রাজনৈতিক বিবেচনায় নিয়োগ দেয়ায় বাংলাদেশ ব্যাংক ও সিকিউরিটিজ এন্ড একচেঞ্জ কমিশনের মধ্যে সমন্বয়হীনতা বিরাজ করছে যা বাংলাদেশের উন্নয়নে প্রতিবন্ধকতা হিসাবে কাজ করছে ও জনস্বার্থ উপেক্ষিত হচ্ছে।

পুঁথিগত বিদ্যা এবং বাস্তবে তার প্রয়োগ দুটো বিষয় সম্পূর্ণই ভিন্ন। পাঠ্যপুস্তকে কোন বিষয়কে সরলীকরণ করে শিক্ষার্থীদের সম্মুখে উপস্থাপন করা হয়। এছাড়াও, আমাদের অর্থনীতি সংশ্লিষ্ট কারিকুলাম এর অধিকাংশই বাজার ভিত্তিক পশ্চিমা অর্থনীতির আদলে লেখা। নব্য শাস্ত্রীয় সনাতন নীতিমালার (Neo Classical Orthodox Paradigm) উপর ভিত্তি করে লেখা হয়ে থাকে। উক্ত পাঠ্য পুস্তক যেসব অনুমিতির (Assumptions) ভিত্তিতে লেখা হয়ে থাকে তার অধিকাংশই বাংলাদেশের আর্থসামাজিক প্রেক্ষাপটের জন্য প্রযোজ্য নয়। একজন অর্থনীতির ছাত্র হিসেবে বলতে পারি যে আমাদের দেশের শিক্ষালয়ে অর্থনীতির যে সকল পুস্তক পড়ানো হয় তার শতকরা ৭০/৮০ ভাগই বাংলাদেশের অর্থনীতির প্রেক্ষাপটে অপ্রাসঙ্গিক। পুঁজি বাজারের জন্য নীতিমালা বা কেন্দ্রীয় ব্যাংকের গৃহীত মুদ্রানীতি দেশের শতকরা ৭০ ভাগ মানুষের জীবন জীবিকার সাথে সম্পর্কহীন। সুদের হার হ্রাস-বৃদ্ধি, রিজার্ভ অনুপাত কমানো বা বাড়ানো ইত্যাদি বিশাল সংখ্যাগরিষ্ঠ মানুষের দৈনন্দিন জীবনযাত্রায় কোন হেরফের আনে না। পুঁজি বাজারে স্বল্প মেয়াদী, মধ্য মেয়াদী, দীর্ঘ মেয়াদী বিভিন্ন পন্থা অবলম্বন করা হচ্ছে। এ সকল কর্মপন্থা ছাত্র বোঝানোর জন্য উপযুক্ত হলেও বাস্তবক্ষেত্রে যে সামঞ্জস্যহীন অপরিণত চিন্তাভাবনা তা বর্তমান পুঁজি বাজারের অবস্থা দেখলে বোঝা যায়।

২৩ নভেম্বর ২০১১ তারিখে সিকিউরিটিজ এন্ড একচেঞ্জ কমিশন পুঁজি বাজারে স্থিতিশীলতা আনয়ন ও ক্ষুদ্র বিনিয়োগকারীদের স্বার্থ রক্ষার্থে গৃহীত পদক্ষেপ শিরোনামে একটি বিজ্ঞাপন প্রকাশ করে যেখানে স্বল্প মেয়াদী পদক্ষেপ: এখনই বাস্তবায়নযোগ্য, মধ্য মেয়াদী পদক্ষেপ: তিন মাস এবং দীর্ঘ মেয়াদী পদক্ষেপ: ৪ থেকে ৬ মাস শিরোনামে বিভিন্ন পরিকল্পনার কথা জানায়। ৬ মাস অনেক আগেই গত হয়েছে ১ বছর হতে চললো কিন্তু এ সম্পর্কিত কোন সাম্প্রতিক তথ্য আর জানানো হয়নি এবং পুঁজি বাজারের দৈন্য অবস্থারও কোন উন্নয়ন হয়নি সেহেতু বিভিন্ন মেয়াদী পদক্ষেপ কতটা কার্যকরী হয়েছে তা বিবেচনার দাবিদার।

২২ নভেম্বর ২০১১ সালে পুঁজি বাজার নিয়ন্ত্রক সংস্থা সিকিউরিটিজ এন্ড একচেঞ্জ কমিশন উদ্যোক্তা পরিচালকদের জন্য ২% এবং তাদের সামগ্রিকভাবে ৩০% শেয়ার ধারণ বাধ্যতামূলক করে একটি নোটিফিকেশন জারি করে। এই আইন জনস্বার্থ বিরোধী এবং সেখানে Quasi Judicial Power যে যথাযথভাবে প্রয়োগ হয়নি তা আমরা এখন আলোচনা করবো। ছোট্ট একটা প্রজ্ঞাপনের জন্য আজ প্রায় ৩৬৫ জন পরিচালক পদচ্যুত হয়েছে। অনেক ব্যাংক বিশেষ করে সোশ্যাল ইসলামী ব্যাংক লিমিটেডের ১৬ জন পরিচালকের মধ্যে ১৪ জন পরিচালকই ধরাশায়ী। আরো কয়েকটা ব্যাংকেও একই অবস্থা। এই পরিবর্তনের প্রভাব কী হতে পারে তা আদৌ বিবেচনা করা হয়নি।পুঁজি বাজারের ২২ ক্যটাগরীরর ২৩৫ কোম্পানীকে একই কাতারে শামিল করা হয়েছে। এর মধ্যে আছে ব্যাংক, বীমা, খাদ্য, ঔষধ, হোটেল, পর্যটন ইত্যাদি। প্রত্যেক কোম্পানীর বৈশিষ্ট্য ভিন্ন, তাদের ভিন্ন ভিন্ন পরিশোধিত মূলধন (Paid Up Capital)রয়েছে এমনকি একই শ্রেণীর কোম্পানীর ও ভিন্ন ভিন্ন পরিশোধিত মূলধন রয়েছে। যেমন সোশ্যাল ইসলামী ব্যাংকের পরিশোধিত মূলধন ৬৪০ কোটি টাকা আবার ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ লিমিটেড এর রয়েছে ১০০০ কোটি আরো কিছু ব্যাংকের পরিশোধিত মূলধন ৩০০ কোটি হতে ৫০০ কোটি টাকা। এখন সোশ্যাল ইসলামী ব্যাংকের পরিচালক হতে গেলে লাগে প্রায় ১২ কোটি টাকার শেয়ার (Face Value তে), যার বর্তমান বাজার মূল্য কমপক্ষে ২৫ কোটি টাকা। আবার ইসলামী ব্যাংকের পরিচালক হতে গেলে লাগে ২০ কোটি টাকার (Face Value তে) বেশি যার বাজার মূল্য প্রায় ৮০ কোটি টাকা। আবার রাজনৈতিক বিবেচনায় বাংলাদেশ ব্যাংক সম্প্রতি যে প্রজ্ঞাপন জারি করেছে সেখানে নতুন কোন ব্যাংকের জন্য লাগবে ৪০০ কোটি টাকা পরিশোধিত মূলধন সেখানে ১৩ জন পরিচালকের ও উদ্যোক্তার জন্য ১ কোটি টাকার শেয়ার থাকা দরকার হবে। সিকিউরিটিজ এন্ড একচেঞ্জ কমিশনের নোটিফিকেশন অনুসারে কয়েকটা ব্যাংকের, প্রতিষ্ঠানের কোন বোর্ড নেই। বোর্ড বিহীন ব্যাংক চলছে আর বাংলাদেশ ব্যাংক বসে বসে তা উপভোগ করছে।এখানে কমিশন ও বাংলাদেশ ব্যাংকের সাথে শুধু সমন্বয়হীনতাই বিরাজ করছে তাই নয়, এটা পাগলের হাতে খোন্তা দেওয়ার মতই।

তাছাড়া, নোটিফিকেশন অনুসারে উদ্যোক্তা পরিচালকদের সম্মিলিতভাবে থাকতে হবে ৩০ শতাংশ শেয়ার কিন্তু সাধারণ শেয়ার হোল্ডারদের হাতে আছে আরো ৭০ শতাংশ শেয়ার। সাধারণ শেয়ার হোল্ডারদের ভেতর থেকে পরিশোধিত মূলধনের শতকরা ৫ ভাগ শেয়ার হোল্ডার পরিচালক হওয়ার যোগ্য হবেন। এরকম পরিচালক অত্যন্ত ব্যয়বহুল। ধরা যাক, সোশ্যাল ইসলামী ব্যাংকের রয়েছে প্রায় ৮৭ হাজার ক্ষুদ্র শেয়ার হোল্ডার যাদের জীবন জীবিকা নির্ভর করছে ১৪/১৫ জন পরিচালকের হাতে! মূলত ক্ষুদ্র বিনিয়োগকারীদের স্বার্থ রক্ষা করতে গিয়ে উদ্যোক্তা গ্রুপকে আরো শক্তিশালী করা হচ্ছে। কোন প্রতিষ্ঠানের পরিশোধিত মূলধনের ৫ ভাগ শেয়ার হোল্ডার হতে হলে ৬৪০ কোটি টাকা পেইড আপ ক্যাপিটালের ৩২ কোটি টাকার শেয়ার (Face Value তে) কিনতে হবে যার বাজার মূল্য কমপক্ষে আজকের বাজার দরে ৬৪ কোটি টাকা এবং পদ টিকিয়ে রাখার জন্য তিনি কোনদিন ঐ শেয়ার হস্তান্তর করতে পারবেন না। ৬৪ কোটি টাকা ফেলে রেখে বিলাসিতা করবার মতো লোকজন কারা হতে পারে তা সহজেই অনুমেয় যেখানে ২০১২-২০১৩ বাজেটে কালো টাকা সাদা করবার সুযোগ রাখা হয়েছে। কাদেরকে সুবিধা প্রদান করবার জন্য এ উদ্ভট নিয়ম জারী করেছে তা বোঝার জন্য বোদ্ধা হওয়ার প্রয়োজন হয় না।ক্ষুদ্র বিনিয়োগকারীদের প্রতিনিধিত্বের কোন ব্যবস্থা রাখা হয়নি, পরিচালনা পরিষদের সভায় কোন সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষেত্রে তারা কখনই কোন ভূমিকা রাখতে পারবে না।

গত ০৩ জুলাই ২০১২ তারিখে সিকিউরিটিজ এন্ড একচেঞ্জ কমিশন কোম্পানীর মোট পরিচালকদের ৫ জনের ১ জন স্বতন্ত্র পরিচালক নিয়োগ দিতে হবে বলে নোটিফিকেশন জারি করে যাদের কোন শেয়ার নেই অথবা পরিশোধিত মূলধনের শতকরা ১ ভাগের কম শেয়ার রয়েছে এবং যিনি কোন উদ্যোক্তা শেয়ার হোল্ডার নন বা উদ্যোক্তা শেয়ার হোল্ডারের কোন আত্মীয় স্বজনও নন অথবা ১ ভাগ বা ১ ভাগের বেশি শেয়ার রয়েছে এমন কোন শেয়ার হোল্ডারের আত্মীয় স্বজনও নন। যার কোন শেয়ার নেই সে কীভাবে শেয়ার হোল্ডারদের স্বার্থ রক্ষা করবে। তার দায়বদ্ধতা কার কাছে থাকবে আর সে কী কারণেই বা দায়বদ্ধ হবে। পরিকল্পিতভাবে ব্যাংকের অর্থ একটি গ্রুপকে লুটপাটের লাইসেন্স দেয়ার উদ্দেশ্যেই এরকম বিধান করা হয়েছে। সরকারীভাবে দুর্নীতিকে প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দেয়ার একটা প্রচেষ্টা। গত কয়েকদিনের পত্র পত্রিকা দেখলে বিষয়টি আরো সুস্পষ্ট হবে। রাষ্ট্রায়ত্ব চারটি বাণিজ্যিক ব্যাংক সোনালী, জনতা, অগ্রণী ও রূপালী ব্যাংকের কয়েকটি শাখা হতে ৬ হাজার কোটি টাকা আত্মসাতের তথ্য উঠে এসেছে বাংলাদেশ ব্যাংকের অনুসন্ধানে যার মধ্যে সোনালী ব্যাংকের রূপসী বাংলা শাখা হতে লুটপাট করা হয়েছে ৩৫০০ কোটি টাকা। সোনালী ব্যাংকের পরিচালনা পরিষদ এ আর্থিক কেলেঙ্কারীতে জড়িত উল্লেখ করে এদের পরিচালক পদ হতে সরিয়ে দিতে সম্প্রতি অর্থমন্ত্রীকে পরামর্শ দিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। আর মাননীয় অর্থমন্ত্রী বাংলাদেশ ব্যাংকের এরকম পরামর্শ দেয়ার এখতিয়ার আছে কীনা তা নিয়ে প্রশ্ন তুলে দুর্নীতিগ্রস্থ পরিচালকদের আরো দুর্নীতি করতে উৎসাহিত করেছেন।একজন দায়িত্বশীল মন্ত্রীর নিকট হতে এরকম মন্তব্য দুঃখজনক।“৪ হাজার কোটি টাকা এমন কিছু নয়” এরকম মন্তব্যও নিঃসন্দেহে দুঃখজনক যদিও তিনি জাতীয় সংসদে তার এ রকম বক্তব্যের জন্য দুঃখ প্রকাশ করেন এবং বক্তব্যটি প্রত্যাহার করেন। মূলতঃ স্বতন্ত্র পরিচালকের পদ সৃষ্টি করা হয়েছে এরকম সরকার ঘনিষ্ঠজনদের ব্যাংক হতে আর্থিক লুটপাটের জন্য। স্বতন্ত্র শেয়ার হোল্ডারদের আবির্ভাব ঘটানো হয়েছে তার মানে ধরেই নেয়া হয়েছে উদ্যোক্তা পরিচালকদের কোম্পানী পরিচালনার দক্ষতা নেই। আর যদি দক্ষতাই না থাকে তাহলে ব্যাংকটিকে/প্রতিষ্ঠানটিকে কেন অনুমোদন দেয়া হয়েছে? নিশ্চই অনুমোদন প্রক্রিয়ায় ত্রুটি ছিল। স্বতন্ত্র পরিচালকের যোগ্যতার ক্ষেত্রে বলা হয়েছে ব্যবসায়িক নেতা, আমলা, বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতির বা বাণিজ্য অনুষদের শিক্ষক,আইন কানুন জানেন এমন কেউ বা পেশাজীবি যেমন চাটার্ড একাউন্টেট ইত্যাদি। সবশেষে উল্লেখ করা হয়েছে কমিশনের অনুমোদন সাপেক্ষে এ যোগ্যতা শিথিল করা যেতে পারে। মূলত রাজনৈতিক মদদ পুষ্ট একটি কায়েমী গ্রুপকে ব্যাংকে কিংবা কোম্পানীতে বসানোর জন্য এ বিধান করা হয়েছে এখানে সাধারণ বিনিয়োগকারীদের স্বার্থ রক্ষার জন্য কোন কিছুই করা হয়নি।

সূত্র মতে জানা গিয়েছে উদ্যোক্তা পরিচালকদের সম্মিলিতভাবে নূণ্যতম ৩০ % শেয়ার ধারণের বাধ্যবাধকতা আরোপের ফলে প্রায় ৯৯২ কোটি শেয়ারের লেনদেন হবে না সেকেন্ডারী বাজারে। এখন শেয়ার বাজারে এই বিশাল পরিমাণ শেয়ার লেনদেন না হলে তা বাজারের স্বাভাবিক গতিকে প্রভাবিত করবে অনেকখানি এতে লক্ষাধিক কোটি টাকা নিশ্চল অবস্থায় থাকবার সম্ভাবনা তৈরি হবে। এবং এ বিষয়টি সম্পূর্ণভাবেই মুক্ত বাজার অর্থনীতির পরিপন্থি। এটা নিঃসন্দেহে বাংলাদেশ সংবিধানের ৪২ অনুচ্ছেদের মৌলিক অধিকারেরও পরিপন্থী। কারণ কোম্পানী আইন ১৯৯৪ এর ৩০ ধারানুসারে শেয়ার হচ্ছে অস্থাবর সম্পত্তি।

এরকম খেয়ালী, কিম্ভূতকিমাকার সিদ্ধান্ত গ্রহণের ফলে ব্যাংকিং সেক্টরে আর একটা সমস্যা প্রকট হয়ে দেখা দিয়েছে তাহলো বোর্ড অফ ডিরেক্টরদের মিটিং করতে না পারা। যেখানে বোর্ডই নেই সেখানে মিটিং হবে কী করে। যেমন সোশ্যাল ইসলামী ব্যাংক যেখানে ১৭ ডিরেক্টরের মধ্যে ১৫ ডিরেক্টরই বেঁধে দেয়া ২১ মে ২০১২ এর মধ্যে ২% শেয়ার ধারণ করতে পারেননি, আর যে দুইজন পেরেছেন তারা ব্যাংকিং কোম্পানী আইন ১৯৯১ এর ১৫ ক ক ধারা লংঘণ করে একাধিক্রমে ১৬-১৭ বছর যাবৎ পরিচালক পদে বহাল তবিয়তে রাম রাজত্ব করে চলেছেন। এখন ব্যাংকিং কোম্পানী আইনের ৯৬ ধারানুসারে প্রতি ৩ মাস পরপর বোর্ড অফ ডিরেক্টরস্ এর যে মিটিং করবার বিধান রয়েছে তা সঙ্গত কারণেই পালন করা সম্ভব হচ্ছে না।

যাঁরা সিকিউরিটিজ এন্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের দন্ডমুন্ডের কর্তা হয়ে বসে আছেন তাদের প্রতি পূর্ণ শ্রদ্ধা রেখেই বলছি আপনারা সাংঘাতিক রকম দক্ষ মেধাবী শিক্ষক হতে পারেন বা আমলা হতে পারেন কিন্তু লক্ষ লক্ষ ক্ষুদ্র শেয়ার হোল্ডারদের নিয়ে হাস্যরস করবার অধিকার আপনাদের কেউ দেয়নি। ইতিমধ্যে কয়েকজন ক্ষুদ্র বিনিয়োগকারী আত্মহত্যার পথ বেছে নিয়েছেন, এ সংখ্যাকে আর দয়া করে দীর্ঘায়িত করবেন না। আর মাননীয় অর্থ মন্ত্রীকে বলছি, গ্রামীণ ব্যাংক এবং পদ্মা সেতুর বাইরেও আরো অনেক বিষয় আছে যেখানে সাধারণ মানুষের জীবন জীবিকা অতপ্রোতভাবে জড়িত, দয়া করে ইংরেজী ভাষার “নটি”, “ননসেন্স”, “রাবিশ” বিষয়গুলোর দিকেও একটু নজর দিন, বাংলাদেশ ব্যাংকের মতো বসে বসে তামাশা দেখবেন না। দেশের কেন্দ্রীয় ব্যাংক হিসেবে বাংলাদেশ ব্যাংককে চুক্তিভিত্তিক ব্যবস্থাপনার (Contract Management) মাধ্যমে পূর্ণাঙ্গ স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠান হিসেবে কাজ করতে দেয়া প্রয়োজন। এর কার্যকারিতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে পূর্ণ স্বায়ত্বশাসনসহ এর ব্যবস্থাপনায় ব্যাপক পরিবর্তন আনাও প্রয়োজন।

-প্রফেসর ড. এম.এ. মান্নান
সাবেক মুখ্য অর্থনীতিবিদ, ইসলামী উন্নয়ন ব্যাংক,জেদ্দা
প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান, সোস্যাল ইসলামী ব্যাংক লিমিটেড
Email: hmct2004@yahoo.com