ক্যাটেগরিঃ আইন-শৃংখলা

 

accident-newsnext-3

মৃত্যু মানেই বেদনা, মৃত্যু মানেই দুঃখ বা শোক। আরো অনেক বিশেষণে বিশেষায়িত করা যায় মৃত্যুকে। কিন্তু কিছু কিছু মৃত্যু মাঝেমাঝে এসব কিছুকে ছাপিয়ে আরো অনেক বেদনাতুর হয়। যে মৃত্যুগুলো সকলকে কাঁদিয়ে শোকে শোকাহত করে। ঠিক এরকমই একটি মৃত্যু সংগঠিত হয় ১৭ই মার্চ বিকেলে।

মৃতের নাম রবিউল ইসলাম দিবস। দিবসের বাড়ি কুড়িগ্রাম জেলার রাজারহাট উপজেলার ফুলবাড়ি গ্রামে। ডাক্তার বাবা-মা’র বড় সন্তান। তিন ছেলের মধ্যে দিবসই সবার বড়। পড়ালেখা শেষ করে একটা এনজিওতে হিসাব রক্ষক হিসেবে যোগদান করেছে। দিবস নিতান্তই একজন সহজ-সরল ও সৎ ছেলে। ভদ্রতা ও নম্রতা ছিল তার চরিত্রের অন্যতম গুণ। সে তার চারিত্রিক গুণাবলীর দ্বারা সকলের মন জয় করেছিল।

দিবস পরিবারের সম্মতিক্রমে বিয়েও করেছিল প্রায় মাসখানেক আগে। নতুন বউ, নতুন সংসার। মনে কত স্বাদ, কত পরিকল্পনা! হাতে মেহেদির দাগ এখনো শুকায় নাই। কিন্তু মেহেদির দাগ শুকানোর আগেই নববধূর কপালে লাগলো বৈধব্যের দাগ। কর্মস্থল থেকে আসতে রংপুরের কাছাকাছি একটা জায়গায় মটরসাইকেল এ্যাক্সিডেন্টে মারাত্মকভাবে আহত হয় এবং ঘটনাস্থলেই মৃত্যুবরণ করেন। একটি বাস তাকে ধাক্কা দিয়ে রাস্তার ফেলে দেয়।

অতঃপর শেষ! সব জল্পনা-কল্পনা, পরিকল্পনার সমাপ্তি টেনে চিরদিনের মত চলে গেল দিবস। বাবা-মা ডাক্তার, শ্বশুর ডাক্তার, অথচ চিকিৎসা করার সময়টুকুও পেলনা। সে আর কোন দিবসে আসবেনা, কিংবা রজনীতে। অকালে ঝড়ে গেল একটা তাজা প্রাণ। হয়ে গেল একমুঠো স্বপ্নের সলিল সমাধী। দিবসের মা খুশি বেগমের সব খুশি, আনন্দ, সুখের ইতি টানাও হলো।

কিন্তু এভাবে আর কত? আমরা প্রতিদিন খবরের কাগজ কিংবা টিভিতে অনেক দুর্ঘটনার খবর পাই। কেউ মারা যাচ্ছে, কেউ বা পঙ্গুত্বকে বরণ করছে। ঠিক এরকমই একটি সড়ক দুর্ঘটনায় মারা গেছে আমার মামাতো ভাই মেহেদি হাসান ইমন। সে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাণ রসায়ন ও অনুপ্রাণ বিজ্ঞান বিভাগের মেধাবী ছাত্র ছিল। আমরা অকালে মর্মান্তিকভাবে আর কারো মৃত্যু চাইনা। নিরাপদ মৃত্যুর গ্যারান্টি চাই।