ক্যাটেগরিঃ ব্লগ

 

আমাদের রাষ্ট্রের আর্থসামাজিক কাঠামোর মূল ভিত্তি হচ্ছে হাজার বছরের পরিবার ও সমাজ অথচ আমাদের শিক্ষা ও আর্থ সামাজিক কর্মকান্ড এবং শিক্ষা পরিচালনার মূল ভিত্তি হচ্ছে ব্যক্তি। পাশ্চাত্যের পরাধীনতার প্রভাবে আমাদের অর্থনৈতিক ব্যবস্থা ও শিক্ষানীতি ব্যক্তি স্বার্থের দ্বারা প্রভাবিত হয়েছে। ব্যক্তির এ উত্থানে পরিবার, সমাজ,কৃষ্টির ও নৈতিক ও ধর্মীয় মূল্যবোধের সমন্বিত উন্নয়ন ও শিক্ষানীতি উপেক্ষিত হয়েছে। তাই বর্তমান শিক্ষা ব্যবস্থা কুশিক্ষা ও দুর্নীতির উৎস হয়েছে। শিক্ষা ব্যবস্থায় নৈতিকতার চরম অবক্ষয় হয়েছে। এ আর্থ সামাজিকতার প্রেক্ষাপটে এমন একটি বিশ্ববিদ্যালয়ের স্বপ্ন দেখি যেখানে শিক্ষার্থীর কর্মজীবন সামাজিক দায়বদ্ধতার অঙ্গীকার স্বরূপ মানব কল্যাণমূলক কর্মকান্ডে যেমন শিক্ষার্থীর পুরষ্কার দেয়ার ব্যবস্থা করা অপরদিকে দুর্নীতিগ্রস্থ শিক্ষার্থীর ডিগ্রি বাতিলের ব্যবস্থা থাকবে যেখানে ছাত্র ছাত্রীদের ডিগ্রি দেয়া হবে অবসর বা মৃত্যুর পর। ইসলাম বলে মানুষের মৃত্যুর পর তার সব হিসাব বন্ধ হয়ে যায়, ৩টি কাজ ছাড়া। এগুলো হলো (১) জ্ঞানের ক্ষেত্রে অবদান (২) এমন কোন দান যা থেকে মানুষ চিরকাল লাভবান হতে থাকবে অর্থাৎ সদকায়ে জারিয়াহ এবং (৩) নেক সন্তান- আল হাদীস।

প্রকৃত অর্থেই একজন মানুষের মৃত্যুর পর তার মূল্যায়ন যথার্থ হয়। আর তাই আমার কাঙ্খিত বিশ্ববিদ্যালয়ে তার সারা জীবনের কর্মকান্ড ও অর্জন বিবেচরা করে ডিগ্রি দেয়া হবে। কারণ বিপুল অংকের ভর্তুকি দিয়েও আমরা শিক্ষা ব্যবস্থায় সামাজিক ও নৈতিক মূল্যবোধ প্রবিষ্ট করাতে পারিনি। সমাজে সর্বব্যাপি দুর্নীতি। শিক্ষিতরাই বেশি দুর্নীতি করছে। আমাদের আমলা তন্ত্র দুর্নীতিতে ছেয়ে গেছে। রাজনীতিবিদরা দুর্নীতিগ্রস্ত। এমনকি শিক্ষা ব্যবস্থাও দুর্নীতিগ্রস্থ হয়ে পড়েছে। জনগণ দুর্নীতিপ্রবণ হয়ে উঠেছে। এটা কেন? এটা এ কারণে আমাদের শিক্ষা ব্যবস্থাটাই এমন যে এখানে ছাত্র ছাত্রীদের নীতি নৈতিকতার শিক্ষা দেয়া হয় না। স্কুল বিশ্ববিদ্যালয় একটি সার্টিফিকেট দিয়ে বুঝিয়ে দেয় এই জনশক্তিটি আমরা তৈরি করেছি। সে বিএ, এমএ, পিএইচডি ইত্যাদি মানের। বিশ্ববিদ্যালয় অনেকটা পণ্য উৎপাদনের কারখানার মতো। পণ্য উৎপাদনের পর তার ওপর লেবেল লাগিয়ে দেয়া হয়। ছাত্রের ডিগ্রিটাও একটি লেবেল; কিন্তু কারখানায় কোন কিছু উৎপাদনের পর সে জিনিসটি ঠিক মতো চালু রাখতে বা সেটি ঠিকমত কাজ করছে কিনা সেজন্য একটি সার্ভিসিং সুবিধা দেয়। আমাদের কলেজ-বিশ্ববিদ্যালয় কিন্তু সেখান থেকে বের হওয়া ছাত্রটি কি করছে তার কোন খবর রাখে না। তাদেরকে আবার ডেকে এনে পুরনো জ্ঞানের সাথে নতুন জ্ঞানের সংযোগ ঘটানোর কোন ঘটনা এখানে নেই। কোন ছাত্র যদি কর্মজীবনে দুর্নীতি করে তাহলে তার ডিগ্রি বাতিলের কোন বিধান নেই। যন্ত্র নষ্ট হলে আমরা মেরামত করি। যে যন্ত্রের খুচরা যন্ত্রাংশ পাওয়া যায় না, আমরা সে যন্ত্র কিনি না; কিন্তু মানুষকে আমরা জনশক্তি বললেও তার ‘সার্ভিসিং’ বা ‘আপগ্রেড’ দরকার একথা আমরা কেউ বলছি না। অথচ এটা হওয়া উচিত ছিল। উচিত ছিল, যে বিশ্ববিদ্যালয় তার শিক্ষার্থীকে নিয়মিত ‘আপগ্রেড’ না করবে তাকে কর্মসংস্থানে নিয়োগ না দেয়া।

বর্তমানে তথ্য প্রযুক্তির বিপ্লবের যুগে এ ধরনের ফলোআপ ব্যবস্থা কঠিন বিষয় নয়। ইংল্যান্ডের ‘হাইগেট স্কুল’ ৪৪৮ বছরের পুরনো। মজার ব্যাপার হলো এই স্কুলের প্রথম থেকে যত ছাত্র ও শিক্ষক ছিলেন তাদের সবার রেকর্ড সংরক্ষণ করা আছে। তারা ফলোআপ করে এই স্কুলের কোন্ ছেলে কোথায় কী করছে, জ্ঞান বিজ্ঞানের উন্নতি ও মানব সমাজের কল্যাণে কী অবদান রাখছে। এ থেকে বোঝা যায় পাশ্চাত্যের শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোয় খুব নিবিড়ভাবে না হলেও কিছুটা ফলোআপ সিস্টেম রয়ে গেছে। তাই আমি এমন এক বিশ্ববিদ্যালয়ের কথা ভাবছি যেখান থেকে আজকের মতো গতানুগতিক বা প্রচলিত কোন ডিগ্রি না দিয়ে সেখান থেকে দেয়া হবে সমতুল ডিগ্রি বা ডিগ্রি ইকুইভ্যালান্ট। ছাত্রটিকে কর্মক্ষেত্রে যোগ দিতে হবে। এখানকার ছাত্রদের ডিগ্রি হবে বিএসসি ইকুইভ্যালান্ট, এমএ বা এমএসসি ইকুইভ্যালান্ট, পিএইচডি ইকুইভ্যালান্ট, ইঞ্জিনিয়ারিং বা এমবিবিএস ইকুইভ্যালান্ট ইত্যাদি। যারা এখান থেকে ডিগ্রি ইকুইভ্যালান্ট নিয়ে বের হবে তারা কর্মক্ষেত্রে একই মানের ডিগ্রিপ্রাপ্ত কারো চেয়ে কম যোগ্যতা সম্পন্ন হবে না। উপরন্তু, এখান থেকে বের হওয়া ছাত্রদের ফলোআপের ব্যবস্থা থাকবে বা তাদের জ্ঞান আপগ্রেডের কর্মসূচী থাকবে। ফলে এরা অন্যান্য বিশ্ববিদ্যালয়ের একই মানের ডিগ্রি প্রাপ্ত কারো চেয়ে থাকবে অগ্রগামী। আবার কর্মক্ষেত্রে গিয়ে এদের যদি নৈতিক অধঃপতন ঘটে, কেউ যদি দুর্নীতিপরায়ণ হয়ে পড়ে তাহলে তাৎক্ষণিকভাবে বিশ্ববিদ্যালয় তার ডিগ্রি বাতিল করে দিতে পারবে। অন্যদিকে, সে যদি ভালো কোন কাজ করে, সমাজ ও মানবতার কল্যাণে অবদান রাখে তাহলে তাকে ডেকে পুরষ্কৃত ও সম্মানিত করা হবে।

আমি মনে করি এ ধরনের বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র ছাত্রীদের কর্মক্ষেত্রে চাহিদা হবে ব্যাপক। সবাই জানবে এখানকার ছেলেগুলোকে ফলোআপ করা হচ্ছে, এদের দুর্নীতিগ্রস্ত হয়ে পড়ার আশঙ্কা কম, এরা জ্ঞানে জানায় অগ্রগামী। সরকারের একক চেষ্টায় সমাজকে দুর্নীতিমুক্ত করা অসম্ভব; কিন্তু এ ধরনের বিশ্ববিদ্যালয় হলে সমাজ সহজেই অনেক পরিশুদ্ধ অর্জন করতে পারবে।

আবার বিশ্ববিদ্যালয় যখন ডিগ্রি ইকুইভ্যালেন্ট প্রদানের চিন্তা করবে তখন এখানকার কারিকুলাম তৈরি হবে বাস্তব জীবন ও সমাজের সাথে মিল রেখে। জীবনের সাথে যুক্ত করা হবে কারিকুলামকে। কলেজ বিশ্ববিদ্যালয়ে বাস্তব জীবনে প্রয়োজনীয় জ্ঞানের উপর গুরুত্ব দেয়া হবে বেশী। ফলে কারিকুলামও হবে সময়োপযোগী। নিজের অভিজ্ঞতা থেকেই দেখি অর্থনীতিতে পিএইচডি করতে গিয়ে এমন অনেক বিষয় পড়তে হয়েছে যার বাস্তব প্রয়োগ কখনও দেখিনি। মরণোত্তর পুরস্কার দেয়া গেলে মরণোত্তর ডিগ্রি কেন দেয়া যাবে না?

পশ্চিমে অনেক বিশ্ববিদ্যালয়ে কিন্তু এই ধ্যান ধারনার প্রতিফলন ঘটতে শুরু করেছে। যেমন: অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয় বিশ্বের এমন অনেক বরেণ্য ব্যক্তিকে ডক্টরেট ডিগ্রি দিয়েছে যারা জীবন সংগ্রামে অনবদ্য লড়াই করে প্রতিষ্ঠা পেয়েছেন এবং যারা এক সময় ছিলেন এখানকার ছাত্র।এ ধরনের ব্যক্তিত্বকে ডেকে নিয়ে ডিগ্রি দেয়া হয়; কিন্তু গত শতকে এরকম দু’জন ব্যক্তিত্বকে ডিগ্রি প্রদানে অস্বীকৃতি জানানো হয়। তাদের একজন হলেন পাকিস্তানের জুলফিকার আলী ভুট্টো এবং অন্যজন যুক্তরাজ্যের মার্গারেট থ্যাচার। ব্রিলিয়ান্ট প্রাইম মিনিস্টার অফ ইংল্যান্ডকে অক্সফোর্ড বলেছিলেন, ‘শি ইজ নট ওয়ার্দি ডটার অফ অক্সফোর্ড’ (She is not worthy daughter of Oxford)। কারণ থ্যাচার শিক্ষা অনুদান কেটে দিয়েছিলেন। আর ভুট্টোকে দেয়া হয়নি তিনি পাকিস্তানের গণতন্ত্র হত্যা করেছিলেন বলে।
ক্যামব্রীজও একই নীতি অনুসরণ করছে। তাদের কোন ছাত্র বিশ্ব পর্যায়ে কোন অর্জন পেলে তাকে ডেকে নিয়ে পিএইচডি দেয়া হয়। এই বিষয়গুলো আমাদের লক্ষ্যের বাইরে রয়ে গেছে।

আমেরিকায় একজন MD বা ডাক্তার হতে গেলে খুব কঠিন একটা শিক্ষা প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে অগ্রসর হতে হয়; কিন্তু এরপরও যে ডিগ্রি তাকে দেয়া হয়তা কিন্তু সারা জীভনের জন্য নয়। মাত্র ১০ বছরের জন্য। ১০ বছর পর আবার তাকে বোর্ডের সামনে হাজির হয়ে সমসাময়িক চিকিৎসা বিজ্ঞানে জ্ঞানের পরীক্ষা দিতে হবে। আমাদের শিক্ষা ব্যবস্থায় এটা পুরোপুরি অনুপস্থিত। এমনকি আমাদের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর কোন ছাত্র যদি বিশ্ব পর্যায়েও কোন কৃতিত্ব অর্জন করে, তবুও বিশ্ববিদ্যালয়গুলো তার কোন খবর রাখে না। তাই আমি চাচ্ছি এমন এক শিক্ষা ব্যবস্থা যেখানে কেউ ভালো কিছু করলে তার যেমন স্বীকৃতি দেয়া হবে তেমনি খারাপ কিছু করলে তার শাস্তি তথা ডিগ্রি বাতিলের ব্যবস্থাও থাকবে। শিক্ষা ব্যবস্থার মাধ্যমে আমরা জবাবদিহিতা ও দায়িত্বশীলতা তৈরি করতে পারিনি।

আমার স্বপ্নের এই বিশ্ববিদ্যালয় যমুনা নদীর কোল ঘেষে সিরাজগঞ্জ শহরে গড়ে উঠতে যাচ্ছে। ইতোমধ্যে নির্মাণ কাজ প্রায় সম্পন্ন হওয়ার পথে। সম্পূর্ণ ৯টি ভিন্ন ধরনের বৈশিষ্ট্য সম্পন্ন বিশ্ববিদ্যালয়টি বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরী কমিশনের অনুমতি পেয়ে সরকারের সংশ্লিষ্ট বিভাগের অনুমতি পাওয়ার অপেক্ষায়। ৫ একরের কিছু বেশি জমির উপর প্রতিষ্ঠিত হতে যাচ্ছে দি গ্লোবাল ইউনিভার্সিটি অব ইসলামিক ফাইন্যান্স এ্ড টেকনোলজি (The Global University of Islamic Finance and Technology) একজন ব্যক্তি তথা একটি পরিবারের নিজস্ব অর্থায়নে প্রতিষ্ঠা করা হচ্ছে যেখানে রয়েছে বিশ্ব মানের ৬ জন পেশাগত দক্ষ ট্রাস্টি। এখানকার ছাত্রদের পড়াশোনা করার খরচের একটা বৃহৎ অংশই বহন করবে হাউজ অব মান্নান চ্যারিটেবল ট্রাস্ট (House of Mannan Charitable Trust)। স্বল্প খরচে কোন কোন ক্ষেত্রে বিনা খরচে দেশের মেধাবী ছাত্ররা সেখানে পড়াশোনার করতে পারবে। স্বপ্নের বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের সনদ বাতিলের ক্ষমতা বিশ্ববিদ্যালয় সিনেট সংরক্ষণ করবে আর সেরকম শর্তসাপেক্ষেই শিক্ষার্থীরা সেখানে ভর্তি হতে পারবে। বাংলাদেশের ইউনিয়ন পর্যায়ে প্রতিষ্ঠালগ্নে ৫ একরের বেশি জমির উপর নিজস্ব ক্যাম্পাস যেটি উত্তরবঙ্গের ৮টি জেলার সংলগ্ন এবং প্রতিটি জেলা হতে ২০-৯০ মিনিটের দূরত্বে অবস্থিত। মধ্যপ্রাচ্যের নব্য ইসলামিক ফাইন্যান্স এবং ওয়েলথ এর প্রায় অলস পড়ে থাকা ৮ শত বিলিয়ন মার্কিন ডলারকে আকৃষ্ট করার জন্য এ বিশ্ববিদ্যালয় বিশ্বমানের পেশাগত দক্ষ জনশক্তি সরবরাহ করতে পারবে, জাতীয় ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে দক্ষ জনশক্তির চাহিদা পূরণে সহায়ক ভূমিকা পালন করবে। এর বাইরেও ওয়াকফ্ সম্পত্তি ও ক্যাশ ওয়াকফ্ ব্যবস্থাপনার জন্য দক্ষ জনশক্তি যোগান দিবে। বিশ্ববিদ্যালয়ের কারিকুলাম হবে ইঞ্জিনিয়ারিং, মৎস্য, কৃষি, টেক্সটাইলস্, প্রভৃতি ক্ষেত্রে বাস্তব জীবন ধারার সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ। বিশ্ববিদ্যালয়ে থাকবে জীবনঘনিষ্ঠ গবেষণার ক্ষেত্রে বিশেষ তহবিল। এখানকার শিক্ষার্থীদেরকে নৈতিক ও ধর্মীয় মূল্যবোধে উজ্জীবিত করা হবে যাতে তারা প্রথম থেকেই জীবনের চেয়ে বৃহত্তর লক্ষ্যে উদ্বুদ্ধ হতে পারে।

আসলে আমাদের সমাজে নীরব বিপ্লব ঘটাতে হলে শিক্ষা ব্যবস্থাকে ঢেলে সাজাতে হবে। এই ঢেলে সাজানোর অর্থ শিক্ষা কারিকুলাম পরিবর্তন নয়; সমাজ ও সংস্কৃতির আলোকে শিক্ষা ব্যবস্থাকে বিন্যস্তকরণ। উপরের চিন্তাধারা এক্ষেত্রে বৈপ্লবিক হতে পারে। শিক্ষার ব্যাপক প্রসার ঘটাতে হবে অনানুষ্ঠানিক (Non Formal) শিক্ষার মধ্য দিয়ে। আনুষ্ঠানিক শিক্ষার মান আশংকাজনকভাবে কমে গেছে। আনুষ্ঠানিক প্রক্রিয়ায় প্রশিক্ষিতকরণ (De-schooling the Society) করতে হবে। মাটি-মানুষ ও সংস্কৃতির সাথে শিক্ষাকে সমন্বিত করে উন্নয়ন ঘটাতে হবে। তবেই সাধিত হবে নীরব বিপ্লব।

মানুষ ও সমাজের ধারা পরিবর্তনে উপযোগী ধ্যান ধারনার রূপায়ণ প্রথম দৃষ্টিতে অসম্ভব মনে হতে পারে। প্রকৃতপক্ষে প্রতিষ্ঠান ছাড়া এরূপ ধ্যান ধারনার মৃত্যু স্বাভাবিক। আবার লক্ষ্য অর্জনে দৃঢ় প্রতিজ্ঞ লোকবল না থাকলে প্রতিষ্ঠানের টিকে থাকা সম্ভব নয়। তাই দি গ্লোবাল ইউনিভার্সিটি অব ইসলামিক ফাইন্যান্স এন্ড টেকনোলজি (The Global University of Islamic Finance and Technology) সৃজনশীল চিন্তাধারার বাস্তবায়নে প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামো গড়ে তুলতে সংকল্পবদ্ধ। এজন্যই স্বল্প সংখ্যক মানুষ প্রয়োজন যারা হবেন জীবনের চেয়ে বৃহত্তর লক্ষ্যে নিবেদিত। বর্তমান দুর্নীতিগ্রস্ত, ঘুণে ধরা আর্থসামাজিক প্রেক্ষাপটে এই ধরনের মানুষের চরম অভাব অনুভব করছি তবুও আমি আশাবাদী। নতুন এক শিক্ষা ব্যবস্থা ও দরদী সমাজ গড়ে তোলার লক্ষ্যে আমাদের যাত্রা শুরু। তবে, কবি গুরু রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের কবিতার কয়েকটি চরণ দিয়েই প্রবন্ধটি শেষ করছি-
“যদি তোর ডাক শুনে কেউ না আসে তবে একলা চলো রে।
———————————
যদি ঝড়-বাদলে আঁধার রাতে দুয়ার দেয় ঘরে—
তবে বজ্রানলে
আপন বুকের পাঁজর জ্বালিয়ে নিয়ে একলা জ্বলো রে”