ক্যাটেগরিঃ চারপাশে

 

আজ সকালের পত্রিকায় পড়লাম রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের একজন ছাত্র মারা গিয়েছে। বিষয় তেমন কিছু নয়, পদ্মা সেতুর জন্য তোলা চাঁদার ভাগবাটোয়ারা। আর এই ধরনের মৃত্যু আমাদের জীবনে খুব স্বাভাবিক হয়ে গিয়েছে। দু-চারদিন এ নিয়ে লেখালেখি হবে। তারপর সবাই ভুলে যাবে। আর এর কোন বিচার হবে সেটা ভাবাই এক ধরনের বোকামি। কিন্তু মাননীয় প্রধানমন্ত্রী আমাদের যে স্বপ্ন দেখিয়েছেন। আর সেটা বাস্তবায়নের জন্য তাঁর সরকার ও দল যে উঠেপড়ে লাগবে।সেটা আমাদের অবধারিত নিয়তি।যদি নিজের টাকায় সেতু করার সামর্থ থাকে।তবে ধার করতে যাওয়াটাই একধরনের বোকামি।আর সরকার যদি প্রকল্প নেবার সময় সেটা ঘোষণা দিত। তাহলে এভাবে আমাদের ঠোঁট পুড়ত না।বিশ্বব্যাংক যখন প্রথম অভিযোগ তুলে।তখন দেখলাম আমাদের সেতু করার জন্য মালয়েশিয়া,চীন এক পায়ে খাড়া। কিন্তু ঋণচুক্তি বাতিল হবার পর তাদের আর সাড়া শব্দ নেই।নিরুপায় সরকার তখনই নিজের টাকার সেতুর স্বপ্ন দেখাচ্ছেন।এই সেতু করতে ঠিক কত টাকার প্রয়োজন? আভ্যন্তরীণ মুদ্রা কত আর বৈদেশিক মুদ্রা কত লাগবে তার কোন হিসাব কেউ দিচ্ছে না। বৈদেশিক মুদ্রার ব্যয়ের চাপ সামলানোর সামর্থ আমাদের আছে কিনা?অবশ্য সেসব হিসাব করার মত ধৈর্য্য করোও নেই।তাইতো চারিদিকে সাজসাজ বর পড়ে গিয়েছে।কেউ টিফিনের টাকা,কেউ এক মাসের বেতন দিয়ে দিয়েছেন।জানি না ইতিমধ্যে লাল কাপড় নিয়ে লোকজন রাস্তায় নেমে গিয়েছে কিনা।তবে আজ স্কুল থেকে ফিরে আমার দ্বিতীয় ও চতুর্থ শ্রেণীতে পড়া ছেলেমেয়ে বললো বাবা কাল টাকা লাগবে।স্যার বলেছে তোমরা টাকা দিবে সেই টাকায় পদ্মা সেতু হবে।অথচ এই স্যারেরা বছরের শুরুতে অতিরিক্ত টাকা নিয়ে।সরকারের নির্দেশের পরও আজ পর্যন্ত টাকা ফেরত দেয় নাই।আর এ টাকা তো রশিদ ছাড়া নিবে।